বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

এক বৈচিত্র্য দিবসে (পর্ব-৫)

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X এক বৈচিত্র্য দিবসে (পর্ব-৫) আবুল ফাতাহ আরো মিনিট দশেক পর কাটল। ঠিক এমন সময় সন্ধ্যার আবছায়াকে আলোকিত করে রেস্টুরেন্টে ঢুকল নাবিলা। এখানে সামান্য কথা আছে। আমি নাবিলাকে কখনো দেখিনি। তবে নিজের ইনট্যুশন এর উপর আমার ভাল আস্থা আছে।সেই ইনট্যুশন এর উপর নির্ভর করেই আমি ধারনা করলাম এই মেয়েটাই নাবিলা। মেয়েটা আমার থিওরি অনুযায়ী ঠিক আগুন সুন্দরী না।স্নিগ্ধ সুন্দরী বলা যেতে পারে।তবে গোধুলীর আগুনরাঙ্গা আলোয় ক্ষনিকের জন্য সব মেয়েই আগুন সুন্দরী হয়ে যায়।গ্রাম বাংলায় এই আলোকে "কইন্যা সুন্দরী আলো" বলে। মেয়েটা ঠোঁট কামড়ে ধরে আশেপাশে তাকাতে লাগল।আমার বিশ্বাস তাতেই দৃঢ় হল আরো। ভ্যানিটিব্যাগ থেকে ফোন বের করে কাকে যেন ডায়াল করল সম্ভবত আরিফকে।খানিক পরই বিরক্ত হয়ে ফোন নামাল কান থেকে। আরিফ গাধাটা বোধহয় ভয়ে ফোন বন্ধ করে রেখেছে! এরপর মেয়েটা বসে পড়ল একটা টেবিল বেছে নিয়ে।এবং সৌভাগ্য কিংবা দুর্ভাগ্যবশত সেটা আমার পাশের টেবিলটাই! এবার কাজে নামার সময় হয়েছে।আমি আমার টেবিল ছেড়ে এগিয়ে গেলাম মেয়েটার টেবিল লক্ষ্য করে। আমাকে সামনে দাঁড়াতে দেখেই কপালে ভাঁজ আর চোখে প্রশ্ন নিয়ে তাকাল আমার দিকে। আমি তার ভ্রুকুটিকে থোড়াই কেয়ার করে ঝুপ করে বসে পড়লাম সামনের চেয়ারে। ‘কে আপনি?’ কপালের ভাঁজ আরো গভীর হল নাবিলার। ‘আমি সেটা জানার প্রয়োজন নেই।আমি কী,সেটা জানলেই হবে।’ মুখে চালবাজি ধরে রেখেছি যথাসম্ভব।মুখ নব্বই ডিগ্রি অ্যাঙ্গেলে রেখে চুইংগাম চাবাচ্ছি। ‘আপনি কে বা কী সেটা জানার আমার কোনো প্রয়োজন নেই।আপনি এভাবে অনুমতি ছাড়া বসে পড়লেন কেন আমার সামনে?’ ‘অবশ্যই প্রয়োজন আছে।আমি কী সেটা জানলেই বুঝতে পারবেন কেন বসেছি এখানে।’ নাবিলা কথা না বলে রাগী রাগী ভঙ্গিমায় তাকিয়ে রইল আমার দিকে। ‘আমি ডিবির লোক।’ সিরিয়াস একটা ভঙ্গি নিয়ে বললাম। কথাটা শুনেই ফিক করে হেসে ফেলল নাবিলা। এবার আমার ভ্রু কুঁচকে উঠল।হেসে ফেলার মত কিছু বললাম কি? ‘হাসছেন কেন?’ ‘কই,হাসছি না তো।’ বলতে বলতে ফিক করে হেসে ফেলল নাবিলা। আমি কটমট করে তাকাতেই নাবিলা বলল,‘ডিবি কি আজকাল কবিদের দিয়ে গোয়েন্দাগিরি করাচ্ছে?’ ‘কবি?কে কবি?কিসের কবি?’ ‘আপনি কবি না?’ ‘আমি কবি হতে যাব কোন দুঃখে?!’ ‘তাহলে পাঞ্জাবী পরে আছেন কেন?’ আমি বিষম খেলাম।