বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
-----"""দ্যা মিস্ট্রিয়াস আইল্যান্ড"""----
পর্ব-৩
পাঁচ
চারপাশে ঘাসে ভরা।ঘাসগুলোর সাইজ একেকটা ১০-১২ ফুট লম্বা।দূরে দেখা যাচ্ছে পাহাড়ের সারি।আর সে সকল পাহাড়ের বুক চিরে বেরিয়ে আসছে অজস্র সাদা পানির রাশি।
কয়েকটা ফুল গাছও দেখা যাচ্ছে।আর তাতে ফুটে রয়েছে সাধারণ ফুলের তুলনায় ১০০ গুণ বড় ফুল।ফুল গাছগুলোও বিশাল।অন্যান্য জায়গায় যেসব ফুল গাছেরর সাইজ থাকে ১-২ ফুট, সেই সব ফুল গাছের সাইজ এ মিস্ট্রিয়াস আইল্যান্ড ১০-১২ ফুটের মত লম্বা।অভিযাত্রীদের দলটা অবাক হয়ে দেখতে লাগলো এ অসামাণ্য দৃশ্য।কিছুক্ষণ পর একদল প্রজাপ্রতি অভিযাত্রী দলটার মাথার উপড় দিয়ে উড়ে চলে গেল।প্রজাপ্রতিগুলো এত বিশাল যে,দলটার মাথার উপড় দিয়ে যখন ওগুলো উড়ে গেল তখন ওদের মাথার উপড়ের আকাশটা সম্পূর্ণ ঢেকে গেল।এ দৃশ্য দেখে দাবাতো বলল,"ওয়াও! আমরাই হয়তো এ আইল্যান্ড এ ছোট হয়ে গিয়েছি!"।
দাবাতো সবে মাত্র কথা শেষ করেছে ঠিক এমন সময় শুনা গেল হাতির ডাক।ভয় পেয়ে দলটা কিছুটা পিছিয়ে এল।একটা ঝোপ নড়ে উঠলো।সবাই মনে করেছিলো ঝোপ থেকে বিশাল দেহি হাতি বেড়িয়ে আসবে।কিন্তু না!।ঝোপ থেকে বেরিয়ে এল বেড়ালের থেকে কিছুটা বড় একদল হাতি।এ দৃশ্য আরও বেশি অবাক করে দিল অভিযাত্রীদের।একটা হাতিকে কোলে তুলে নিল দাবাতো।এরপর হাতিটার শুড়ে হাত বোলাতে বোলাতে বলল,"কিংবা এ আইল্যান্ড এ আমরা দানব হয়ে গিয়েছি!"।
"তো সাইম", রিনক বলল।"কি বলে তোমার মন? প্রাণীগুলো এমন কেন?"
"জেনাতুল সুইফ্ট তার বই "গুলেভারি ট্রাভেল্স" এ বলেছে যে, মিস্ট্রিয়াস আইল্যান্ড এ ছোট প্রাণী বড় হয়ে যাবে আর বড় প্রাণী ছোট হয়ে যাবে।এটাই মিস্ট্রিয়াস আইল্যান্ডের নিয়ম।"
"আমি ওকে সাথে করে নিয়ে যেতে চাই", দাবাতো বলল। "আমি ওর সুড়ের জন্য একটা মৌজা বানিয়ে দেব"।
দাবাতোর হাত থেকে রিনক হাতিটাকে নিয়ে আদর করে বাকী হাতিদের কাছে ছেড়ে দিল।কিছুক্ষণের মধ্যে পুরো হাতির দলটা একটা ঝোপেড় ওপাশে অদৃশ্য হয়ে যায়।
"হেই গায়েস" চেচিয়ে উঠলো সাইম। "ওই দেখ দূরে ধোয়া দেখা যাচ্ছে", আঙ্গুল দিয়ে সাইম ইশারা করে দেখালো।দূরে একরাশি ধোয়া দেখা যাচ্ছে। "ওটা নিশ্চই আমার দাদার ক্যাম্প সাইট"।
"তোমার দাদার ক্যাম্প সাইট?" নিহারিকা বলল।"কি করে বুঝলে?"
