বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

দুষ্টপরী ,মিষ্টিপরী আর মোহনকুমার-০৫

"রূপকথা " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X শূন্য পাতালপুরী। মস্ত পাতালপুরীটা নিঃশব্দকে ভয়ঙ্করভাবে আঁকরে যেন দাড়িয়ে আছে। মোহনকুমার ফটক পেরিয়ে প্রাসাদে প্রবেশ করলেন। সারি সারি ঘর চারদিকে। কে জানে কোন ঘরে আটকে রেখেছে মিষ্টি পরীকে! আর কোথায়ইবা সে পাঁজি দুমাথা খোক্কস ,যার পেটে পাতালপুরীর সমস্ত ঘরের চাবি ? ধীরে পায়ে হলঘর ছেড়ে রাজকুমার প্রাসাদের অন্দরে প্রবেশ করলেন। কুটকুটে অন্ধকার চারদিকে। তলোয়ারটা খুলে সেটা দিয়ে আন্দাজে ভর দিয়ে এগিয়ে চললেন তিনি। হঠাত্ তলোয়ারের খোঁচায় খুট করে যেন কি একটা গড়িয়ে পড়ল মেঝেতে। অমনি পুরো ঘর আলোকিত হয়ে গেল। ঐতো ,মেঝেতেই আছে জিনিসটা। একটা পাথর ,গা বেয়ে ঠিকরে বেরোচ্ছে আলো। এযে প্রদীপ পাথর। মোহনকুমার পাথরটা কুড়িয়ে নিলেন। তারপর প্রদীপ পাথরের আলোয় পথ দেখে আবার এগোতে লাগলেন । অন্দর পেরিয়ে যেতেই একটা সিঁড়ি চলে গেছে সোজা মাটি বরাবর। মনে হয় কোন গুপ্ত পথ হবে। মোহনকুমার সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে গেলেন। কিন্তু একি ,এযে মস্ত একটা কক্ষ। চারদিকে মনি মুক্তো ,হিরে জহরত ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে পুরোঘরে। প্রদীপ পাথরের আলোয় ঝলমল করছে হিরেগুলো । এখানে নিশ্চয় মিষ্টিপরী নেই। তারচেয়ে অন্যদিকটা খোঁজা যাক । যেইনা মোহনকুমার ফেরার জন্য সিঁড়িতে দুকদম উঠেছেন অমনিই পেছন থেকে ডেকে উঠল , : মোহনকুমার ! ভারি মিষ্টি গলা। কেমন যেন রিনরিনে। : কে ? কে কথা বলে ? তলোয়ারটা খাপ থেকে খোলে উঁচিয়ে বললেন মোহনকুমার। : আমি মোহনকুমার! আমার নাম পটপুতুল। আবারও যেন শূন্য থেকে ভেসে এলো কণ্ঠটা। : সে বুঝলাম। কিন্তু তোমায় দেখা যাচ্ছেনা কেন ? তুমি কি অদৃশ্য ? : ঐযে ,মস্ত লাল মুক্তোটা দেখছ ? পটপুতুল রিনরিনে কণ্ঠে বলতে লাগল , : ওটা সরালেই একটা কৌটো পাবে । ঐ কৌটোর মধ্যেই আমি। সব শুনে মোহনকুমার ধীরপায়ে লাল মুক্তোটার কাছে গেলেন। ওটা সরাতেই নকশা করা একটা কৌটো বেরিয়ে এলো আর কৌটোর মধ্যে পাওয়া গেল দেড় ইঞ্চি পটপুতুলকে । ভারি সুন্দর দেখতে পুতুলটা। কিন্তু তা বলে কি হয়েছে ,কেঁদেকেটে যে কালসিটে পড়ে গিয়েছে চোখে। মোহনকুমার বললেন , পটপুতুল পাতালপুরী এত শূন্য কেন ? পটপুতুল মুখ ভার করে বলতে লাগল , হাজার হাজার প্রজা দাসী হাজার সৈন্যদল হাসিখুশি ,বিনা বাঁশি আনন্দ কল্লোল পাতালপুরীর রাজা মহান রাজকন্যে দুজন ছিল হেথায় মহাসুখে বড্ড সুজন .. কিন্তু একদিন .. আকাশ ছেয়ে কালো করে এলো ডাইনি বুড়ি এলোসাথে পাঁজি খোক্কস ভাইপো তারই ! এটুকু বলেই পটপুতুল আবার কাঁদতে শুরু করল। মোহনকুমার বললেন , সব বুঝেছি ! দাড়াও পটপুতুল একটু পড়েই পাঁজি খোক্কসটাকে উচিত সাঁজা দেব। এ তলোয়ারের এক খোঁচায় ওর মুন্ডুচ্ছেদ করব আমি। : নানা মোহনকুমার ও ভুল করবেন না। পাঁজি খোক্কসকে এভাবে মারা যাবেনা। : তাহলে কিভাবে ? : সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে সোজা নাক বরাবর গেলে দেখবেন মস্ত একটা দিঘি। দিঘীর জল কুচকুচে কালো বলে এই দিঘীর নাম কালোদিঘী। কালো দিঘির জলে নেমে এক ডুবে যেতে হবে দিঘীর তলায়। দেখবেন মস্ত একটা সিন্দুক আছে ওখানে। সিন্দুকের তালায় আপনার হাতের প্রদীপ পাথরটা ছোঁয়ালেই ওটা খোলে যাবে। ওরমধ্যেই পাবেন দুটোর মরারখুলী। একটার রঙ কালো আর অন্যটা সাদা। খুলীদুটো নিয়ে সোজা দিঘির উপরে চলে উঠে যাবেন।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৩ জন


এ জাতীয় গল্প

→ দুষ্টপরী ,মিষ্টিপরী আর মোহনকুমার-০৫

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now