বলে কী মেয়েটা! ‘কেন আমাকে দেখে ডিবি মনে হচ্ছে না?’ ‘মোটেই না।একটু আগে কবি কবি মনে হচ্ছিল, এখন সেটাও মনে হচ্ছে না।’ ‘তো কিসের মত মনে হচ্ছে?’ ‘পাড়ার সস্তা রংবাজদের মত যারা কিনা মোড়ে দাঁড়িয়ে গরুর জাবর কাটার মত করে চুইংগাম চাবায় আর সুন্দরী মেয়ে দেখলেই গায়ে পড়ে কথা বলতে আসে।’ আমি কোঁৎ করে চুইংগাম গিলে ফেললাম! মানুষ সুক্ষ্ম অপমান সহ্য করতে পারে কিন্তু স্থুল অপমান না। এবার গম্ভীর মুখে নাবিলা বলল,‘দেখুন,আপনি ডিবি না জিবি তাতে আমার কিছু যায় আসে না।আমার একজন গেস্ট আসবে এখন।আপনি উঠলে খুশি হই।’ এবার শুরু হবে অভ্রর খেলা।চুইংগাম গিলে ফেলা সত্ত্বেও কিভাবে চেহারায় চালবাজি আনতে হয় অভ্র সেটা জানে।না জানলেও অবশ্য সমস্যা ছিল না। আমি এখন যা বলতে যাচ্ছি তাতে করে নিশ্চিতভাবেই নাবিলা ভিড়মি খেতে যাচ্ছে। ‘আমার দেরী দেখে আবার বলে উঠল নাবিলা,‘কী হল?’ আমি নাবিলার প্রশ্নের ধাঁরে কাছ দিয়েও গেলাম না।‘আরিফের সাথে আপনার কতদিনের পরিচয়?’ এবার সত্যি সত্যি মেয়েটা হকচকিয়ে গেল।‘মানে?’ ‘মানে,আপনি যার জন্য অপেক্ষা করছেন,সেই আরিফ মিয়ার সাথে আপনার কতদিনের পরিচয়?’ ‘আরিফ মিয়া নামের কাউকে আমি চিনি না।’ ‘মিয়া না শেখ তাতে কী এসে যায়?আপনি যার সাথে পিরিতি করেন আমি সেই আরিফের কথা বলছি।’ ‘পিরিতি করি মানে?এটা আবার কী ধরনের ভাষা?’ ‘আচ্ছা,শুদ্ধ ভাষায় বলছি,প্রেম করেন।এবার ঠিক আছে?’ ‘আমি কারো সাথে প্রেম করি না।’ এবার একটা বাঁকা হাসি নিয়ে বললাম,‘আমি যে ডিবির লোক সেটা তো আগেই বলেছি।আপনি কিভাবে ধারণা করলেন আমি আরিফের ব্যাপারে খোঁজ খবর না নিয়েই এখানে এসেছি।আপনার নাম নাবিলা,আপনি আরিফ মিয়ার প্রেমিকা,এসব আমি ভাল করেই জানি।আপনি ওর জন্য অপেক্ষা করলেও লাভ নেই।ও আসবে না।ওর ফোনও বন্ধ।বিশ্বাস না হলে ট্রাই করে দেখুন।’আন্দাজে ঢিল ছুড়লেও কাজ হল তাতে।নাবিলা এবার হার স্বীকার করে নিল। ‘কী হয়েছে ওর?’ ‘এখনো কিছু হয়নি,তবে হবে।যদি আপনি আমাদের সাহায্য না করেন।’ কাঁদো কাদো হয়ে গেল নাবিলার চেহারা।‘কী করতে হবে আমাকে?’ ‘ওর সম্পর্কে কী কী জানেন?’ ‘উমম...কী কী জানি?’ ‘হুম।’ ‘জানি যে...ও বাবা মা’র একমাত্র সন্তান।’ ‘আর?’ ‘ওর বাবা বিদেশে থাকে।’ ‘আর?’ ‘আমরা একই ভার্সিটিতে পড়ি।অবশ্য আমার চাইতে দু বছরের সিনিয়ার।’ ‘আর?’ ‘আর?’ ‘হুম।’ ‘আর তো কিছু জানি না তেমন।’ ‘এটুকু জেনেই বদমাশটার গলায় ঝুলে পড়লেন?’ ‘ঝুলে পড়া আবার কী ধরনের কথা?’ আব্র আর নাবিলার গলায় আগের তেজ দেখা যাচ্ছে না। ‘ঝুলে পড়াই তো।