বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
এক বৈচিত্র দিবসে (পর্ব-৩)
আবুল ফাতাহ
ছয়
‘নাম কী?’ ভয়াবহ কালো লোকটা ভ্রুতে
শতখানেক ভাঁজ ফেলে জানতে চাইল।
‘অভ্র।’ আমি চেহারায় বোম্বাইয়া ছবির এক
ডাকসাইটে নায়কের মত ড্যাম কেয়ার ভাব আনার
চেষ্টা করছি।যদিও আমার পেটের ভাত চাউল হবার
উপক্রম।পুলিশ স্টেশনের এই রকম ভয়াবহ চেহারার
দারোগার সামনে বসে থাকলে চাউল না হবার
কোনো কারণ নেই।লোকটার নাম দেখতে
পাচ্ছি,দুলাল।কিন্তু দুলাল নামটা শুনলেই যে
আলাভোলা চেহারা চোখের সামনে ভেসে
ওঠে তার সম্পুর্ন বিপরীত চেহারা কল্পনা করলে
লোকটার চেহারার ভয়াবহতা সম্পর্কে কিছুটা
আন্দাজ করা সম্ভব।
‘এই নামের অর্থ কী?’ দারোগা দুলাল বললেন।
আমি একগাল হেসে উইকিপিডিয়া অনুযায়ী অভ্রর
সংজ্ঞা আউড়ে গেলাম,‘অভ্র বলতে একদল
খনিজকে বুঝায়।এদের রাসায়নিক উপাদান ভিন্ন হলেও
চারিত্রিক বৈশিষ্টের দিক থেকে এরা মোটামুটি এক
ও অভিন্ন।এদের স্ফটিকের আকার ষটকৌনিক।পাতলা
স্তরযুক্ত পিন্ডের আকারে অভ্র পাওয়া যায়।’ বলা
শেষ করে আরেকটা ভূবন ভোলানো হাসি দিলাম
দারোগাবাবুর দিকে তাকিয়ে।হাসিতে চিড়ে ভিজল
বলে মনে হচ্ছে না।দারোগাবাবুর চেহারা আরো
কুৎসিত হয়ে গেল বিরক্তিতে।
‘ফাইজলামকি!’
একটা ব্যাপার লক্ষ্য করে আমি খানিক স্বস্তি
পেলাম।দারোগাবাবু ভাববাচ্যে কথাবার্তা চালাচ্ছেন।
অর্থাৎ আমার ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোনো
সিদ্ধান্তে আসতে পারেননি।একবার সিদ্ধান্ত নেয়া
হয়ে গেলেই বিপদ।তখন হয়ত আপনি করে
বলবে অথবা তুই করে বলবে।দুটোই মারাত্মক
বিপদজনক।আপনি করে বলার অর্থ দারোগাবাবু
আমাকে হোমরাচোমরা টাইপের ক্রিমিনাল
ভাবছেন।মোরগ মিলন কিংবা ডেনমার্ক আসলাম
টাইপ।আর তুই করে বললে ধরে নিতে হবে তিনি
আমাকে ছিঁচকে চোরের উপরে কিছু ভাবতে
নারাজ।প্রথমটা ভাবলে ইহজীবনে আর জেলের
বাইরে পা দিতে পারব কিনা আল্লাহ মালুম।আর
দ্বিতীয়টার ক্ষেত্রে কী পরিমাণ প্যাঁদানি
আমাকে আর কিছুক্ষনের মধ্যে খেতে হবে
সেটা ভেবেই গা কাঁপছে।
আমি দারোগাবাবুর কথার জবাব না দিয়ে চুপ করে
বসে রইলাম।চেহারার ড্যামকেয়ার ভাব সরিয়ে একটা
গোবেচারা ভঙ্গি আনার চেষ্টা করছি।
দারোগাবাবু মুখচোখ শক্ত করে বললেন,‘গাড়ি
ছিনতাই করতে গেছিলা কেন?’
