বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

এক বৈচিত্র্য দিবসে (পর্ব-৪)

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X এক বৈচিত্র্য দিবসে (পর্ব-৪) আবুল ফাতাহ সাত খিলখিল করে হেসেই চলছে আফরীন। ‘আচ্ছা ঘটনা কী ঘটেছিল?ওরা কি পুলিশ আসার আগ পর্যন্ত আপনাকে বেঁধে রেখেছিল প্রথমে?’ হি হি করে হাসতে হাসতে বলল আফরীন। আশ্চর্য! এত হাসির কী আছে এতে? আমি জবাব না দিয়ে চোখমুখ শক্ত করে সামনে তাকালাম।গাড়ির রিয়ারভিউ মিররে চোখ পড়তেই দেখি ড্রাইভার মাহবুব ব্যাটাও ফিঁচেল হাসি হাসছে।বদের হাড্ডি কোথাকার! ‘না বাঁধেনি।’ ‘তাহলে?’ ‘আমাকে ঘিরে রেখেছিল।পুলিশ আসতেই ওদের হাতে তুলে দেয়।’ আমি গোমড়ামুখে জবাব দিলাম। আফরীনের ফিঁচেল হাসি মোটেও ভাল লাগছে না শুনতে।প্রসঙ্গ পাল্টে ফেলবার জন্য বললাম,‘তুমি কিভাবে জানলে আমি থানায়?’ ‘ও কথা পরে।আগে বলুন,পুলিশ কি আপনাকে পেঁদিয়েছে? হি হি!’ ‘পেঁদিয়েছে মানে কী,অ্যাঁ? এই অশ্লীল শব্দ কে শিখিয়েছে তোমাকে?’ ‘এটা অশ্লীল শব্দ? আপনিই না সেদিন বললেন?’ বাচ্চা মেয়েদের মত চোখ বড় বড় করে বলল আফরীন। ‘ও...ইয়ে...তাই নাকি!’ ‘বলুন না,পেঁদিয়েছে?’ ‘না পেঁদায়নি।তবে তোমার আগ্রহ দেখে মনে হচ্ছে আমাকে পেঁদালে কিঞ্চিত আরাম পেতে তুমি?’ ‘অবশ্যই পেতাম।আপনি কোন আক্কেলে গাড়ি ছিনতাই করতে গেলেন?’ ‘তুমিও জানো,আমি গাড়ি ছিনতাই করতে যাইনি।’ ‘ও হ্যাঁ তাইতো।আপনি তো বিচিত্র দিবস পালন করছিলেন।’ঠোঁট গোল করে গলায় যঠেষ্ট পরিমাণ ব্যাঙ্গ ঢেলে বলল আফরীন। ‘ওটা বৈচিত্র দিবস হবে।’ ‘ওহ সরি।’ একটু বিরতি দিয়ে আবার বলল,‘আচ্ছা,আপনি কি লক্ষ্য করে দেখেছেন,বৈচিত্র দিবস পালন করতে গিয়ে আপনি নিজেই একটা বৈচিত্রময় অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন?’ ‘তাও ঠিক,তবে এটাকে বৈচিত্রময় অভিজ্ঞতা না বলে ভয়াবহ অভিজ্ঞতা বলাটাই ভাল!আচ্ছা ভাল কথা,তুমি কিভাবে বুঝতে পারলে আমি থানায়?’ ‘আমাদের গাড়িটা একটু ট্রাবল দিচ্ছিল বলে কলেজ থেকে বের হতে একটু দেরি হয়ে যায়। স্পিডব্রেকারের কাছে এসে আপনাকে দেখতে না পেয়ে মাহবুব ভাই আমাকে আপনার প্ল্যানের কথা বললেন।এমন সময় দেখি রাস্তার পাশের লোকজন উত্তেজিত হয়ে কী কী যেন বলাবলি করছে।আমি মাহবুব ভাইকে পাঠালাম ঘটনা দেখে আসার জন্য।মাহবুব ভাই এসে বললেন,একটু আগেই নাকি এখান থেকে কুখ্যাত এক ছিনতাইকারীকে পাকড়াও করা হয়েছে। একেবারে দিনে দুপুরে গাড়ি ছিনতাই করতে গিয়েছিল।অনেকদিন থেকেই নাকি একাজ করে আসছে।’ ‘সর্বনাশ!’ আমি অস্ফুটে বলে উঠলাম। ‘শুনেই আমি বুঝতে পারি এই “কুখ্যাত” ছিনতাইকারী আপনি ছাড়া কেউ না! এরপর থানায় রওনা দেই।যাক,“কুখ্যাত” ভাবাতেই রক্ষে।ছিঁচকে ছিনতাইকারী ভাবলে আর দেখতে হত না! তা আপনি এখন কোথায় যাবেন?’ ‘প্যাং চাই।’ ‘প্যাং চাই?’ ‘কী জানি, চ্যাং পাইও হতে পারে।চাইনিজ রেস্টুরেন্ট।ধানমন্ডিতে।’ ‘ওখানে আপনার কী?’ ‘ওখানে নাবিলা অপেক্ষা করছে।’ আচ্ছা,কথাটা শুনে কি আফরীনের মুখটা কালো হয়ে গেল?