বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
এইডসের ভয়াবহতা
"সত্য ঘটনা" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান mim (০ পয়েন্ট)
X
লেখকঃ মিম
আমাদের পাশের বাড়ির ছেলে। নাম হিরু(ছদ্মনাম)।পাড়াপ্রতিবেশি ভাই আর কি। অনেক দিন পর বিদেশ থেকে ফিরেছে। প্রায় ১৯ বছর পর।
তাও আবার ওর মাদের অনেক তাবিজ কবচ করার পরে। কিন্তু তবুও ফিরত না যদি না ওর এইডস হত।এইডস হয়েছে বলে বিদেশ থেকে পাঠিয়ে দিয়েছে। এই নিয়ে সারা এলাকায় নানান কথা।
বাড়ি আসলে সবাই দেখতে গিয়েছিল। আমরাও গিয়েছিলাম। দেখলাম তো দিব্যি সুস্হ মানুষ। এর আবার এইডস কি করে হয়?এইডস হলে নাকি ওজন কমে যায়, গা ফ্যাকাসে হয়ে যায়। কিন্তু কোনো লক্ষণই তো দেখলাম না। সবার মুখে শুনলাম সে নাকি আরো স্বাস্হবান মানুষ ছিল। ২ মাসে ২০ কেজি কমে গেছে। কিন্তু তারপরেও কিন্তু নাদুস নুদুস। সবার সাথে কেমন হেসে খেলে কথা বলছে।
তার ঘটনাটা পরে আম্মুর কাছে শুনলাম। যখন বাড়িতে ছিল পাশের বাড়ির এক মেয়ের সাথে প্রেম করে বিয়ে করেছিলো। সেই মেয়েটার বাবা ছিল একজন গরিব মানুষ। ছেলেরা বড়লোক হওয়াতে বাড়ি থেকে একমাত্র ছেলের বিয়েটা মেনে নিলেও তার মা আর বোন এই বিয়েটা মন থেকে কখনই মেনে নেই নি। বিয়ের পর ধেকেই মেয়েটার উপর নির্যাতন করতে শুরু করে। এমনকি গর্ভের বাচ্চাটা পর্যন্ত নষ্ট করে দেয়। পরে হিরুর কাছে বউএর চরিত্র নিয়ে দোষারোপ করে। একপর্যায়ে বউ বাপের বাড়ি চলে যায়। এদিকে মা আর মেয়ে মিলে হিরুকে বিদেশ পাঠিয়ে দেয়। আর যাবার আগে ডিভোর্স পেপারে সই করিয়ে নেয়। মেয়েটা সেদিন যে কি কষ্ট পেয়েছিল তা বলার অপেক্ষা রাখে না। পরে তার খালাতো ভাইএর সাথে বিয়ে হয়। এখন তার দুটো ফুটফুটে সন্তান রয়েছে।
আর এদিকে ১৯ বছর হিরুর কোনো খোজ ছিল না। পরে এখন দেশে ফিরেছে। তাও আবার এইডস নিয়ে। এই ঘটনাতে সবাই ওর মা আর বোনকেই দোষ দেয়।
সেদিন দেখার প্রায় মাস খানেক পরে আবার আমরা দেখতে গেছিলাম। আমি তো পুরো হতভম্ব। সেদিন যাকে নাদুস নুদুস দেখলাম আজ তার একি অবস্হা!! চোখ গর্তে,হাত পায়ের রগ উঠা,বুকের খাচার হাড়গুলো সব গোনা যাচ্ছে, সব মিলিয়ে এক বিভৎস চেহারা।এইডস হলে কারো যে এমন অবস্হা হতে পারে আমি কখনো ভাবতেই পারি নি। কথা খুব কম বলতে পারে। সবসময় শুয়ে থাকে। আমি আর দেখতে পারলাম না। আল্লাহ মানুষকে কি থেকে কি যে বানিয়ে দেয়।
বাড়ি আসার ৪ মাসের মধ্যে হিরু মারা গেল। মরার সময় তো একেবারে কঙ্কালসার হয়ে গেছিলো। গায়ে শুধু হাড় ছাড়া আর কিছু ছিল না। বইএ এইডসের নানা লক্ষণ পড়েছি কিন্তু বাস্তবে যে এত ভয়াবহ তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now