বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
শুনে রাজা তো রেগেই আগুন , আমার মেয়ে
বলে কি হয়েছে ,এ অন্যায়ের জন্য
দুষ্টপরীকে উচিত সাঁজা দেব আমি!
সেদিনই পাজি দুষ্টপরীকে পরিরাজ্য থেকে
নির্বাসন দেয়া হল।
মিষ্টিপরীর জন্য একশপদের নতুন ফুলগাছ আনা
হল। ভারি যত্ন করে মিষ্টিপরী সেগুলো
নিজহাতে লাগালেন। এই দেখ , কদিন পেরোতে
না পেরোতেই দেখ ফুলগাছগুলো কেমন
হেসে উঠেছে । ফুল ফুটেছে সপ্তাহ
পেরোতে না পেরোতেই। গন্ধে মৌ মৌ
করে গোটা পরীরাজ্য।
এদিকে পরীরাজ্য থেকে নির্বাসিত হয়ে
দুষ্টপরী গিয়ে ঠাই নিলো ডাইনি বুড়ির আস্তানায়।
সেখান থেকে রোজ রোজ জাদুর আয়নায়
মিষ্টিপরীর বাগান দেখে আর হিংসায় জ্বলে পুড়ে
মরে।
ডাইনিকে বলে , এর একটা বিহিত তোমাই করতেই
হবে।
শুনে দুষ্ট ডাইনিটা তার কালসিটে দাঁত বের করে
খিল খিল করে হেসে উঠে।
বলে ,ভাবিসনারে দুষ্টু। ফন্দি আমি ঠিকই এটে
রেখেছি!
: কি ফন্দি ?
: সামনে তো পূর্ণিমারে ,দিঘীর পাড়ে যাবে
রাজ্যের যত পরী।
: তো কি হয়েছে ? আমি তো আর এই ফাঁকে
গিয়ে বাগানটা মাটিতে মিশিয়ে দিয়ে আসতে পারবনা।
ওই বাগানতো জাদু দিয়ে ঘেরা ,ঢুকতেই পারবনা।
শুনে ডাইনি বুড়ি আবার খিল খিল করে হাসে।
তারপর বলে , এই বুদ্ধি তোর ঘটে ! শোন
তবে বলছি ফন্দি খোলে ।
: তাই বল।
: চাঁদের দিঘিতে ঠিক মাঝরাত্তিরে যেখানে চাঁদের
ছায়াটা পড়ে ? ঠিক তার নিচে আছে মস্ত এক
পাতালপুরী। পাতালপুরীই আছে কেবল ,মানুষজন্যি
নেই। আমার ভাইপো ,দুমাথা রাক্ষস সব খেয়ে
সাবাড় করে দিয়েছে।
: সেসব জেনে আমি করব ?
: আরে শোন না। আসছে চাঁদের হাটে তুইইও
ভাল পরীটির মত নেমে যাবে দীঘির জলে।
সেখানে ভুলিয়ে ভালিয়ে মিষ্টিপরীকে দিঘীর
মাঝটাতে নিয়ে এক ডুবে চলে যাবি পাতালপুরী।
সেখানে মিষ্টিপরীকে বন্দি করে চাবিটা আমার
ভাইপো দুমাথা খোক্কসকে দিয়ে আসবি।
বুড়ির কূটবুদ্ধিতে ভারি খুশি হয়ে উঠে দুষ্টপরী।
মাঝরাত্তিরে দুষ্টপরীর আর ডাইনির খিল খিল সর্বনাশা
হাসি গুহার এদিক ওদিক হুটোপুটি খেয়ে মাটিতে
লুটিয়ে পড়ে।
দেখতে দেখতে এসে গেল জ্যোৎস্না
হাটের রাত। রাত্রি যখন মধ্য ,চাঁদটা বেশ করে
খিলখিলিয়ে হেসে উঠেছে কেবল। ঠিক
সেসময় ,মেঘের ভেলা চড়ে পাখায় ভর দিয়ে
দিঘির পাড়ে নেমে এলো পরীরা দলে দলে।
লাল ,নীল ,সাদা ,মখমলে ,ঝলমলে কত রঙেরই
না পরী। কেউবা জ্যোৎস্না মেখে হেসে
লুটোপুটি খাচ্ছে আবার কেউবা হাওয়ায় ভেসে
বেড়াচ্ছে এদিক ওদিক।
একদল পরী তো দিঘির জলেই নেমে গেল
নাইতে।
মিষ্টি পরীর এসব হৈ হুল্লোড় মোটেই ভাল
লাগেনা। দিঘির পাড়ে একটা ভারি সুন্দর ফুলগাছ
দেখে ভাবছিল এটা পরীরাজ্যে নিয়ে গেলে
কেমন হয়।
এমন সময় দুষ্ট পরী এসে হাজির ।
বলে , কি করছিস রে মিষ্টি ?
: দেখনা দুষ্ট ফুলটা ভারি সুন্দর না ?
দুষ্টপরীর কি ফুলগাছ দেখার মন আছে ?
তারপেটে তো তখন কূটবুদ্ধির চাল চলছে।
সে বলে , এর আর এমন কি সুন্দর! আমি একটা
জায়গা চিনি ওখানে গেলে ভারি চমৎকার চমৎকার ফুল
গাছ পাবি।
মিষ্টি পরী কিনা খুব সরল। সে ভাবল দুষ্টটা তাকে
সত্যি কথাই বলছে।
তাই বলল , কোথার রে সে জায়গা ? চলনা দেখি।
দুষ্টপরীকে আর পায়কে তখন। মিষ্টিপরীকে
ফুসলিয়ে নিয়ে নামল দিঘির জলে। সাতরে সাতরে
চলে এলো দিঘির ঠিক মাঝখানে ,যেখানে চাঁদের
ছায়াটা ঝলমল করছে আর ঢেউয়ের দোলায়
দোলনায় দুলছে।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now