বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
দ্বিতীয় পব পর...
-তুমি কোথায় বললে ?
ফোনের ভেতরেই আমি নুশরাতের গলায় বিশ্ময়টা টের পেলাম । আমি নিজেই নিজের কাজে খানিকটা অবাক হয়ে গেছি । নয়তো এই রাত একটার সময়ে আমি নুশরাতদের বাসার সামনে কি করতেছি । তাও আবার এই প্রবল বৃষ্টির সময়ে । আমি নিজের আচররনে নিজেই খানিকটা অবাক হয়ে যাচ্ছি । নুশরাত তো হবেই ।
আমি আবার বললাম
-তোমাদের বাসার সামনে এসেছি ।
-এই রাতের বেলা তাও আবার বৃষ্টি হচ্ছে !
-তুমি না বললে যে এই বৃষ্টির সময় আমি পাশে থাকলে তোমার ভাল লাগতো
ওপাশ থেকে কোন কথা হল না কিছু সময় । আমিও কি বলবো খুজে পেলাম না, আসলে কি বলবো কিংবা বলা উচিৎ । একটানা কেবল বৃষ্টির শব্দই হচ্ছে । আমি কানে হেডফোন লাগিয়ে দাড়িয়ে আছি ওদের বাসার সামনে । নুশরাতের রুমটা থেকে এই জায়গাটা একদম পরিস্কার দেখা যায় । আমি ওর রুমের লাইট জ্বলে উঠতে দেখলাম । তারপর নুশরাতকে জানালায় আসতে দেখলাম । আমি হাত তুললাম । নুশরাত এক হাতে ফোন নিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে রইলো ।
কিছু সময় পরে নুশরাত বলল
-তুমি কি আসলেই পাগল হয়ে গেছ ?
-জানি না । আসলে অনেক দিন পর আবার নতুন কিছু অনুভব হচ্ছে কারো জন্য । আমি ঠিক বুঝতে পারছি না এমন কেন হচ্ছে তবে হচ্ছে । মাথা ঠিক নাই কি করছি নিজেই বুঝতে পারছি না ।
নুশরাত যেন কিছু বলতে গিয়েও বলতে পারলো না । যদিও এখান থেকে দেখা যাচ্ছে না তবুও আমার কেন যেন মনে হচ্ছে নুশরাত আমার দিকে ছলছল চোখে তাকিয়ে আছে । ভাবছে এই পাগল ছেলেটা এখানে কি করছে ! তারপর হঠাৎ করেই ফোনের লাইন কেটে গেল । নুশরাত জানলা থেকে সরে গেল তারপরেই । তবে ঘরের লাইট বন্ধ হল না । আমি দাড়িয়ে রইলাম । মনে হল যে নুশরাত একটু পরেই নেমে আসবে !
