বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

দুষ্টু মেয়ে ----০৫

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়াদুল ইসলাম রূপচাঁন (০ পয়েন্ট)

X --------------++------------ ফটোগুলি দেখে হাসি আর আটকিয়ে রাখতে পেলাম না। হাসতে হাসতে প্রায় নাজেহাল। নিশু বড় খালাকে সাজিয়েছে। এমনিতেই কালো মানুষ, তার মুখে কিসব দিয়ে সাদা করেছে।হাহাহা, ঠোঁটে লাল লিপস্টিক দিয়েছে কপালে বড় একটা লাল টিপ পড়িয়েছে। আর চুলগুলি সামনে ফুলিয়েছে, কিছু চুল দু গাল বেয়ে নিচে এসেছে। দেখতে ভালোই লাগছে। খালা তো এসব সাজুগুজু পছন্দ করেনা।আমার বিশ্বাস, খালা এমন ভাবে জীবনেও সাজবেনা। তাহলে এটা কিভাবে সম্ভব হলো,,,? মাথায় আসছেনা। ফটোগুলি দেখতে দেখতে একটা ফটোর উপর চোখ থেমে গেলো। এটা কে,,!! পুরো মুখটাই তার কালো। চোখ বুজে আছে,, চোখের উপরটা সাদা দেখাচ্ছে। মুখের চারিপাশ লাল লাল রক্তের ফোটা জমাট বেধে আছে।মাথা ভর্তি উস্কোখুস্কো চুল উপর দিকে দাড়িয়ে আছে। কিন্তু উনার পোষাক আমার আম্মুর পোষাকের মতো লাগছে। তবে কি,,,,,,,,,,,, নিচে একটা ম্যাসেজ, এইটা তোর আম্মু,,,,পাতিলের কালিতে উনার ফর্সা মুখ কালো হয়ে গেছে। জানিস সোম, রাতে দুধের মধ্যে ঘুমের ট্যাবলেট মিশিয়ে উনাদের খাইয়েছি,, হিহিহি। আমি এখন ত্বনির বিয়েতে যাচ্ছি। তোর জন্য অপেক্ষা করবো। তুই তাড়াতাড়ি আসবি কিন্তু নইলে,, আর একটা ব্রেকিং নিউজ শুনবি,,বড় ফুপির ঔষধে আমি ডাক্তারগিরি করেছি। ঔষধটি বেশি ভারী তাই পাতলা করার জন্য উহাতে সরিষার তেল, লোশন আর গরুর দুধ দিয়েছি যেন গলাটা ক্লিয়ার হয়ে যায় এবং ঔষধ খেতে কষ্ট না হয়। আর জানিস কেন এসব করেছি,,? ফুপি আবারো আমার জন্য সম্বন্ধ এনেছে। আচ্ছা অনেক বড় হয়ে গেল টেক্সট টি। বাই,,,, এসব শুনে তো মাথা খারাপ হয়ে গেলো। খালামনি যদি এই ঔষুধটি খায় তাহলে নির্ঘাত ফুড পয়জনিং,,,,,,। আম্মুর মোবাইলে ফোন দিচ্ছি অবিরাম কিন্ত রিসিভ করছেনা। বাধ্য হয়ে আমি গেলাম মামার বাসায়। মামিকে ডেকে পুরো ঘটনা বলি, এরপর মামির সাহায্যে ঔষধটি বের করতে সক্ষম হই। এরপর আম্মু আর খালাকে ডেকে তুলতে চেষ্টা করি। কিছুক্ষণ পর উনাদের ঘুম ভেংগে যায়। উনারা একে অপরের চেহারা দেখে চিল্লায়ে উঠে। ওহহো,, চেহারা থেকে ওগুলো মুছিয়ে দেয়ার কথা মনেই ছিলো না। তারপর উনাদের বুঝতে আর বাকি রইলো না, এটা নিশুর পাগলামি। নিশুর প্রতি খুবই রেগে গেলেন। উনারা নিশুকে যদি এই মুহুর্তে সামনে পেতেন তাহলে বুঝি নিশুর আর রক্ষা হতোনা। আমার ও নিশুর প্রতি খুবই রাগ হলো। মনে মনে অনেক বকা দিলাম। বড় হয়েছে কিন্তু বুদ্ধি হয়নি। ওখান থেকে ত্বনিমার বিয়েতে যাই। ওখানে এসেই শুনি নিশু জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছে। সবাই ওর