বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
দুষ্টু মিষ্টি ভালবাসা
..
..
মেও! মেও! মেও!
মাঝেরাতে যদি বিড়ালের ডাকে ঘুম ভেঙ্গে যায় তাহলে অনূভুতিটা কেমন হয় তা বলে বোঝাতে পারবো না। তবে অনূভুতিটা মোটেও সুখকর নয়।
আমি চোখ দুটো মেলে তাকালাম আমার বালিশের পাশে। আবছা ভাবে দেখলাম মিশু কুন্ডলি পাকিয়ে আমার বালিশের পাশে শুয়ে আছে। নিশ্চয়ই অঘোরে ঘুমাচ্ছে। যদিও বিড়ালদের এমন ঘুম সচরাচর দেখা যায় না।
যদি মিশু না ডেকে থাকে তাহলে কে ডেকে উঠলো মেও মেও করে?
ওহ ভুলেই গিয়েছিলাম, আমার ফোনের রিংটোন তো বিড়ালের ডাকের। মুহুর্তের মধ্যেই বালিসের তলা থেকে মোবাইল হাতড়ে বের করে নিলাম। সতেরটা মিসড কল! তার প্রতিটা কলই নীলার।
..
কোন প্রকারে সময় নষ্ট না করেই আমি নীলাকে কল দিলাম। রেডিয়াম ডায়ালের ঘড়িটা বলছে এখন রাত দুইটা দশ মিনিট।
একবার, দুইবার, তিনবার। চারবার ফোনে রিং হওয়ার পর ফোন ধরলো নীলা। ফোন ধরেই আমাকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই সে বলে উঠলো,
- কি ব্যাপার তোমাকে এতবার ফোন দিয়েও পাওয়া যায়না কেন? কই থাকো তুমি?
বালিকার এমন অভিযোগে আমি রীতিমত অবাক, এবং সাথে সাথে হতবাক।
কেউ যদি মাঝরাতে ফোন দিয়ে এমন অভিযোগ করে তাহলে আপনার অনূভুতিটা কেমন হবে? আমার তো এখন ইচ্ছে করছে এই কনকনে শীতের রাতে ফ্রীজ থেকে এককেজি বরফ বের করে সেগুলো দিয়ে গোসল করি।
- কি ব্যাপার চুপ মেরে আছো কেন? (নীলা)
- নাহ এমনি। (আমি)
- ফোন ধরতে দেরি হলো কেন?
- না মানে একটু ছাদে গিয়েছিলাম। ( ডাহা মিথ্যা কথা)
- কিহ? এই শীতের রাতে তুমি না ঘুমিয়ে ছাদে কি করো? পাগল হয়ে গেছো নাকি?
- নাহ হয়নি, তবে হওয়ার ইচ্ছে আছে যদি তুমি পাগলী হও।
- তাই বুঝি?
- কেন বিশ্বাস হয়না?
- অবশ্যই হয়। এখন এসব বাদ দিয়ে আসল কথা বলি শোনো।
- বলো শুনছি।
- কাল আমার সাথে দেখা করবা।
- সেটা তো প্রতিদিনই করি।
- হুম তা জানি। তবে প্রতিদিনই তো তোমাকে বলে দিতে হয়। যেদিন না বলি সেদিন তো আসো না। তাই বললাম।
- আচ্ছা ঠিক আছে আসবো।
- ঠিক আছে। এখন ছাদে ঘোরাঘুরি না করে ঘুমাও। শুভ রাত্রি।
- আমার মিষ্টিটা দিবা না?
- যাহ অসভ্য।
..
নীলা, আমার বুকের খাঁচায় বন্দী থাকা প্রান পাখিটার অপর নাম। সিগারেটখোর যেমন সিগারেটকে ভালবাসে তারচেয়ে বেশি আমি নীলাকে ভালবাসি। আর নীলা আমাকে কতটুকু ভালবাসে তা তো আমি জানিনা। তবে এতটুকু জানি যে, নীলা তার নিজের থেকেও বেশি আমায় ভালবাসে।
..
শীতের সকাল। কম্বলের আরামদায়ক উষ্ণতার মাঝে নিজেকে যখন আটকে রাখার চেষ্টায় যখন ব্যস্ত ছিলাম তখনই শরীরে প্রবল ঝাঁকুনি অনূভব করলাম। ভুমিকম্প হচ্ছে নাকি? তখনও ঘুমের ঘোরে রয়েছি আমি। তাই বুঝতে পারছিলাম না ঝাঁকুনিটা স্বপ্নে হচ্ছে নাকি বাস্তবে।
- কিরে ভাইয়া উঠ। আমাকে কলেজে দিয়ে আসবি না?
আমার ছোটবোন উর্মিলার কন্ঠ কানে আসতেই বুঝতে পারলাম এই ডাইনিটাই আমাকে এতক্ষন ধরে ঝাঁকাচ্ছে। আমার সাধের ঘুমটাকে মাটি করে দিল।
- ওই ভাইয়া উঠ তাড়াতাড়ি, কলেজের দেরি হয়ে যাচ্ছে তো আমার। ( উর্মিলা)
- ওই যা ভাগ এখান থেকে, নিজের কলেজে নিজে একা যা। ঘুমের ডিস্টার্ব করিস না। (আমি)
- ও এই কথা? ঠিক আছে একাই যাচ্ছি আমি।
..
