বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

এক রাতে এসেছিল

"ছোটদের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X ফুয়াদের আজকের দিনটা অনেক খারাপ যাবে। ফুয়াদের সবচেয়ে অপছন্দের মানুষ, তার ছোট মামা এসেছে। একা এলে ভালো ছিল। কিন্তু সঙ্গে করে নিয়ে এসেছে সায়েন্স ফিকশন, গণিত ও বিজ্ঞানের সব হাবিজাবি বই। স্কুল থেকে বাসায় ফিরতেই ফুয়াদের সঙ্গে ছোট মামার দেখা হলো। কেমন আছে তা জিজ্ঞেস না করেই বলল, ‘এবার যেগুলো নিয়ে এসেছি সবগুলোই স্পেশাল। বিশেষ করে এই বিজ্ঞানের বইটা, ডিরাক সমীকরণ নিয়ে। মানে, ইলেকট্রনের প্রবাহ উল্টে দিলে যে রূপ, সময়কে উল্টে দিলে একই...’—এই পর্যায়ে ফুয়াদ ছোট মামাকে থামিয়ে বলে, ‘মাত্র স্কুল থেকে এলাম। আগে ফ্রেশ হই, খাওয়াদাওয়া করি। পরে না হয় পড়ব।’ ‘আচ্ছা, পড়িস কিন্তু। বইটা একেবারে ফাটাফাটি।’ ‘আচ্ছা, পড়ব।’ ফুয়াদের ভাগ্য ভালো, ছোট মামা জরুরি কাজে আজই চলে যাবে। ফুয়াদও ওই ভয়ংকর বই পড়ার হাত থেকে বেঁচে গেল। রাত প্রায় দেড়টা বাজে। কিন্তু ফুয়াদের ঘুম আসছে না। মনে হয় ধর্ম স্যারের ‘উত্তম-মধ্যমের’ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। স্যার যাকে উত্তম-মধ্যম দেন, তার নাকি তিন দিন পর্যন্ত ঘুম আসে না। ফুয়াদকে তো ‘উত্তম-মধ্যম’ দিয়েছেন। মনে হয় আজ রাতে ফুয়াদের ঘুম হবে না। ফুয়াদ এখন কী করবে ভেবে পাচ্ছে না। বই পড়লে ঘুম হয়। ঘুমের জন্য ফুয়াদ সবকিছু করতে পারে। তাই অগত্যা ছোট মামার বিদঘুটে সায়েন্স ফিকশনটা পড়া শুরু করল। অদ্ভুত সব আজগুবি আলোচনার শেষে কিছু ব্যবহারিক কাজ দেওয়া ছিল। ফুয়াদ ভাবল, আজ রাতে মনে হয় ঘুম আসবে না। তার থেকে ওই অদ্ভুত কাজগুলো করা যেতে পারে। কিছুক্ষণ হম্বিভম্বি করে ফুয়াদ নির্দেশনা অনুযায়ী সব নিয়ম অনুসরণ করল। এরপর বইয়ের শেষের লাইনটা পড়ে ফুয়াদের চোখ কপালে উঠে গেল। বইয়ের শেষ লাইনটা ছিল— ‘ব্যাস, হয়ে গেল তোমাদের টাইম মেশিন।’ সা’আদ ইসলামনিশ্চয়ই বইয়ের লেখক উল্টাপাল্টা কিছু খেয়ে বই লিখতে বসেছিল। টাইম মেশিন বানানো এত সহজ হলো বাংলার ঘরে ঘরে আজ টাইম মেশিন থাকত। এসব ভাবতে ভাবতে ফুয়াদ এক সময় ঘুরিয়ে পড়ল। ফুয়াদের ঘুম ভাঙল বিচিত্র এক শব্দে। সে উঠে দেখল, মাত্র সাড়ে চারটা বাজে। এমন সময় ওর সামনে এমন একটা জিনিস এসে দাঁড়াল, যার জন্য সে মোটেও প্রস্তুত ছিল না। ফুয়াদের সামনে একটা অর্ধেক মানব এবং অর্ধেক রোবটের শরীর নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে জিনিসটা। একে কি মানুষ বলা যাবে? না মনে হয়, সিনেমায় এদের নাম দানব রোবট। ফুয়াদ অস্ফুট স্বরে বলেই ফেলল, ‘তুমি কে? তুমি কি করে এখানে এলে?’ জিনিসটা অনেকটা যান্ত্রিক গলায় বলল, ‘আমি ২৯৮২ সালের মঙ্গলের অধিবাসী। টাইম ট্রাভেল করে এখানে এসেছিলাম। কিন্তু আমি আমার টাইম মেশিন হারিয়ে ফেলেছি। তাই তোমার টাইম মেশিন নিতে এসেছি।’ ফুয়াদের মনে এবার একটু সাহস বাড়ল। সে সত্যি সত্যি টাইম মেশিন বানিয়ে ফেলেছে! সঙ্গে সঙ্গে তার মাথায় একটা পরিকল্পনা এল। সামনের সায়েন্স ফেয়ারে সে এই প্রজেক্ট জমা দেবে। তাকে এবার রুখবে কে। আপাতত ফুয়াদকে বাস্তবে নিয়ে এল দানব রোবটটা। সেটা অনেক অনুনয়-বিনয় করে বলতে থাকে, ‘প্লিজ, আমাকে টাইম মেশিনটা দিয়ে দাও। তুমি তো বই দেখে আবার বানাতে পারবে, প্লিজ।’ সায়েন্স ফেয়ারে প্রথম হওয়ার খুশি লুকিয়ে রেখে বাইরে মুখ শক্ত করে বলল, ‘না’। এইবার দানব রোবটটা একটু দমে গেল। কী জানি ভেবে সেটা খানিক পরেই জিজ্ঞেস করল, ‘তোমার প্রিয় খাবার কি?’ ফুয়াদ থতমত খেয়ে গেল। টাইম মেশিনের সঙ্গে খাবারের সম্পর্কটা ঠিক বুঝতে পারল না। তবুও বেশ সময় নিয়ে বলল, ‘পিৎজা’। ‘ঠিক আছে, চলো আমরা পিৎজা খাই।’ পিৎজার লোভ সামলাতে না পেরে বলল, ‘ঠিক আছে।’ পিৎজা খাওয়ার পর ফুয়াদের মনে হলো পিৎজাতে বেশি ঝাল দেওয়া ছিল। তবে পিৎজা খেয়ে ফুয়াদের কেমন যেন ঘুম ঘুম পায়। সবকিছু ভুলে সে গভীর ঘুমে তলিয়ে গেল। সকালে ঘুম থেকে উঠে ফুয়াদ দানব রোবটের একটা চিঠি পেল। চিঠিটা ছিল এই রকম— ‘পিৎজাতে ইচ্ছে করেই বেশি ঝাল দেওয়া ছিল, যেন পুরো বিষয়টা তোমার কাছে স্বপ্ন না মনে হয়। কারণ, স্বপ্নে অনুভূতি পাওয়া যায় না। অল্প ঘুমের ওষুধ ছিল পিৎজাতে, যার ফলে তুমি ঘুমিয়ে পড়েছ। আর টাইম মেশিনের সঙ্গে বইটাও নিয়ে গেলাম। এখন আমাদের টাইম ট্রাভেলিংয়ে কোনো অসুবিধা হবে না।’ চিঠি পড়ে তো ফুয়াদের মাথায় হাত। এরপর থেকে ফুয়াদ ছোট মামা এবং তার বইগুলোর বিশেষ ভক্ত হয়ে গেল। সা’আদ ইসলাম অষ্টম শ্রেণি, ময়মনসিংহ জিলা স্কুল, ময়মনসিংহ।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৭ জন


এ জাতীয় গল্প

→ এক রাতে এসেছিল

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now