বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
৮.
এবার ফিরে আসা যাক ২৫ শে মার্চ, রাত ১১ টায়।
অলক বাইরে গিয়ে গিয়ে শেষ আয়নাটা বসিয়ে আসলো। ড্রাঙ্কেন মুন তার আপন লালিমায় গৌরবের সাথে আলো বিচ্ছুরিত করছে। কেমন যেন একটা মাতাল করা জোছনা। হয়তো এজন্যই একে ড্রাঙ্কেন মুন বলে।
প্রথমে বোঝা যায়নি। কিন্তু পরে আমরা দেখলাম একটা খুব পাতলা আলোর ধারা আয়নাগুলোয় প্রতিফলিত হয়ে কি-হোলের উপর দিয়ে যাচ্ছে। আমি চাবিটা নিয়ে কি-হোলের কাছে গিয়ে ওদের দিকে তাকালাম। ওরা শ্রাগ করে আমাকে সায় দিল। আর আমি চাবিটা কি-হোলে ঢুকিয়ে দিলাম। অপেক্ষা করলাম, কিন্তু কিছুই হলো না। একটা তীব্র হতাশা আমাদের গ্রাস করলো। আমি যখন ঘুরে ফিরে যেতে শুরু করেছি, তখন নিমা চিৎকার দিয়ে উঠলো। আমি আবার পাথরের ব্লকটার দিকে তাকাতেই দেখলাম মাঝখান থেকে একটা কালো গহ্বর দেখতে পেলাম।
-স্লাইডিং ডোর!
সান্দ্রা বিস্ময় সামলাতে না পেরে বলল।
আমি কিছু না বলে ব্যাকপ্যাক থেকে একটা টর্চ বের জ্বেলে নিয়ে গর্তে উকি দিলাম। একটা সিড়ি দেখা যাচ্ছে।
খানিক্ষণ পর,
রাত ১১.৩০ টা। আমরা চারজন আমাদের ল্যাবের টেবিলটা ঘিরে দাঁড়িয়ে আছি। আমি, নিমা, অলক আর সান্দ্রা মিলে আমাদের সব গ্যাজেটস আর প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো শেষবারের মতো চেক করে দেখছি। একটু ভুল হলে অনেক বড় ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা আছে। এতদিনের গবেষণা কিছুতেই ভণ্ডুল হতে দেয়া যাবে না। আমি সবকিছু দেখে ওদের দিকে তাকালাম। সবার চোখেই উত্তেজনার স্পষ্ট ছাপ। শুধু সান্দ্রাকে একটু চিন্তিত দেখাচ্ছে। আমি হাত দিয়ে টেবিলে টোকা মেরে সবার দৃষ্টি আকর্ষন করে বললাম…
-তোরা এখনও শিওর যে এটা করতে চাচ্ছিস?
অলক মাথা নেড়ে বলল
-হুম।
-এতে কিন্তু আমাদের ফিরে না আসার চান্স খুব বেশি।
-আমরা জানি। … সান্দ্রার দৃঢ় উত্তর।
-আচ্ছা,তাহলে আমরা এখন শুরু করতে পারি।
আমরা ইনফ্রারেড গগলস পড়ে নিলাম। অতঃপর আমি হাতে স্বর্ণ-ফলকটা নিয়ে সামনে এগোলাম। চাবিটা আগেই খুলে নিয়েছিলাম, যদি কোনো কাজে লাগে এই ভেবে। আমরা চারজনে সিড়ি বেয়ে নামতে শুরু করলাম নিচের দিকে। জানি না নিচে কোন বিস্ময় অপেক্ষা করছে আমাদের জন্য। আদৌ কোনো বিস্ময় আছে কিনা তা কে বলতে পারে!
৯.
সিড়ি দিয়ে নামার পথটা অনেক সরু। আমাদের সাইজের মানুষের নামতে সমস্যা নেই, কিন্তু মোটা মানুষ হলে আঁটকে যেত। আর অনেকটা ভ্যাপসা গন্ধ। আমি সবার আগেই নামতেছি। ইনফ্রারেড চশমায় চারপাশটা অনেকটা ভুতুরে দেখাচ্ছে। সবার প্রথম আমিই শব্দটা শুনতে পেলাম। একটা ফোস ফোস জাতীয় আওয়াজ। এতক্ষণ সোজা চলতেছিলাম। হঠাৎ একটা মোড় আসলো সামনে। আমি কিছুই বুঝতে পারিনি। আগের মতই চলতেছিলাম কিন্তু মোড়টা ঘুরতেই হঠাৎ একটা খাঁদ হাজির আর আমিও ততক্ষণে খাদের উপর শূণ্যে পা দিয়ে ফেলেছি!
নিচে পড়ে যেতে শুরু করলাম। মাথার ভিতরটা ফাঁকা হয়ে যেতে লাগলো। কিন্তু পিছন থেকে একটা টান অনুভব করলাম। কয়েক মুহূর্ত পরে আরো জোরে টান আর আমি আবার মাটির উপর নিজেকে আবিষ্কার করলাম।
-আরেকটু হলেই তো গেছিলি!
হাঁপাতে হাঁপাতে অলক বলল।
আমি কোনো কথা বলতে পারলাম না। নীরবে কৃতজ্ঞতা জানালাম সবাইকে। খাঁদের নিচের দিকে তাকাতেই ঘাড়ের লোম দাঁড়িয়ে গেল। খাঁদের নিচে বিশাল বিশাল এ্যানাকন্ডা সাপে ভরা। একেকটার সাইজ হবে প্রায় ১৫-২০ ফুট। এটা একটা বুবি ট্রাপ। এরা এখানে কিভাবে বেঁচে আছে কোনো ধারণাই নেই আমাদের।
কিভাবে খাদটা পেরোনো যায় সে নিয়ে সবাই ভাবতে শুরু করলাম। নিমা একটা কি-হোল পেল বাম পাশের দেয়ালে। এবার চাবিটা ঢুকিয়ে হালকা ঘুড়াতেই দেয়ালের ভিতর দিয়ে একটা দরজা খুলে যায়। আর আমাদের পায়ের সমতল মাটি একদিকে কাঁত হয়ে পড়ে। আমরা সবাই পিছলিয়ে যাই। আর চিৎকার দিয়ে পিছলিয়ে দরজা পার করে আমরা সবাই একসাথে আরো নিচে নামতে থাকি।
মনে হল অনন্তকাল ধরে নিচে নামছি পিছলিয়ে। যে জিনিসের উপর উপর দিয়ে পিছলিয়ে পড়ছি সেটাকে আর মাটি বা পাথর বলে মনে হচ্ছে না। পিচ্ছিল কোন ধাতব জিনিসের তৈরি বাচ্চাদের স্লাইডিং খেলার যন্ত্রটার মতো। ইনফ্রারেড গ্লাস পড়ে থাকার কারণে আর তীব্র বেগে নিচে নামার জন্য বুঝতে পারছি না জিনিসটা কি। প্রথমে সবাই চিৎকার করলেও এখন কানের পাশের বাতাসের শা-শা শব্দ শুনতে পাচ্ছি। আজব ব্যাপার এতো নিচেও বাতাস আছে আর আমি নিঃশ্বাস নিতেও পারছি! বাতাসের কোনো অভাব নেই। একসময় পিছলানো জায়গা থেকে থেকে সজোরে ছিটকে বের হয়ে আসলাম আর কোনো শক্ত কিছুতে ধাক্কা খেয়ে আমার চারপাশ অন্ধকার হয়ে গেল।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now