বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

দোলনা

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Fahim (০ পয়েন্ট)

X ... মার্জানা আমাদের বাসায় বেড়াতে এসেছিলো। বললো আপু আজ আপনার সাথে শোবো আর সারারাত গল্প করবো। ওর ইচ্ছা মাফিক আমরা গল্প শুরু করলাম। বিভিন্ন গল্পের মাঝে হঠাৎ ভূতের গল্পও যোগ হলো। ও বলে উঠল, আপু ভূত দেখেছেন কখনো? আমি বললাম না তবে অনুভব করেছি। প্রায় হেটে কাছে আসতো আমার কাছে, তবে হাটার স্পষ্ট শব্দ পেলেও কাউকে দেখতে পেতাম না তাই ওনারাই হাটছেন বলে অনুভূত হতো। আমার কথা শুনে মার্জানা বললো, আপু আমি ভূত দেখেছি। তো আমি বললাম, কোথায় দেখেছো বলো। এতো রাতে বলবে কি বলবেনা ভাবতে লাগলো। আমি অভয় দিয়ে বললাম বলো সমস্যা নেই। মার্জানা বলতে শুরু করলো --- ... আমরা তখন পাকশীতে বেড়াতে গিয়েছিলাম। অনেক সুন্দর একটি জায়গা। ওখানে একটা রিসোর্ট আছে যেটা এত সুন্দর যে ছেড়ে আসতে মোটেও ইচ্ছে হচ্ছিলো না। যে ক'দিন ছিলাম খুব মজা করেছি। তো যেদিন ফিরবো সেদিন পাকশী থেকে খুলনার রাতের ট্রেনে রওনা দিলাম। রাত দশটায় ট্রেন ছাড়লো। গল্পগুজব করতে করতে রাত বারোটা বেজে গেলো। সবাই হালকা কিছু খেয়ে বেশ আয়েশ করেই শুয়ে পড়লো। আমাদের কেবিনে আমি আর রুম্মান ( খালাতো বোন) জেগে জেগে নৈশরুপ উপভোগ করছিলাম সাথে টুকিটাকি গল্প। হঠাৎ ট্রেনের গতি অল্প অল্প করে কমতে লাগলো আমরা ভাবলাম সামনে হয়তো কোন স্টেশন আছে সেজন্য গতি কমে আসছে। আমি জালানা দিয়ে বাহিরে তাকিয়ে আছে আর রুম্মানের গল্প শুনছি। এমন সময় আমি দেখতে পেলাম একটা মেয়ে মোটা একটা গাছের সাথে বাধা দোলনায় দোল খাচ্ছে। জোৎস্না রাত বলে গাছটি দেখা যাচ্ছিলো কিন্তু কি গাছ সেটা বোঝা যাচ্ছিলো না। যেহেতু ট্রেন চলছিলো তাই মেয়েটির চেহারা ভালোভাবে দেখতে পাইনি তবে মেয়েটির বয়স দশ কি বারো বছর বলেই মনে হলো এবং মেয়েটির পরনে ছিলো ধবধবে সাদা ফ্রক। আমি রুম্মান কে জিজ্ঞাসা করলাম কিছু দেখেছে কিনা ও বললো না ও কিছুই দেখেনি। আমি যখন বললাম একটি মেয়েকে দোল খেতে দেখেছি ও তখন হেসেই অস্থির, এতো রাতে দোল খাবে কে তাও এই নির্জন এলাকায়!! ট্রেনের গতি অনেক ধীর হয়ে এলো। বেশ কিছুটা আসার পর আবারো সেই একই দৃশ্য দেখতে পেলাম। একটি বেশ মোটাসোটা গাছের ডালে বাধা দোলনায় একটি দশ বারো বছরের মেয়ে দোল খাচ্ছে। ব্যাপার টা অস্বাভাবিক। এতো রাতে একটা বাচ্চা মেয়ে এভাবে নির্জন জায়গায় দোল খাচ্ছে আর আশেপাশে কেউ নেই। এবার রুম্মানও দেখতে পেলো। আমরা জানালার আরো কাছে গিয়ে দেখার চেষ্টা করতে লাগলাম, যা দেখছি সেটা সঠিক না ভুল! হঠাৎ মেয়েটি মাথা ঘুরিয়ে আমাদের দিকে তাকালো। উফফ কি ভয়ংকর!! মেয়েটার মুখ ছিলো একদম ফ্যাকাসে যেন এক বিন্দুও রক্ত আর অবশিষ্ট ছিলো না। চোখ দুটি যেন নিকশ কালো গর্ত। আর ঠোটে ফুটে ছিলো অবজ্ঞার হাসি। আমরা এতোটাই ভয় পেয়েছিলাম যে চিৎকার দিয়ে জানালা থেকে ছিটকে সরে গিয়েছিলাম। আমাদের চিৎকারে সবাই জেগে উঠলো, তখনো আমরা কাঁপছি। কিছুক্ষণ পর গার্ড এলো, সব শুনে বললো এই জায়গাটা ভালো না। অনেকেই অনেক কিছু দেখে তবে কারো তেমন কোন ক্ষতির কথা শুনিনি। আর মাঝে মাঝে এখানেই এসে ট্রেন কেন জানি স্লো হয়ে যায়। তখন আমি খেয়াল করলাম ট্রেন আবার সজোরে ছুটছে। তারমানে সামনে কোন স্টেশন ছিলো না। কোন একটা কারনে ট্রেনটি ঠিক ওইখানে স্লো হয়েছিলো। আপু ঐটা যে মানুষ ছিলোনা এটা নিশ্চিত। কারন একটি দশ বারো বছরের মেয়ে নির্জন মাঠের এক গাছে বাধা দোলনায় এতো রাতে দোল খেতে আসবে এটা ভাবাই যায় না। আর মেয়েটিকে দুবার দেখেছি তাও আবার কিছুটা দুরুত্বের ব্যবধান এ। আর একটি মানুষের মুখ এতোটা ভয়ংকর হতেই পারেনা। তারমানে আমি ভুতই দেখেছি। এরপর আর আমরা জানালার পাশে বসিনি। আর বাকি রাতটুকুতে একটি বারের জন্যও জানালার দিকে তাকাইনি। শুধুই মনে হচ্ছিলো যদি জানালার দিকে তাকাই তাহলে হয়তো আবারো ওটাকে দেখতে পাবো। সেদিনের মতো ভয় আমি আমার জীবনে আর কোনদিন পাইনি....


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩১ জন


এ জাতীয় গল্প

→ °দোলনা°
→ দোলনা

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now