আমি বৃষ্টির ভেতরে দাড়িয়েই রইলাম । একটু শীত শীত করতে লাগলো । অনেকদিন পর আজকে আবার বৃষ্টি হচ্ছে । শীত কাল প্রায় চলে এসেছে । এই বৃষ্টির পরেই শীত নামা শুরু হবে ।
নুশরাতের বাবার সাথে দেখা হয়েছে আমার সেই মাস ছয়েক আগে । আস্তে আস্তে কাজটা করতে করতে আমি কিভাবে নুশরাতের সত্যিকারের প্রেমে পড়ে গেছি আমি নিজেই টের পেলাম না । আমি কোন দিন ভাবতেও পারে নি নিশিকে ছাড়া আর কাউকে কোন দিন ভালবাসতে পারবো কিন্তু নুশরাতের সাথে কথা বলার পর থেকেই সময় গুলো যেন পাল্টে যেতে লাগলো ।
ওর সাথে প্রথম দেখার পর থেকে আমাদের ঘন ঘন দেখা হতে লাগলো । যখন নুশরাতের ডাক শুনে ওর রুমে গিয়ে হাজির হলাম সেদিন থেকেই মনে হচ্ছিলো যে আমাদের সামনের দিন গুলো আরো ভাব যাবে । কেউ বলে দিচ্ছিলো না কিন্তু নুশরাতের আচরনটা আমার কাছে সেকমই মনে হচ্ছিলো ।
সাদা চাদরে নিচে শুয়ে ছিল আমি ওর বিছানার পাশে বসে ওর সাথে কথা বলছিলাম । তবে একটু যে অবাক হচ্ছিলাম তা না । সব কিছু যেন খুব সহজেই হয়ে যাচ্ছে । একেবারে গল্পের মতই । যেন কেউ গল্পের প্লট লিখে রেখেছে ।
প্রথম মাসের বেতন যখন হাতে পেলাম সেটা আসলেই আমার ধারনা থেকে অনেকটাই বেশি ছিল । প্রথম মাসের বেতন পেয়ে ওকে খাওয়াতে নিয়ে গেলাম । আমার কেন জানি একটু অস্বাভাবিক মনে হচ্ছিলো কিন্তু খুব একটা আমলে নিলাম না । ওকে বললাম যে যেখানে থাকি সেখানে ভাবছি আর থাকবো না । নতুন একটা বাসা ঠিক করা দরকার !
যে হোস্টেলে থাকতাম সেটা ছেড়ে দিলাম । নুশরাতই আমাকে সাহায্য করলো বাসা ঠিক করতে । অফিসের কাছেই দুই রুমের একটা ফ্ল্যাট ঠিক করে ফেললাম । সারা দিন দুজন মিলেই ঘর সাজাতে শুরু করলাম । মনে হচ্ছিলো যে নুশরাতের সাথে আমার নতুন বিয়ে হয়েছে দুজন মিলে ঘর গোছাচ্ছি ।
তারপর একটা একটা করে দিন যেতে লাগলো আর আমাদের মেলা মেশা আস্তে আস্তে বাড়তে লাগলো । প্রায় প্রতিদিনই ওর সাথে দেখা হতে লাগলো । ফোন, ফেসবুক তো ছিলোই । এভাবে আমি নিশির সাথেও কোন দিন মিশি নি যখন ওর সাথে আমার সম্পর্ক ছিল । আমি প্রথম প্রথম নিজেকে খানিকটা নিয়ন্ত্রনে রাখার চেষ্টা করলাম কিন্তু একসময়ে লক্ষ্য করলাম আসলে সেটা সম্ভব হচ্ছে না !
মাস দুয়েক যাওয়ার ভেতরেই নুশরাত আমার প্রথম চুমু খেলো । সত্যিই বলতে কি আমি তখনও কেবল ওর বাবার দেওয়া এসাইনমেন্টটাই করছিলাম কিন্তু ও যখন আমাকে চুমু খেল তারপর থেকেই অনুভব করতে শুরু করলাম যে আমার অনুভুতি আস্তে আস্তে পরিবর্তন হতে শুরু করেছে । আমি যে নিয়ন্ত্রন করতে চেয়েছিলাম নিজেকে সেটা ঠিকমত কাজ করছে না !
ঐদিন ছুটির দিন ছিল । আমি বাসাতেই ছিলাম । এমন সময়ে কলিংবেল বেজে উঠলো । দরজা খুলে দেখি নুশরাত দাড়িয়ে । ওর মুখের দিকে তাকিয়েই বুঝতে পারলাম কিছু একটা হয়েছে । আমি বললাম
-কি হয়েছে ?
ও কোন জবাব না দিয়ে ঘরের ভেতরে ঢুকলো । তারপর গম্ভীর হয়ে সোফার উপরে বসে রইলো । আমি তখনও কিছুই বুঝতে পারছি না । আমি ওর পাশে গিয়ে বসতে বসতে বললাম
-কি হয়েছে বলবা তো ?
