দুষ্টপরী ,মিষ্টিপরী আর মোহনকুমার-০৬ (শেষ) "রূপকথা " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)
X
তারপর কালো খুলিটায় সাদা খুলিটা ছোঁয়ালেই পাঁজি
খোক্কসটা মরবে।
: ধন্যবাদ পটপুতুল। এক্ষুনি আমি খোক্কসটাকে
মেরে চাবি নিয়ে ফিরছে।
মোহনকুমার সিঁড়ি বেয়ে উঠে নাক বরাবর সোজা
চলে এলেন কালো দিঘীর পাড়ে। ধীরে
ধীরে নেমে গেলেন কালো কুচকুচে সে
জলে। তারপর এক ডুবে দিঘীর তলার সিন্দুকের
তালায় প্রদীপ পাথরটা ছোঁয়াতেই খট করে
সিন্দুকের তালাটা খোলে গেল।
ঐতো খুলিদুটো দেখে যাচ্ছে।
মোহনকুমার হাত বাড়িয়ে খুলি দুটো ছুঁতেই পুরো
পাতালপুরী কাপতে শুরু করল। সাতারকেটে দিঘির
পাড়ে আসতেই মোহনকুমার দেখলেন পুরো
আকাশ কালো হয়ে গেছে।
ধুপ ধুপ করে হেটে আসছে পাঁজি খোক্কসটা।
কি কুৎসিত দেখতে !
বিদঘুটে দুটো মুখের চারটি চোখই আগুনের
গোলার মত জ্বলছে।
রাগে যেন চোখ দিয়ে ঠিকরে বেরোচ্ছে
আগুন।
মোহনকুমারের হাতে মাথারখুলী দেখেই
পাতালপুরী কাঁপিয়ে হুঙ্কার দিয়ে উঠল পাঁজিটা।
বাজখাঁই গলায় চেঁচিয়ে উঠল , কেরে তুই !
সাহসতো কমনা তোর আমার প্রাণখুলিতে হাত দিস!
দাড়া এক্ষুনি তোকে মেরে ছাতু বানিয়ে খাচ্ছি !
মোহনকুমার বললেন , তবেরে পাঁজি
খোক্কস !এই দেখ তোকে ছাতু খাওয়াচ্ছি।
সাদা খুলিতে কালো খুলিটা ছুঁইয়ে দিলেন তিনি।
আর অমনি পাঁজা খোক্কসটা একেবারে পুড়ে
মরে ছাই হয়ে গেল ।
চাবির গোছাটা নিয়ে মোহনকুমার আবার পটপুতুলের
কাছে হাজির হলেন।
: এবার বলো পটপুতুল ,মিষ্টিপরী কোথায় ?
তারপর পটপুতুলের দেখানো ঘর থেকে
মিষ্টিপরীকে উদ্ধার করে রাজকুমার ,মিষ্টিপরী
আর পটপুতুল মেঘের ভেলায় চড়ে সোজা
পরীরাজ্যে গিয়ে হাজির।
পাঁজি ডাইনিটাতো তার ভাইপোর সাথেই জ্বলে
পুড়ে মরেছিল আর দুষ্টপরীকে জাদুর কারাগারে
নিক্ষেপ করা হল।
ধীরে ধীরে পরীরাজ্যে ফিরে এলো
হারানো সুখ শান্তি। মিষ্টিপরীর যত্নে ফুলগুলো
আবার হয়ে উঠল সজীব।
তারপর এক চাঁদনি হাটের দিনে আবার সব পরী
মিলে নেমে এলো সে চাঁদের দিঘীর পাড়ে।
সাথে এলো মোহনকুমার আর পটপুতুলও।
সারারাত্রি জ্যোৎস্না স্নান সেরে, পরীরা যখন
ফেরার পথ ধরতে যাবে। তখন মোহনকুমার
বললেন , আমার এবার আমার রাজ্যে ফিরতে
হবে।
পরীরাজা বললেন , তাই বটে। তোমাকে আর
আটকে রাখা চলেনা।
ছলোছলো চোখে ঘোড়ায় চেপে বসলেন
মোহনকুমার। গোটাপরীর দলটাও থমথমে হয়ে
গেছে।
: দাড়াও মোহনকুমার !
রিনরিনে গলায় বলে উঠল পটপুতুল।
: মিষ্টিপরীর গলায় মালা দিতে কবে আসবে বলে
যাও ...
টিপ্পনী কেটে বলে পটপুতুল।
লজ্জায় পাখায় মুখ গোঁজে মিষ্টিপরী । লজ্জায়
আর কারও দিকে তাকায়না মোহনকুমার।
: আগামী চাঁদনি হাটেই আসছি ..
ঘোড়ায় যেতে যেতে বলে যায় মোহনকুমার।
পরীরদলটা আবার আনন্দে নেচে উঠে।
বিশ্বাস হয়না ?
বেশতো! আগামী ভরা পূর্ণিমার রাতেই
মোহনকুমার আর মিষ্টিপরীর বিয়ে। চাইলে তুমিও
যোগ দিতে পার। মধ্যরাতে চাঁদটা যখন খিলখিল
করে হেসে উঠে ,জ্যোৎস্নার আলোয়
বানডাকে চারদিকে ? তেপান্তরের মাঠ পেরিয়ে
চাঁদের দিঘির পাড়ে গিয়ে দেখেই এসোনা
একবার! তোমাদের সবার নেমতন্ন রইল ।
সমাপ্ত
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now