বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

এ কি অত্যাচার?

"মজার গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান তুষার কবির (০ পয়েন্ট)

X # রম্যগল্প গত চারদিন ধরে পেট খারাপ ছিল আমার। গতকাল থেকে অবশ্য পুরোপুরি সেরে গেছে। তবু আমাকে শুয়ে থাকতে হচ্ছে। কারণ শ্বশুরবাড়ির আত্মীয়-স্বজন রোগীকে মানে আমাকে দেখতে আসছেন। তারা যদি এসে দেখেন রোগী স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করছে তাহলে বিশেষ আশাভঙ্গ হতে পারে। তাই সোনিয়া আমাকে বলেছে শুয়ে থাকতে। বাধ্য স্বামীর মতো তাই শুয়ে আছি। ভাবটা এমন যে আমি খুব অসুস্থ। আমার মনে আশার বেলুন উড়ছে, এতগুলো মানুষ যখন আসছে, নিশ্চয়ই খালি হাতে আসবে না। বিকেলের মধ্যে ঘর ভর্তি হয়ে গেল মানুষে। সবাই রোগীর জন্য খাবার নিয়ে এসেছেন। আমার শাশুড়ি নিয়ে এসেছেন জাউ ভাত। সোনিয়াকে বলল, ‘এখনও গরম আছে। জামাইকে এখনই খাইয়ে দে।’ মামী শাশুড়ি এনেছেন বোতল ভর্তি চিরতার পানি। আমার নাকি পেট গরম হয়ে গেছে। এখন সকাল-বিকেল চিরতার পানি খাওয়া দরকার। অন্য এক আত্মীয় এনেছেন কাঁচকলা সিদ্ধ। এতে নাকি পেট টাইট হবে। সোনিয়ার কয়েকজন কাজিন এসেছে, সবাই মেয়ে। তারা এনেছে ২০ প্যাকেট স্যালাইন। তারা সময় নষ্ট না করে স্যালাইন বানাতে শুরু করল। সোনিয়ার এক দূরসম্পর্কের দাদীও এসেছেন। তিনি অন্য সবার চেয়ে কয়েক কাঠি সরেস। নিম পাতা বেটে এনেছেন এক গাদা। এটা আমার পেটে লাগিয়ে রাখতে হবে। নিম পাতা নাকি পেটের সব রোগ চুষে নেবে। কী হাস্যকর! আমার মুখ কাঁদো কাঁদো হয়ে গেছে। সোনিয়ার একবার জ্বর হয়েছিল। তখনও সবাই এসেছিল। কত ধরনের খাবার এনেছিল! হরলিক্স, জুস, স্যুপ, ফলমূল, চিকেন ফ্রাই, ফ্রায়েড রাইস, কাস্টার্ড, পুডিং আরও কত কী! এসব খাবারে নাকি সোনিয়ার মুখে রুচি ফিরবে। সোনিয়ার বেলায় এত ভালো ভালো খাবার, আর আমার বেলায় কিনা জাউ ভাত, কলা সিদ্ধ, স্যালাইন, চিরতার পানি আর নিম পাতা! দুর্ভোগের এখানেই শেষ না। মানুষের নানা প্রশ্নে প্রশ্নে আমি জর্জরিত হলাম। ‘পায়খানার সঙ্গে কি রক্ত গেছে?’, ‘পেটের কোন সাইডে ব্যথা করে?’, ‘কতবার বাথরুমে যেতে হয়?’ ইত্যাদি। এক শ্যালিকা তো মজা করাই শুরু করল, ‘দুলাভাই, অনেকক্ষণ হয়ে গেল বাথরুমে যাচ্ছেন না। লজ্জা পাচ্ছেন নাকি?’ সোনিয়া চোখ দিয়ে ইশারা করল আমাকে। বুঝলাম বাথরুম থেকে ঘুরে আসা দরকার। পেট খারাপের রোগী দেখতে এসেছে সবাই, সে একবারও বাথরুমে না গেলে বিষয়টা খারাপ দেখাবে। বাথরুমে গিয়ে কিছুক্ষণ দেয়ালে মাথা ঠুকে বের হলাম ক্লান্ত মুখে। এরপর শুরু হলো যত্নের পালা। জাউ ভাত আর কলা সিদ্ধ খেতে হলো। চিরতার পানি খেলাম দুই গ্লাস। শ্যালিকারা নিজ হাতে স্যালাইন বানিয়েছে। সেটাও খেলাম দেড় গ্লাস। এমনকি নিম পাতাও পেটে মাখতে হলো। জীবনে এই প্রথম এতগুলো মানুষ এক দৃষ্টিতে আমার পেটের দিকে তাকিয়ে রইল। আমার মধ্যে কোনো অনুভূতি কাজ করছে না। মনে হচ্ছে আমি জোম্বি। হঠাৎ মাথায় একটা বুদ্ধি এলো। এদের হাত থেকে বাঁচার একটাই উপায়। তড়াক করে উঠে দাঁড়ালাম। আবার বাথরুমে গেলাম। সিদ্ধান্ত নিলাম, এরা না যাওয়া পর্যন্ত বাথরুম থেকে বের হবো না। আধা ঘণ্টা পর শ্যালিকার গলা শুনতে পেলাম, ‘দুলাভাই, বের হন। স্যালাইন রেডি। স্যালাইন খেয়ে আবার বাথরুমে ঢুকে পড়েন।’ আমি বাথরুমের দেয়ালে মাথা ঠুকেই যাচ্ছি। নকুল কুমার বিশ্বাসের সেই গানটা মনে পড়ে গেল, ‘ও দাদা বিয়া করলাম ক্যান? ও দাদা বিয়া করলাম ক্যান?’ [লেখক: রিয়াজুল আলম শাওন, নাট্যকার]


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৩ জন


এ জাতীয় গল্প

→ এ কি অত্যাচার?

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now