মাথায় পানি ঢালছে। উনারা ভাবছে গরমের কারনে এমন হইছে। আমি ত্বনিমাকে বললাম কতোক্ষন হলো ও জ্ঞান হারিয়েছে,, ও বললো দেড় ঘন্টা তো হবেই। কথাটা শুনে মাথা চক্কর দিতে লাগলো। তাড়াতাড়ি ওকে একটা প্রাইভেট ক্লিনিকে আনি। খবর পেয়ে মামা মামি চলে আসেন। ডাক্তার কয়েকটি টেষ্ট দিলেন। সেগুলো পরিক্ষা করার পর ধরা পরে আমার নিশুর মাথায় অনেকদিন থেকে একটা টিউমারের বাস। ও প্রায়ই মাথা ব্যথায় কাতরাতো। প্যারাসিটামল ট্যাবলেট খেলেই সেরে যেতো। অতোটা গুরুত্ব কেউ দেয়নি। একবার ডাক্তার ও দেখিয়েছিলো। উনি বলেছেন মাইগ্রেনের ব্যথা। আজ সেই টিউমার ওর মাথায় ফেটে গেছে। ডাক্তার বললেন ও কিছু মুহুর্তের মেহমান। মানতে পারছিনা আমার নিশুর এমন অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্য। সবাই ওকে ঘিরে কান্না করছে। ও চোখ মেলতে চাচ্ছে কিন্তু পারছেনা। আমি ওর হাত ধরে কান্না করছি, কেনো আমাদের সাথে এমন হলো। ও বিড়বিড় করে বললো ভালো থেকো সোহম,, বুঝতে পেলাম কথা বলতে ওর খুবই কষ্ট হচ্ছে। ওর নাক মুখ দিয়ে রক্ত গড়িয়ে পড়ছে। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি, হয় নিশুকে ভালো করে দাও নয়তোবা ওর সাথে আমাকেও উঠিয়ে নাও। ওকে ছাড়া যে আমি অসম্পুর্ণ, বাঁচতে পারবোনা। আমার জান আমার কলিজার টুকরো একটা ঝাঁকুনি দিয়ে চিরতরে চলে গেলো না ফেরার দেশে। কিভাবে এসব মেনে নিই,,ওর রক্তমাখা মুখটা ধরে চিৎকার দিয়ে ডাকছি, নিশু তুই আমাকে একা করে যেতে পারিস না।ফিরে আয় একটিবার, আমি তোকে অনেক চুইংগাম ললিপপ কিনে দিবো। তোর রান্না করা আলুর ললিপপ খাবো। তুই শুধু একবার চোখ মেলে দুষ্টু হাসি দে। খালা আমার মাথায় হাত দিয়ে মিছে সান্তনা দেয়ার বৃথা চেষ্টা করছে। খালার মতো শক্ত মানুষটিও বিলাপ করে কাঁদতে পারে। আজ বুঝলাম খালামনি নিশুকে কতোটা ভালোবাসতো। নিশুর নিথর দেহটা পরে আছে। এই প্রথম নিশু চুপ করে আছে। ওর মুখে কোনই কথা নেই। ওর চেহারা খুবই ক্লান্ত দেখাচ্ছে। ওর সাজগোজ খারাপ হয়ে গেছে। কিছুক্ষণ পর আবার নতুন করে আমার জানকে নতুন রুপে দেখলাম। সাদা কাপরে মুড়ে রেখেছে।মুখটা শুধু বের করে রেখেছে।ওর মুখটা হাসিতে ভরে গেছে। ও আমার এই করুন অবস্থা দেখে হয়তোবা হাসছে। ওকে নিয়ে যতো স্বপ্ন দেখেছিলাম সবটা ও নিয়ে গেছে ওর সাথে অন্ধকার ঘরে। নিয়তি কেনো এতো নিষ্ঠুর হয়,,, আজকাল মনে আর কোনো কথাই ভেড়েনা। যেটা বলার জন্য ওর ফোনের অপেক্ষায় থাকতে হয়না।একটাই প্রার্থনা করি, আমার দুষ্টুমিষ্টু নিশু যেখানে আছে সেখানে যেনো অনেক ভালো থাকে। --------- শেষ---------


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৮ জন


এ জাতীয় গল্প

→ দুষ্টু মেয়ে ----০৫

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now