নুশরাত আমার দিকে এমন চোখে তাকালো যেন আমি অনেক বড় কিছু করে ফেলেছি । আমি মনে মনে চিন্তা করার চেষ্টা করলাম আসলে কি হয়েছে কিংবা কি হতে পারে ! তখনই আমার মনে হল নিশ্চয়ই নুশরাত ব্যাপারটা জেনে ফেলেছে । ওর বাবা যে আমাকে ওর সাথে প্রেমের অভিনয় করার জন্য ঠিক করেছে এটা জেনে ফেলেছে । এই ব্যাপারটা মনে হতেই আমি কি বলবো বুঝতে পারলাম না । একবার মনে হল স্বীকার করে ফেলি, সত্যি কথা বলে ফেলাই ভাল কিন্তু তারপরই মনে হল সত্য প্রকাশ করলে আমার এতো চমৎকার চাকরিটা চলে যাবে । কি দরকার ! আমি কিছু বলছি না দেখে নুশরাত বলল
-তুমি ঐ মেয়েটার সাথে রিক্সা করে কেন গেছো ?
আমি একটু শান্তি পেলাম যে নুশরাত আসল ব্যাপারটা জানতে পারে নি । তারপরেই মনে হল কোন মেয়েটা ?
আমি খানিকটা অবাক হয়ে বললাম
-কোন মেয়েটা ?
-কত গুলো মেয়ের সাথে তুমি রিক্সায় ঘুরো শুনি ?
-আরে একটাও না । তোমাকে ছাড়া আর কাউকে নিয়ে তো ঘুরি নাই ।
-তাহলে কালকে ঐ মেয়েটা কে ? কে ?
-আরে কালকে যাকে নিয়ে রিক্সায় চড়েছিলাম সে আমার সাথে কাজ করে । তোমার বাবাই একটা কাজ দিয়েছিলো আমাদের দুজনকে ! সেটা করার জন্য ওর সাথে এক জায়গায় যেতে হয়েছিল । আমি তো ঘুরতে যাই নি ।
নুশরাত তবুও আমার দিকে এমন ভাবে তাকাতে লাগলো যেন আমার রিক্সায় চড়ে বড় অন্যায় করে ফেলেছি । অবশ্য তখনও সে আমাকে ভালবাসি বলে নি তবে তার আচরনে বেশ বোঝাই যাচ্ছে সে আমার উপরে হোঁচট খেয়েছে । আমি বললাম
-আচ্ছা, দাড়াও ... আমি যদি অন্য কোন মেয়ের সাথে রিক্সাতে চড়ি তাহলে তোমার কি সমস্যা শুনি .....
এই লাইণটা বলার সাথে সাথেই নুশরাতের মুখের ভাব বদলে গেল । সেখানে একটা লাল আভা দেখতে পেলাম ।
আমি হাসি হাসি মুখে তাকিয়ে থাকতেই নুশরাত বলল
-গাধা ! এখনও বুঝো নাই ....
-না তো ......
আমি চাচ্ছিলাম যে ও নিজের মুখ দিয়ে বলুক ।
কিন্তু ও যে আমার কাছে এসে আমাকে সরাসরি চুমো খেয়ে ফেলবে সেটা আমি বুঝতে পারি নি । আমি যেমন অবাক হয়ে ওর দিকে তাকিয়ে ছিলাম ও তেমন লজ্জা মিশ্রিত চোখে আমাকে দেখছিলো । এক সময়ে বলল
-এভাবে তাকিয়ে থেকো না তো ! লজ্জা লাগছে !
