বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

দুই গোয়েন্দা

"গোয়েন্দা কাহিনি" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Taimol (০ পয়েন্ট)

X -----""""দ্যা মিস্ট্রিয়াস আইল্যান্ড""""----- পর্ব-৪ সাত পরদিন সকাল।সূর্যটা সবে মাত্র পূব আকাশে ওকি দিয়েছে।চারদিকে ছড়িয়ে গিয়েছে সকালের মিষ্টি সোণালি রোদ্দুর।একে একে ঘুম থেকে জেগে গেল।তারপর অবাক হয়ে দেখতে লাগলো মিস্ট্রিয়াস আইল্যান্ডের ওদের প্রথম সকাল।দূরের আগ্ণেওগিরি থেকে এখন আর জ্বলন্ত লাভা বের হচ্ছে না।ওখান থেকে এখন বের হচ্ছে রাশি রাশি কোলো ধোয়া।কিছুক্ষণ পর আলেকজেন্ডার সকলকে নিয়ে বেড়িয়ে পরলেন ঐ জায়গাটা দেখাতে যেটা দেখলে সবার দম বন্ধ হয়ে যাবে।ঘন ঘাস আর জঙ্গল তলোয়াড় দিয়ে কেটে রাস্তা করে এগিয়ে যাচ্ছে আলেকজেন্ডার।আর তার পেছনে রয়েছে রিনক।রিনকের পেছনে দাবাতো।দাবাতোর পেছনে নিহারিকা,সাইম আর সবশেষে রয়েছে যাহিদ।কিছুদূর এগোনোর পর দাবাতো,রিনক আর আলেকজেন্ডার একটু এগিয়ে গেল।আর পেছনে পরে গেল নিহারিকা,সাইম আর যাহিদ। "হেই নিহারিকা!", পেছন থেকে দৌড়ে নিহারিকার পাশে এসে হাঁটতে লাগলো সাইম। "কি খবর?" "তুমি আমাকে একটা বাজে আইল্যান্ডে এনে ফেলেছো", নিহারিকা বলল। "এটা ছাড়া বাকী সব ঠিক আছে"। "গুড", সাইম বলল। "তাহলে আমরা হয়তো কোথাও বেড়াতে যেতে পারি"। "মানে?" "না মানে আমরা দুজন হয়তো একসাথে কোনোদিন কোথাও ঘুরতে যেতে পারি"।বলল সাইম। "আমার মনে হয়", নিহারিকা বলল। "তোমার ঠাট্টা করা আর আমার ঠাট্টা করা এক কথা নয়"। "না, তা কেন হবে?", সাইম বলল। "আমি সত্যিই বলছি।আচ্ছা বাদ দাও।তুমি অবসর সময়ে কি করো?" "শামুক সংগ্রহ করি", বলল নিহারিকা। "আরে আমিওতো শামুক সংগ্রহ করি", চেচিয়ে উঠলো সাইম। "তাই নাকি?", নিহারিকা বলল। "তোমার প্রিয় শামুক কোন টা? আমারতো মেক্সিকোন স্কেল।" "তুমি বললে বিশ্বাস করবে না", সাইম বলল। "আমারও তাই" "মেক্সিকোন স্কেল কোনো শামুক না",নিহারিকা বলল। "এটা আমি এই মাত্র বানিয়েছি।এটা সুপার ম্যানের একজন সত্রুর নাম", নিহারিকার কথা শুনে দাড়িয়ে গেল সাইম।মনে মনে বলল, "এ মেয়ের মন পাওয়া অত সহজ না" এতক্ষণ ধরে যা ঘটেছে তা সবই পেছন থেকে যাহিদ দেখেছে।