বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

দুই পক্ষেরই দোষ আছে

"ইসলামিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মোঃ আনিসুর (০ পয়েন্ট)

X ছেলের বাড়ি সবসময় চাইবে পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দরী মেয়েটাকে, সাথে বাবার অঢেল সম্পত্তি আবার পড়াশুনাতেও তুখোড় মেয়ে। মেয়েকে আবার কম বয়সী হতে হবে। অথচ আমাদের দেশে মাস্টার্স পাশ করতে করতে করতে আমাদের দেশে লেগে যায় গড়ে ২৫ এর উপর। পাত্র খুঁজে পেতে পেতে আরো দুই তিন বছর। ততদিনে সেই অষ্টাদশী কিশোরীর চামড়ায় টান পড়ে গিয়েছে। বাবা মা এত কিছু দেখেনি। মেয়েও দেখে নি। আগে যে ক্যারিয়ারের হাতছানি ছিল। ক্যারিয়ার দাঁড় করতে করতে সুন্দর সংসারের স্বপ্নটাই যে বসে পড়লো। তবে যারা অতি আধুনিকা মেয়ে, বিয়ে হওয়া বা না হওয়া একই। এমনিতেই "অন্যভাবে" ডিমান্ড ফুলফিল করে তাদের কথা এখানে বলছি না। . অন্যদিকে মেয়ে পক্ষ খুঁজবে গুলশান, ধানমন্ডিতে নিজের এপার্টমেন্ট; নিজের মার্সিডিজ গাড়ি, ডুবাইয়ে সেকেন্ড হোম, তিন চারটা গার্মেন্টস ফ্যাক্টরির মালিক, প্রতি বেলায় তাদের মেয়েকে হায়দ্রাবাদী বিরিয়ানী খাইয়ে ভরণ পোষণ করবে এমন ছেলে। এসব করতে করতে ছেলে বয়স পার করে ফেলে চল্লিশ। জীবনের অর্ধেকের বেশি শেষ করে এসে দেখে মাথার বেশ অনেক চুলেই পাক ধরেছে, মাথায় চুল পড়ে টাকও পড়ে যায় অনেক সময়। সেই ছেলে এতদিন কিভাবে সময় পাড় করে এসেছে। নিতান্ত সাধুগোছের না হলে তার সময় কেটেছে মাস্টারবেইট করে, পর্ণ দেখে অথবা সাহসী কোন বান্ধবীর সাথে ফ্ল্যাটে গিয়ে। এই চল্লিশ বছরে এসে তার জন্যে এমন মেয়ে আনা হচ্ছে যেও কিনা তার এই বয়সে আসতে আসতে তিন চারজন ছেলের সাথে শুয়ে এসেছে। আমি লজ্জা শরমের মাথা খেয়েই লিখছি। কারণ, এই লিখাগুলো সবার পড়া উচিত। বাবা মায়ের আগে পড়া উচিত। প্রিন্ট করে তাদের পড়তে দেওয়া উচিত, যাতে তারা এটুকু অন্তত বুঝে তাদের মাথা নিচু করে থাকা হাবলু সেজে থাকা ছেলে টা কিংবা আদুরে কথা বলা মেয়েটার চরিত্র কিভাবে বাজারে বিক্রি করছে। আপনারা বুঝুন। আপনাদেরকেই বলছি, সম্মানিত বাবা- মা। . . বিয়ে কেন করি আমরা? রিলেশানশীপ স্টেইটাস চেইঞ্জ করতে? হানিমুনে যেতে? মেয়ের বাড়ি থেকে ট্রাকবোঝাই যৌতুক আনতে? পাশের বাড়ির চৌধুরী সাহেবের ছেলের বউয়ের চেয়েও আরো ধনীর বাড়ির মেয়ে আনতে? গায়ে হলুদে দেশের সবচেয়ে স্বনামধন্য ওয়েডিং ফটোগ্রাফারের কাছে টাকা দিয়ে, ব্যান্ড পার্টি আর ডিজে ভাড়া করে ছেলে মেয়েদের নোংরামী করার সুযোগ করে দিতে? . নাকি, বিয়ের মাধ্যমে আল্লাহকে খুশি করতে? নেককার সন্তান জন্মদানের মাধ্যমে উম্মাতের সংখ্যা বাড়াতে? নিজে গুনাহ থেকে বেঁচে থাকতে? . উপরের প্রশ্নগুলোর উত্তর বের করতে বসে যান, আজই। . একটা সময় দেখতাম যে বিয়ের সময় বউ কাঁদতো। মেয়ের বাবা অশ্রুজল দিয়ে এতদিনের বড় করা কলিজার টুকরাকে বিদায় দিচ্ছেন। আজ থেকে তার সমস্ত আবদার তার স্বামীর কাছে বলবে। সেখান থেকেই মৃত্যুর পরে তার লাশ বের হবে। সেই ছেলের বাবা মা- ই তার বাবা মা ; এই সবক দিয়ে কান্না করে মেয়েকে বিদায় দিত। এখন কি তা হয়? গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে কনের উদ্দাম নাচ দেখে বুঝার উপায় নেই তার মনে কোন দু:খ আছে বলে। লজ্জা! . আমার লজ্জায় মাথা নিচু হয়ে যায়- যখন দেখি একজন ছেলে তার পুরো স্কুল, কলেজ আর ভার্সিটি লাইফের সব ফ্রেন্ডদের সামনে বউকে দেখিয়ে তৃপ্তির ঢেকুর তুলে। সিরিয়াসলি, আমি আসলেই বুঝি না- এই "বউ দেখানো" তে তারা কি মজা পায়? আসলেই তারা কি চায়? এরপর যদি তার বউ, সেই বরের কোন ফ্রেন্ড এর সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে। তার বরের বিশ্বাস ভাঙ্গে তখন সে তার স্ত্রীকেই দোষারোপ করে। . আরেহ ভাই, আপনিই তো নিজের বউকে বিয়ের দিন নিলামে তুলে খদ্দের খুঁজছিলেন। বাসায় সব ফ্রেন্ড ডেকে যেদিন দাওয়াত করেছিলেন- সেদিন বউকে সবার সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। বউয়ের হাতের চায়ের যেদিন সবাই সুনাম করেছিল সেদিন সুযোগ করে দিয়েছিলেন আপনার বউকে সবার সামনে আসার। তাদের একা ড্রইং রুমে কথা বলতে দিয়ে নিজে ভিতরের রুমে গিয়েছেন। আর মেয়েরা সচেতন থাকলে এসব হত না। স্ত্রীর যাবতীয় ছেলে ফ্রেন্ড, জাস্ট ফ্রেন্ডকে বাসায় ২৪ ঘন্টা আসা যাওয়ার অনুমতি দিয়ে রেখেছেন। এখন আপনার সাথে কেউ আপনার স্ত্রীকে শেয়ার করলে তার দায় যেমন আপনার স্ত্রীর, আপনারও স্বামী হিসেবে একই। দুইজনই অপরাধী। . আসলে সব খারাপের শুরু হয়েছে যখন আমরা বিয়েকে ইবাদাত হিসেবে না নিয়ে মানুষের খুশি করার একটা মাধ্যম হিসেবে নিয়েছি, তখন থেকে। আল্লাহ সহজ করে দিক। এই খারাপ চক্র থেকে বেরিয়ে আসতে। সম্পর্কগুলো এই দুনিয়াতে শুরু করে যাতে জান্নাতে গিয়ে শেষ হয়। আমীন। ▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৪৬ জন


এ জাতীয় গল্প

→ দুই পক্ষেরই দোষ আছে

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now