উর্মিলার এই কথা শুনে চমকে উঠে বসলাম। আমি যদি এখন উর্মিলার সাথে না যাই তাহলে তো নীলার সাথে বিকালের আগে দেখা হবে না।
কারন নীলা আর আমার বোন একই কলেজে পড়ে এবং তারা দুজনে প্রানের বান্ধবী।
তাই কম্বলের উষ্ণতাকে ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে দৌড়ে ওয়াশরুমে ঢুকলাম এবং সুপারম্যানের গতিতে ফ্রেশ হয়ে কাপড় পরে উর্মির সাথে বাইরে বের হলাম।
..
- কিরে তুই নাকি ঘুমাবি? এখন আসলি কেন? (উর্মি)
- আরে ধূর তুই তো দেখি মজাও বুঝিস না। তুই আমার একমাত্র বোন। তোকে কলেজে দিয়ে আসবো না তা কি হয়রে? (আমি)
- যাহ যাহ সব জানি। আমার জন্য আসছিস নাকি নীলার জন্য হুম?
- হে হে জানিস যখন তখন এত প্রশ্ন করিস কেন?
- আচ্ছা ভাইয়া তুই যাি নীলাকে বিয়ে করিস তাহলে তো ওকে আমার ভাবী ডাকতে হবে। কিন্তু আমি তো পারবো নারে।
- না পারলে ডাকবি না।
..
এতক্ষন টের পাইনি। তবে এখন বুঝতে পারছি বাইরে শীতের পরিমানটা অনেক বেশি। দাঁত লেগে আসার মত শীত।
- উর্মি, শীতে তো আমার জান বেরিয়ে যাচ্ছে রে।
- আহা বুঝিস না কেন? কষ্ট না করলে কেষ্ট মেলে না।
তাও ঠিক। আসলেই কষ্ট না করলে কেষ্ট মেলে না।
..
অবশেষে এসে গেল সেই মাহেন্দ্রক্ষন। আমার আর উর্মির সামনে আবির্ভাব ঘটলো নীলার। আহ এখন যেন শীতের সকালে আর শীত বলতে কোন শব্দই নেই।
- কি ব্যাপার আরমান সাহেব আপনি তো দেখছি শীতে একেবারে কাবু হয়ে গেছেন। (নীলা)
- নীলা, আমার ভাইটা সত্যিই শীতে কাবু হয়ে গেছে। তুই আমার ভাইকে একটু ঠিক করে দে।
- হুম তা তো দেবই। তাহলে তুই একটু আগে আগে হাঁটতে থাক। আমরা তোর পেছন পেছন আসছি।
- যথা আজ্ঞা আমার হবু ভাবী।
..
উর্মি একটু দ্রুতগতিতে সামনের দিকে হাঁটতে লাগলো। আমি আর নীলা হাঁটছি একটু আস্তে আস্তে। নীলার হাতটা আমার হাতে ধরা।
- আরমান আজ সত্যিই অনেক শীত, তাইনা?
- হুম।
- আচ্ছা যখন আমাদের বিয়ে হবে তখন কি তুমি এমন শীতের সকালে আমাকে নিয়ে হাঁটতে বের হবে?
- কখনই না।
- (মুখ ভার করে) কেন?
- কারন তখন যে আমি তোমার বুকে মাথা রেখে ঘুমিয়ে থাকবো। তখন কি আমার এত সকালে হাঁটতে বের হওয়ার সময় থাকবে?
- যাহ দুষ্টু।
- হুম আসলেই আমি দুষ্টু।
- নাস্তা করে বের হয়েছো?
- নাহ।
- (রাগী কন্ঠে) কেন?
- কারন তাহলে যে আমার প্রেয়সির দেখা হতো না বিকেলের আগে। আর বিকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করার শক্তি আমার নেই। তোমাকে যে ভালবাসি অনেক বেশি।
- এতো ভালবাসো আমায়?
- কোন সন্দেহ ছাড়াই।
- হারাতে দেবে নাতো?
- কখনোই না। এই বুকে আগলে রাখবো তোমায় যতদিন আমার বুকের পিঞ্জিরায় থাকে আমার জীবন।
- আমিও ভালবাসি তোমায়।
-এ ব্যাপারে আমার সন্দেহ আছে। সন্দেহটা দূর করো।
- কিভাবে দূর করতে পারি তোমার মনের সন্দেহটাকে?
- আমার গতকাল রাতের পাওনা মিষ্টিটা আর আজ সকালের মিষ্টিটা দিয়ে দাও। তাহলেই সন্দেহ দূর হয়ে যাবে।
- যাহ দুষ্টু। মিষ্টিগুলো জমিয়ে রাখছি। বিয়ের পরে সুদে আসলে পেয়ে যাবে।
- ওহ বিয়েটা কবে হবে?
..
লেখকঃ আরমান হোসেন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now