বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

এক হাজার একটি গোলাপ

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Sayemus Suhan (০ পয়েন্ট)

X ঘটনাটি ঘটে আজ থেকে এক বছর ছয় মাস আগে। ভার্সিটির বারান্দা দিয়ে হেটে যাচ্ছি। হটাৎ, তাকে দেখলাম। সাদা শাড়ি পড়েছিল। বান্ধবীরা একসঙ্গে আসছে। আমার মুখোমুখি হয়ে থেমে গেল। আমি বজ্রাহতের মত দাড়িয়ে আছি। যাওয়ার জায়গা দিচ্ছি না। ও একটু হেসে পাশ কাটিয়ে চলে গেল। ও নতুন এসেছে ভার্সিটিতে। আর আমি তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। বন্ধু বলতে তেমন কেউ নেই আমার। রানার সাথে বিভিন্ন জায়গায় যাওয়া হয়। ওই খেয়াল করল, আমি প্রতি দিন ওই মেয়েটার দিকে তাকিয়ে থাকি। -" নাম জানিস? " -" না " রানা চৌদ্দ গোষ্ঠীর খবরাখবর নিয়ে এল। নাম রুপা । ডাক নাম অধরা। ধানমন্ডি থাকে। ধনীর একমাত্র দুলালী। ছয়মাস তাকিয়ে ই কাটিয়ে দিলাম। রানার হাজারো চড় থাপ্পড় কোন কাজেই আসল না। আমি তাকে কিছুই বললাম না । আমি তাকে দেখি, সে হয়তো বুঝতে পারে ,যে কেউ একজন তাকে দেখছে এমন ভাবে , যেভাবে চাতক পাখি বৃষ্টির জন্য আকাশের পানে তাকিয়ে থাকে । কয়দিন পর ভ্যালেন্টাইন ডে। -" দোস্ত, বলে দে এবার। নয়তো, অন্য কারো সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে পরলে সমস্যা।" আমি আবেগ হীন ছেলে। এসব দিকে কখনও মন -সময় কিছুই দেই নি । তবুও. চিন্তা করছি, বলব। নতুন কাপড় পড়ে, সুগন্ধি মেরে গেলাম ভার্সিটি। . অধরা এসেছে। এক কোনায় বান্ধবীর সাথে কথা বলছে। অধরা আজ পড়েছে কাল শাড়ি। আমার মুগ্ধ হবার পালা মনে হয় এখনও ফুরায় নি । আমার বার বার মনে হচ্ছে , ওকে আল্লাহ্ আমার জন্যই পাঠিয়েছে । আমি প্রতি দিন এর মতই ওকে দেখছি। হঠাৎ, অধরা আমাকে ডাকলো। কেন! -' এই যে মিস্টার, এভাবে চেয়ে থাকেন কেন ? প্রতিদিন ই দেখি । কি , কিছু বলবেন ?." আমি একটা মুচকি হাসি দিলাম, ও বিভ্রান্ত হয়ে গেল। -" হাসছেন কেন?" -" এমনিই হাসছি , শোনো, তোমাকে কেন এভাবে দেখি সেটা কখনও ভেবে দেখি নি । তোমার প্রতি আমার ভালবাসা মনে হয় একটু একটু করে জন্ম নিচ্ছে । আর , আমি চাই, তা তোমার সম্মতিতে ভালভাবে বৃদ্ধি পাক। বা , এটা একপেশে না হোক ।" আমার কথার মারপ্যাঁচ বুঝতে তার একটু সময় লাগল । -" ও !!!!!! তাই নাকি? এ পর্যন্ত কয়টা অফার পেয়েছি জানেন?" [ ওর রুপের বর্ণনা আমি দেই নি।