"তা নয়তো কি"।সাইম বলল।
"দেখ গিয়ে জঙলিরা হয়তো আমাদের কাবাব বানিয়ে খাওয়ার জন্য আগুন ধরিয়েছে।' বলল দাবাতো।
দাবাতোর কথায় কান দিল না কেউ।
"হেই চলো আমরা যাই", পা বাড়ালো সাইম।
পেছন থেকে নিহারিকা বলল,"কোথাও যাব আমরা?"
"কেন আমার দাদার কাছে", বলল সাইম।
"মোটেও না", নিহারিকা বলল।"আমি আর বাবা সৈকতে ফিরে যাচ্ছি"।
"ওখানে গিয়ে তোমরা কি করবে?" জিজ্ঞাসা করলো রিনক।
"গিয়ে", দাবাতো বলল। "সাহায্যের জন্য এসওএস পাঠাবো কিংবা আগুণ ঝালিয়ে সিগন্যাল পাঠাবো"।
"ওখানে ২৪ ঘন্টাই বোট খেকো আর প্লেন খেকো ঝড় বয়েই চলছে", সাইম বলল।"কেউ দেখতে পাবে না তোমাদের সিগন্যাল"
"সাইম ঠিকই বলছে", যাহিদ বলল। "এখানে আমাদের এক সাথে থাকতে হবে।সাইমের দাদাকে খুজে আমরা ওনার রেডিও থেকে শহরে কল করে সাহায্য চেতে পারি"।
"ওকে", নিহারিকা বলল। "কিন্তু মনে রেখ, যদি একটুও কিছু হয় না তাহলে সম্পূর্ণ তোমার দোষ সাইম"।
কথাটা বলেই সামনে এগোতে লাগলো নিহারিকা।
"হ্যা তোমার দোষ", দাবাতোও এগিয়ে গেল।
"একদম ঠিক আছে,চলো"। যাহিদ আর রিনকও এগোতে লাগলো।
"আমি কি করলাম?", সবার শেষে সাইম চলতে লাগলো। "না সিরিয়াসলি আমি কি করলাম যে তোমরা আমাকে দোষ দিচ্ছো?"
সাইমের কথায় কান দিল না কেউ।ঘন ঝোপঝার আর ঘাসের বনেরর মাঝখান দিয়ে রাস্তা করে এগিয়ে যেতে লাগলো দলটা।প্রায় ৩০ মিনিট এভাবে ঘন ঝোপঝারের মাঝখান দিয়ে হাঁটার পর একটা খোলা জমিতে এসে পৌছালো দলটা।খোলা জমিটায় ডিমের মত দেখতে বৃত্তাকার পাথরে ভরা।পাথর গুলোর উপড় দিয়ে এগোতে লাগলো সবাই।সবার আগে রয়েছে সাইম।তারপর রয়েছে নিহারিকা।ননিহারিকার পেছনে রয়েছে রিনক।এর পেছনে যাহিদ এবং সবার পেছনে রয়েছে দাবাতো।
"অনেকতো হেটেছি", রিনক বলল। "এবার একটু জিরিয়ে নেয়া যাক"।
রিনকের সাথে একমত হলো সবাই।পাথরগুলোর উপড় বসে কিছুক্ষণ জিরিয়ে নিল দলটা।এরপর আবার চলতে শুরু করলো।যাহিদ যখনি এগোতে যাবে তখনি ওর পা টা পাথরের ভেতর ঢুকে গেল।পা টা বের করতেই দেখা গেল যাহিদের পা ভেজা।আর ওর পায়ে ডিমের মত তরল পদার্থ লেগে রয়েছে।তা দেখে দাবাতো বলে উঠলো,"পাথরগুলোর ভেতর কেমন জানি"
দাবাতোর কথায় বাকীরা দাড়িয়ে পরলো।
"একটুও নড়বে না", যাহিদ বলল। "এগুলো পাথর না!, এগুলো ডিম!"
