বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
ভালোবাসার সংজ্ঞা একেক মানুষের কাছে একেক রকম। আমার কাছে মনে হয়, যাকে ভালোবাসা হয় তাকে সেটা না বললেও হয়। ভালোবাসাটা অনুভব করার ব্যাপার। চিৎকার করে বলার মতো কিছু নয়। আমরা সবাই বাবা-মা কে ভালবাসি, কিন্তু আমরা কি তাদের কাছে গিয়ে কখনো বলি,“মা/বাবা, আই লাভ ইউ”? মুখে হয়তো বলি না। কিন্তু মনে মনে ঠিকই স্বীকার করি। তাহলে, আমরা কেন প্রপোজ করি? বলছি।জন্মসূত্রে আমরা মা-বাবা’র সাথে সম্পর্কযুক্ত। নতুন করে কোন সম্পর্কে জড়াতে হয় না। কিন্তু যাকে ভালবাসি, তার সাথে সম্পর্কে জড়াতে চাই বলেই , আমরা এই কাজটা করে থাকি।
পশ্চিমাদের মতো গার্ল ফ্রেন্ড,বয় ফ্রেন্ড নামক শব্দে আমি বিশ্বাসী নই। কারণ, এক্স গার্ল ফ্রেন্ড, এক্স বয় ফ্রেন্ড এসব কথা আমরা শুনে থাকি। কিন্তু ভালোবাসার মানুষের সাথে এক্স,প্রেজেন্ট এসব শব্দ শোনা যায়না। কেননা, আমার মতে, ভালোবাসার মানুষ একজনই হয়। আমারও আছে, আর সেটা এই ‘পেত্নী’।
তাই, আরেফিন এর সাথে ওর ‘ব্রেক আপ’ এর পর ভাবলাম, এটাই সুযোগ।
একদিন পেত্নীটার কাছাকাছি চক্কর দিচ্ছি, কিভাবে কি বলবো, ভাবতে ভাবতে। যথারীতি পেত্নীর ‘পিঞ্চ মার্কা’ ডাক,
“বান্দরের মতো লাফাইতেছিস কেন?” মনে মনে আল্লাহরে বললাম… এইটারেই জুটাইলা!!!
“লাফাইলাম কই? হাঁটছি কেবল।”
“তো আমারে কেন্দ্র করে ঘুরছিস কেন? আমি পৃথিবী আর তুই চাঁদ নাকি? তা চান মানিক… কি বলবি , বলে ফেল।”
৭০০ মেগাবাইটের মুভি ডাউন লোড দেওয়ার পর ৯০% ডাউন লোডের পর যদি দেখা যায়, যে ইন্টারনেট প্যাকেজ শেষ, তখন যেমন অনুভূতি হয়, তেমন লাগছিলো আমার। সারা রাত কতো রোমান্টিক লাইন মুখস্থ করেছিলাম, কিচ্ছু মনে পরছে না, এখন। পেত্নীটা সামনে না থাকলে নিজের মাথায়ই দু,চারটা গাট্টা মারতাম। আমার অবস্থা বুঝেই কি না কে জানে, পেত্নীটা তার নতুন কেনা চশমার ফাঁক দিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে হঠাৎ বলে উঠলো,
“ঐ গাধা, কি হয়েছে বলত। আমাকে ভালোবাসিস , এটাই তো বলবি নাকি?”
নিজের কানকেও বিশ্বাস হচ্ছিল না যেন আমার। কোনোমতে বললাম,
“হ… হু… না… না মানে… এই তো… মানে হ্যাঁ আর কি।”
“আমিও তো তোকে ভালবাসি। তো? এতে বলার কি আছে?”