তবে জেনে রাখুন, মিস বাংলাদেশ হওয়ার ক্ষমতা আছে তার। ] -" তোমায় আমি বললাম। এখন তোমার সম্পূর্ণ অধিকার আছে ভাল না বাসার।" ও কিছুক্ষণ ভাবল । ঐ সময়টায় ওর বান্ধবীরা আমার দিকে তাকিয়ে অবজ্ঞার হাসি দিয়ে মনে মনে বলছে , যা শালা, কত রাজকুমার ওর জন্য রাজ্য নিয়ে বসে আছে, তুই কোন চামচিকা ! -" আপনি আমাকে ভালবাসেন?" হঠাৎ বলে উঠলো অধরা। -" এখনো তার পরিমাণ কম। যখনই তা প্রতি উত্তর পাবে, হাজার গুণ বাড়বে।" অধরা -" তবে ত আপনাকে প্রমাণ করতে হবে, যে আপনি আমাকে ভালবাসেন। এবং , কত টা ভালবাসেন ।" মনে একটা বসন্ত হাওয়া দোলা দিয়ে উঠল আমার । তার মানে কিছু একটা হতে যাচ্ছে .. -"অবশ্যই। কি প্রমাণ চাই তোমার ? আমি যে কোনও প্রমাণ দিতে রাজি আছি! অধরা একটা দুষ্টুমির হাসি হেসে বলল , -" কাল থেকে শুরু করে, প্রতি দিন তিনটি করে # এক_হাজার_একটি_গোলাপ আমার বাড়িতে সকাল ছয়টায় পৌঁছে দিবেন। এবং , সবগুলো ফুল হবে লাল.,হুম ,,,,,,,,,,,,,,,,,,,, তবে, শেষের দিনের দুটি ফুল হবে সাদা ও কালো।" ওর বান্ধবীরা হা করে চেয়ে আছে। এটা কেমন শর্ত! ওরা কিছু বলতে যাচ্ছিল । একটা সুযোগ পেয়েছি । হাতছাড়া হবার ভয়ে আমি তাড়াতাড়ি বলে উঠলাম , -"আমি রাজি। " -" এই এক বছর আপনি আমার সাথে কোনো যোগাযোগ রাখতে পারবেন না। তবে, আমি চাইলে করব। "" হাসি টা একটু কমে গেল আমার । -" ওকে।" অধরা বলল , -" আপনার নাম্বার টা দিন। " নাম্বার দিয়ে চলে আসলাম। আসার পর ওর বান্ধবী সুমনা ওকে ধরল , -" এই ছেলেটাকে পাত্তা দেয়ার কি দরকার ছিল ।" অধরার কেয়ারলেস জবাব ,-" আরে দাড়া না , কিছুদিন বাজিয়েই দেখি না , কি করে রোমিও সাহেব ।" চলে গেলাম শাহবাগ। এক দোকানদার আঙ্কেলের সাথে চুক্তি করে ফেললাম। নাম করিম। আমি বললাম, -" করিম চাচা ডাকব কিন্তু।" চাচা হাসলেন। ওই দিন বিকেলে অধরা ফোন দিয়ে বলল, -" অমুক জায়গায় আসুন। " অজানা এক শিহরণ নিয়ে সেখানে চলে গেলাম । গাড়িতে উঠে লক্ষ্য করলাম , আমার হাত কাঁপছে । বাইরে অধরা আমার জন্য অপেক্ষা করছিল । ভাবলেশহীন মুখে আমাকে ও অভ্যর্থনা জানাল । অধরা তার বাড়ি চিনিয়ে দিল। আমি তার বাবার সাথে পরিচিত হলাম। নাম, রফিকুল ইসলাম। -" কি হে মিস্টার, অধরার সাথে তোমার কিসের সম্পর্ক ? ওকে ভাল লাগে ?" " আঙ্কেল , আমি আমার মনের কাছে এই প্রশ্নের জবাব পেলাম , তা হল , আমি ওকে ভালবাসি !" আঙ্কেল আমার পিঠে একটা বাহবা চাপড় দিলেন । -" সাবাস বেটা !!! তোমার সাহস আছে !!! এর আগে ১০-১২ জন এসেছিল। প্যন্ট ভিজিয়ে ফেলার জোগাড়।" অনেক ক্ষণ ধরে বসে আছি , কিন্তু এই সময়ে অধরা বা তার মাকে দেখতে পেলাম না । অধরা সম্ভবত এইসবে অভ্যস্ত । তাই সে গিয়ে টিভি দেখছে । -" আঙ্কেল , রুপার মা কোথায়?" -" ও মারা গেছে চৌদ্দ বছর হল।" পরিস্থিতি বদলে গেল । আমি চুপ হয়ে গেলাম । পরদিন সকালে ফুল নিয়ে গেলাম রুপার বাড়িতে। কাক পক্ষী ও ঘুমিয়ে আছে । ওদের দাড়োয়ান ও ভোর বেলার