যাহিদের কথায় সবাই ভালো করে লক্ষ করলো চারপাশটা।পুরো জায়গাটা এমন বড় বড় ডিম দিয়ে ভর্তি।একটা ডিমের ভেতর অনায়াসে তিনটে পূর্ণ বয়স্ক মানুষ ঢুকেতে পারবে এক সাথে।
"তাই নাকি!," দাবাতো বলল। "তাহলেতো এর একটা দিয়েই আমাদের সকলের ভোজ সেরে নিতে পারি"।
"না তা ঠিক হবে না", রিনক বলল।
"কেন?" জিজ্ঞাসা করলো দাবাতো।"আমিতো এখনোও খাইনি"
"হিসসসসসসসসসসসস বাবা", মুখে আঙ্গুল দিল নিহারিকা। "তা ঠিক হবে না।কারণ এত বিশাল ডিম থাকলে এত বিশাল মাও থাকতে পারে।"
"আর সেটা গিরগিটিই হলো,সাপ হলে কি সমস্যা হত?", বলল রিনক।
রিনকের কথায় ঘুরে তাকালো সবাই।দেখলো ওদের থেকে একশো মিটার দূরে একটা বিশাল গিরগিটি ঘুমিয়ে রয়েছে।গিরগিটিটা এতই বিশাল যে ইচ্ছে করলে ওটা পা দিয়ে ৫ জন মানুষকে এক সাথে পিষে ফেলতে পারে।
"ওকে", সাইম বলল। "আমাদের সাবধানে এগোতে হবে। সরিস্বৃপদের কান আর নাকের ঘ্রাণ শক্তি খুবই প্রখোর হয়"
সাইমের কথা শুনে দাবাতো নাক দিয়ে ওনার হাত শুকলেন।বোঝার চেষ্টা করলেন ওনার ঘ্রাণ শসক্তি কেমন।খুব সাবধানে এক পা এক পা করে ডিমগুলোর উপড় দিয়ে এগিয়ে চলল দলটা।
"আমরা সত্যিই ডিমের খোসার উপড় হাঁটছি", ডিমের উপড় দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে বলল দাবাতো।হঠাৎ দাবাতোর পায়ের নিচের ডিমটার খোসা মচ করে ফেটে গেল।সবাই দাড়িয়ে পরলো।
"ধীরে বাবা,ধীরে", বলল নিহারিকা।
"একদম নড়বেন না", যাহিদ বলল।
"ওকে", আস্তে করে এক পা সামনে এগুলো দাবাতো।আবারো মচ করে কিছুটা ডিম ফেটে গেল।
"আর এগোবেন না", বলল রিনক।"দাড়িয়ে থাকুন"
"হেহ,হা হা হা,আমার কিছুই হয়নি।"কথাটা বলেই সামনের পা টা শুধু তুললেন সাথে সাথে ডিমেরর খোসাটা ভেঙে দাবাতো ডিমের ভেতর পরে গেল।
"বাবা", চিৎকার দিয়ে উঠলো নিহারিকা।
নিহারিকার চিৎকার শুনে ঘুম থেকে জেগে গেল বিশাল গিরগিটিটা।এরপর এগিয়ে আসতে লাগলো ওদের দিকে।আর এদিকে ডিমের ভেতর পরে,ভেতরের তরল পদার্থে দাবাতো কোমড় পর্যন্ত ভিজে গেল।পাশে তাকিয়ে দেখলো ডিমের ভেতর গিরগিটির বাচ্চা।একটা চিৎকার দিয়ে দাবাতো ডিমটা ভেঙে ভেতর থেকে বেরিয়ে আসলো।সাইম আর রিনক গিয়ে মাটি থেকে টেনে তুলল দাবাতোকে।
"সবাই পালাও এখান থেকে", চেচিয়ে উঠলো যাহিদ। "ওটা এদিকেই আসছে! পালাও জলদি"