নাকি চোখের ভুল? ‘মাহবুব ভাই,ধানমন্ডিতে চলুন।’ মুখ গোমড়া করে বলল আফরীন।আশ্চর্য! নাবিলা নামটা শুনেই মেয়েটার মুখ কালো হয়ে গেল কেন? আমি তো বলিনি নাবিলা নামের মেয়েটা আমার জন্য অপেক্ষা করছে।আর করলেই বা তাতে কী এসে যায় আফরীনের? জবাবটা জানা নেই আমার। কিছুক্ষন কাটল অস্বস্তিকর একটা নীরবতায়।জমাট নীরবতায় স্নায়ুর চাপ টের পেয়ে পরিবেশ হালকা করতে বলল,‘আচ্ছা,তুমি কি আরেকটা ব্যাপার লক্ষ্য করেছো?’ ‘না করিনি।’ গোমড়া মুখেই জবাব দিল আফরীন। ‘আজ কিন্তু অনেক মানুষই বৈচিত্রের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছ।সেই গাড়িটাসহ আশেপাশে যারা ছিল তাদের সবাই আজ উত্তেজনার মধ্যে দিয়ে যাবে।গল্পটা থেকে শাখা বেরোবে,শাখা থেকে প্রশাখা,প্রশাখা থেকে তস্য প্রশাখা।সেই গাড়ির আরোহী হয়ত আজ বাড়ি ফিরে গিয়ে বলবে,জানো আজ হয়েছে কী,গাড়িতে করে আসছিলাম এমন সময় কয়েকজন মুখোশধারী আমাদের গাড়িটা চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলে। সবার হাতেই রাশিয়ান কালাশনিকভ!দলনেতাটার চেহারা দেখেই তো আমার পেটের ভাত চাউল হবার উপক্রম। উত্তেজনায় কেউ খেয়ালও করবে না মুখোশধারী দলনেতার চেহারা দেখতে পাবার কথা না!’ এটুকু বলা হতেই রাগ ভুলে খিলখিল করে হেসে উঠল আফরীন।লোকটার উদ্ধার পর্ব বলা হল না। ‘আপনি এত রসিকতা করেন কিভাবে?’ ‘শুনেছি আমার পূর্বপুরুষ খেজুরের রস বিক্রি করত।’ আবার হেসে উঠল আফরীন। হাসির দমক থামতে বলল,‘কী হল,আজ এত মানুষকে বৈচিত্রের মুখ দেখালেন আর আপনি মুখটা প্যাঁচার মত করে আছেন কী মনে করে?’ ‘আমি তো এত মানুষের জীবনে বৈচিত্র আনতে চাইনি।চেয়েছিলাম আমার প্রিয় মানুষগুলোর জন্য বৈচিত্রের আয়োজন করতে।তার মধ্যে তুমিও আছো।অথচ তোমার জন্য আমি বৈচিত্রের আয়োজন করতে পারিনি।’ ‘কে বলেছে পারেননি।আজ জীবনের প্রথম আমি থানায় গেলাম,পুলিশকে বলে আপনাকে ছাড়িয়ে আনলাম,এগুলো বৈচিত্র নয়? আর আপনি নিজেই তো সবচাইতে বড় বৈচিত্র।আপনার মত মানুষ যার পাশে থাকে সে কখনই একা নয়,কখনই দুঃখী নয়।’ আফরীনের গলা স্বরে কিছু একটা ছিল।আমার বুকটা হু হু করে উঠল। জানালা দিয়ে বাইরে তাকালাম আমি।রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়া মানুষগুলো গাড়ির কালো কাচ ভেদ করে আমার চোখের সূক্ষ্ম জলের রেখা দেখতে অক্ষম। আট সন্ধ্যা হতে এখনো ঢের দেরী। সবে বিকেল।এখনই জ্বলে উঠেছে চ্যাং পাই রেস্টুরেটের নেকলেসের মত মরিচবাতিগুলো।জোনাকীর মত জ্বলছে।ঘিরে রেখেছে পুরোটা ভবন।নির্দিষ্ট প্যার্টানে কোনোটা নিভছে,কোনোটা জ্বলছে। আফরীন আমাকে এইমাত্র চ্যাং পাই-এর সামনে নামিয়ে দিয়ে চলে গেল।আমি এইমুহুর্তে ছোট্ট একটা হিসেবে কষছি।আরিফ আমাকে বিকেলে পিজিতে যেতে বলেছিল।শাহবাগ থেকে এখানে আসতে আসতে মোটামুটি সন্ধ্যা হয়ে যাবার কথা। তারমানে নাবিলার সাথে ওর মিটিং এর মূল সময়টা সন্ধ্যায়।সেটাই স্বাভাবিক।সত্ত্বাগতভাবেই সন্ধ্যা সময়টা রোমান্টিক।