ঘুম ঘুমিয়ে নিচ্ছে । অধরার নিষেধ , ওর সাথে কথা বলা যাবে না । ভার্সিটিতেও ওর সাথে কথা বলা নিষেধ। তাই কিছু বলি না। শুধু গালে হাত দিয়ে এক নজরে চেয়ে থাকি। এক সপ্তাহ হয়ে গেল। আমি ফুল দিয়ে আসি প্রতি দিন। সকালে সাধারণত বখাটেরা ঘুমায়। নয়তো, এলাকার মেয়েদের ডিসটার্বের অপরাধে রিমান্ডে যেতাম । কিন্তু, আমার ধারণা ভুল হয় । দ্বিতীয় সপ্তাহে একদিন, ফুল দিয়ে আসার সময়ে পাঁচ জন আমাকে ধরল। সেখানে কিছু না বলে , একটা আস্তানায় নিয়ে গেল। ওখানে পৌঁছে, ওদের পাতি নেতা একটি রাম চড় দিয়ে বলল. ,- " আজ তর আঙুলগুলো কেটে দিব, ভাল করে দেখে নে শেষ বারের মত ।" কিছুক্ষণ পর তাদের বস আসল, লোকটাকে চেনা চেনা লাগছে !!! আমি উনাকে ডেকে বল্লাম -"আরে দাউদ ভাই, কেমন আছেন? " উনি ও অবাক হলো। ক দিন আগে, রাস্তায় একটা ছেলে গাড়ির নিচে পড়তে যাচ্ছিল, আমি হটাৎ দেখে তাকে বাঁচাই। তখন দেখি, ছেলেটি এই ভদ্রলোক এর ছেলে। তখন পরিচয় হলো। কিন্তু,তিনি যে ক্যাডার, তা জানতাম না। " ভাল, তোমায় এখানে কে ধরে আনল আরিয়ান ভাই! " " এই ছেলে টা, হাহাহা," হাসতে হাসতে দেখালাম ওকে । -" আপনি নাকি আমার আঙ্গুল কাটবেন, তা, কোন দেশে রপ্তানি হবে? " দিনটা ছিল শুক্রবার, তাই, আল্লাহর দোহাই দিয়ে ওই পুচকি ছেলেটাকে বাচালাম। দেখতে দেখতে তিন মাস হয়ে গেল। ভার্সিটি, করিম চাচা, আর ফুল নিয়ে ভালই আছি। অধরা মাঝেমধ্যে ফোন দেয়। আমি মাঝে মাঝে কেটে দিই, পরে বলি লাইনে সমস্যা। মাঝেমধ্যে সকাল বেলায় অধরা দোতলার বারান্দায় এসে দাড়ায়। আমি দেখি, ওর মন বদলে যাচ্ছে । মনের জোশে একটু দুষ্টুমি করতে গিয়ে যেই জালে হাত দিল , ওমনি তা হাজার গুণে প্রসারিত হয়ে তাকে আঁকড়ে ধরছে । ঈদ এসে পড়লো। রোজায় যাও কষ্ট করে ফুল দিয়ে এসেছি, কিন্তু, এবার আরও অনেক সমস্যা যুক্ত হয়েছে । করিম চাচা বাড়ি চলে যাবে, তবে উনি আমাকে বিশ্বাস করে। চাবি আমার কাছে থাকবে তিনদিন। বাড়ি থেকে দশ নম্বর বিপদ সংকেত। কখনোই বাড়ির বাইরে ঈদ করিনি। মা ফোন করে বকে। আমি কিছু বলি না। আর মাত্র তিনদিন। অধরা আমাকে ফোন দিয়ে বসুন্ধরা নিয়ে গেল। একটা বাসন্তী রঙের শাড়ি পড়া, তার সাথে হিজাব। অধরা বলল -" কেমন আছ? সব রোজা রেখেছ? " - " হা, এখানে কেন আসলে? মার্কেট কর নি এখনো? " " আমার অনেক আগেই শেষ। তোমার জন্য কিনব আজ। " [[[[[[[[[[ ওহহো, বলতে ভুলে গেছি, অধরা আমাকে এখন তুমি করে বলে। যদিও কথাই হয় না। মাসে একদিন। ]]]]]]]]]]]]] একটা প্যান্ট কিনলাম আমার পছন্দে । আর, পান্জাবীটা ওর ইচ্ছেতেই ; নীল রঙের। বলল, " এবার পুরো হিরো লাগবে তোমায়। " " আর, তোমায়, অধরা ..........? " লালচে আভা ভেসে উঠলো ওর গালে, , , , আর কিছু বলব না। গোপণ থাকুক............ ঈদ উপলক্ষে কোনো ছুটি পেলাম না অধরার কাছ থেকে। ঈদের দিন সকাল। ভোরে আমি ফুল দিয়ে এসেছি....... পুরো বাড়িতে আমি একা, শুন্য। আমার বর্তমান মনের মতই । সেখানে খা খা করছে শূন্য মরু । যাদিও পাশে আছে প্রেমের সাগর । তবুও লবণাক্ত জলের মত সেটা আমার হৃদয়কে তৃপ্ত করতে পারছে না নামাজ পড়ে এসে শুয়ে পড়লাম। বিকেলে অধরা ফোন দিল। -" কি খবর, সারাদিন কিভাবে কাটল? -" ঘুমিয়ে। " - "আজব! ঈদের দিন একটু ঘুরবে , তা না....যাই হোক , শোনো, এখন ফ্রী আছ? " -" কেন? " -" আমার সাথে ঘুরতে ____________ টুট টুট। কল কেটে দিলাম। বাড়িতে ফোন দিলাম। মা বাবা রাগ করে আছে। -" মা!" - " কে তর মা? আমাকে মা ডাকবি না। -" মা, তুমি রাগ করলে আমি কার কাছে যাব? " মার রাগ ভাঙালাম। বাবাকে কল দেয়ার সাহস হল না । তারপর রানা। কল ধরেই রানার মজা , - " ঈদ মোবারক। শালা বলদ। " -" হা, কি করলি সারাদিন?" -" অনেক মজা করলাম রে। তুই কি অধরার সাথে ঘুরছিস? " -" না। " -" কি খাইলি?" -" কিছুই না। মার হাতের সে সেমাই না খেয়ে ঈদের দিনে কিছু খাই না। -"ভাল, উপোস থাক। " . . এক সপ্তাহ একলা একলা কাটালাম। পরে রানা এল। ফুল লাইফ ভালোই চলছে। হটাৎ একদিন করিম চাচার ছেলে অসুস্থ হল। দেখতে গেলাম। -" কেমন আছ বাবু? " -" ভাল না, আব্বুকে বললাম, গোলাপ ফুল এনে দিতে, দেয় না, কাকু, তুমি এনে দিবা?" -" ডাক্তার না করেছে, বুঝলে বাবা আরিয়ান ?ওর এলার্জি আছে। " -" আপনি এক কাজ করুন, প্রতি দিন ভোর বেলায় ওকে একটা করে গোলাপ দিবেন ।" চাচা একটু দ্বিধা নিয়ে বলল , -" আচ্ছা । " .. .. .. অধরা চাইছে, তার সাথে প্রতি দিন ঘুরতে, ঈদের কথা আমার মনে আছে । আমি বলে দিলাম, সামনের এক বছরে ভার্সিটির বাইরে তার সাথে মাত্র দু দিন দেখা করব । এখনো ও সকালে উঠে বারান্দায় দাড়িয়ে থাকে। করিম চাচার ছেলে দ্বিতীয় দিনেই ভাল হয়ে গেল। চাচা আমাকে বাড়িতে দাওয়াত দিয়ে খাওয়াল। ভালোই খাওয়া হল। চাচী খুবই ভাল রাধে। আমার মার মত। মার কথা মাঝেই মাঝেই মনে পরে । কত দিন মার হাতের রান্না খাই না । সাথে মার পীঠের উপর মার ও । এত বড় হলাম, তবুও মা আমাকে মারতে দ্বিধা করে না । লজ্জায় পড়তে হয় । কুরবানীর ঈদ ও এসে পড়ল। এবার ও আগের মতই কাটল। কোন ভিন্নতা নেই । নীরস একটা দিন । এখন একটু শীত শীত আবহাওয়া। সকালে কুয়াশায় চাদরে দেহটিরে পেচিয়ে হাতে গোলাপ নিয়ে হেটে যাই। এখন আর বারান্দায় অধরাকে পাই না। ও ঘুম পাগল। আর, শীতে ত কথাই নেই। ঈদের দিনটি উপোস গেল। এটা শুধু রানাই জানে। অধরাকে বলি নি। . নয় মাস হয়ে গেছে। সেই রোজার ঈদের পর আর ভার্সিটির বাইরে