তারপর থেকেই ওর সাথে আমার প্রেম শুরু হয়ে গেল । তবে আমি যেভাবে ভেবেছিলাম সেভাবে কিছুই হল না । চিন্তা ভাবনা সব কেমন এলোমেলো হতে লাগলো । নয়তো এভাবে আমি এখানে এই বৃষ্টির ভেতরে এসে হাজির হই । সেদিনের পর থেকে নুশরাত সম্পূর্ন রুমে আমার সাথে একেবারে এটে থাকা শুরু করলো । মান অভিমান রাগ ঝগড়া আরও কত কিছু যে মেয়েরা জানে সেটা আমি হাতে হাতে টের পেতে শুরু করলাম । নিশির সাথে সম্পর্কের সময় আমাকে কোন দিন এমনটা কিছু করতে হয় নি । হলেও সেটার মাত্রা ছিল অনেক কম । নুশরাত যেন ঠিক আমার গল্প থেকে উঠে আসা কোন নায়িকা বরং ওর ভেতরে সেই গুণ গুলো আরও বেশি ছিল । আমার অবশ্য বেশ লাগছিলো । তবে আমি যে ওর প্রেমে পড়া শুরু করেছি সেটা বুঝতেও কষ্ট হল না খুব একটা ।
নুশরাত নিচে নেমে এল কিছু পরেই । ছাতা মাথায় দিয়ে । ল্যাম্প পোস্টের নিচে এসে আমার সামনে এসে দাড়ালো । আমি জানি এতো দিনে আমি সত্যি সত্যিই মেয়েটার প্রেমে পরে গেছি । তাই জন্যই হয়তো মাঝে মাঝে নিজের কাছে একটু একটু খারাপ লাগে । মেয়েটা সত্যটা জানতে পারলে কি হবে কে জানে ?
নুশরাত আমার দিকে তাকিয়ে বলল
-এমন পাগল কেন তুমি ?
-তোমার জন্য পাগল ।
-হুম ! তোমার গল্পের নায়ক গুলোর মত পাগলামো কর না । বাস্তবে এসব হয় না ।
-হচ্ছে না ? এই তো হচ্ছে । বাস্তবে পাগলামো গুলো আর অনেক বেশি মধুর হয় । কারন সেগুলো আমরা ফিল করতে পারি বাস্তবে ।
নুশরাত কিছু না বলে মাথা ঝাঁকালো । ওর চোখের আনন্দটা আমি পরিস্কার দেখতে পাচ্ছিলাম ।
-চল হাটি ।
প্রবল বৃষ্টিতে ল্যাম্পপোস্টের আলোতে একটা ছেলে আর একটা মেয়ে হাত ধরে হাটছে । সত্যি কোন গল্প ছাড়া এটা বাস্তবে হতেই পারে না । তাই না ?
-এটা খানিকটা গল্পের মতই নাকি !
-আমার আর তোমার গল্প !
ওর হাত ধরে বৃষ্টির ভেতরে হাটতে লাগলাম । আসলেই গল্প মনে হচ্ছিলো সব কিছু ।
কিন্তু যতই দিন যেতে লাগলো ততই আমার ভেতরকার সেই অপরাধবোধটা প্রবল হতে লাগলো । এর মাঝে নুশরাতের বাবা আমার সাথে বেশ কয়েকবার কথা বলেছে । আমার প্রোগ্রেস দেখে তিনি বেশ খুশি । তার মেয়ে নাকি এখন স্বপ্নের জগতে আছে এবং এটাই তিনি চেয়েছিলেন । তবে আমাকে তিনি এও বলে সাবধান করে দিয়েছেন যেন আমি যেন কেবল প্রেমই করি এর বেশি কিছু না হয় । তিনি ঠিক কোন দিকে ইঙ্গিত দিলেন আমার বুঝতে কষ্ট হল না ।
কিন্তু আমি নিজের কাছে শান্তি পাচ্ছিলাম না কিছুতেই । মনে হচ্ছিলো যে মেয়েটাকে এভাবে মিথ্যা বলা উচৎ হচ্ছে না । আর এখন তো ওকে আমি সত্যিই সত্যিই ভালবাসি । ওকে আমি বলবোই সত্যি কথাটা ! অনেক সাহস করে সিদ্ধান্ত নিলাম ।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now