প্রেমিক প্রেমিকারা এই সময়েই দেখা সাক্ষাৎ করবে তাতে আর আশ্চর্য কী। রেস্টুরেন্টে ঢুকবার আগে সামান্য একটা প্রস্তুতি নিতে হবে আমাকে। চেহারায় চালবাজ একটা ভাব ফুটিয়ে তুলবার আবশ্যকতা অনুভব করছি।এজন্য চুইংগামের বিকল্প নেই।মুখ সামান্য বাঁকা করে চুইংগাম চাবাতে থাকলে চেহারায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালবাজি চলে আসে। আমি দু'টাকা দিয়ে একটা চুইংগাম কিনলাম।কয়েকবার মুখ বাঁকা করে চাবিয়ে প্র্যাকটিস করে নিলাম। একটা আয়না হলে ভাল হত।নেই যেহেতু সেহেতু অভিজ্ঞতার উপরে নির্ভর করতে হবে। গায়ের পাঞ্জাবীটা টেনেটুনে যতটা সম্ভব কোঁচকানো ভাবটা দুর করবার প্রয়াস চালালাম।শার্ট পরে আসলে ভাল হত।নেই যেহেতু সেহেতু এটা দিয়েই কাজ চালিয়ে নিতে হবে।বঙ্গবন্ধুর সেই ঐতিহাসিক ভাষন,যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলায় ঝাপিয়ে পড়তে হবে। কথাটার মধ্যে আসলে গভীর এক জীবনবোধ রয়েছে।যার যা কিছু আছে সেটা নিয়ে সন্তুষ্ট হবার মধ্যেই মঙ্গল। আমি রেস্টুরেন্টের ভেতর ঢুকে পড়লাম।গার্ড সসম্মানে দরজা খুলে দিল আমার জন্য। অভিজাত রেস্টুরেন্টের এই এক ভাল দিক।একজন মানুষ প্রকৃতপক্ষে ধনী হোক কিংবা না হোক,পকেটে এই রেস্টুরেন্টে খাওয়ার মত পয়সা থাকলেই সবাই মিলে তাকে বারাক ওবামার মত তোয়াজ করতে থাকবে। রেস্টুরেন্টটা দোতলায়।এই একতলাই।নয়ত তলা খুঁজতে গিয়ে আমার তলা নেই হয়ে যেত! দোতলায় পৌছে,যদিও প্রেমিকার সাথে দেখা করতে আসিনি এরপরও কোনার দিকের একটা টেবিলে বসে পড়লাম।এখান থেকে ব্যস্ত রাস্তা দেখা যাচ্ছে বিশাল কাচের উইন্ডো দিয়ে। মানুষজন পিলপিল করে ছুটছে।যেন তাদের কেউ ফার্স্ট ফরোয়ার্ড করে ছেড়ে দিয়েছে। আমি বসে বসে চুইংগাম চাবাচ্ছি।ওয়েটার কয়েকবার এসে আশপাশ দিয়ে ঘোরাঘুরি করে গেছে।ডাক না দেয়ায় কাছে আসছে না।দেখে বুঝতে পারছে কারো জন্য অপেক্ষা করছি আমি।এসে অবশ্য লাভ নেই।পকেটের টাকা দিয়ে বড়জোর এককাপ কফি খেতে পারব।এরপর ধানমন্ডি থেকে বাড্ডায় হেঁটে ফিরতে হবে! আরো কিছুটা সময় কাটল।এই সময় মনে পড়ল,আরিফ যদি মেয়েটাকে ফোন করে আসতে নিষেধ করে দেয় তাহলে আমার সমস্ত আয়োজন একেবারে মাঠে পড়ে যাবে।তবে আমি একটা সুক্ষ্ম লজিকের উপর ভরসা করে এখানে বসে আছি। গতকাল আরিফকে নিরাশ করে একেবারে শেষমুহুর্তে গিয়ে হসপিটালে উপস্থিত হয়েছিলাম। মানুষ ক্ষেত্রবিশেষে খুবই আশাবাদী প্রাণী। যতদুর বুঝতে পারছি মেয়েটার বাসা আশেপাশেই। সেজন্য আরিফও একেবারে শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত আশা বাঁচিয়ে রাখবে।ভাববে গতকালের মত আজও আমি শেষমুহুর্তে উপস্থিত হয়ে ওকে চমকে দেব। সে আশা থেকেই হয়ত কিছু বলবে না মেয়েটাকে।কিন্তু আজ আরিফের আশার গুড়ে বালি,সিমেন্ট সুড়কি সবই পড়তে যাচ্ছে। আরো মিনিট দশেক পর কাটল। ঠিক এমন সময় সন্ধ্যার আবছায়াকে আলোকিত করে রেস্টুরেন্টে ঢুকল নাবিলা।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১০৮ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now