বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

দ্রিঘাংচু

"মজার গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান LUCKY (০ পয়েন্ট)

X দ্রিঘাংচু সুকুমার রায় এক ছিল রাজা। রাজা একদিন সভায় বসেছেন। চারিদিকে তার পাত্রমিত্র আমির ওমরা সিপাই শান্ত্রী গিজগিজ করছে। এমন সময় কোথা থেকে একটা দাঁড়কাক উড়ে এসে সিংহাসনের ডান দিকে উচু থামের উপর বসে ঘাড় নিচু করে চারদিকে তাকিয়ে, অত্যন্ত গগম্ভীর গলায় বলল, কঃ। কোনো কথা বার্তা নেই হঠাৎ এরকম গম্ভীর শব্দ সভাসুদ্ধ সকলের চোখ একসঙ্গে গোল হয়ে উঠল। সকলে একসঙ্গে হা করে রইল। মন্ত্রী একতাড়া কাগজ নিয়ে কী যেন বোঝাতে যাচ্ছিলেন, হঠাৎ বক্তৃতার খেই হারিয়ে তিনি বোকার মতো তাকিয়ে রইলেন। দরজার কাছে একটা ছেলে বসেছিল, সে হঠাৎ ভ্যা করে কেঁদে উঠল। যে লোকটা চামর দোলাচ্ছিল, চামর তার হাত থেকে ঠাই করে রাজার মাথার উপর পড়ে গেল। রাজামশাইয়ের চোখ ঘুমে ঢুলে এসেছিল, তিনি হঠাৎ জেগে উঠেই বললেন, জল্লাদ ডাকো। বলতেই জল্লাদ এসে হাজির। রাজামশাই বললেন, মাথা কেটে ফেল। সর্বনাশ! কার মাথা কাটতে বলে, সকলে ভয়ে ভিয়ে নিজের মাথার হাত বুলাতে লাগল। রাজামশাই খানিকক্ষন ঝিমিয়ে আবার তাকিয়ে বললেন, কই মাথা কই? জল্লাদ বেচারা হাতজোড় করে বলল, আজ্ঞে মহারাজ, কার মাথা? রাজ বললেন বেটা গোমুখ্যু কোথাকার, কার মাথা কিরে! যে ঐরকম বিটকেল শব্দ করেছিল,তার মাথা। শুনে সভাসুদ্ধ সকলে হাফ ছেড়ে এমন ভ্যানক নিশ্বাস ফেলল যে, কাকটা হঠাৎ ধড়ফড় করে সেখান থেকে উড়ে পালাল। তখনই মন্ত্রীমশাই রাজাকে বুঝিয়ে বললেন যে, ঐ কাকটাই ওরকম আওয়াজ করেছিল! তখন রাজামশাই বললেন, ডাকো পন্ডিতসভায় যত পন্ডিত সব সভায় এসে হাজির। তখন রাজামশাই পন্ডিতদের জিজ্ঞাসা করলেন, এই যে একটা কাক এসে আমার সভায় মধ্যে আওয়াজ করে গোল বাধিয়ে গেল, এর কারণ কিছু বলতে পার? কাক আওয়াজ করল তার আবার কারণ কী! পন্ডিতেরা সকলে মুখ চাওয়াচাওয়ি করতে লাগলেন। একজন ছোকরামতো পন্ডিত খানিকক্ষণ কাচুমাচু করে জবাব দিল, আজ্ঞে বোধহয় তার খিদে পেয়েছিল। রাজামশাই বললেন, তোমার যেমন বুদ্ধি! খিদে পেয়েছিল, তা সভার মধ্যে আসতে যাবে কেন? এখানে কি মুড়িমুড়কি বিক্রি হয়। মন্ত্রী,, ওকে বিদায় করে দাও। সকলে মহাতম্বির করে বললে, হা হা ,ঠিক ঠিক, ওকে বিদায় করুন। আর একজন পন্ডিত বললেন, মহারাজ, কার্য থাকলেই