বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

এক পাতার দীর্ঘশ্বাস

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X এক পাতার দীর্ঘশ্বাস by-আশিক পিয়াল *** ১। অলস বলদ দুটোকে নিয়ে আস্তে আস্তে ক্ষেতের দিকে যাচ্ছে নিখিল। চোখে এখনও ঘুমঘুম ভাব, আরেকটু ঘুমাতে পারলে মন্দ হতো না। তবে সে সুযোগ আর কোথায়, বাবা অসুস্থ হবার পর তো একাই চাষ দিতে হয়। সাথে একটা চ্যাংড়া ছেলেপেলে থাকলে সুবিধাই হতো। ক্ষেতের কাছাকাছি জামতলায় আসতেই নিখিলের চোখ ছানাবড়া। ওমা একি! কি দেখতাছি এইডা? সাত সকালেই ভূত নাইমা আইলো নাকি? হরেকৃষ্ণ হরেকৃষ্ণ! নামাজের মাদুর গুটিয়ে একপাশে রেখে রান্নাঘরের দিকে পা বাড়াল কামালের মা। আজ কামালের গণিত পরীক্ষা, ছেলেটাকে আগেভাগে খাইয়ে রেডি করতে হবে। এমনিই বাড়ির সীমানার ধারে এসে বিশুদ্ধ বাতাস নিচ্ছিল কামালের মা, এটা তার প্রতিদিনের অভ্যাস। হঠাৎ খালের ওপারের মেঠো রাস্তায় চোখ আটকে গেল। যা দেখছে সেটা বিশ্বাস করতে ইচ্ছে হচ্ছে না একটুও। মনে মনে দ্রুত একবার দোয়া ইউনুস পড়ে বুকে ফুঁ দিয়ে নিল। চারপাশটা এখনও ঘোলাটে অন্ধকার, শীতকাল বলে কথা। সূর্য উঠতে আরো কত দেরি কে জানে। উঠলেও মুখ গুঁজে থাকবে শুভ্র কুয়াশার চাদরে। ঝরা পাতায় টুপটাপ শিশির পড়ার শব্দ খুব স্পষ্টই যেন কানে আসে, চারপাশের নীরবতা এখনো যে ভাঙেনি। কিন্তু সে আঁধারের ঘোলাটে পরিবেশ, স্তব্ধ নীরবতা আর কিছু জেগে ওঠা কৌতুহলী দৃষ্টি ছাপিয়ে উদ্ভ্রান্তের মত দৌড়ে চলছে এক তরুণী। তীব্র শীত, এবড়োখেবড়ো পথ, আর প্রখর নীরবতার ভয় যেন তার ধারেকাছেই ঘেঁষতে পারছে না। তার উপর সে বহন করে চলেছে ছোট্ট আরেক দেহ, যে দেহের পুনর্বিন্যাস এখনো তার গর্ভে অব্যাহত। তবুও থেমে থাকেনি, শোনামাত্রই ছুটেছে। দেড় মাইলের পথ এখন কিছুই না। এখন সবকিছু হল ঐ মুখটা। মুখটার ছবি ভেসে উঠতেই চোখ ফেটে কান্না আসে ওর, কেঁদেও ফেলে। কাঁদতে কাঁদতে তলপেটের হঠাৎ যন্ত্রণা সইতে সইতেই ছুটে সে। অন্তত একটিবার ঐ পোড় খাওয়া মুখে হাত বুলাতেই হবে। মেয়েটা দৌড়াচ্ছে। চোখমুখ ভেজা কান্না আর ঘামে, পিঠের কাপড় লেপ্টে গেছে একদম। কিন্তু এখন শীতকাল। বৃষ্টির মত টুপটাপ শিশির পড়ছে। পড়ছে ওর গায়েও, লেপ্টে দিচ্ছে শীতলতা, ফর্সা আকাশের গুচ্ছ গুচ্ছ আলো যেন নিঃস্বার্থ পথ দেখিয়ে চলেছে ওকে। প্রকৃতি যে বড়ই উদার, মানুষের মত ওরা তো স্বার্থর নাম জানে না। ওদের জন্মই নিঃস্বার্থতায়। ২। পাশের লোকটার টানা কাশিতে বিরক্ত হয়ে বলেই ফেলল নিয়াজ, ঐ মিয়া যক্ষ্মা নিয়া জেলে আইছো ক্যা, হ্যাঁ? আসার আগে ডাক্তার দেখাইতে পারো নাই? লোকটা কাশতে কাশতেই একটা বিভৎস হাসি দেয়, ঠিক মুভিতে ভিলেন নায়ককে মারার আগে যেমন হাসে। কাশি একটু কমতে সে বলল, আরেকটু সহ্য করেন ভাই। মাত্র কয়েকঘন্টা পরই তো সব কাশি স্টপ হইয়া যাবে। আপনেও বাঁচবেন, আমিও শান্তি পাব। আচ্ছা ভাই কয়টা বাজে? নিয়াজ চুপ করে থাকে। ওর চিন্তা হচ্ছে নিজেকে নিয়ে। কি শাস্তি হয় খোদাই জানে। ফাঁসি দিয়ে দিক, তবু যাবজ্জীবন যেন না দেয়। সারা জীবন জেলে পড়ে পচতে হবে। এর চেয়ে ফাঁসি দিলে দুনিয়া থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে, আহ্ কি শান্তি। জন্মের পর থেকে দুচোখ দিয়ে এ দুনিয়াটা যে রকম দেখল, এর থেকে বোধ হয় জাহান্নামও ভালো। ওখানে কেবল পবিত্র আল্লাহর শাস্তি, অন্য কেউ তো আর মাতবরী খাটাতে পারবে না। হায়রে রঙিন দুনিয়া, সৃষ্টিকর্তার চেয়ে সৃষ্টির দাপট বেশি। একজন কনস্টেবলকে তালা খুলতে দেখে নিয়াজ পাশেরজনকে একটু ধাক্কা দিয়ে বলল, ঐ মিয়া তোমার ফাঁসি না রাতে, এখন নিতে আইছে ক্যান? - মনে তো হইতাছে আপনারে নিব। নিয়াজ কিছু বলার আগেই কনস্টেবল খেঁকিয়ে উঠল, পিঁয়াজ থুক্কু নিয়াজ কার নাম? নিয়াজ মাথা নেড়ে বলল, আমি। - তোমাকে দেখতে আসছে একজন। আসো আমার সাথে। কথা শুনে বেশ অবাক হলেও চুপ করে রইল নিয়াজ, মাথায় ঢুকছে না কে আবার ওকে দেখতে আসবে। কনস্টেবল তালা লাগাতে লাগাতে বলল, শোন বেশি সময় দেয়া হবে না। যা বলবা ক্লিয়ারকাট তাড়াতাড়ি শেষ করবা। বুঝছ? নিয়াজ অত্যন্ত নম্রভাবে সায় জানায়। বসে থাকা মানুষটার পিছনের সাইড দেখেই চিনে ফেলেছে নিয়াজ, সে সাথে ভীষণ অবাক। তবু সামনে এসে আরো ভালোমত মেয়েটাকে দেখে চোখকে বিশ্বাস করাতে পারছে না যেন। কালো চেয়ারটায় আস্তে বসে কিছুক্ষণ ড্যাবড্যাব করে চেয়ে থেকে বেশ গম্ভীর স্বরে বলল, কার সাথে আইছস? ভাঙা স্বরে মেয়েটা বলে ওঠে, একলা। - রাস্তা চিনলি ক্যামনে? - মানুষরে জিগাইতে জিগাইতে আইছি। - কি জন্য আইছস? ভেজা চোখ নিয়ে মেয়েটা একধ্যানে চেয়ে থাকে স্বামীর চোখে। প্রচন্ড কান্না আসছে, এ কান্না ঠেকানোর একফোটা শক্তিও এখন নেই। শুধু ভাবছে, মানুষটা হঠাৎ কেমন শুকিয়ে গেছে। - ঐ পাতা, কথা কস না ক্যান? কাঁপা স্বরে পাতা বলে ওঠে, তোমারে এইখানে আনছে কেন? কি করস তুমি? - ঐ রাগের চোটে একজনরে মাথা ফাটাইয়া মাইরা ফেলছি। কেন মারছি, কারে মারছি এই কৈফিয়ত এখন দিতে পারমু না। - আইচ্ছা। - তোর কথা শেষ। হঠাৎ কেঁদে ফেলে পাতা বলে, তোমারে কি ফাঁসি দিব? - জানি না। তয় দিলে ভাল, বড় বাঁচা বাঁইচা যামু। - তুমি মইরা গেলে আমার কি হইব? - বাপের বাড়ি চইলা যাবি। তোর আব্বারে কইবি, আরেকটা বিয়া দিয়া দিতে। তুই যা সুন্দর, তোর লিগা পোলার অভাব হইবো না। - আর তোমার সন্তান? - তোর ইচ্ছা। ইচ্ছা হইলে বাঁচাইয়া রাখিস, নাইলে মাইরা ফালাইস। বলতে গিয়ে চোখ ঝাপসা হয়ে আসে নিয়াজের। খুব চেষ্টা করছে নিজেকে শক্ত রাখতে। পারছে না, পারাটা অত যে সোজা নয়। এই সহজ, সরল, বোকা মেয়েটাকে ও যে কতটা ভালবাসে তা এই বোকা মেয়েটাও ঠিক বুঝল না। অথচ এই মেয়ে সেই বাড়ি দিয়ে ছুটে আসছে এখানে দেখতে। নাহ্, মেয়েটা বড় বেশি লক্ষ্মী। নিয়াজ টের পেল ওর দু’গালে দু’হাতের কোমল শীতল স্পর্শ। আহ্, কি নরম হাত দুটো। কেন যে ঝামেলাটা বাধাল, তা’নাহলে এখন পাতার দু’হাত গালে চেপে চোখ বন্ধ করে বসে থাকত। আচ্ছা, তখন পাতা কি করত? নিশ্চয়ই লজ্জায় চোখ পিটপিট করে নিয়াজের বন্ধ চোখে চোখ রেখে অনেককিছু ভাবত। যে ভাবনার শেষ বলতে কিছু নেই। -০-


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩৬ জন


এ জাতীয় গল্প

→ এক পাতার দীর্ঘশ্বাস

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now