সবাই এক সাথে জঙ্গলের দিকে দৌড়াতে লাগলো।আর ওদের ধাওয়া করতে লাগলো বিশাল গিরগিটিটা।সবার আগে রয়েছে রিনক।তার পেছনে রয়েছে সাইম।তারপর রয়েছে যাহিদ,এর পরে রয়েছে নিহারিকা আর সবার শেষে রয়েছে দাবাতো।রিনক, যাহিদ আর সাইম একদিকে চলে গেল।আর দাবাতো ও নিহারিকা অন্য দিকে।গিরগিটিটা এখন নিহারিকা আর ওর বাবাকে তাড়া করছে।হঠাৎ লতার সাথে হোচট খেয়ে পরে গেল নিহারিকা।দাবাতো গিয়ে টেনে তুলল নিহারিকাকে।কিন্তু ততক্ষণে দেড়ি হয়ে গিয়েছে।গিরগিটিটা ওদের কাছে চলে এসেছে।এখন পালানোর কোনো রাস্তা নেই।ভয়ে চিৎকার দিল নিহারিকা।চিৎকারটা সাইম শুনতে পেয়ে কাধ থেকে ব্যাগটা খুলে নিহারিকাদের বাঁচাতে ওদের দিকে দৌড় দিল।পেছন থেকে সাইমকে রিনক অনেক ডাক দিল কিন্তু সাইম রিনকের কথা কানে নিল না।এক দৌড়ে গিয়ে গিরগিটিটার লেজের কাছে চলে গেল।তারপর একটা লাথি মারলো ওটার লেজে।সাথে সাথে জন্তুটা ঘুরে গেল সাইমের দিকে।এ সুযোগে নিহারিকা আর দাবাতো পালিয়ে দুইগোয়েন্দার কাছে চলে আসলো।আর এদিকে জন্তুটা সাইমকে তাড়া করতে লাগলো।
"এসো,পারলে আমাকে ধরো।" কথা বলেই ছুটতে লাগলো সাইম।গিরগিটিটাও ওর পেছন পেছন দৌড়াতে লাগলো।ছুটতে ছুটতে হঠাৎ একটা ভেঙে যাওয়া গাছেড় সাথে হোচট খেয়ে শূণ্যে উঠে গেল সাইম।একই সসময়ে গিরগিটিটাও লাফ দিল হা করে।সাইমকে মুখের ভেতর ঢুকিয়ে ফেলল জন্তুটা।কিন্তু ওটা মুখ বন্ধ করার আগেই সাইম লাফ দিয়ে পরে গেল মাটির উপড়।তারপর আবার ছুটতে লাগলো।ছুটতে ছুটতে বাকীদের কাছে চলে আসলো সাইম।এরপর সবাই একসাথে দৌড়াতে লাগলো।একটা পর্যায়ে গিয়ে জঙ্গল এতটাই ঘন হয়ে গেল যে সামনে আর যেতে পারল না কেউ।তাই বাধ্য হয়ে সবাই দাড়িয়ে পরলো।এদিকে জন্তুটাও ওদের কাছে চলে আসলো।
"সবাই আমার পেছনে যাও", চেচিয়ে উঠলো যাহিদ।"সাইম তোমার ব্যাগটা দাও"
যাহিদের কথা মত সবাই ওোর পেছনে গিয়ে দাড়ালো।তারপর সাইম ব্যাগটা যাহিদের কাছে দিল।ব্যাগ থেকে যাহিদ সংকেত পাঠানোর একটা মোসবাতি বের করে তাতে আগুন দড়িয়ে গিরগিটিটার সামনে গেল।পেছন থেকে সাইম বলল,"যাহিদ এটা কি করছো? সরে যাও"
"না সাইম", যাহিদ বলল। "ও ভয় পাচ্ছে"।
"ও ভয় পাচ্ছে না", চেচালো সাইম।সাইমের কথায় পেছনে ফিরে তাকালো যাহিদ।
"ওর রক্ত ঠান্ডা আর ওরা গরম ভালোবাসে"।কথাটা সবে মাত্র শেষ করেছে সাইম ঠিক তখনি জন্তুটা যাহিদের হাত থেকে মোমবাতিটা কামড় দিয়ে খেয়ে ফেলল।তারপর মুখ থেকে এক রাশি ধোয়া ছাড়লো।
"এটা ভয়ের কথা", বলল যাহিদ।
"এবার কি করবি?" জিজ্ঞাসা করলো রিনক।