তার কারণ আছে। বৃষ্টি হলেই বুঝবে মেঘ আছে, আলো দেখলেই বুঝবে প্রদীপ আছে, সুতারাং বায়সপক্ষীর কন্ঠনির্গত এই অপরুপ ধ্বনিরুপ কার্যের নিশ্চয়ই কোনো কারণ থাকবে, এতে আশ্চর্য কী? রাজা বললেন, আশ্চর্য এই যে, তোমার মতো মোটাবুদ্ধি লোকেও এইরকম আবোলতাবোল বকে মোটা মোটা মাইনে পাও। মন্ত্রী, আজ থেকে এর মাইনে বন্ধ কর। অমনি সকলে হা হা করে উঠলেন, মাইনে বন্ধ কর। দুই পন্ডিতের এরকম দুর্দশা দেখে সবাই কেমন ঘাবড়ে গেল। মিনিটের পর মিনিট যায় কেউ আর কথা কয় না। তখন রাজামশাই দস্তুরমতো খেপে গেলেন। তিনি হুকুম দিলেন, এর জবাব না পাওয়া পর্যযন্ত কেউ যেন সভা ছেড়ে না ওঠে। রাজার হুকুম - সকলে আড়ষ্ট হয়ে বসে রইল। ভাবতে ভাবতে কেউ কেউ ঘেমে ঝোল হয়ে গেল। বসে বসে সকলের খিদে লাগল। রাজামশাইয়ের খিদেও নেই,, বিশ্রামও নেই। তিনি বসে বসে ঝিমুতে লাগলেন। সকলে যখন হতাশ হয়ে এসেছে, আর মনে মনে পন্ডিতদের মুর্খ অপদার্থ নিষ্কর্মা বলে গালি দিচ্ছে, এমন সময় রোগা শুটকো মতো একজন লোক হঠাৎ বিকট চিৎকার করে সভার মাঝখানে পড়ে গেল। রাজা মন্ত্রী পাত্র মিত্র উজির নাজির সবাই ব্যস্ত হয়ে বলল, কি হলো, কি হলো? তখন অনেক জলের ছিটা পাখার বাতাস আর বলা কোওয়ার পর লোকটা কাঁপতে কাঁপতে উঠে বলল, মহারাজ,, সেটা কি দাঁড়কাক ছিল? সকলে বলল, হা-হা-হা, কেন বল দেখি? লোকটা আবার বলল, মহারাজ, সে কি ঐ মাথার উপর দক্ষিণদিকে মুখ করে বসেছিল আর তার মাথা নিচু ছিল,আর চোখ পাকিয়েছিল,আর কঃ করে শব্দ করেছিল? সকলে ভয়ানক ব্যস্ত হয়ে বললে, হা,হা ঠিক ঐরকম হয়েছিল। তাই শুনে লোকটা আবার ভেউ ভেউ করে কাঁদতে লাগল, আর বলতে লাগল, হায় হায়, সেই সময় কেউ আমায় খবর দিলে না কেন? রাজা বললেন, তাই তো একে তোমরা খবর দাওনি কেন? লোকটাকে কেউই চেনে না, তবুও সে কথা বলতে সাহস পেল না, সবাই বললে হ্যাঁ, ওকে একটা খবর দেওয়া উচিত ছিল। যদিও কেন তাকে খবর দেবে,আর কি খবর দেবে এ কথা কেউই বুঝতে পারল না। লোকটা তখন খুব খানিকটা কেদে তারপর মুখ বিকৃত করে বলল, দ্রিঘাংচু। সে আবার কি! সবাই ভাবল, লোকটা খেপে গেছে। মন্ত্রী বললেন, দ্রিঘাঞ্চু কি হে? লোকটা বলল, দ্রিঘাঞ্চু না দ্রিঘাংচু। কেউ কিছু বুঝতে পারল না। তবু মাথা সবাই মাথা নেড়ে বলল, ও! তখন রাজামশাই জিজ্ঞাসা করলেন, সে কীরকম হে! লোকটা বলল, আজ্ঞে আমি মূর্খ মানুষ, আমি কি ওত খবর রাখি, ছেলেবেলা থেকে দ্রিঘাংচু