খুশিতে আমার চোখ দিয়ে যেন পাঁচশ’ ওয়াটের বাল্ব জ্বলে উঠলো, মনে হল যেন গ্যাস বেলুনের মত শূন্যে ভাসছি।
“তোকে আমি এত্তো ভালোবাসি যে, তোর সাথে ঝগড়া না করতে পারলে সত্যিই আমার খাবার হজম হয়না। বিয়ের পর আমার জামাইকে বলে ডেইলি তোর সাথে এসে ঝগড়া করে যাবো,তুই তোর জন্য একটা ভালো দুলাভাই খোঁজ নারে…প্লীজ।”
আমার চোখে সদ্য জন্ম নেওয়া বাল্বগুলো ফট করে ফিউজ হয়ে গেলো।শূন্য থেকে ধপ করে মাটিতে এসে পরলাম।কুইনাইন চাবানোর মতো মুখ-চোখ করে মনে মনে ভাবলাম, এই মেয়ের সাথে কথা বলার চেয়ে, সাত তালার উপর থেকে লাফিয়ে মরে যাওয়া ভালো, কিন্তু আমি হাল ছাড়লাম না। সিরিয়াস মুড নিয়ে পেত্নীর দিকে তাকালাম,
“আমি সেটা মিন করি নাই।”
“তাহলে কোনটা মিন করছিস?”
কি বলবো বুঝতে পারলাম না… মনে মনে আবার নিজেকে গালি দিলাম ৪,৫ টা। মুখে বললাম,
“দেখ, তুই তো সব বুঝিসই………”
“কই? না তো। আমি কিছুই বুঝি না…”
“প্লিজ, বোঝার চেষ্টা কর…” অসহায়ের মতো বলতে গেলাম আমি।
“হবে না… বাদ দে…”
“হবে না মানে?”
“তুই আমাকে ভালোবাসিস … না?”
“হু।”
‘তো, আমি কি করবো? জানাতে চেয়েছিস, জানলাম, ব্যাস। আমি গেলাম।”
“আরে, দাঁড়া । তুই রাজি না?”
সরাসরি আমার দিকে তাকাল এবার পেত্নী…
“কি করতে পারবি আমার জন্য?”
“তুই কি চাস?” থতমত হয়ে বললাম।
“চাকু দিয়ে হাত কেটে আমার নাম লেখতে পারবি?”
“মানে………” আঁতকে উঠলাম আমি।
“রোজ রাতে আমার বাসার সামনে এসে দাঁড়িয়ে থাকতে পারবি?”
ভূত এর ভয়ে বাঁচি না, আর আমি ওদের বাসার সামনে দাঁড়িয়ে থাকবো? পাগল নাকি? ভাবতে লাগলাম।
“আমার প্র্যাকটিকাল্ এর লেখাগুলো লিখে দিতে পারবি?”
নিজের গুলোই করতে পারিনা…আর তোর টা… আমার কিসের ঠেকা।ভাবলাম মনে মনে।
“যখন তখন আমার মোবাইলে টাকা দিতে পারবি?”
টাকা পয়সার ব্যাপারে আমি খুব সেনসিটিভ , চুপ করে থাকাই উত্তম।
“রাত জেগে আমার সাথে ফোনে কথা বলতে পারবি?”
