বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
মেয়েটা লাল টুকটুকে একটা শাড়ি পরে বিছানায়
বসে আছে ... লাল টুকটুকে শাড়িতে তাকে
সুন্দর লাগছে ... তার কপালে টিপ ... অনেকগুলা
গহনার ভারে তার অস্বস্তি লাগছে ... কিন্তু কিছু করার
নেই ... বিয়ের দিন সব মেয়েকে এইসব
ভারী গহনা, শাড়ি, মেকআপ পরে একইভাবে
বিছানার উপর বসে থাকতে হয় !! একটু পর পর
অনেকগুলো মানুষ আসে ... হয় বর পক্ষের, না
হয় কনে পক্ষের আত্মীয় ... তাদের দিকে
তাকিয়ে মেয়েটাকে হাসতে হয়, ছবি তুলতে
হয় ... একটানা একইভাবে বসে থাকতে থাকতে
পায়ে ঝিঝি ধরে যায় ... কিন্তু কিছু করার নেই ...
এইটাই নিয়ম !! , ঠিক এক সপ্তাহ আগে
মেয়েটাকে জানানো হয় এক সপ্তাহ বাদে তার
বিয়ে ... ছেলে অনেক ভালো, হ্যান্ডসাম,
ভালো চাকরি করে ... বিয়ের কথা শুনে
আস্তে আস্তে মেয়েটার মন খারাপ হতে
থাকে ... বাসার মানুষজন তার সাথে কেমন জানি
করতে থাকে ... বাইরে যাওয়া যাবে না এটা করা
যাবে না ওটা খাওয়া যাবে না সামনে তোমার
বিয়ে.. কি বিচ্ছিরি অবস্থা !! মেয়েটার রাতে ঘুম হয়
না ... তার জগতটা কেমন জানি অন্ধকার হয়ে আসে
... এই বাসা, এই বাবা-মা, এই ভাইবোন, এই বন্ধু বান্ধব,
এই লাইফ - সব ছেড়েছুড়ে দিয়ে অন্য
কোথাও নতুন জীবন শুরু করতে হবে ...
কী অদ্ভূত ... কী অদ্ভূত এই নিয়ম !! দুনিয়ার সব
বিচিত্র চিন্তা নিয়ে মেয়েটা এই মুহুর্তে বিয়ের
পিড়িতে বসে আছে ... একটু পর সব অতিথিরা
চলে যাবে ... মেয়েটার বাবা এসে তাকে
জড়িয়ে ধরে হুহু করে কাঁদবে ... মেয়েটার
মা কাঁদতে কাঁদতে অসুস্থ হয়ে যাবে ... তারপর
গাড়িতে করে মেয়েটাকে নিয়ে যাওয়া
হবে শ্বশুরবাড়ি !! যে ছেলেটার সাথে
কখনো পরিচয়ই হয় নি, সেই ছেলেটার সাথে
আজকে রাতে একই বিছানায় ঘুমাতে হবে ... কি
বিচিত্র ... কি অদ্ভূত ব্যাপার !! , মেয়েটার ইচ্ছে হয়
এইসব ছেড়েছুড়ে পালিয়ে যেতে ... তবু
সে চুপ করে বসে থাকে ... এক ধরণের
অদ্ভূত অনুভূতি নিয়ে সে বসে থাকবে ...
চোখের সামনে দিয়ে তার বাবা-মা কাঁদতে
থাকবে ... সে ধীরে ধীরে গাড়িতে
উঠবে .. ফুল দিয়ে সাজানো সুন্দর একটা বিছানায়
সে বসবে ... একটু পর অপরিচিত ছেলেটা
আসবে ... সে একটুখানি লজ্জা পাবে ... তারপর
ছেলেটার চোখের দিকে তাকাবে ...
তারপর অনেকক্ষণ ছেলেটার চোখের
দিকে তাকিয়ে থাকবে !! আস্তে আস্তে
অপরিচিত ছেলেটা তার পরিচিত হবে ... শক্ত
করে হাত ধরবে তার ... মেয়েটার গাল
বেয়ে চোখের জলটুকু টুপ করে পড়ার
আগেই সে আস্তে করে হাত দিয়ে মুছে
দেবে ... দুই হাত দিয়ে মুখটা আলতো করে
স্পর্শ করে বলবেঃ;এখন থেকে আমি আছি
তো ! , প্রতি সকালে দুটো চায়ের কাপে
একই সাথে চুমুক দিয়ে ছেলেটা আর
মেয়েটা আস্তে আস্তে অনেক বেশি
আপন হয়ে যাবে ... মেয়েটার আনাড়ি হাতের
রান্না খেয়েও তৃপ্তির ঢেকুর তুলে
ছেলেটা জানিয়ে দিবে, ভালোবাসা জন্মে
গেছে ভেতরটায় ... এক জোছনা রাতে হুট
করে মেয়েটা গেয়ে উঠবে একটা গান ...
ছেলেটা চোখ বুজে মুগ্ধ হয়ে শুনবে ...
আর জোছনার আলো চুপিসারে জেনে
যাবে, অপরিচিত ছেলেটা আর মেয়েটা এখন
দুজন দুজনকে অনেক বেশি ভালোবাসে !! ,
পৃথিবীর অনেক জোড়া অপরিচিত চোখে
এভাবেই আস্তে আস্তে অন্য একটা অপরিচিত
মুখের জন্য গভীর ভালোবাসা জন্মায়,
জন্মাচ্ছে ... এই ভালোবাসার শুরুটা অদ্ভূত রকমের
... মাঝের অংশটুকু অদ্ভূত রকমের সুন্দর ... আর
শেষটা ?? ... এই ভালোবাসার কোন শেষ
নেই !
.
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now