"এবার আরেকটা উপায় আছে।দ্যা কুল কুকি",কথাটা বলেই যাহিদ গিরগিটিটার নাকের উপড় কষে একটা ঘুষি বসিয়ে দিল।সাথে সাথে জন্তুটা কিছুটা পিছিয়ে গেল।তারপর চোখ বড় করে ওদের দিকে তাকালো।
"মনে হচ্ছে আরও বেশি বিপদে পরে গেলাম",বলল যাহিদ।
কথাটা সবে মাত্র শেষ করেছে যাহিদ ঠিক এমন সময় রক্ত হিম করা একটা ভয়ংকর ডাক ছাড়লো গিরগিটিটা।প্রচন্ড রেগে গিয়েছে ও।বিশাল হা করে এগিয়ে আসতে লাগলো দলটার দিকে।তা দেখে নিহারিকা বলল,"আশা করি ও এমন কোনো খাবার খাবে না যেটা দূষিত।"
দাবাতো বলল,"আশা করি ও এমন কাউকে খাবে না যার প্যান্ট ভেজা"।
জন্তুটা বেশ রেগে রয়েছে ওদের উপড়।আর তাই মনের শান্তি করতে ওদের খেততে চাচ্ছে।প্রথমে নিহারিিকার দিকে হা করে জন্তুটা এগিয়ে গেল।তা দেখে সাইম গিয়ে নিহারিকার সামনে দাড়ালো।জন্তুটা আরেক পা এগিয়ে আসতেই ভয়ে চিৎকার করে উঠলো সবাই।আর তখনি ঘটে গেল অদ্ভূদ একটা ঘটনা।গিরগিটিটা যেখানে দাড়িয়ে রয়েছে ঠিক তার ডান পাশ থেকে একটা দড়িতে বাধা গাছেড় গুড়ি এসে আঘাত হানলো জন্তুটার মাথায়।রেগে গিয়ে জন্তুটা গাছেড় গুড়িটা কামড়ে ধরে ছুরে মারলো।সাথে সাথে আরেকটা গাছেড় গুড়ি জন্তুটার বাম পাশ থেকে আঘাত হানলো।গিরগিটিটা বাম পাশে ঘুরতেই একসাথে ৪ টা গাছেড় গুড়ি চারদিক থেকে আঘাত হানলো গিরগিটিটার উপড়।
"দ্রুত সবাই পালাও", চেচিয়ে বলল যাহিদ।
সবার আগে নিহারিকা দৌড়ে জন্তুটার মাথার নিচ দিয়ে চলে গেল।এরপর একে একে যাহিদ,রিনক আর সাইমও চলে গেল।দাবাতো যখন জন্তুটার পায়ের কাছে পৌছালো তখন টলছে দৈত্যাকার গিরগিটিটা।জন্তুটার পা টা উপড়ে উঠতেই তার নিচে নিয়ে দৌড় দিল দাবাতো।কিন্তু পা টা বিদ্যুৎ বেগে নেমে আসলো দাবাতোর দিকে।একেবারে শেষ মুহূর্তে দাবাতো লাফ দিয়ে পরে গেল।আর জন্তুটার বিশাল থাবা এসে পড়লো দাবাতোর থেকে মাত্র ২ মিটার দূরে।
ছয়
সাইম গিয়ে দাবাতোকে টেন তুলল।দাবাতো শরীর থেকে দূলো ঝাড়তে ঝাড়তে বলল,"ওফ,আরেকটু হলে গিরগিটিটার পায়ের জুতা হয়ে যাচ্ছিলাম।"
দাবাতোর কথা সবে মাত্র শেষ হয়েছে ঠিক এমন সময় একটা কণ্ঠ ভেসে আসলো,"হেই দাড়িয়ে থেকে দেখো না,হাত তালি দাও"
চোখের পলকে সব কটা চোখ চলে গেল একটা গাছেড় দিকে।ওখানে দাড়িয়ে রয়েছে কোমরে তলোয়াড় গোজা একজন বয়স্ক লোক।
"হেই,দাদা!" সাইম দৌড়ে লোকটার কাছে গিয়ে জড়িয়ে ধররলো। "কেমন আছো তুমি?"