এটুকু জেনে কেউ প্রেম করে?’ মাথা নীচু করে থাকল মেয়েটা। ‘আচ্ছা,এবার আপনার সম্পর্কে বলুন।’বললাম আমি। ‘আমার সম্পর্কে আবার কী?’ ‘সব।’ ‘কেন?’ ‘আরিফ মিয়ার মত বদের হাড্ডির প্রেমিকাও যে ওর মত বদ না,সেটা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন!’ তেজ দেখাতে গিয়েও ঠান্ডা মেরে গেল মেয়েটা।একবার ঢোক গিলল।আমার মায়া হতে লাগল।তবে খেলাটা আরো কিছুক্ষন খেলে যেতে হবে আমাকে। ‘আপনার তো গলা শুকিয়ে গেছে তাই না?’ ‘না না,গলা শুকাবে কেন?’ বলেই আবার ঢোক গিলল মেয়েটা। ‘এক্সকিউজ মি।’ আমি ওয়েটারকে ডাক দিলাম।কাছে এলে দুটো মিল্কশেকের অর্ডার করলাম। পকেটের টাকায় যদিও আধগ্লাস মিল্কশেক মিলবে। ‘মিল্কশেক আসছে,এবার বলা শুরু করুন।’ ‘কী বলব?’ ‘ওকে,আমি প্রশ্ন করছি।আপনার বাবা-মা কী করে?’ ‘মা গৃহিনী।বাবা রিটায়ার্ড আর্মি অফিসার।’ নাবিলার দৃষ্টির আড়ালে একটা ঢোক গিললাম! এইজন্যই আমি ডিবির লোক শুনেও মেয়েটা ভয় পায়নি প্রথমে। ‘আপনার ভাই-বোন কয়জন?’ ‘আমরা দু’বোন।বড় বোনের বিয়ে হয়ে গেছে।’ ‘আপনার দুলাভাই কী করে?’ ‘আরিফের সাথে আমার দুলাভাইয়ের কী সম্পর্ক?’ ‘আরিফ মিয়ার মত বদের হাড্ডির প্রেমিকার দুলাভাইও যে ওর মত বদ না,সেটা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন!’ মুখ কাঁচুমাচু করে ফেলল নাবিলা। ‘উনি একটা মাল্টি-ন্যাশনাল কোম্পানীতে চাকরি করেন।’ ‘বেতন পায় কত?’ ‘ভাল।’ ‘হুম,আরিফ যে বেকার,সেটা জানেন?’ ‘ওমা,জানব না কেন?ও তো আমার সাথেই পড়ে।’ ‘সেটা জানি কিন্তু পড়াশোনা শেষ হবার পরও যে ও বেকার থাকবে সেটা জানেন?’ ‘পড়াশোনা শেষ হবার পর বেকার থাকবে কেন?’ ‘আমাদের দেশে চাকরী পাওয়া কতটা কঠিন সে সম্পর্কে কোনো ধারণা আছে আপনার?’ ‘জানি,কিন্তু আরিফ একাউন্টিং নিয়ে পড়াশোনা করছে। একটু দেরী হলেও ভাল চাকরী পাবে বলেই আমার বিশ্বাস।’ ‘আপনার বিশ্বাস ধুয়ে আপনি পানি খান!’ ‘এভাবে কথা বলছেন কেন?আপনি কি সবার সাথেই এভাবে কথা বলেন?’ এবার মনে হল খানিক রুষ্ট হল নাবিলা। ‘নাহ,শুধু আরিফের মত বদের হাড্ডির প্রেমিকাদের সাথে।’ নিজেকে অনেকটাই ফিরে পেয়েছে নাবিলা। বলল,‘তখন থেকে আপনি শুধু ওকে “বদের হাড্ডি,বদের হাড্ডি” বলে যাচ্ছেন।ও কী বদমাইশি করেছে?’ কথাটা বলা হতেই ওয়েটার মিল্কশেক দিয়ে গেল। আমি একটা গ্লাস তুলে নিয়ে নাবিলাকে ইশারা করলাম। কেমন অনীহা নিয়ে একটা গ্লাস তুলে নিয়ে বললাম,‘আস্তে ধীরে জানতে পারবেন।