বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

দু’হাত ভর্তি স্বর্ণের চুড়ি (4)

"সত্য ঘটনা" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান নাসরুল্লাহ (০ পয়েন্ট)

X আমি মাথা নুইয়ে কাকার পায়ের দিকে তাকিয়ে থাকায় প্রশ্নের পেছনের হাসিটা চোখে পড়লো না। বললাম, “বেয়াদপি মাফ করবেন, অবশ্যই যদি এই গরীবের ঘরে পা দিতে হুজুরের আজ্ঞা হয়” কাকা এবার চেয়ারের হাতলে ভর দিয়ে উঠে দাঁড়ালেন। আমি হাত বাড়িয়ে সাহায্য করতে গেলে হাত নাড়লেন, বললেন, “আমার লাঠিটা নিয়ে আসো তো বাবা জামাল।” আমি বারান্দা থেকে লাঠিটা আনতে আনতে তিনি আপনমনে বলতে থাকলেন, “তুমি অনেক ভালা একটা পুলা জামাল। তোমার বাপের মতন না। কত কইরা ইসমাইল্যারে কইলাম বউ-বাচ্চা রাইখ্যা ওই ভেজালের মইধ্যে যাইস না, মরবি, এইহানে থাক, আমার লগে কমিটিতে কাম কর। হালায় হুনলোই না! কয় কিনা, ‘আমার পরিবার নিয়া আপ্নেরে ভাবতে হবে না, আজম ভাই’ কত্তবড় আস্পর্ধা চিন্তা কর! আমার মুখের উপর কথা! পরদিন আইয়া দেখি তোর বাপ তোরে আর তোর মা’রে নিয়া উধাও। পরে হুনলাম তোগোরে তোর নানার কাসে দিয়া হারামজাদাটা যুদ্ধে গেসে। মা***দ” “কাকা?” কাকার হঠাৎ সম্বিত ফেরে। আমি লাঠিটা বাড়িয়ে দিতে আমার দিকে তাকিয়ে তার মুখে মিষ্টি একটা পবিত্র হাসি ফুটে উঠৈ। আহা, ওই মাসুম হাসি দেখলে শয়তানেরও দিল ঠান্ডা হয়ে যাবে, চরম শান্তিতে। কাকা আমার মাথায় একবার হাত বুলিয়ে দিলেন। আমি গদগদ স্বরে বললাম, “আসসালামুআলাইকুম, কাকা। আবার আসবেন।” কাকা পেছন না ফিরেই একটা হাত তুলে সালামের জবাব দেন। আমি আবারও মুগ্ধ হই! সময়কে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে এই মানুষটা নব্বইটা বসন্ত পার করে এসেছে, এ কী চাট্টিখানি কথা? তারপরেও দেখো কী দাপট! কী স্বচ্ছ তার চিন্তাধারা, কী দৃপ্ত তার পদক্ষেপ, কী সুন্দর শিশুর মত শুভ্র পবিত্র তার হাসিখানি! আমি তাকিয়ে দেখি, আজম কাকা তার ৯১ বছরের ভারি শরীরটা লাঠিতে ব্যালেন্স করতে করতে আঁকাবাঁকা মেঠো পথ ধরে সামনের দিকে হাঁটা দিয়েছেন। তার সাদা পাঞ্জাবিতে শেষ বিকেলের আলো পড়ে অপার্থিব এক দ্যুতি ছড়াচ্ছে। আমার চোখ ঝলসে যায়, আমি তবু তাকিয়ে থাকি। পেছনে বাড়ির ভেতর থেকে একটা চাপা কান্নার আওয়াজ ভেসে আসে। “আহ্”, বিরক্তিতে আমার ভ্রূ কুচকে উঠে।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮০ জন


এ জাতীয় গল্প

→ দু’হাত ভর্তি স্বর্ণের চুড়ি (4)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now