বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

একজন আতেরা

"সাইন্স ফিকশন" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান উৎস বিশ্বাস (০ পয়েন্ট)

X এইমাত্র পৃথিবীতে জন্ম নিল এক অসাধারন শিশু, কিন্তু কেউ জানতে পারলো না একদুধের মাত্র বিজ্ঞানী রেহান ছাড়া । শিশুটি যে মানুষটির পেটে বেড়ে উঠছিলো সে মারা গেছে আজ ১৫ দিন হলো। বিজ্ঞানী রেহান তাকে লাইফসাপোর্ট দিয়ে বাঁচিয়ে রেখেছিলেন, এরজন্য তাঁকে শেষ ১৫-১৬ দিন কি কষ্টটাই না করতে হয়েছে । অবশ্য ৩০ বছর আগে তিনি যখন গবেষনার কাজ শুরু করেন তখন থেকেই তো এরকম কষ্ট সহ্য করছেন তিনি। এখন আর খারাপ লাগে না, সবকিছুই কেমন যেন গা সওয়া হয়ে গেছে। নতুন মানবশিশুর নাম আতেরা। কিন্তু আসলেই কি সে মানব শিশু, সে তো পুরো মানুষ না। বিজ্ঞানী রেহান আতেরা কে ভালো করে পর্যবেক্ষণ করলেন, --হ্যাঁ, তিনি যথেষ্ট খুশি , মেয়ে বাচ্চা এটা , আর জন্মের পর লাংস খোলার জন্য তার পিঠে থাপ্পড়ও দিতে হয়নি, আবার সে কাঁন্নাও করে নি। কিন্তু বাচ্চাটাকে দেখেই বুঝা যাচ্ছে সে বেশ সাচ্ছন্দের সাথেই আছে, শ্বাসপ্রশ্বাস ঠিকঠাক, আবার তাকাচ্ছেও পিটপিট করে। খুব ভালো লক্ষন, মনে হচ্ছে বাচ্চাটা বেঁচে যাবে। আতেরা সাধারন বাচ্চা না, অবশ্য এই ২০৫০ সালে এসে কয়জনেরই বা স্বাভাবিক সাধারন বাচ্চা হয়, সবার বাচ্চাই হয় বিকলাঙ্গ নাহয় মানুষিকভাবে অসুস্থ। ২০৪০ সালে যখন তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়, তখনই অনেকেই এই ভয়টাই পেয়েছিলেন। পারমাণবিক শক্তিধর দেশগুলো একে অন্যের উপর বোমা মারলো আর মূহূর্তে পৃথিবীটা শ্বশানে পরিণত হলো। এখন পৃথিবীতে ১ লাখেরও কম মানুষের বাস, যারা বিজ্ঞানী রেহানের মত দূর দূরান্তের কোন দ্বীপ এ আশ্রয় নিতে পেরেছিলো শুধু তারাই বেঁচে আছে। এখন এই পৃথিবীর দরকার এমন মানুষ যারা মাটিতে ও পানিতে উভয় জায়গাতেই বেঁচে থাকতে সহ্মম। বিজ্ঞানী রেহান ঠিক এই গবেষনার বাজ ই শুরু করেছিলেন ৩০ বছর আগে, কিন্তু তার গবেষনার বিষয়বস্তু শুনে সবাই মুখ ফিরিয়ে নেয় ও তাকে নিয়ে হাসাহাসি শুরু করে। এমনকি তাঁকে কেউ গবেষণাগার কিংবা কোন অর্থও দিতে চায়নি। মনের দুঃখে নিজের সব সম্পত্তি বিক্রি করে তিনি গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয়জিনিস ও একটা দ্বীপ কিনে নেয় সরকারের কাছ থেকে । তারপর শুরু হয় অনন্তর গবেষনা। আজ তিনি সফল, তিনি পেরেছেন এমন এক মানবশিশুর জন্মদিতে যার একইসাথে লাংস ও ফুলকা আছে, যার আছে এক চোখ মাছের মত, আর একটা মানুষের মত, তার শরীর অনেকসময় ধরে পানিতে থাকলেও কিছুই হয় না । সে আতেরা। হ্যাঁ, সে আতেরা, নতুন পৃথিবীর প্রথম আধামানুষ। সে কাঁদছে, সাধারন শিশুর কান্না না, বিজ্ঞানী রেহান ঠিকি বুঝলেন এ কান্না মায়ের বুকের দুধের জন্য না, তাকে পানি ডাকছে, সমুদ্রে নামতে হবে তাকে আতেরা যাচ্ছে, এইমাত্র জন্ম নেওয়া আতেরা হাটতে শিখে গেছে। এই মানুষ আর আগের মত নাই, সে জন্মানোর পরই বুঝে যায় বাঁচতে হবে তাকে যুদ্ধ করে। আতেরার গমনপথে তাকিয়ে আছে নতুন পৃথিবীর স্রস্টা মহান রেহান।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৬ জন


এ জাতীয় গল্প

→ একজন আতেরা

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now