আমি মারাত্মক ঘুমকাতুরে মানুষ।আমার জন্য সারা দুনিয়া একপাশে আর ঘুম অন্যপাশে । তাই শুধু ঢোক গিলতে লাগলাম।
“দেখলি তো? কিছুই করতে পারবি না তুই, আমার জন্য। যেদিন পারবি, সেদিন বলবি, তার আগে না।”
----
পাঁচ বছর পার হয়েছে সে দিনটির পর… আমি আমার কথা রেখেছি।ওকে আর বলিনি যে আমি তোকে ভালোবাসি । এখন আমি ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে কম্পিউটার সাইন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টে পড়ছি। আর পেত্নীটা ফিজিক্সে।অনেকগুলো দিন পার হয়েছে এর মাঝে। একবারের জন্যও মনে হয়নি যে, পেত্নীকে ভালোবাসার কথাটা পাগলামি ছিল। তবে আমি ওকে বুঝতেও দেইনি যে, ওর প্রতি আমার ভালোবাসা এখনো আগের মতোই আছে(বাড়তেও পারে)। আমি কিন্তু সেদিনটির কথা ভুলি নি। চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
লুকিয়ে লুকিয়ে টাকা জমাচ্ছি পেত্নীর মোবাইলে দেয়ার জন্য।
বার ঘণ্টা ঘুমের বদলে মাত্র দশ ঘণ্টা (!) ঘুমাই এখন।
ভূতের ভয় কাটানোর জন্য হরর মুভি দেখা ছেড়ে দিয়েছি একদম।যত ধরনের দোয়া দরুদ পারছি, মুখস্থ করে ফেলছি।
প্র্যাকটিকাল করে দিতে পারবো এখন, ‘হিংসা’ কমেছে।
সব পারলেও হাত কেটে নাম লেখার ব্যাপারটা নিয়ে টেনশনে আছি। নাম লেখার দরকার হলে চাইনিজ ইঙ্ক ব্যবহার করলেই তো পারি…নাকি চাকু দিয়ে হাত কাঁটার ব্যাপারটা বেশি রোমান্টিক? কে জানে… হতেও পারে…। আগে তো আর কোনোদিন প্রেম করিনি যে এসব জানবো। মনে মনে দীর্ঘশ্বাস ফেললাম, কেন যেন আগে কেন প্রেম করি নাই, সেটা নিয়ে খুব আফসোস হচ্ছে ।
১৯শে সেপ্টেম্বর, রাত ১১ টা। হাই মারছি একটু পর পর।
আমার ঘুমানোর সময় হয়ে গেছে। কিন্তু ঘুমাতে পারছি না। কালকে আমার আর পেত্নীর দু’জনেরই জন্মদিন। পেত্নীর কড়া আদেশ, সবার আগে যাতে আমি উইশ করি। না হলে সারাজীবনেও আর আমার সাথে কথা বলবে না। “সারাজীবন কথা বলার অধিকার” হারানোর ভয়ে… ঝিমাতে ঝিমাতে ফেসবুকে কি স্ট্যাটাস দেয়া যায় ভাবছি।
কালকে শুধুমাত্র আমার জন্মদিনই না। কালকে সিরিয়াস কিছু একটা করার ইচ্ছা আছে। কি করা যায়?? পেত্নীকে প্রপোজ করতে পারি। ওদের ডিপার্টমেন্টের বড় এক ভাই এর মতিগতি ভাল্লাগছেনা… যা করার দ্রুত করতে হবে। কালকের দিনটাই মোক্ষম।
রাত ১১ টা ৪৫ মিনিট।
দু’চোখ আর খোলা রাখতে পারছি না। মোবাইল টা নিয়ে গৎবাঁধা ইংরেজিতে দ্রুত লেখলাম, “Happy b’day , petni. Many many happy returns of the day.” প্রায় সাথে সাথেই রিপ্লাই, “………(কিছু গালি বসিয়ে নিন) এতো আগেভাগে কেন? কার সাথে এত ব্যস্ত তুই………(আরও কিছু গালি)… HBD to you , too.”