আমার গোবেচারা ভঙ্গিতে বিভ্রান্ত হয়েই তুমি
করে বললেন কিনা জানি না,তবে আমি নিজেই
পুরোপুরি বিভ্রান্ত হয়ে গেলাম।তুমি করে বলার
মানে কী? তিনি কি আমাকে শায়েখ আবুল হাশেম
কিংবা উর্দু ভাই ভাবছেন?
আমি সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললাম।এখন পুতুপুতু করার
সময় না।এখন সিরিয়াস সময়।আমি গোবেচারা ভঙ্গিও
সরিয়ে ফেললাম চেহারা থেকে।সিরিয়াস একটা ভাব
নিয়ে বললাম,‘স্যার, আমি সত্যিটা বললে আপনি
বিশ্বাস করবেন না।এজন্য বলে কোনো লাভ
নাই।’
‘লাভ আছে কি নাই এইটা তো তোমার
ডিপার্টমেন্ট না।এইটা হইল আমার ডিপার্টমেন্ট।যা
কওয়ার ত্যালের মত কইয়া ফালাও।’
‘পাম অয়েলের মত বললে হবে?’
দারোগাবাবুর বোধহয় শ্বাসকষ্ট শুরু হল আচমকা।
নাকের পাঁটা ফুলিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে রইলেন।
আমি এই মুহুর্তে বহুরূপীর ভূমিকা পালন করছি।
কখনো চেহারায় সিরিয়াসনেস কখনো ড্যামকেয়ার
আবার কখনো গোবেচারা ভাব ফুটিয়ে তুলছি।
এইমুহুর্তে ড্যামকেয়ার মুডে আছি।দারোগাবাবুর
রাগকে পাত্তা না দিয়ে আমি বললাম,‘স্যার,একটা সত্যি
কথা বলুন তো,আপনি কি আপনার পরিবার নিয়ে
বাইরে ঘুরতে যান?’
দারোগাবাবু এবার বিরক্ত হবার বদলে দিধান্বিত হয়ে
হয়ে পড়লেন।নিশ্চয়ই আমার প্রশ্নের খেই
পাচ্ছেন না।তবে কী মনে করে যেন জবাব
দিলেন,‘যাই তো।’
‘কেন যান?’
‘কেন যাই এইটা তোমারে কইতে হইবো।হাংকিপাংকি
বাদ দিয়া আসল কথায় আসো।’
‘স্যার,এটাই তো আসল কথা।তবে আমরা এখন আছি
আসল কথার আগের প্রাক কথায়।’
দারোগাবাবু ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলেন।
‘স্যার ,বললেন না?’
‘এমনিই যাই।’
‘জী না স্যার,এমনি এমনি যান না।যান বৈচিত্রের
সন্ধানে।জীবনে চলার পথে বৈচিত্রেরও
প্রয়োজন আছে।নয়ত মানুষ ক’দিন যেতে না
যেতেই আত্মহত্যা করে বসত একঘেয়ে
জীবনের অত্যাচারে।বৈচিত্র মানুষের জীবনেও
আসে নানা বৈচিত্রময় পথে।একজন হতদরিদ্র
মানুষের জীবনেও আছে বৈচিত্র,টুইস্ট,বাঁক।
সেগুলোই হয়ত একজন ধনবান মানুষের
জীবনের সেই একঘেয়ে বস্তুটা।আপনি স্ত্রী
সন্তান নিয়ে ঘুরতে বের হন এই একঘেয়ে
জীবনটাকে কিছু সময়ের জন্য পেছনে
ফেলতে।সামান্য একটা বিকেলই হয়ত আপনাকে
রিচার্জ করে আগামী বেশ ক’দিনের একঘেয়ে
জীবনের জন্য।আমি মাঝে মধ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে
আমার আশেপাশের মানুষদের জন্য বৈচিত্রের
আয়োজন করি।আমার তৈরি কৃত্রিম বৈচিত্র যদি তাদের
ক’দিনের জন্য রিচার্জ করে,ক্ষতি কী তাতে?
