বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
দুষ্টু রাখাল
মনির চৌধুরী
এক গ্রামে বাস করত এক দুষ্টু রাখাল। রাখালের ছিল এক পাল মহিষ। প্রতিদিন সে বিকালে মহিষের পাল নিয়ে চারণভূমিতে চড়াতে যেত। মহিষের পাল যখন মনের সুখে চারণভূমিতে নরম দূর্বা ঘাস আর গাছগাছালির সবুজ লতা-পাতা খেতে শুরু করত। তখন দুষ্টু রাখাল, মহিষের পাল চারণভূমিতে রেখে প্রতিবেশীদের গাছের ফল-ফলাদি চুরি করতে যেত। সে তার ইচ্ছে মতো প্রতিবেশীদের গাছের পাকা ফলফলাদি চুরি করে নিয়ে ফিরে আসত চারণভূমিতে এবং সে একটা গাছের ছায়া তলায় বসে মনের সুখে ফল খেত আর অপচয় করত। যখন বিকাল গড়িয়ে সন্ধ্যা হতো, তখন সে মহিষের পাল খেদিয়ে বাড়িতে ফিরে আসত।
এভাবে রাখাল প্রতিদিন বিকালে মহিষ চড়াতে যেত আর প্রতিবেশীদের চোখ ফাঁকি দিয়ে, গাছের ফল-ফলাদি চুরি করে খেত লাগল। হঠাৎ একদিন রাখাল ফল চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়ে গেল, প্রতিবেশী রহিম চাচার কাছে। তখন রহিম চাচা রাখালকে বলছে, কথায় আছে, চোরের দশ দিন আর গেরস্থর একদিন। অনেক দিন ধরে আমি অপেক্ষা করছি, তোমাকে হাতে নাতে ধরব বলে। আজকে বাপু তোমাকে হাতে নাতে ধরে ফেলেছি। তোমাকে আজকে উচিত শিক্ষা দিয়েই ছাড়ব।
কিন্তু রহিম চাচা তাকে কিছু বলতে সাহস পাচ্ছিল না। কারণ রাখাল ছিল খুব দুষ্টু। তাকে মারধর করলে পরে রাতের আঁধারে এসে যে কোনো প্রকারের জিনিস ক্ষয়ক্ষতি করে চলে যাবে। এই জন্য রহিম চাচা, রাখালকে হাত ধরে তার মায়ের কাছে বিচারের জন্য নিয়ে যায় এবং তিনি রাখালের মাকে বলছে, তানিয়া আপা তোমার ছেলে প্রতিদিন মহিষ চরাতে গিয়ে, আমার গাছের ফল চুরি করে খায় আর নষ্ট করে থুয়ে চলে যায়। আমি তো গরিব মানুষ, এভাবে প্রতিদিন তোমার ছেলে দুষ্টুমি করে গাছের ফল-ফলাদি নষ্ট করলে, আমার সংসার চলবে কেমন করে। তুমি ওকে একটু শাসন কর যেন পরবর্তী সময়ে ও আর কারো গাছের ফল-ফলাদি চুরি না করে। এই কথা বলে রহিম চাচা সেখান থেকে চলে গেল।
মুহূর্তের মধ্যে রাখালের মা রাখালকে কষে চওলে দুই থাপ্পড় মারল এবং তাকে বলল, জীবনে আর কারও যেন ক্ষতি করতে না দেখি।
তখন রাখাল মনটা ভার করে পাড়ায় চলে গেল। সেদিন সে আর মহিষ চড়াতে গেল না। রাখালের মায়ের মনটাও খারাপ হয়ে গেল, ছেলের গায়ে হাত তোলা জন্য। রাখালের মায়ের মনে চিন্তা বেড়ে গেল। তিনি চিন্তা করছে, না জানি অবুঝ ছেলে রাগের মাথায় কী করে বসে। রাগের মাথায় ওকে মারধর করা ঠিক হয়নি আমার।
যাহোক ভালো মতো সন্ধ্যা দিকে রাখাল বাড়িতে ফিরে এলো। তখন মায়ের মনে হাসি ফিরে এলো এবং তিনি ছেলে দেখে বলছে, বাপ তুই তাড়াতাড়ি হাত মুখ ধুয়ে আয়, তোর জন্য আমি খাবার রেডি করছি।
রাখাল মুহূর্তে মধ্যে হাত মুখ ধুয়ে মায়ের সঙ্গে খাবার খেতে বসল। কিছু ক্ষণের মধ্যে তার খাবার খাওয়া শেষ হয়ে গেল এবং সে হাত ধুয়ে শয়ন কক্ষে ঘুমাতে গেল। গোয়াল ঘরের কাছাকাছি ছিল তার শয়ন কক্ষ। ক্লান্ত দেহ নিয়ে মুহূর্তে মধ্যে সে ঘুমিয়ে পড়ল। কিন্তু সেদিন ভাগ্যের কি পরিহাস, মাঝ রাতে একদল ডাকাত এসে, তাদের বাড়িতে হামলা করল এবং গোয়াল ঘরে প্রবেশ করে মহিষগুলো নিয়ে চলে গেল।
নিস্তব্ধ নিশিরাত যখন অবসান প্রায় পাখিদের কিচিরমিচির ডাকে রাখালের ঘুম ভেঙে গেল। ঘুম থেকে উঠে হঠাৎ তার লক্ষ্য গেল গোয়াল ঘরের দিকে। তখন সে দেখতে পেল একটা মহিষও গোয়াল ঘরের নেই। মনটা ভার করে কাঁদতে কাঁদতে সে তার মায়ের কাছে গেল আর চিৎকার করে বলতে লাগল, মা তাড়াতাড়ি ওঠো আমাদের সব মহিষ আজ রাতে চুরি হয়ে গেছে। তখন তার মা তাড়াহুড়ো করে ঘুম ওঠে মনটা ভার করে বলছে, তুই তো দুষ্টুমি করে পরের গাছের ফল-ফলাদি চুরি করে খেয়ে বেড়াতি আর নষ্ট করতি। কত দুঃখ-কষ্ট পেয়েছে সেই সব মানুষ। যেমন- আজকে আমাদের মহিষগুলো চুরি হয়ে গেছে তাই আমরাও খুব কষ্ট পাচ্ছি।
তখন রাখাল তার ভুল বুঝতে পেরে মায়ের কাছে ওয়াদা করল, আমি আর কোনো দিন চুরি করব না। কারো সঙ্গে দুষ্টুমি করব না।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now