বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
দিনের আলো ক্রমেই পড়ে আসছে। ধীরে
ধীরে অন্ধকারে ছেয়ে আসছে চারদিক। না!
অন্ধকারে আর হরিণ ছানাটিকে আর ধরা যাবেনা ।
ক্লান্ত হয়ে ঘোড়া থামিয়ে নামলেন রাজকুমার। ঘন
কালো অন্ধকার। মেঘে বোধহয় চাঁদটা ঢেকে
আছে। পানি তৃঞ্চায় বুকের ছাতি ফেটে যাচ্ছে।
এই মাঠে পানি পাবে কোথায় ?
মেঘের আড়াল থেকে চাঁদটা বেরোতেই
রাজকুমার অবাক হয়ে দেখলেন তার সামনে মস্ত
একটা দিঘি। রুপোর জলে থই থই করছে সে দিঘি।
দ্রুত পায়ে দিঘির পাড়ে এসে আজলা ভরে পানি পান
করলেন তিনি।
আহা ! পানি তো নয় যেন শাহী সরবত। ভারি আজব
তো এ দিঘি ।
দিঘির পাড়ে মস্ত একটা গাছ। রাজকুমার ভাবলেন রাত
করে আর ফিরে লাভ নেই। তারচেয়ে ঐ
গাছটাতে চড়ে একটু ঘুমোনো যাক । সকাল
হলেই পথ চিনে ফিরে যাবেন।
ঘোড়াটাকে গাছের নিচে ভালো বেধে গাছে
চড়ে একটু জুতসই ঢাল দেখে তাতে হেলান
দিয়ে রাজকুমার শুয়ে পড়লেন।
সারাদিনের ক্লান্তিতে একটু পড়েই ঘুমিয়ে
পড়লেন।
মধ্যরাত! হঠাত্ করে ঘুম ভেঙে গেল
রাজকুমারের। মনে হল কারা যেন কথা বলছে। ঠিক
যেন দুটো মানুষ।
ভাল করে চারদিকে তাকালেন তিনি। চাঁদের
আলোয় ফকফক করছে চারদিক। রাজকুমার
দেখলেন দিঘির জলে মাথা ভাসিয়ে আছে দুটো
ফুল। একটা লাল অপরটা নীল।
লালফুলটা নীলফুলকে বলছে , জানিস , মিষ্টি
পরীর জন্য আমার ভারি খারাপ লাগছে। আজ রাত
পেরোলেই পাজি দুমাথা খোক্কসটা মিষ্টি
পরীকে খেয়ে ফেলবে।
লালফুলটা বলল , কান্না পেলেই আর কি হবে বল।
না পারব আমরা সে পাতালপুরীতে যেতে না পারব
পাজি দুমাথা খোক্কসকে মেরে তার পেট
থেকে চাবি নিয়ে মিষ্টিপরীকে উদ্ধার করতে।
তখন নীলফুলটা আবার বলল , আহারে মিষ্টিপরী না
জানি এখন কি করছে! পরীরাজ্যও শুনেছি
দুষ্টপরী আর পাজি ডাইনি মিলে দখল করে
নিয়েছে। রাজা আর রানীকে কয়েদ করে
রেখেছে ওরা ।
: ওসব না ভেবে এবার ঘুমো নীল । লালফুলটা
যেন একটু বিরক্ত হয়েই বলল।
কিন্তু নীলফুলের তাতে গা নেই।
সে আনমনে বলে চলেছে , আহা আমি যদি ফুল
না হয়ে কোন রাজপুত্র হতাম তাহলে এক্ষুনি
ঐযে চাঁদের ছায়াটা যেখানে ভাসছে তার বরাবর
এক ডুবে পৌঁছে যেতাম পাতালপুরে। সেখানে
তলোয়ারের এক খোঁচায় পাজি খোক্কসটাকে
মেরে মিষ্টিপরীকে উদ্ধার করতাম।
মোহনকুমার গাছে বসে লালফুল আর
নীলফুলের সব কথাই শুনলেন।
চাঁদের আলোয় ঝলমল করছে চারদিক। চাঁদের
ছায়াটা দিঘির জলে যেখানে দোলনা দুলছিলো
সেদিকে একবার তাকালেন। তারপর তরতর করে
নেমে এলেন গাছের গা বেয়ে।
ধীরপায়ে নেমে গেলেন দিঘীর জলে।
তারপর চাঁদ বরাবর দিলেন এক ডুব।
এদিকে পরীরাজ্যে দুষ্টপরী আর ডাইনির মনে
আজ ভারি আনন্দ । পরীরাজ্য তাদের দখলে।
ডাইনি বুড়ি তার জাদুতে পরী রাজা আর পরী
রানীকে কয়েদ করে রেখেছেন।
গোটা রাজ্যেই তাদের শয়তানি জাদুতে করে
রেখেছেন কাবু।
: আজকের রাত! হুহু করে হাসতে হাসতে বলল
দুষ্টপরী।
: আজকের রাতটা পেরোলেই মিষ্টিপরী চলে
যাবে খোক্কসের পেটে।
: আর তাতে নিশ্চয় ভাইপো খুশি হয়ে আমাকে
আরও জাদুবিদ্যা দেবে। আমি আরও শক্তিশালী
হয়ে উঠব।
দুষ্টপরীর সাথে ঠোট মিলিয়ে ফিকফিক করে
হেসে উঠল ডাইনি বুড়ি। গমগম করে উঠল গুহাটা।
কিন্তু আনন্দে ব্যস্ত থাকায় জাদুর আয়নার দিকে
তাকাবার ফুরসুৎই পেলোনা ডাইনি বুড়ি । তাকালেই
দেখতে পেত কি ভয়ঙ্কর বিপদ এগিয়ে আসছে
তাদের দিকে।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now