নিহারিকা চলে যাওয়ার পর যাহিদ সাইমের দিকে এগিয়ে আসলো। "মন জয়ের চেষ্টা করছো?", জিজ্ঞাসা করলো যাহিদ। "যাইহোক", যাহিদের পাশাপাশি হাঁটতে শুরু করলো সাইম। "শোনো", যাহিদ বলল। "পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিনতম কাজগুলোর মধ্যে একটা হলো মেয়েদের মন জয় করা",। "ওকেই", দাড়িয়ে গেল সাইম। "তাহলে তুমিই বলো আমি কি করবো!"। "মেয়েদের মন জয় করতে দুটো জিনিস সবচেয়ে বেশি ধরকার", যাহিদ বলল। প্রথমত,নিজের মনকে পাত্তা দিও না।পৃথিবীর আর সব কাজে নিজের মনের কথা শুনো কিন্তু মেয়েদের বেলায় করবে এর উল্টোটা।অর্থ্যাৎ নিজের মন যা বলে ঠিক তার উল্টোটা করবে।",লম্বা একটা দম নিল গোয়েন্দা প্রধান।এরপর আবার বলা শুরু করলো, "আর দ্বিতীয়তো হচ্ছে, তোমাকে আরও বেশি সেনসেটিভ আর কোমোল হতে হবে।সব মেয়েরা কিন্তু শুধু শক্তিশালী আর পেটানো শরীরই খুজে না।তারা খুজে এমন কাউকে যারা তাদের বুঝতে পারবে।" "ওকে বুঝলাম", বলল সাইম। "কিন্তু যাহিদ আমার এটা ভেবে অবাক লাগছে যে একজন গোয়েন্দা প্রেমের বেপারে এতসব জানলো কি করে!" "সেটা সময় হলেই জানতে পারবে", কথাটা বলেই সামনে এগোতে শুরু করলো যাহিদ।আর কোনো উপায় না পেয়ে সাইমও হাঁটতে শুরু করলো।১ ঘন্টা ধরে মিস্ট্রিয়াস আইল্যান্ডের ঘন জঙ্গল মাররিয়ে রাস্তা করে হেঁটে চলছে অভিযাত্রীদের দলটা।রাস্তা যেন আর শেষ হতেই চায় না। "আর কতদূর ?", জিজ্ঞাসা করলো দাবাতো। "আর কত দূর তাতো জানিনা", রিনক বলল। "কিন্তু এভাবে এগোতে থাকলে নিশ্চিত আপনার কোমড় ভাঙবে। "এসো,এসো, চলে এসেছি", সাইমের দাদা বলল। "আর বেশি দূর নেই",। আরও ২০ মিনিট হাঁটার পর জঙ্গল কিছুটা হালকা হতে লাগলো।আরও কিছুদূর এগোনোর পর আলেকজেন্ডার দাড়িয়ে পরলো।তারপর বাকীদের দিকে ঘুরে দাড়িয়ে বলল, "রেডি হও দাবাতো, আমি তোমার দম কেরে নেব"। কথাটা বলেই একপাশে সরে গেল সাইমের দাদা আলেকজেন্ডার।সাথে সাথে সবাই দেখতে পেল দূরে একটা বিশাল রাজ বাড়ীর মত দেখতে একটা বাড়ী দেখা যাচ্ছে।বাড়ীর চারদিকে রয়েছে চারটি উচু পিলার।আর পিলারগুলোতে দাড়িয়ে রয়েছে হাতে ঢাল, তলোয়াড়সহ একজন যোদ্দা। "ওয়াও", অবাক হয়ে গেল সবাই। "কি সুন্দর!!!", চেচিয়ে উঠলো দাবাতো। বাকীরাও হা করে তাকিয়ে রয়েছে বাড়ীটার দিকে।দম ফেলতেও যেন ভূলে গিয়েছে ওরা।আলেকজেন্ডার ঠিকই বলেছিল।সকলের দম আটকে গিয়েছে,এতটা অবাক হয়েছে ওরা। আট "হ্যালো", বাড়ীটার প্রবেশদ্বাড়ে এসে চেচিয়ে উঠলো দাবাতো। "এ বাড়ীতে হাজার বছর ধরে কেউ নেই দাবাতো", বলল আলেকজেন্ডার। বাড়ীর চত্তরে প্রবেশ করলো সবাই।