বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

"এক বাটি পায়েশ" (Heart Touching story)

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Oliver Queen(ShuvO) (০ পয়েন্ট)

X অনেক রাগ আর অভিমান করে ঘরে বসে আছে লাবণি। রাগ তো হবেই। ওর পছন্দের শাড়ি টা ও যে কিনে দিতে পারি নি। বিয়ের পর থেকে কখনো মেয়ে টা শখ করে কিছু চায় নি। আজ প্রথম শখ করে কিছু চাইলো তাও দিতে পারলাম না। দিব কিভাবে? শাড়ির দামের টাকা টা যে পকেটে নেই।  চাকরি টা চলে গেছে কিছুদিন আগেই। লাবণি কে জানায় নি। কষ্ট পাবে ভেবে। রোজ সকালে বের হয়ে যেতাম, ফিরতাম সন্ধ্যায়। কিছু টাকা জমিয়ে রেখেছিলাম আগে থেকেই। সেটা নিয়েই নিয়ে গেলাম লাবনি কে মার্কেটে। একটা সুন্দর শাড়ি পছন্দ করলো মেয়ে টা। আমারও পছন্দ হলো। দাম টাও বেশ চড়া ৫০০০ টাকা। কিন্তু পকেটে ছিল ৩০০০ এর মতন। ইচ্ছা থাকা সত্বেও কিনে দিতে পারলাম না। অন্য আর কোন দোকানে ঢুকলোই না লাবণি। অভিমান নিয়ে চলে যেতে লাগল। আমিও পিছন পিছন ছুটলাম "লাবণি! লাবণি! " ঘরে জানালার পাশে বসে ভাবছি লাবণির কথা। তিন বছর আগে লাবণি সাথে পরিচয় হয় আমার। রোজ ভার্সিটি তে লুকিয়ে লুকিয়ে ওকে দেখতাম। কিভাবে জানি ও বুঝে ফেলল। একদিন  আমাকে জিজ্ঞাস করলো আমি ওকে ভালবাসি কি না? সোজা সুজি বলে দিয়েছিলাম সাহস করে হ্যা, বাসি। সেই থেকে দু জন দুজনের হাত ধরে যে পথ চলা শুরু করেছি আর থেমে থাকেনি। কত ঝড় ঝাপটা বয়ে গেলো তারপরেও দুজন দুজনকে ছাড়ি নি। হাত ধরে হেটে চলেছি। . পাশের ঘরে লাবনি শুয়ে আছে লাইট অফ করে। ঘরে ঢোকার সাহস আমার নেই। আমি অন্য ঘরে বসে আছি জানালার পাশে। হঠাৎ নাকে যেন পায়েশের গন্ধ এল। পায়েশ আমার খুব পছন্দ। পায়েশ খেতে ইচ্ছে করল হঠাৎ। লাবণি কে বলবো কিনা ভাবছি। না বলেই ফেলি। লাবনি আর যাই থাকুক আমি খেতে চাইলে ও কখনোই রাগ করে চুপ করে থাকবে না। ঠিকই খাওয়াবে।  আস্তে আস্তে করে পাশের ঘরে প্রবেশ করলাম। লাইট টা জ্বালালাম। লাবনীর কাছে গিয়ে বললাম "- লাবণি ' "- কি হয়েছে? (অত্যন্ত ভারী কণ্ঠস্বর) "- না মানে,.. " "- অত মানে মানে করতেছো কেন? কি হয়েছে বলতে পারো না?? (উঠে বসে) "- না, মানে। আসলে আমার না খুব পায়েশ খেতে ইচ্ছে করছে। একটু যদি রেঁধে দিতে.... "- পায়েশ! যে স্বামী নিজের বউয়ের জন্য একটা শাড়ি কিনতে পারে না তার এত খাওয়ার রস আসে কোথা থেকে, হুম? জীবনে কিছু দিতে পেরোছ আমাকে? থাকি তো কবুতরের খোপের মতন এক বাসায়। খাই তো ডাল, ভরতা, ডিম, ভাত। কি পেয়েছি তোমার কাছ থেকে আমি? কোন মুখে আমার সামনে আসো তুমি পায়েশ খাওয়ার আবদার নিয়ে? " কথা গুলো এক নাগারে বললো লাবণি। বলেই অন্য দিকে চেয়ে রইল। খুব কষ্ট কর তীরের মতন এসে বীধল আমার বুকে। কিছুক্ষণ চুপ থাকার পরে লাবনি কে বললাম "- আচ্ছা লাবনি, ধরো পায়েশ খাওয়ার জন্য কালকে থেকে আমি আর রইলাম না। তাহলে কেমন লাগবে তোমার?" - "ভালই লাগবে। তোমার মতন স্বামী থাকার থেকে না থাকাই ভাল। জাহান্নামে যেও থাকো তুমি। " লাবনির কথা স্তম্ভিত হয়ে গেলাম। চোখ দিয়ে জল পড়বে এমন অবস্থায় উঠে দাঁড়িয়ে ঘর থেকে বের হয়ে গেলাম। একবার ফিরে তাকালাম লাবনীর দিকে। অন্যদিকে তাকিয়ে আছে লাবনী। চোখ মুছতে মুছতে দরজা খুলে বাসা থেকে বের হয়ে গেলাম। . রাস্তা দিয়ে হাটছি আর লাবনির কথাগুলি ভাবছি। ঠিকই তো বলেছে লাবনী। আমি কি দিয়েছি লাবনি কে? কিছুই তো না। আমি লাবনীর জীবনে এসে শুধু ওকে কষ্টই দিয়েছি। এই জীবন রেখে কি লাভ? চোখ মুছছি আর ভাবছি। ভাবতে ভাবতে হেটে চলেছি রেলওয়ে ষ্টেশনের দিকে। সামনের এক দোকান থেকে একটা kitkat কিনলাম। লাবনির খুব পছন্দ এটা। শারটের পকেটে রাখলাম kitkat টা। হাটা দিলাম আবার। গন্তব্য রেলওয়ে ষ্টেশন। এদিকে লাবনি কি করছে একা একা? ঘর থেকে অরন্য চলে যাওয়ার পর লাবনি কাঁদতে লাগলো। অরন্যের জন্য লাবনির বুক ফাটা কান্না চলে আসলো। " এ আমি কি করলাম! আমার অরন্য কে সামান্য একটা শাড়ির জন্য এত নিষ্ঠুর ব্যবহার করলাম! করতে পারলাম আমি? আমার অরন্য পায়েশ খেতে চেয়েছে। যাই, একটু পায়েশ রান্না করি ওর জন্য। ও বাসায় ফিরলে নিজের হাতে খাইয়ে দিব। আর কখনো ওকে এমন কথা বলবো না। খুব ভালবাসবো ওকে" লাবনি চলে গেল রান্না ঘরে পায়েশ রান্না  করার জন্য। খুব যত্ন করে সে পায়েশ রান্না করছে। অরন্যের পায়েশ যে খুব পছন্দের।  আর অরন্য?  অরন্য পৌঁছে গেল ষ্টেশনে। ষ্টেশন মাষ্টার কে জিজ্ঞেস করলো পরের ট্রেন কখন আসবে? "-রাত ১০ টায়" ঘড়ি দেখলো অরন্য। এই তো আর বিশ মিনিট পরেই আসবে ট্রেন। আচ্ছা, লাবনী কি আমাকে ছাড়া থাকতে পারবে। আমার জন্য কি ওর কোন কষ্ট হবে না? না, হবে না। ও তো বললোই আমার মতন স্বামী থাকার থেকে না থাকাই ভাল। তাহলে? চোখে জল অরন্যের। ভাবতে ভাবতেই ট্রেন আসার সাইরেন বেজে উঠলো। অরন্য হেটে চলল ট্রেনের উদ্দ্যেশে। লাবনী বাটিতে পায়েশ সাজিয়ে রেখে বসে আছে অরন্যের দিকে। এত রাত হয়ে গেল অরন্য এখনো কেন আসছে না?  এক বাটি পায়েশ নিয়ে বসে আছে লাবনী। কিন্তু লাবনী কি আদৌ জানতো যে অরন্য আর কোন দিন ফিরবে না।  এক বাটি পায়েশ খাওয়ার আবদার আর কেউ করবে না কোনদিন। জানতো কি লাবনি? জানলে হয়ত বা এমন নিষ্ঠুর আচরন করত না অভিমানের সুরে।  এদিকে রেললাইনে অরন্যের কাটা দেহ টা পড়ে আছে। আর ওদিকে লাবনী এক বাটি পায়েশ নিয়ে অপেক্ষায় রয়েছে অরন্যের ফিরে আসার। লেখকঃ- অলিভার কুইন (শুভ)।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৮ জন


এ জাতীয় গল্প

→ "এক বাটি পায়েশ" (Heart Touching story)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now