বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
ব্যাপারটা এভাবে ঘটবে কখনো ভেবে দেখিনি । অনেক টা সময় ধরে সে ছিল পাশে ,একটা ভালো বন্ধুর মত। তাই ওর পাশে থাকাটা অভ্যাসে দাঁড়িয়ে গিয়েছিল । আলাদা করে কখনো ওর কথা ভেবে দেখার দরকার পড়ে নি । কারণ কোন দিন আমাকে সে ব্যস্ততা দেখায়নি , বরং মাঝে মাঝে আমিই দেখিয়েছি । কিন্তু হঠাৎ করেই ভাবাটা দরকার হয়ে পড়ল । হঠাৎ করেই মনে পড়ল এখন আর মাঝে মাঝে ই দরকার পড়লে বলতে পারব না সকালে একটু ডেকে দিস তো ! অথবা যখন দিনদুনিয়া র মানুষজনের ওপর মেজাজ খারাপ হয়ে উঠবে তখন বলতে পারব না, চা খেতে বের হবি ? “আহা কেউ যদি এক কাপ ধোঁয়া এক কাপ গরম কফি খাওয়াতো” বলার দুই দিন পরেই কেউ ফ্লাক্স নিয়ে চলে আসবে না ! হঠাত করেই কেউ চকলেট বের করে বলবে না , চল শেয়ার করি । আম্মা বাদে আর কেউ সকালে নাস্তা না করলে ঘ্যানঘ্যান করবে না । আচ্ছা আমি কী চিন্তা করছি এগুলা , এক মুহূর্তের জন্য নিজেকে স্বার্থপর মনে হচ্ছে ! হলে হবে ! আমি এত ভালো মানুষ ছিলাম কবে? কিন্তু ব্যাপারটা কী আসলে বোঝা দরকার । আচ্ছা সেও কি কখনো ????? ধুর!!!! নিজের উপরেই মেজাজ খারাপ হচ্ছে এখন ! এগুলো খেয়াল করার জন্য অকে যতটা খেয়াল করা দরকার ততটা তো করা হয় নাই কখনো ! বরং অর সাথে হাঁটার সময় ওর চেয়ে আশেপাশের মেয়েদের দিকে নজর যেত বেশি ! উফফ অমুক মেয়েটা অনেক লম্বা , তমুক কে দেখলে মন ভাল হয়ে যায় ,কিংবা একটা মেয়েকে পটানোর চেষ্টা করতেসি টাইপ কথাবার্তা বলতে ভাল্লাগতো অনেক ! প্রথমদিকে সে বেশ ফাজলামি করতো এসব ব্যাপার নিয়ে , মাঝে মধ্যে পচানি দিতেও পিছপা হত না ! তারপর হঠাৎ করেই কেন জানি এসব টপিক এ বিরক্ত হতে শুরু করল ! তখন অকে বিরক্ত করতে আরো বেশী ভাল্লাগতো ! ???? আচ্ছা এই বিরক্ত হওয়ার পেছনে কি জেলাসি ছিল ? কি জানি ! যাই হোক সব চিন্তা বাদ দিয়ে একদিন জরুরি কথা আছে বলে ডেকে নিয়ে ইনিয়ে বিনিয়ে ত্যানা প্যাচায়ে কেমনে কেমনে জানি সব কিছু বলেই ফেললাম ! (কী বললাম কীভাবে বললাম সেই কথা না হয় আরেকদিনের জন্য তোলা থাকলো ) । প্রথমে ইলেক্ট্রিক শক খাওয়ার মত চমকে উঠলো যেন! এই প্রথম তার চোখের দিকে ভালোভাবে তাকালাম আমি , তাকানোটা জরুরি ছিল! কারণ এইসব কথার জবাব হিসাবে মুখের ভাষা র চেয়ে চোখের ভাষার উপর বিশ্বাস করা উত্তম ! সেই চোখে কী যে ছিল ঠিক বুঝে উঠতে পারলাম না! রাগ ?অভিমান ? বিস্ময়! কী ছিল সেই দৃষ্টির মানে? এইরকম টলটলে চোখে কোনদিন দেখিনি তাকে , হায় হায় ! কেঁদে ফেলবে না তো! যদিও যতদূর জানি মানুষজনের সামনে চোখের পানি ফেলার মতন লুতুপুতু টাইপের মেয়ে না সে । নাহ! নিজেকে সামলে নিল সে! কে জানে হয়তো কান্না লুকানোর জন্যই সে কিছু না বলেই মুখ ফিরিয়ে উলটা দিকে হাঁটা দিল । আমি ডাকতে পারলাম না তাকে , কারণ কিছু সময়ের জন্য আমিও ভাষা হারিয়ে ফেলেছিলাম “যাস না” নাকি “যেও না” বলব এই দ্বিধায় ! শুধু মনে হচ্ছিলো এখন অকে যেতে দিলে আর কোন দিন ফেরানো যাবে না । হঠাৎ দেখলাম অর ডান হাতটা ধরে অকে আটকেছি আমি , আর কোন উপায় ছিল না যে! যে রকম মেয়ে ও তাতে নির্ঘাত এক ঝটকায় হাতটা ছাড়িয়ে নিয়ে চড় বসিয়ে দিতে পারে বাম গালে , সাথে গালিগালাজ! নিজেকে সেজন্য প্রস্তুত ও করে নিলাম খানিকটা । কিন্তু এবার আমার ধারণা ভুল হল! আজ মনে হয় তার মৌন ব্রত ! সেই অদ্ভুত চাহনিতে একবার আমাকে দেখে সে নিজের বাম হাত দিয়ে আস্তে করে আমার হাত ধরে নিজের হাত থেকে ছাড়িয়ে নিল আলতো করে। যেন জোরে ধরলে ব্যথা পাবো আমি! ওই স্পর্শে এক অদ্ভুত মায়া ছিল ! আর ছিল অভিমান । সেই অভিমান কে সঙ্গী করেই আবার তার পথে পা বাড়ালো , আর আমি ঝাপসা চশমার কাঁচ দিয়ে অর চলে যাওয়া দেখলাম , এবার আর অকে আটকানোর কোন শক্তি আমার ছিল না ! ঐ আলতো স্পর্শে এক অদভুত আঘাত ছিল ! জানি ঐ আঘাত আমারই অকে এতকাল ধরে দিয়ে আসা আঘাতের প্রতিঘাত মাত্র ।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now