বাড়ীটা হাজার বছরের পুরোনো।হাজার বছরের পুরোনো হলেও বাড়ীটা এখনও অক্ষত অবস্থায় রয়েছে।চত্তরের ঠিক মাঝখানে রয়েছে একটা বৃত্তাকার বিশাল প্লেট।প্লেটটা সর্ণের তৈরি।প্লেটটার উপড় গিয়ে দাড়ালো আলেকজেন্ডার।এরপর বলল,"কেউ কি আমাকে বলতে পারবে এ বাড়ীটা কী?।নিহারিকা তুমি জানো?" মাথা দোলালো নিহারিকা।সে জানে না। "দাবাতো তুমি জানো?" "এটা নেগোল্যান্ড!", বলল দাবাতো। "নাহ,হলো না", সাইমের দাদা বলল। "আর কেউ কী জানো এটার সম্পর্কে?" "এটা প্রসেডিয়ান", দাদার কছে এগিয়ে আসলো সাইম।এরপর প্লেটের উপড় থেকে মাটি সরাতে লাগলো।মাটি সরানোর পর তিনটি ইংরেজি শব্দ বেরিয়ে এল প্লেট থেকে। ATL বাকী শব্দগুলো একটা পাথরের নিচে রয়েছে। "যাহিদ,রিনক", সাইম বলল। "পাথরটা সরাতে পারবে?" "ইয়াহ", যাহিদ আর রিনক এগিয়ে এসে প্লেটের উপড় থেকে পাথরটাকে ঠেলে সরিয়ে ফেলল।সাথে সাথে বাকী শব্দগুলোও বেরিয়ে এল।প্লেটটার উপড় লেখা রয়েছে ATLANTICE "এটলান্টিস!", চেচিয়ে উঠলো রিনক। "আমারতো বিশ্বাসই হচ্ছে না যে আমরা প্রাচীরন বিলুপ্ত শহর এটলান্টিসে দাড়িয়ে রয়েছি।", বলল সাইম। "বার্ণ তার বইয়ে এটার সম্পর্কেই খুটিনাটি লিখেছে", আলেকজেন্ডার বলল। "কিন্তু ", যাহিদ বলল। "ঐ এটলান্টিসতো পানির নিচে ছিল!" "বার্ণ লেখার সময়েও এটা পানির তলায় ছিল",আলেকজেন্ডার বলল। "এটার একটা ১৪০ বছরেরর চক্র আছে।প্রতি ১৪০ বছর পর পর দ্বীপটা সমুদ্রের নিচে তলিয়ে যায়।আবার পূণরায় জেগে উঠে।" "কী!", চেচিয়ে উঠলো নিহারিকা। "এটা কি করে সম্ভব?" "এর নাম টেক্টোনিক রিকুভমেন্ট", সাইম বলল। "১৪০ বছর পর পর সমুদ্র আগ্ণেওগিরির মত এ দ্বীপের সবকিছুকে নিচে টেনে নেয়া আবার উগলেও দেয়।আর আজ পর্যন্ত বিঞ্চানের এত বড় চমক কেউ কোথাও দেখেনী।" "বারি অদ্ভুদ লাগছে এটা শুনতে", বলল নিহারিকা। এরপর সবাই মিলে শহরটার এদিক ওদিক ঘুরে দেখতে লাগলো। "গত ৩০ বছর ধরে আমি এ দ্বীপটাকে খুজছি", হাঁটতে হাঁটতে সাইমকে ওর দাদা বলল।"প্রথমে আমি আর তোমার বাবা এটা খুজতে চেয়েছিলাম।কিন্তু সে সৌভাগ্য আমার হয়নি।আমি তোমার বাবার মতই একজনকে চেয়েছিলাম।আর তাই আমি তোমাকে পাঠাই ঐ বার্তা।পৃথিবীর মানুষেরা তাদের নিজেদের ছাপ রাখে পানিতে,জঙ্গলে,উদ্ভিদে।আর আমরা আমাদের ছাপ রাখবো এ ঐতিহাসিক দ্বীপে।