বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
রাত ১২:২৬! ছাদের এক কোনে বসে আছি। ৮ তলা ছাদ! এখান থেকে লাফ দিলে মৃত্যু নিশ্চিত।
হাতে ২ প্যাকেট স্লিপিং পিল। খেয়ে ছাদ থেকে থেকে লাফ দিব।
নিজেকে শেষ করে দিবো। ভাবছিলাম ফাঁসি দিয়ে অত্মহত্যা করবো। কিন্তু সেটা করলাম না। এতে হয়তো সবাই ভাববে ছেলেটার কি এমন কষ্ট ছিল যে অত্মহত্যা করলো। পুলিশ হয়তো মা বাবা, বন্ধু-বান্ধবদের শুধু শুধু হয়রানি করবে। আর আমি চাইনা আমার মৃত্যুর জন্য কেউ হয়রানি হোক।
তাই ছাদ থেকেই লাফ দেয়ার ডিসিশন নিলাম।এখান থেকে লাফ দিলে মৃত্যু নিশ্চিত। এখান থেকে লাফ দিয়ে মারা গেলে হয়তো সবাই ভাববে ছাদ থেকে পড়ে মারা গেছি!
.
এ জীবন আর রাখতে চাইনা। কি লাভ এ জীবন রেখে!
যে জীবনে তুমি নেই সে জীবন রাখবো না।
ভালো থেকে।সুখে থেকো আর কখনো তোমাকে বিরক্ত
করতে আসবো না।আর কারো অপেক্ষায় রাত জাগবো না।
হয়তো জীবনে আমার চেয়ে অনেক ভালো কাউকে পাবে।
মরার আগে তোমাকে একবার দেখতে ইচ্ছে করছে।তোমার সেই গালে টোল পড়া হাসিটা দেখতে ইচ্ছে করছে। তোমার মুখ থেকে ভুতুম ডাকটা শুনতে ইচ্ছে করছে।
কিন্তুু সেটা হয়তো আশাই
রয়ে যাবে………
.
থাক আর চাই না!
হয়তো তুমি বিরক্ত হবে।
প্রতিদিন ঠিকমত খাওয়াদাওয়া করো।
নিজের খেয়াল রেখো। জানি হয়তো আমার কবর হবে না।কারন যারা অত্মহত্যা করে তাদের কোনো কবর স্থানে কবর দিতে দেয়না।
যদি হয়।তবে একটি বার
এসে আমায় দেখে যেও। ভালো থাকো পৃথিবী।তোমায় মায়ার বন্ধন ছেড়ে চলে যাচ্ছি।
আমার প্রতি রাগ করোনা।
সবাইকে বলে যাচ্ছি ……
কখনো ভুল মানুষকে ভালোবেসো না!
যে তোমার ভালোবাসার
মর্যাদা দেয় না।
বিদায় …………………………
.
ট্যাবলেট গুলো প্যাক
থেকে খুলে মাত্রই হাতে নিয়েছি।
তখনি মনে পড়লো বাবা -মায়ের কথা। নিশ্চই তারা ভাবছে আমি এতো রাতে কোথায়?
কিন্তুু যাকে ভালোবাসতাম
সে কি আমার কথা ভাবছে?
না!!।সে হয়তো ঘুমোচ্ছে।না হলে অন্যকারো সাথে ফোনে কথা বলতে ব্যস্ত আছে!
তাহলে আমি কেন নিজেকে শেষ করতে যাচ্ছি???
যে বাবা মা আমাকে ছোট
থেকে পরম আদরে এতবড় করে তুললো অনেক বছর কষ্ট করে।
আর আমিই ১/২/৩ বছরের ভালোবাসার জন্যে নিজেকে শেষ করে দিচ্ছি? ??
না এটা কখনো হতে পারে না।
বাবা মায়ের জন্যে আমি কি করেছি,তাদের এতো ভালোবাসার বিনিময়ে???
কিছুই করিনি!!
তাহলে কারো জন্যে না হোক
আমার মা-বাবার জন্যে আমাকে বাঁচতেই হবে।
.
অন্তত তাদের জন্যে কিছু করার জন্যে।
অবশেষে সব গুলো ঘুমের
ঔষধ ফেলে মোবাইলটা On
করতেই, কল এলো। রিসিভ করা মাত্রই কাঁদো কাঁদো কন্ঠে,
—কিরে বাবা তুই কই??মোবাইল বন্ধছিলো কেন?
কি হইছিলো বাবা তোর। বাসায় আয় বাবা!
আম্মুর কথা শুনে চোখে পানি ধরে রাখতে পারলাম।না।
আমাকে বাঁচতেই হবে। অন্ততো মা বাবার জন্য হলেও আমাকে বাঁচতে হবে।
.
.
(ছেঁকা খেয়ে অনেকে আত্নহত্যা করে নিজেকে মজনু প্রমান করতে চায়।
কিন্তুু মারার আগে কি একটি বারও মা বাবার কথা চিন্তুা করছেন???
যে মা- বাবা ছোটবেলা থেকে আপনাকে এত বড় করছে তাদের জন্য কি করছেন এই পর্যন্ত???
আর যদি মরতেই হয় এমন কোনো ভালো কাজ করে মরেন যেনো মানুষ আপনাকে চিরজীবন মনে রাখে। আর আপনার মা বাবাও যেনো গর্ব করে বলতে পারে তাদের ছেলে মহৎ কোনো কাজ করতে গিয়ে মারা গেছে।)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now