স্যার,আজ হল আমার বৈচিত্র দিবস।’আমি থামলাম।
‘ফাইজলামকি করো?মাইনষের গাড়ি ছিনতাই কইরা
বৈচিত্র খুঁজো? বৈচিত্র তোমার...।’এরপর বিড়বিড়
করে কী বললেন সেটা শুনতে পেলাম না।
তবে শোভনীয় কিছু যে বলেননি সে
ব্যাপারে আমি সর্বস্ব বাজি ধরতে পারি।
‘স্যার,আমি আগেই বলেছি,আপনি আমার কথা বিশ্বাস
করবেন না।এরপরও বলি, আমি ভুলে ঐ গাড়িটার
কাছে গিয়েছিলাম।আসল ঘটনা হল ওই সময় আমার
ছাত্রীর ওই পথ দিয়েই যাবার কথা।আর
কাকতালীয়ভাবেই হোক আর যেভাবেই হোক
গাড়িদুটোর কালার একই ছিল।
‘ফাইজলামকি?’
আমি বুঝতে পারছি না,এটা কি দারোগাবাবুর মূদ্রাদোষ
নাকি আমার সব কথাই তাঁর কাছে “ফাইজলামকি” মনে
হচ্ছে।
‘জী না,স্যার,ফাইজলামকি না।ঘটনা সত্য।’
‘প্রমাণ করতে পারবা?’
‘জী না।’
‘তোমার ছাত্রীরে ফোন কইরা এইখানে
আসতে বলো।সে যদি বলে ঘটনা সত্যি,তাইলে
ছাইড়া দেয়া হবে তোমারে।’
‘সেটা তো স্যার,সম্ভব না।প্রথমত,আমার ফোন
এখন আপনার কাছে।’
দারোগাবাবু নিজের ফোনটা এগিয়ে দিলেন আমার
দিকে।
‘দ্বিতীয় কারণটা বলা শেষ করি নাই।দ্বিতীয়ত,আফ
রীনের নাম্বার আমার মুখস্ত নাই।’
দারোগাবাবু এবার আমার ফোনটা এগিয়ে দিলেন।
‘আমার ফোনে স্যার চার্জ নাই!’
‘সিম খুইলা দেও আমার কাছে।’
‘নাম্বারটা স্যার,সিমে না,ফোনে!’
দারোগাবাবু কটমট করে আমার দিকে তাকাতেই আমি
মিনমিন করে বললাম,‘তবে স্যার,চার্জের ব্যবস্থা
করা গেলে আমি প্রমাণ করে দিতে পারতাম।আমার
এই সেটের চার্জার কি আছে আপনার কাছে?
চ্যাপ্টা পিন।’
‘তোমার কি ধারনা আমি এইখানে চ্যাপ্টা পিনের
চার্জার নিয়া বইসা থাকি?’ দারোগা দুলালবাবুর চেহারা
ভয়ংকর প্রাগৈতিহাসিক এক প্রাণীর মত হয়ে গেল।
‘জী না,সেটা ভাবি না।’ বিরতি দিয়ে বললাম,‘এখন
তাহলে আর কিছু করার নাই আমার।আমাকে জেলে
দিবেন না রিমান্ডে নিবেন সেটা আপনার মর্জি।
আচ্ছা স্যার, রিমান্ডের গরম ডিমের ব্যাপারটা কি
সত্যি?’
‘ফাইজলামকি?খাড়াও,ডিম কত প্রকার ও কী কী
তুমারে আমি বুঝাইতাছি।কাশেম!’
আমি মুখ কাঁচুমাচু করে কাশেমের অপেক্ষা
করতে লাগলাম।আমার বহুরূপীর ভূমিকা কোনো
কাজে আসেনি।হাবিলদার কাশেমের ডাক পড়েছে।
এখন হাজতে নেয়া হবে,এরপর কোর্টে এরপর
রিমান্ডে,এরপর গরম... আমি শিউড়ে উঠলাম!
একটু পর পর্দা ঠেলে হাবিলদার কাশেম রুমে
ঢুকল।আমি হাবিলদার কাশেমকে দেখে বিষম
খেলাম।
কাশেমের সাথে আফরীনের চেহারার প্রচুর
মিল!
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now