বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

দুঃস্বপ্ন

"ছোট গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X অনেক দিন পর বাড়িতে এলাম। আম্মাসহ রান্নাঘরে বসে চা খাচ্ছি। জানতে পারলাম নানা অসুস্থ। বিকেলে যেন মোটরসাইকেলটা নিয়ে তাকে একটু দেখে আসি। দুপুরে খেয়ে আর রুমে ঢুকলাম না। একটু রাস্তায় হাঁটতে লাগলাম। হাঁটতে হাঁটতে কখন যে ‘ক্যাতার মোড়’ চলে এসেছি, টেরও পাই নাই। ভাবলাম, তাহলে একটা রিকশা নিয়ে নানাবাড়ি থেকেই ঘুরে আসি। আশ্চর্য, আমি নানাবাড়ির রাস্তা আর মনে করতে পারছি না। শুধু মনে আছে বাড়িটা ফরকেরহাটে। আমি রাস্তায় একজন লোককে জিজ্ঞাসা করলাম, ফরকেরহাট যাওয়ার রাস্তা কোনদিকে? তিনি বলে দিলেন, বিল পাড় হয়ে যেতে হবে, ওই দিকে...। নানাবাড়ির রাস্তায় কি বিল পড়ে? মনে করতে পারছিলাম না। তবু ভদ্রলোকের দেখিয়ে দেওয়া পথে, আমি সেই বিলের ধারে গেলাম। দেখি, এক সৌম্য বৃদ্ধ ছোট একটা ডিঙি নৌকায় লোকজনকে পারাপার করছে। আমিও কয়েকজনের সঙ্গে সেই নৌকায় উঠলাম। এত স্বচ্ছ পানি আর সৌন্দর্যে ভরা চারদিক আমি জীবনে দেখি নাই। যাই হোক, বিল পার হলাম। সবাই ২০ টাকা দিয়ে যাচ্ছে, আর বৃদ্ধ (দাদা) আমার কাছে ২০০ টাকা দাবি করছেন। আমি বললাম, আমি কেন এত দেব? তিনি মানছিলেন না, আমাকে জোর করেই যাচ্ছিলেন। একপর্যায়ে অধৈর্য হয়ে আমি ডান হাত দিয়ে তাঁর গালে থাপ্পড় মারি। ‘ইন্না লিল্লাহ’! আমি এটা কী করলাম? জীবনে ছোট ভাই ছাড়া কারও গায়ে কি আমি হাত উঠাইছি? পরপরই আমি ডান হাত দেখা শুরু করলাম। বৃদ্ধের পায়ে পড়ে গেলাম...দাদাগো আমাকে ক্ষমা করে দেন...। কিন্তু তিনি স্বাভাবিকভাবে বললেন, ৫০০ টাকা দিয়ে দিলে করব। আমি আর কথা বাড়ালাম না, টাকাটা দিয়ে চলে এলাম। নানাবাড়ি আর গেলাম না, উল্টা রাস্তা খুঁজে নিয়ে শহরের দিকের রিকশা নিলাম। পরিচিত যার দেখা পাচ্ছি, সবাই বলতেছে...আমি এই কাজ করলাম? বাসায় ফিরে আম্মারে জড়িয়ে ধরে, ডুকরে কেঁদে সব কথা বললাম। আম্মা অভয় দিয়ে বললেন, উনি (বৃদ্ধ) যদি ক্ষমা করে দেন; বিধাতাও দিবে...। জোর করে কয়েক লোকমা খেয়ে বিছানায় গেলাম। আর ভাবছিলাম, আজ বুঝি আমার ডান হাতের কিছু একটা হবেই। একটু চোখ ধরছে, আমার বন্ধু মীতুর ফোন...কেমন আছিস রে শিশু (সে আমাকে ‘শিশু’ বলে ডাকে)? কত দিন তোর মলিন, মায়াভরা দুখি মুখটা দেখি না। তোর ভাইয়াও (মীতুর বর) খুব বলতেছে, কাল কার্জন হলে আয়, বিকালে...। আমিও অনেক দিন পর প্রিয় বন্ধুর গলার স্বর শুনতে পেয়ে হাউমাউ করে কেঁদে দিয়ে বললাম...‘মীতু, আমার তো সব শেষ। কখনো আর লিখতে পারব না। আমার ডান হাত অবস হয়ে গেছে...।’ মীতু, এবার বকা দিয়ে বলে...গাধা, বড় হইলি না, তোর গলার স্বর এমন লাগতেছে কেন, ঘুমাইছিস? চোখ খোল। দেখ, ডান কাত হয়ে শুইছিস...মাগরিবের আজান দিচ্ছে। উঠে নামাজ পড়ে ফোন দিস...। সত্যি, চোখ খুলে দেখি ঘর অন্ধকার, দূরে কোথাও মুয়াজ্জিন আজান দিচ্ছে...না, আমার ডান হাত ঠিক আছে। ডান কাত হয়ে ঘুমাইছিলাম বলে হাতটা একটু বোবায় ধরছিল...। গোলাম মাওলা সাবেক শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৬ জন


এ জাতীয় গল্প

→ এক নিশীথে-(দুঃস্বপ্ন)
→ একটি দুঃস্বপ্ন
→ দুঃস্বপ্নের সতেরো দিন
→ একটি খন্ডিত দুঃস্বপ্ন
→ স্বপ্ন দুঃস্বপ্ন
→ রিনির দুঃস্বপ্ন
→ রিনির দুঃস্বপ্ন
→ দুঃস্বপ্নে রক্তস্রোত
→ দুঃস্বপ্ন

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now