শুনে আসছি,তাই জানি দ্রিঘাংচু যখন রাজার সামনে আসে, তখন তাকে দেখতে দেখায় দাঁড়কাকের মতো। সে যখন সভায় ঢোকে,৷ তখন সিংহাসনের ডানদিকের খামের উপর বসে মাথা নিচু করে দক্ষিণ দিকে মুখ করে, চোখ পাকিয়ে কঃ বলে শব্দ করে। আমি তো আর কিছু জানি না।। তবে পন্ডিতেরা যদি জানেন। পন্ডিতেরা ব্যস্ত হয়ে বললেন, না, না, ওর সম্বন্ধে আর কিছু জানা যায়নি। রাজা বললেন, তোমায় খবর দেয় নি বকে কাদছিলে, তুমি থাকলে করতে কী? লোকটা বলল, মহারাজ,সে কথা বললে লোকে যদি বিশ্বাস না করে, তাই বলতে সাহস হয় না। রাজা বললেন, যে বিশ্বাস করবে না তার মাথা কাটা যাবে। তুমি নির্ভয়ে বলে ফেল! সভাসুদ্ধ লোক হা হা করে সায় দিয়ে উঠল। লোকটা তখন বলল, মহারাজ আমি একটা মন্ত্র জানি, আমি যুগজন্ম ধরে বসে আছি দ্রিঘাংচুর দেখা পেলে সেই মন্তে যদি তাকে বলতে পারতাম তাহলে কী যে আশ্চর্য কান্ড হত তা কেউ জানে না। কারণ, কথা কোনো বইয়ে লেখেনি। হায় রে হায়, এমন একটা সুযোগ আর কি পাব? রাজা বললেন, মন্ত্রটা আমায় বল তো। লোকটা বলল সর্বনাশ! সে মন্ত্র দ্রিঘাংচুর সামনে ছাড়া কারুর সামনে উচ্চারণ করতে নেই। আনি একটা কাগজে লিখে দিচ্ছু আপনি দুদিন উপোস করে তিনদিনের দিন সকালে উঠে সেটা পড়ে দেখবেন। আপনার সামনে দাঁড়কাক দেখলে, তাকে শোনাতে পারেন, কিন্তু খবরদার আর কেউ যেন তা না শোনে কারণ দাঁড়কাক যদি দ্রিঘাংচু না হয়, আর তাকে মন্ত্র বলতে গিয়ে অন্য লোকে শুনে ফেলে, তাহলেই সর্বনাশ! তখন সভা ভঙ্গ হলো। সভার সকলে এতক্ষণ হা করে শুনছিল, তারা হাফ ছেড়ে বাঁচল। সকলে দ্রিঘাংচুর কথা মন্ত্রের কথা আর আশ্চর্যের ফল পাওয়ার কথা বলাবলি করতে করতে বাড়ি চলে গেক। তারপর রাজামশাই দুদিন উপোস করে তিনদিনের দিন সকালবেলা সেই লোকটার কাগজখানা খুলে পড়লেন। তাতে লেখা ছিল- হলদে সবুজ ওরাং ওটাং ইট পাটকেল চিৎ পটাং মুস্কিল আসান উড়ে মালি ধর্মতলা কর্মখালি। রাজামশাই গম্ভীরভাবে এটা মুখস্থ করে নিলেন। তারপর থেকে তিনি দাঁড়কাক দেখলেই লোকজন সব তাড়িয়ে তাকে মন্ত্র শোনাতেন, আর চেয়ে দেখতেন কোনোরকম আশ্চর্য কিছু হয় কি না! কিন্তু আজ পর্যন্ত তিনি দ্রিঘাংচুর কোনো সন্ধান পাননি।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৮৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ দ্রিঘাংচু

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now