২ সপ্তাহের মধ্যে আমরা শহরে রেস্কিউ টিম চেয়ে পাঠাবো।আর তিন সপ্তাহের মধ্যে আমরা টাইম মেগাজিনের কভারে থাকবো।" "গায়েস", চেচিয়ে উঠলো যাহিদ। "একটা ঝামেলা আছে।আমি এ পানিটাকে চেক করে দেখলাম।" সামনের ছোট একটা ডোবা দেখালো যাহিদ। "এ পানিতে লবণ মিশে গিয়েছে।আর এখানকার পানিতে লবণ মিশে যাওয়ার একটাই মানে, আর তা হলো দ্বীপের নিচের গর্ত!" "তো কি হয়েছে?", জিজ্ঞাসা করলো নিহারিকা। "এর মানে দ্বীপটা ডুবতে চলেছে।" বলল যাহিদ। "একমাত্র লবণ পানিই রয়েছে তোমার মাথায় যাহিদ?", বলল আলেকজেন্ডার। "আমি সকল ধরণের নমুণা ঘেটে দেখেছি।এ দ্বীপ আগামী ১৪ বছরেও কিছু হবে না"। "তোমার হিসেব ভুল আলেকজেন্ডার", যাহিদ বলল। "তা কি করে বলছো?" "আমি এটা শিখেছি আমার একজন নেভির আংকেলের কাছ থেকে।দূর্যোগ প্রবণ এলাকায় এটা কাজে দেয়।আর এটার প্রমাণ হলো, মাটি আর দেয়ালের ফাটল গুলো।" চারপাশে থাকা ফাটল দেখালো যাহিদ।আশেপাশের মাটি আর দেয়ালগুলোতে অনেক ফাটল রয়েছে। "ওকে", নিহারিকা বলল।"তাহলে আর কত সময় আছে?" "আমার হিসেব আর এ পানির পরিমাণ অণুযায়ী ২-৩ দিন।" "কী!', চেচিয়ে উঠলো দাবাতো। "আমি কিন্তু পানির উপড় ভাসতে পারি না!" "আপনাকে ভাসতেই হবে যদি না আর কোনো রাস্তা থাকে", রিনক বলল। "এ আইল্যান্ড থেকে বেরুবার কোনো না কোনো উপায়তো আছে", বলল নিহারিকা। "আমরা নৌকা বানাতে পারি", দাবাতো বলল। "ঝড়ে ১ মিনিটও টিকবে না আমাদের বানানো নৌকা", বলল যাহিদ। "ন্যাটেলিস্ট!", চেচিয়ে উঠলো সাইম। "একটা ভেনের মেশিন দিয়ে কি করে আমরা এ দ্বীপ থেকে বেরুবো?" "তা নয়," সাইম বলল। "দ্যা ন্যাটেলিস্ট! ক্যাপ্টেন নিমোর তৈরি সাবমেরিন,১৭৭০ এ।ওটা যদি আমরা খুজে পাই তাহলে সমুদ্রেরর নিচে দিয়ে পোলাও চলে যেতে পারবো। "রাইট", আলেকজেন্ডার বলল। "বার্ণ তার বইয়ের প্রথম অধ্যায়ে বলেছেন,এটা এ দ্বীপেই লুকিয়ে রাখা হয়েছে"। "ওকে", যাহিদ বলল। "তাহলে একটা প্রশ্ন, এটা এখন কোথায়?" যাহিদের কথা শুনে আলেকজেন্ডার বলল,"এ প্রশ্নের উত্তর দিবে ক্যাপ্টেন নিমো নিজেই! হা হা হা",। চলবে.....................


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩৩ জন


এ জাতীয় গল্প

→ দুইগোয়েন্দা-
→ দুই গোয়েন্দা
→ দুই গোয়েন্দা
→ দুইগোয়েন্দা ২
→ দুই গোয়েন্দা
→ দুই গোয়েন্দা

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now