আমরা সাক্ষাৎ করি নি। এর মাঝে বাড়ি একবারও যাই নি। অসামাজিক প্রাণী হয়ে গেছি। \ আজ অধরা বলল, তার বাড়ি যেতে। বুঝলাম, ভাল মন্দ খাওয়া হবে। চলে গেলাম। -" কি খবর আরিয়ান সাহেব? " রফিক সাহেবের রসিকতার অভ্যাস আছে। -" জি, ভাল, আপনি কেমন আছেন আঙ্কেল ? " -" আরে বাবা, তুমি আসতে বললে আস না কেন? নয় মাসে এই দ্বিতীয় বার তোমার মুখ দেখলাম। অধরাত তোমার জন্য প্রায়ই রুমে বিছানায় শুয়ে কান্নাকাটি করে । তুমি ওর সাথে নাকি দেখা কর না। " -" বাবা, বেশি বেশি হচ্ছে কিন্তু! " -" ওকে মা, আমি কিছুই বলব না। বাবা, তুমিই বুঝ। খেতে বসে মনে হল, শেরাটন হোটেলের কিচেনে ঢুকেছি। প্রায় বিশ রকম পদ আছে। নাম বলার সময় নেই। খেতে বসে হটাৎ অধরার বাবা বলল, " আচ্ছা মা, ধর, আরিয়ান বাবা 999 টা ফুল দিল, কিন্তু, শেষের দিন আসল না, তবে তুই কি করবি? " আঙ্কেল ত সবই জানেন , এ বিষয়ে আর কিই বা বলব । কিছুক্ষণ নিরবতা। কি বলবে চিন্তা করছে অধরা । -" তবে ও যে আমাকে ভালবাসে না, তা প্রমাণ হবে এবং, আমায় ওর ভুলে যেতে হবে। " রফিক সাহেব একটু চিন্তিত দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকালো। " সমস্যা নেই, এটাই কথা ছিল। আর , এমনটাও হবে না আশা করি । আমি অন্তত কারণ ছাড়া আমার ভালোবাসা হাতছাড়া হতে দিব না । " আঙ্কেল একটা ভরসার হাসি দিয়ে আমার পিঠে চাপড় দিলেন । - " সাবাস বেটা ! এই ত পুরুষের মত কথা । " করিম চাচাকে কালো গোলাপের কথা বললাম। কালেকশন নেই, তাই, আমার জন্য নিজেই একটি চারা লাগালো। শীতের বিকেল। আমি আর অধরা জবুথবু হয়ে বসে আছি টিএসসিতে। অধরা সোয়েটার নিয়ে আসে নি । আমি আমার চাদরের ভিতরে ওকে জায়গা দিলাম। {{ আমার চাদরে জায়গা পেতে ও ইচ্ছা করে এমন করেছে। এর বেশি কিছু না। }} - " আজ ত আমাদের শেষ দেখা, তাই না আরিয়ান । " " এক হাজার একটি গোলাপ শেষ হওয়ার আগে।" -" জান, প্রায় ই তোমার জন্য রাতে কাদি। কাউকে বলি না। বাবাকে ও না। কিন্তু , বাবা কেমন করে যেন বুঝে ফেলেন । আমাকে স্বান্তনা দেন । আমি ভাবি , এই না হলে কি বাবা ? মুখে বললাম , -" হুম , তুমি ত আমায় ভালো বেসে ফেলেছ ।" ও মৃদু ধাক্কা দিয়ে বলল, " ভুলেও না। একটি গোলাপ মিস হলেই বুঝবে। " " আমি শেষের দিন যাব না ঠিক করেছি। " ও আমার দিকে চোখ বড় করে তাকিয়ে আছে। আমার কথা সিরিয়াস কি না চিন্তা করছে। আমি একটা দুষ্টুমির হাসি দিয়ে সিরিয়াস হওয়ার ভান করলাম । হটাৎ ও কেদে দিয়ে আমাকে প্রচন্ড কিল ঘুসি দিতে লাগল। . আজ অনেক মার খেলাম অধরার হাতে। বাসায় আসলাম। অধরা ফোন দিল। " আবার যদি এ কথা বল, আমি কিন্তু তোমায় খুন করব। " " হাহাহা, ওকে। " কথা বলছে ও। এর মধ্যেই কল