"আমি ভালো সাইম।তোমার খবর কি?", বলল বয়স্ক লোকটা।
"আমি ভালো", সাইম বলল। "দাদা,ও রিনক আর ও যাহিদ।" দুইগোয়েন্দাাকে দেখিয়ে দিল সাইম। "ওরা আমাকে কোড ট্রেকিংয়ে সাহায্য করেছে।আর ও নিহারিকা আর ওর বাবা দাবাতো"। নিহারিকা আর দাবাতোকে দেখালো সাইম। "ওদের হেলিকপ্টারে করেই আমরা এসেছি।আর শোনো সবাই ইনিই আমার দাদা আলেকজেন্ডার যার কথা আমি বলেছিলাম।"
"তাহলে এ ফাঁদটা কি আপনিই বানিয়েছিলেন আলেকজেন্ডার?" জিজ্ঞাসা করলো নিহারিকা।
"হুম,আমিই বানিয়েছিলাম।প্রতিবার আমার প্রেমে ছুটে আসে আর প্রতিবারই ধোকা খায়"। বলল সাইমের দাদা।
এক মিনিট পর নড়ে উঠলো বিশাল গিরগিটিটা।ভয়ে পিছিয়ে গেল নিহারিকা আর দাবাতো।
"আমাদের উচিৎ এখান থেকে এখন সরে যাওয়া", রিনক বলল। "তাছাড়া আলেকজেন্ডার, আপনার প্রেমের ডাকে যখন এসেছে তখন হয়তো আপনাকে ও তুলেও নিয়ে যেতে পারে"।
"হা হা হা,"হাসলো সাইমের দাদা। "তুমি খুব মজার রিনক।ওকে ফলো মি গায়েস"।
সূর্যটা পশ্চিম আকাশে পুরোপুরি হেলে পরেছে।হালকা বতাস বইছে।ঘন ঝোপ আর ঘাসের বনের মাঝখান দিয়ে এগিয়ে চলছে পুরো দলটা।এভাবে ২০ মিনিট হাটার পর আলেকজেন্ডার ওদের নিয়ে একটা বিশাল বড় গাছের নিচে এসে দাড়ালো।তারপর সবাইকে নিয়ে একটা মই বেয়ে গাছটার উপড় উঠলো।গাছের উপড়ে রয়েছে কাঠ আর লতাপাতা দিয়ে তৈরি একটা বাড়ী।
"এ হলো আমার বাড়ী।" কথাটা বলেই আলেকজেন্ডার একটা দড়ি ধরে টান দিল।সাথে সাথে আলোকিত হয়ে গেল পুরো বাড়ীটা।
"ওয়াও" আলোটার দিকে এগিয়ে গেল দাবাতো।জোনাকি পোকা ব্যবহার করে এ প্রাকৃতিক লাইট তৈরি করেছে সাইমের দাদা।পোকাগুলো একটা প্লাস্টিকের সাদা বাক্সে রয়েছে।আর ওগুলোর একেকটার সাইজ ১০ ইঞ্চির মত লম্বা।আর ওগুলো থেকে সোণালি আলো বেরুচ্ছে।
"আমার আছে একটা এলিগেটর", আঙ্গুল দিয়ে কাঠ দিয়ে তৈরি একটা এলিগেটর দেখালো সাইমের দাদা।
"আমার আছে এটাচ বাথরুম", একটা বাথরুম দেখালো ওনি। "আর আমার আছে একটা ৭৫ ইঞ্চি HD টিভি!" আলেকজেন্ডার ওনার টিভিটা দেখালেন।
টিভিটা দেখে অবাক হয়ে গেল সবাই।টিভিটা হচ্ছে কপাট বিহীন একটা জানালা।আর তার ঠিক মাঝখান দিয়ে দূরের একটা আগ্নেগিরি দেখা যাচ্ছে।আগ্নেগিরি থেকে গলিত লাভা বেয়ে পরছে।
"ওয়াও দাদা", সাইম বলল। "তুমি এসব বানালে কি করে?"
"এগুলো বানিয়েছি ব্লু আই দিয়ে", বলল আলেকজেন্ডার। "অর্থ্যাৎ আমি যে বোটটায় করে এসেছি সেটা দিয়ে।ঘূর্ণি ঝড়ে আমার বোটটা ভেঙ্গে যায়।আর তারপরই আমি আবিষ্কার করি ঐতিহাসিক এ মিস্ট্রিয়াস আইল্যান্ড।"
"আপনি কি আমাদের এ রেডিও দিয়ে সিগন্যাল পাঠিয়েছিলেন?" হাতে তৈরি টেবিলে রাখা একটা রেডিও দেখালো যাহিদ।
"তুমি ঠিকই ধরেছো যাহিদ", আলেকজেন্ডার বলল। "এটা আমি একটা এলার্ম ঘড়ি,একটা স্টিলের চামচ আর ঐদিকেরর খনি থেকে উঠানো কপার দিয়ে তৈরি করেছি এ রেডিও টা।"
রেডিওটার তিকে এগিয়ে গেল নিহারিকা।এরপর বলল,"তাহলেতো এটা ব্যবহার করে আমরা পোলাওতে কল করতে পারি রেস্কিউ টিমের জন্য"
"তাতো এখন সম্ভব না ডারলিং", সাইমের দাদা বলল। "কারণ যোগাযোগের স্যাটেলাইট এখন সঠিক পজিশানে নেই।আর যতক্ষণ না স্যাটেলাইটটা সঠিক পজিশনে না আসছে ততদিন আমাদের কিছুই করার নেই।"
"সঠিক পজিশানে আসতে কত সময় লাগবে আলেকজেন্ডার?" জিজ্ঞাসা করলো দাবাতো।
"তাতো ২ সপ্তার মত দাবাতো", বলল আলেকজেন্ডার।
"কি!", চেচিয়ে উঠলো নিহারিকা। "তার মানে ২ সপ্তাহ আমাদের এ দ্বীপে আটকে থাকতে হবে?"