রিপ্লাই দিলাম,“ আমার ঘড়ি ১৫ মিনিট স্লো। আর তোদের ডিপার্টমেন্টে নতুন যে মেয়েটা আসছে , তার সাথে চ্যাট করছি। মেয়েটা তো খুব সুন্দরী।” আজ বিকেলেই মেয়েটার কথা আমাকে জানিয়েছে পেত্নীটাই … দেখি খেপানো যায় নাকি।
রিপ্লাই আসলো,“তোর ঘড়ি কতো মিনিট স্লো এটাও জানিস, ফাইজলামি করিস আমার সাথে!!! তোর আমি…………(ভয়ানক কিছু গালি, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ‘গালিমাতা’ হয়ে যেতে পারে) ঐ মেয়েরে তুই পাইলি কিভাবে? আর কালকে শহীদ মিনারের সামনে আসবি ১০ টার মধ্যে … ঐ মেয়ের সাথে কতটুকু প্রেম করলি, পুরো বর্ণনা দিবি।”
ল্যাপটপটা নিয়ে ফেসবুক ওপেন করলাম, ঘুমে আমার চোখ এর পাতা ভারি হয়ে আসছে…
তারপরও স্ট্যাটাস দিলামঃ
২২ টা গ্রীষ্ম গেলো, পহেলা বৈশাখে লাল-পাড় সাদা শাড়ি পরা কোন সঙ্গী পেলাম না,
২২ টা বর্ষা গেলো, কারো হাতে হাত রেখে বৃষ্টিতে ভেজা হল না,
২২ টা শরৎ গেলো, কারো কোলে মাথা রেখে নীল আকাশ দেখা হল না,
২২ টা হেমন্ত গেলো, কারো চোখে চোখ রেখে গোধূলির সোনালী রঙ এ চোখ রাঙ্গাতে পারলাম না,
২২ টা শীত গেলো, ধোঁয়া ওঠা গরম কফির মগে চুমুক দিতে দিতে কেউ আমার এলোমেলো চুল না আঁচড়ানোর জন্য রাগারাগি করলো না,
২২ টা বসন্ত গেলো, মনের মাঝে কোন কোকিল ডেকে উঠলো না।
এ জীবনে কি তাহাকে পাওয়া হইবে না ???
মোবাইলটা আবার হাতে নিয়ে পেত্নীকে টেক্সট দিলাম, সাদা সালোয়ার কামিজ পরবি, কালকে… প্লিজ…
১ মিনিটেরও কম সময়ে রিপ্লাই…
আমার তো খাইয়া দাইয়া কাজ নাই, যে বিয়ের আগেই বিধবার ড্রেস পড়বো।
আমি যথারীতি আমার ‘বিখ্যাত দীর্ঘশ্বাস’ ফেলে নিরীহ মানুষের মতো ঘুমাতে চলে গেলাম…
এক ঘুমে রাত পার করে দিয়ে সকাল নয়টায় ঘুম ভেঙ্গে ল্যাপটপ নিয়ে ফেসবুক চেক করতে বসলাম।
ও খোদা…! ২০ লাইকস, ৫০+ কমেন্টস! এ যে অভাবনীয়… ভালোমতো দেখে হতাশ হতে হল।
আমার ভার্সিটির ৩ বন্ধু আমার স্ট্যাটাসের কমেন্টের মধ্যেই ঝগড়া করেছে। আর তাই এতো কমেন্টের উদ্ভব ।
আর বাকি যারা কমেন্ট করেছে, সেগুলোও “সেইরাম পেইন” মার্কা। একটা অংশ দিলাম…
রাফিঃ ওরে ***(আমার কোড নেম, কিঞ্চিত অশ্লীল) তোর আবার বাল-ও-বাসা জেগে উঠেছে দেখছি।
রাহাতঃ মামা, পহেলা বৈশাখের সঙ্গী পাস না? তৌফিক রে শাড়ি পরাইয়া পাঠায়া দিবনে নেক্সট টাইম, মনে করায়া দিস… (তৌফিক আমাদের মধ্যে একটু ইয়ে টাইপের, মানে বুঝেনই তো,হাফ স্যাম্পল আর কি। আমরা ফ্রেন্ডদের পিঞ্চ মারার জন্য তৌফিকের নাম শ্রদ্ধাভরে (!) স্মরণ করি।)
তৃষাঃ ভাইয়া, মাত্র বাইশ??? আপনাকে দেখে তো মনে হয় না, কতো বছর লুকালেন? (জুনিয়র ব্যাচের একটা মেয়ের থেকে যদি এমন কথা শুনতে হয়, কেমন লাগে, ভেবে দেখেন!!!)
ইরফানঃ চান্দু, তোমারে দেখলে তো এতো নিমকি শয়তান বলে মনে হয় না। তলে তলে এতো রস
শাম্মীঃ তোর ঘিলুতে তো এরকম কথা থাকে নারে, কোন পেজ থেকে কপি মারলি এটা ?