কেটে দিলাম। মাঝে মাঝে একটু মজা নিতেই হয় । আজ তিনশ চৌত্রিশতম দিন। চাচার গাছে দুইটা কাল গোলাপ ফুটেছে। ভোর পাঁচ টা বাজে। আমি চাচার ফ্ল্যাটে। "চাচা, একটা কথা জিজ্ঞেস করি! " " বল বাবা, কি বলবে? " -" কাল রাতে ছোট্ট বোনটি ফোন দিয়ে বলল, মার অসুখ। চাচা , অধরার সব কিছুই ত আপনাকে বলেছি । আমি পরীক্ষা, ঈদ, কিছুতেই ফুল দেয়া বাদ দেই নি। আজ ফুল দিলে আমার ভালবাসা সার্থক হবে। আপনি বলেন ত, কি করব! " চাচা আমার দিকে অদ্ভুত দৃষ্টি নিয়ে তাকিয়ে রইলেন। বললেন, " বাবা, আমি কিছুই বলব না। কিন্তু, সেই ছোট্ট থাকতে বাবা মা হারিয়েছি। বাবা মার অভাব সবচেয়ে বড় অভাব। " চাচা কাঁদছে নিরবে। আমি চাচার কান্না থামালাম না। চাচা কাদুক , অনেক দিন পর হয় চাচা কাদুক , অনেক দিন পর হয়ত মা-বাবার কথা মনে পড়লো বেচারার! সন্ধ্যা ছয়টা। আমি বাড়ি পৌছেছি। হাতে একটা সাদা আর একটা কাল গোলাপ। অপর টা চাচার গাছেই রেখে এসেছি। সরাসরি মার রুমে ঢুকলাম। মা শুয়ে আছে। কপালে হাত দিলাম। অনেক জর। মা চোখ খুললেন। আমার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইলেন। তারপর,মার চোখ দিয়ে পানি চলে আসল। " বাবা, এত দিন পর আসলি? কই ছিলি এত দিন? " মা কে বলতে পারলাম না, তার জন্য কত কষ্ট হয়েছে আমার। শুধু মা কে জড়িয়ে ধরে থাকলাম। আমার চোখ দিয়ে কেন যেন পানি আসছে না। মার হাতে গোলাপ দুটি দিলাম। মা হাসল, " কোথা থেকে আনলি ?" " আমার এক প্রিয় চাচা দিলো, তার নিজের গাছের। " আমরা কথা বলছি, বাবা সব বাইরে থেকে দেখছিল। হটাৎ তাকে খেয়াল করলাম। ভয়ে আমার মুখ থেকে রক্ত সরে গেল , বুঝতে পারলাম । বাবা কাছে আসলো আমার। তারপর, কঠিন একটা থাপ্পড় দিল। কানে তব্ধা লেগে গেল মনে হয় । তারপর বুকে টেনে নিল। তার ও চোখ দিয়ে জল পড়ছে। -" বদমাশ, এত দিন. আমাদের কিভাবে না দেখে থাকতে পারলি? অধরার প্রতি আমার ভালবাসা আমি যথেষ্ট প্রমাণ করেছি। তবে, মা বাবার প্রতি অনেক অবিচার করেছি। এবার তা সুদে আসলে ফেরত দিতে হবে। মা কিছুক্ষণ পরই জ্বর কাটিয়ে ভাল হয়ে গেলেন। এখন আমার জন্য রান্না করছে। ছোট্ট বোনটার জন্য একটা চকলেটের বক্স এনেছি। তাতেই ও অনেক খুশি হয়ে একটা পাপ্পী দিয়েছে। রাত বারোটা বাজে। আজ পুর্নিমা। আমি জঙ্গলের মাঝে একটি খালি মাঠে বসে আছি। গাছের ফাক দিয়ে চাদেঁর আলো আমার ওপর পড়ছে। বসন্ত কাল। মৃদু হাওয়া আসছে দক্ষিণ দিক থেকে। আমি পরিবেশ টা উপভোগ করছি। মোবাইল টা চালু করলাম। সকালে বন্ধ করেছিলাম। মিসডকল এলার্ট জানিয়ে দিল, অধরা পাঁচশত তেরটা কল দিয়েছে। মেয়েটার ভাল ধৈর্য আছে। হটাৎ, পেছনে কারো পায়ের আওয়াজ শুনলাম। রানা এসেছে। তার চোখে দীর্ঘ জার্নির প্রতিফলন । -" তুই কই শালা?