"আটকে থাকতে হবে?", নিহারিকার দিকে এগিয়ে আসলো সাইম।"আমারতো মনে হয় ভালোই হবে।এতে আমরা একে অপরকে চেনার সুযোগ পাব"।
"দেখ সাইম", সাইমের দিকে এগিয়ে আসলো যাহিদ। "এ দ্বীপে টিকে থাকা কোনো ছেলেমানুষি নয়।আমরা যদি দুসপ্তাহ এখানে আটকে থাকি তাহলে আমাদের মা-বাবারা চিন্তায় পরে যাবে কোনো খবর না পেয়ে।আর তাছাড়া কি কারও গিরগিটির ডিমগুলোর কথা মনে আছে?"
"তোমার যদি কয়েকটা টিকটিকিকে ভয় লাগে তাহলে এখানে না আসলেই পারতে যাহিদ।"
"ওকে", যাহিদ বলল।"তাহলে প্লেনটা কি আলেকজেন্ডার? আপনি কি আমাদের আরও ছোট খাটো আবিষ্কার দেখাবেন যেটা আমাদের এ আইল্যান্ড থেকে বেরুতে কোনো কাজে আসবে না!"
"ওটাতো পরেই দেখতে পাবে যাহিদ।" বলল সাইমের দাদা। আর তাছাড়া তোমরা এত ছোট দেখেও কেন আমি অবাক হচ্ছি না জানো? কারণ তোমরা বয়সের দিক দিয়ে ছোট হলেও মনের দিক দিয়ে তোমরা মোটেও ছোট নয়।তা না হলে এমন একটা আইল্যান্ড এ তোমরা আসতে পারতে না"
আলেকজেন্ডারের কথা শুনে রিনক গর্বে বুক ফুলে উঠলো। এরপর বলল,"আর গোয়েন্দাগিরি করতে গেলে লোকেরা বলে আমরা ছোট।আমরা পারব না"
"কি, তোমরা গোয়েন্দা?" অবাক হয়ে গেল সাইমের দাদা।
"জ্বি আমরা গোয়েন্দা,দুইগোয়েন্দা", বলল যাহিদ।
"বাহ দাড়ুণতো", বলল সাইমের দাদা।
"হ্যা দাদা ঠিকই বলেছে", সাইম বলল। "এটা মিস্ট্রিয়াস আইল্যান্ড।এখানে যে সব আজব আজব জিনিস ঘটবে তাতো বইয়েই লেখা রয়েছে।"
"বইয়ে কি লেখা রয়েছে তা আমি জানি সাইম", যাহিদ বলল। "তুমি মিস্ট্রিয়াস আইল্যান্ড খুজছিলে আর তা পেয়ে গেছো,মিশন কমপ্লিট।তুমি তোমার দাদাকে দেখতে চেয়েছো,এই যে ওনি,মিশন কমপ্লিট।কাজেই আমরা কালই এ আইল্যান্ড থেকে বেরুচ্ছি আর এটাই শেষ কথা।"
"এত তাড়াহুড়ো কিসের যাহিদ?", আলেকজেন্ডার বলল। "কাল আমি তোমাদের এমন এক জায়গায় নিয়ে যাবো যেখানে গেলে তোমাদের দম আটকে যাবে"।
"চিরদিনের মত?", জিজ্ঞাসা করলো দাবাতো।
"তা কালই দেখতে পাবে দাবাতো", সাইমের দাদা বলল। "এখন সবাই ঘুমিয়ে পড়ো।কাল একটা বিশেষ দিন।" কথাটা বলেই আলেকজেন্ডার চলে গেলেন ঘুমোতে।
"গুড নাইট মা", দাবাতোও চলে গেল ঘুমোতে।এরপর একে একে সবাই ঘুমিয় পরলো।...............
চলবে..........
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now