…………এরকম করে চলছেই… দুঃখ ভরা চোখে তাকিয়েই থাকলাম। কিছু লেখলাম না।এক ‘হালা’ও উইশ করে নাই, কিন্তু খোঁচা মারতে ছাড়ে নাই। মোবাইলটা দেখা দরকার। ২৮ টা মিসকল। ১৩ টা মেসেজ…! সবগুলো পেত্নীর ! মেসেজ সবগুলোই কল কেন ধরছি না আর কেন ফট করে ঘুমিয়ে গেলাম, সেগুলো লিখে লিখে শেষে গালি দেওয়া । কপালে আজ দুঃখ আছে। রেডি হতে লাগলাম। লেমন কালারের একটা শার্ট পড়লাম, এটা পেত্নী একদমই দেখতে পারে না, কিন্তু ওকে খেপালে যে মজাটা পাই, তা অতুলনীয় । একটা গিফট কর্ণার থেকে রঙ্গাচঙ্গা একটা পুতুল আর একটা ডায়রি কিনলাম, প্রতিবছরই দেই। প্রতিবারই বিরক্ত হয়। আর এটা দেখেই মজা পাই আমি।যারা অল্পতেই খেপে যায়, তাদের খেপানোর মজাই আলাদা। শাহবাগ থেকে ফুল কিনলাম, নিবে, নাকি ভাব মারবে, কে জানে!!! তবে আজকে ওকে আবার ‘ভালোবাসি’ বলবই। যা হবার হবে।
শহীদ মিনারের কাছে এসে রিকশা থেকে নামলাম, আর সাথে সাথেই কল।
“কুত্তা, কই তুই? কতক্ষণ ধরে ওয়েট করবো আর?’
“সারাজীবন।” হাই তুলতে তুলতে জবাব দিলাম আমি।
“তোর……”
লাইন কেটে দিলাম আমি, সেধে গালি হজম করার কোন মানে হয় না।
রাস্তা পার হওয়ার আগেই পেত্নীকে খুঁজতে লাগলাম। সাদা সালোয়ার-কামিজের একটা মেয়েকে দেখা যাচ্ছে । পেত্নী তো সাদা ড্রেস পরবে না বলেছিল, তাহলে??? এদিকেই আসছে মেয়েটা। ভালোমতো দেখার জন্য, মেয়েটার দিকে তাকিয়েই রাস্তা পার হতে লাগলাম। মাঝামাঝি আসার পরই আবিষ্কার করলাম, এটা তো আমার পেত্নীটাই!!! ঠিক এই সময়ই হঠাৎ করে যেন মাটি ফুঁড়ে একটা মাইক্রো বাস তেড়ে আসলো আমার দিকে… শেষ মুহূর্তে চোখ পড়লো আমার সে দিকে, তবে ততক্ষণে অনেক দেরী হয়ে গেছে। প্রচণ্ড ধাক্কা খেলাম আমি, হাতের ডায়রি,ফুল ছিটকে দূরে গিয়ে পড়লো। রাস্তাটা এতোটা লাল হয়ে আছে কেন? রক্ত? রক্তের রঙ এতো লাল হয় নাকি? পেত্নীটা কি আমাকে দেখেছে? না জানি, কতো গালাগাল করছে।কষ্ট হচ্ছে খুব। পেত্নীটাকে বলা হল না, এখনো আগের মতোই ভালোবাসি আমি তোকে…খুব…খুউউউব।
কালো শার্ট, প্যান্ট পরা কে যেন আসছে আমার দিকে। ইনিই কি আজরাইল? সালাম দিবো নাকি? বয়সে তো অনেক বড়ই হবেন, সালাম দেওয়া যায়। মানুষ হয়ে ফেরেশতাকে সালাম দিলে সমস্যা হবে নাকি আবার? এসব ভাবতে ভাবতেই জ্ঞান হারালাম আমি।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now