তার আগে বলুন,‘আপনি ওর সাথে যে প্রেম করছেন,ও কবে পড়াশোনা শেষ করবে,কবে চাকরি পাবে,কবে আপনাকে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে আপনার বাবা-মা’র কাছে যাবে তার তো ঠিক নেই।’ ‘ঠিক থাকবে না কেন?আর একবছর পরই ওর পড়াশোনা শেষ হবে।এরপর নিশ্চয়ই অনন্তকাল বেকার থাকবে না।আর চাকরি না পেলেও দেশে তো অন্য কাজও আছে নাকি?ততদিন ওর জন্য অপেক্ষা করতে পারব আমি।’ ‘কিন্তু আপনার আর্মি বাবা কী পারবেন?’ ‘আমি বাসায় ওর ব্যাপারে সব বলেছি।বাবা-মা ওর নিজের পায়ে দাঁড়ানো পর্যন্ত অপেক্ষা করতে রাজি আছেন।’ আমি মনে মনে পুলকিত হলাম।মেয়েটা তো দেখা যাচ্ছে “আজাইরা” টাইপের প্রেমিকা না। বুদ্ধিমতি,দূরদর্শী। ‘এই খবর ওই বদের হাড্ডিটা জানে?’ ‘নাহ,গতকালই বলেছি বাসায়।আজ ওকে জানাবার জন্যই আসতে বলেছিলাম।’ ‘আরিফের বাবা-মা জানেন?’ ‘তা তো জানি না।মনে হয় জানে না।ও খুবই নার্ভাস টাইপের ছেলে।বলতে ভয় পাবে।’ ‘নার্ভাস,না?আকাম কুকাম করার সময় তো আর নার্ভাস থাকে না!’ ‘কী করেছে ও?’ ‘আস্তে ধীরে জানতে পারবেন সব।’ ‘আস্তে ধীরে কেন?এখনই বলুন।’ ‘আরিফ হল একটা বদের হাড্ডি।’ ‘এটা অনেকবার শুনেছি।আসল কথা বলুন।’ ‘সত্যি কথা বারবার শুনতে হয়।তো যা বলছিলাম,আরিফ হল একটা বদের হাড্ডি!’নাবিলার নাক ফুলে উঠল।আমি পাত্তা না দিয়ে বলতে লাগলাম,‘আরিফ মেয়েদের সাথে প্রেমের ফাঁদে ফেলে তাদের ব্ল্যাকমেইল করে সর্বস্ব লুটে নেয়।আপনি হলেন ওর সাড়ে বাইশ নাম্বার শিকার।’ ‘সাড়ে বাইশ?’ ‘মানে এর আগে বাইশজন ভিকটিম ছিল।আপনাকে তো এখনও পুরোপুরি ফাঁদে ফেলতে পারেনি এজন্য আপনি আমাদের ডিবির পরিভাষায় সাড়ে বাইশ নাম্বার ভিকটিম।’ ‘ও আচ্ছা।’ নিষ্প্রহ স্বরে বলল নাবিলা। আমার ভ্রু কুঁচকে উঠল।‘কী হল?’ ‘কোথায় কী হল?’ ‘আপনি মনে হচ্ছে আমার কথা বিশ্বাস করেন নি।’ ‘প্রশ্নই আসে না।’ ‘কেন?’ ‘আপনি আরিফকে যতদিন ধরে চেনেন,আমি তার চাইতে একদিন হলেও বেশি চিনি এবং আপনি ওকে যতটুকু চেনেন,আমি তারচাইতে একটু হলেও বেশি চিনি।সবচাইতে বড় কথা,আপনি ওকে ভালবাসেন না,কিন্তু আমি বাসি।’ ‘এখানেই তো সমস্যা।প্রেম পিরিতিই তো আপনাকে অন্ধ করে ফেলেছে।’ ‘বিবাহ বহির্ভূত প্রেম হয়ত মানুষকে অন্ধ করতে পারে কিন্তু আমি তো আরিফকে ভালবেসেছি পাবার জন্যই।কাজেই মনে হয় না,আমি ওকে ভুল বুঝেছি।’ ‘এখনই বুঝতে পারবেন।’ ‘মানে?’ ‘মানে হল,আরিফ বদের হাড্ডিটাকে তার বাইশ নাম্বার ভিকটিমের আত্মীয় স্বজনরা মিলে পেঁদিয়ে পুলিশে হ্যান্ড ওভার করেছে।এখন পিজিতে আছে বদের হাড্ডিটা।আপনাকে এখন আমার সাথে পিজিতে যেতে হবে।’ ‘প্রশ্নই আসে না।’ ‘কেন? আপনি কি ওকে ভালবাসেন না?’ ‘বাসি।এবং বাসি বলেই আপনার কথা বিশ্বাস করতে পারছি না।আর পারছি না বলেই আপনার সাথে আমি যাব না।’ ‘দেখুন,চাইলে আপনাকে প্রেশার ক্রিয়েট করতে পারি আমি।’ খানিক ভয় পাইয়ে দিতে চাইলাম নাবিলাকে। ‘উহু,পারেন না।কারণ আপনি সত্যিই ডিবির লোক,তার কোনো প্রমাণ এখন পর্যন্ত দেখাতে পারেন নি।’ ‘কিসের প্রমান?’ ‘আইডেন্টি কার্ড।’ কথাটা শুনেই পেটের মধ্যে মোচড় দিয়ে উঠল। সর্বনাশ! ব্যাপারটা তো আগে মাথাতেই আসেনি! আমি আগের কথাটার পেছনে লেজুড় জুড়ে দিলাম।‘আমাকে কথা শেষ করতে দিন।আমি চাইলে আপনাকে প্রেশার ক্রিয়েট করতে পারি।কিন্তু আমি তা করব না! কারণ আপনি আমার সাথে না এলেও আমার কোনো ক্ষতি নেই।লাভ আছে কিছুটা।আমি ওর নামে চার্জশিট দাখিল করে কেসটার ইতি টেনে ফেলব।কিন্তু আপনি গিয়ে যদি প্রমাণ করতে পারেন,লোকে ওকে যতটা বলে ও আসলে ততটা বদের হাড্ডি নয় তাহলে ব্যাপারটা বিবেচনা করে দেখতে পারি।আর হ্যাঁ,আমি আপনাকে আমার আইডি দেখাব না। কেন দেখাব না জানতে চান? দেখাব না,কারন কার্ডটা দেখানো মানেই আপনার উপর প্রেশার ক্রিয়েট করা।কিন্তু আমি আপনাকে চাপ দিয়ে আমার সাথে নিতে চাই না। আরিফের প্রতি আপনার অনুভূতিটা শুধু আমি জানতে চাই।ওর প্রতি আপনার ভালবাসার গভীরতা মাপতে চাই। আর সেটা করতে হলে আপনাকে আমার সাথে আসতে হবে।’ নাবিলা চুপ করে রইল। ‘আপনি কি যাবেন?’ ‘না।’ ‘অ্যাজ ইওর উইশ।’ আমি চেয়ার ছাড়লাম।সব সময় সব কিছু পরিকল্পনা মাফিক ঘটবে এমনটা ভাবার কোনো কারণ নেই।হাঁটা ধরলাম আমি। ‘শুনুন!’ পেছন থেকে ডেকে উঠল নাবিলা। আমি দাঁড়িয়ে পড়লাম।পেছনে না তাকিয়েই বললাম,‘বলুন।’ ‘আমি যাব।’ খুশিতে বুকের রক্ত ছলকে উঠলেও ঘুরে তাকিয়ে নিষ্পৃহ স্বরে বললাম,‘অ্যাজ ইওর উইশ।’ নাবিলাকে চেয়ার ছাড়তে দেখেই তড়িঘড়ি করে বলে উঠলাম,‘বিলটা কি আপনি দিয়ে দিতে পারবেন?’ নাবিলা কিছুক্ষন আমার দিকে অদ্ভুত চোখে তাকিয়ে থেকে ভ্যানিটিব্যাগ খুলে বিল মিটিয়ে দিল। ‘চলুন।’ বললাম। আমি আর নাবিলা দরজার দিকে এগোচ্ছি, এমন সময় ভয়াবহ একটা ঘটনা ঘটল।দরজা থেকে আমরা যখন কমবেশি দশফুট দুরে,ঠিক সেই সময় দেখতে পেলাম দারোগা দুলালবাবু সপরিবারে রেস্টুরেন্টে ঢুকছেন! আমি ভেবেছিলাম,এটাই বোধহয় ভয়াবহ ঘটনা।কিন্তু আসল ভয়াবহ ব্যাপারটা ঘটল এরপরই। দারোগাবাবু নাবিলাকে দেখেই বলে উঠলেন,‘আরে,নাবিলা মা না?কেমন আছো?!’


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১০৮ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now