তরে গোটা দেশে খুজে পেলাম না। তোকে কত খুজেছি জানিস? " -" কেন, কি হয়েছে? " -" কি হয়েছে একটু পর ই বুঝবি । শালা ! " মাথায় একটা গাট্টা মেরে ও চলে গেল । -" উফফফফফ ! " মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে আমি আবার চাঁদ দেখছি। আবার, পেছনে পায়ের শব্দ। দেখি, ঝকঝকে কালো শাড়ি পড়ে অধরা আসছে। তার হাতে ইয়া বড় এক গোলাপের তোড়া! সব টকটকে লাল । যেন হৃদয়ের গহীন থেকে রক্তস্নাত এক গুচ্ছ পুষ্প উৎসর্গের জন্য এনেছে সে । আমি ফুল দেখছি না, দেখছি অধরাকে।। ওর মুখটা পূর্ণিমার বিশাল এক চাঁদের রুপালি আলোয় চকচক করছে। " নাও, ধর, আর পারছি না।" আমি ধরলাম! এত ওজনের গোলাপগুলো এই মেয়ে আমার জন্য বয়ে এনেছে!! এবার, দুটি গোলাপ দেখলাম ওর মেহেদীরাঙা হাতে। একটা সাদা, একটা কালো। - " আমি তোমায় ভালবাসি। প্রমাণ স্বরুপ এই ফুলগুলো। গুণে দেখ , ঠিক আছে কি না । ১০০১ টাই পাবে । আমি আর বাবা মিলে গুণেছি । " আমি মুখটাকে গম্ভীর করে রেখেছি । খুব গুরুত্বপূর্ণ কথা বলার ভঙ্গীতে বললাম -" আমি ত তোমায় ভালবাসি না। " অধরা বজ্রাহতের মত তাকিয়ে আছে। খুব আপনজনের কাছে ভাল খবর আশা করে যখন খারাপ খবর শুনে , তখন যেমন হতভম্ব হয়ে যায় , অধরার মুখে সেই অভিব্যাক্তির প্রতিফলন । আরেকটু হলেই কেদে দিবে। কাদার সুযোগ দিলাম না। বুকে জড়িয়ে ধরলাম। " আমিও তোমায় ভালবাসি। তোমায় বিয়ে করতে চাই। করবে? পারবে ? এ গ্রাম্য,অগোছালো ছেলের সাথে সারাটা জীবন পার করতে?" কিন্তু কান্নাটা থামানো গেল না । অধরা কেদে দিল । বুঝতে পারলাম , বুকের শার্ট ভিজে যাচ্ছে । -" হা, পারব। আমি কখনো টাকা পয়সার দিকে খেয়াল করিনি। সব সময় চেয়েছি এমন একজন আমার জীবনে আসুক , যে আমাকে এতটা ভালবাসবে , যেমন ভালোবাসা কেউ কখনও বাসেনি । আমায় মাফ করে দাও। আমার জন্য তোমার মা বাবার কাছ থেকে দুরে থাকতে হয়েছে। " ওর ঠোঁট বন্ধ করে দিলাম ........ না, যা ভাবছিলেন তা না, ওর ঠোঁটে আঙ্গুল চেপে ধরলাম। এখন রুপালি আলো উপভোগের সময়। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সন্তান হলে মা যেভাবে সন্তানকে বুকে চেপে ধরে , খুশিতে ওকে সেই ভাবে বুকে টেনে নিলাম। পাশে পড়ে রইল এক হাজার একটি গোলাপ। যা আমাদের ভালবাসার স্মৃতি স্বরুপ ফুটেছে। .......... ভালবাসা শুধু হাসায় না, কাদায় ও। অধরা কাঁদছে। আমি শক্ত করে ওকে জড়িয়ে ধরে আছি। আজীবন ধরে রাখতে চাই ......................।।।।।।।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৪১ জন


এ জাতীয় গল্প

→ এক হাজার একটি গোলাপ

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now