বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

"দৈর্ঘ্য"

"শিক্ষণীয় গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Merina Afrin Mou (০ পয়েন্ট)

X আমাদের নিচের অ্যাপার্টমেন্টে বেশ কিছুদিন হল এক ফ্যামিলি এসেছে। এরা নিম্নমধ্যবিত্ত কিংবা মধ্যবিত্ত প্রকৃতির। এদের পোশাক, চাল-চলনই তাই বলে দিচ্ছিল। . . কিন্তু আমি ধনী বাবার মেয়ে। আমাদের ফ্ল্যাটটাও ওদের থেকে দামি। এইটা নিয়ে সবসময় আমার মনে একরকম অহংকার জন্মাত। . আমি কেমন কেমন করে ওদের দিকে তাকাতাম। . . ওই ফ্যামিলির বড় ছেলেটা আমার সাথেই এক স্কুলে পড়ে। আমি গাড়ি করে স্কুলে যাই আর ও হেঁটে হেঁটে। - আমি যখন ওর পাস কেটে যেতাম গাড়ির গ্লাসটা নামিয়ে ওর দিকে তাকাতাম। আমার তাকানোর মধ্যে একরকম অহংকারী ভাব থাকত আর সে সেটা হয়ত বুঝতে পারত। তাই সে মাথা নিচু করে ফেলত। . . ওদের ফ্রিজও নেই। তাই ওর মা আমাদের বাসায় একদিন মাছ রাখতে এসেছিল। মা রেখেওছিল কিন্তু আমি সেই মাছ ফ্রিজ থেকে বের করে ময়লা রাখার বাস্কেটে ফেলে দিয়েছিলাম। - - ভাবতাম ওদের মাছ পচা আর পচা মাছ ফ্রিজে রাখলে ফ্রিজটাও গন্ধ হয়ে যাবে। . . ওদের সবকিছুতেই কেমন একপ্রকার গন্ধ লাগত আমার। আর গন্ধটা আমার খারাপই লাগত যদিও আদৌ তা ছিল না। সবই যে ছিল আমার অহংকারের প্রতীকী। - - যেমন ছেলেটার ছোট বোন আমার সাথে একদিন খেলতে এসেছিল আমি ওর গা থেকে গন্ধ বের হচ্ছে এই বলে খেলিনি! . . আমি কখনো ওদের সাথে কথা বলতেই চাইতাম না। খুব অহংকার যে আমার। আমার কোটিপতি বাবার কোটি টাকার অহংকার আমার আছে। . . কিন্তু........ একদিন রাতে মা হঠাত অসুস্থ হয়ে গেল। একেবারে অজ্ঞান হওয়ার মত অবস্থা। অজ্ঞানই হয়ে গিয়েছিল। বাবা কাজে ব্যস্ত। - কোটি টাকা আয়ের জন্য ব্যস্ত তাই তাকে ফোন করাও সে সময় নিষেধ ছিল। কি করব বুঝতে পারছিলাম না! . . হঠাত সেই নিচের ফ্ল্যাটের অ্যান্টিটা এল যাদের সাথে আমার কথা বলতে ঘৃণা হত, যাদের মাছ আমি ডাস্টবিনে ফেলে দিয়েছিলাম সেই তারাই এলো। - - আমি তখন কিছু বলতে পারলাম না। কিন্তু অ্যান্টি ঠিকই আমার কাছে ড্রাইভারের নাম্বার নিয়ে ড্রাইভারকে ডেকে গাড়ি বের করে মাকে নিয়ে হাসপাতালে গেল। - আমিও গাড়িতে সেদিন সেই মহিলার পাশে বসেছিলাম যে মহিলাকে আমি আগে ঘৃণা করতাম। বাসায় আসলে সোফায় বসতে দিতাম না সোফা নোংরা হবে ভেবে, তার গায়ের গন্ধ লেগে যাবে ভেবে! - কিন্তু সেদিন সেই মহিলারই গা ঘেঁষে গাড়িতে বসেছিলাম। তার কোলে মাথা রেখে হু হু করে কেঁদেছিলাম। কিন্তু আমি যে বিশ্রী গন্ধের কথা বলছিলাম সেটা সত্যিই আমার বানোয়াট ছিল। আসলে আমার টাকার দেমাক ছিল। . . সেদিন আমি তার কোলে মাথে রেখে বুঝেছিলাম। তার গা থেকে বিশ্রী গন্ধ না, মায়ের গন্ধ পেয়েছিলাম। সেই মায়ের গন্ধে নাকটা আমার আরো তার গায়ে ডুবে দিয়েছিলাম। - - আমি সেদিন বুঝতে পারলাম মায়ের গন্ধ সব মায়েরই এক। এটা টাকা-পয়সা, কাপড়-চোপড়ের উপর ডিপেন্ড করে না। . . আমার মা সেই অ্যান্টির থেকে অনেক দামি শাড়ি পড়ে তাই ভাবতাম অ্যান্টির কাপড় ফুটপাতের তাই অ্যান্টির গা থেকে খারাপ গন্ধ বের হবে। কিন্তু অ্যান্টিও তো মা। তাই মায়ের গন্ধই পেয়েছিলাম। . . আমি তাদের মাছ ফেলে দিয়েছিলাম, তাদের সাথে কথা বলতে ঘৃণা করতাম তাই আমার মা অসুস্থ যেদিন হল সেদিন তো আমাদের বাসায় না আসলেও পারত কিন্তু তাও এসেছিল, আমায় তার কোলে মাথা রেখে তার কাপড়টা আমার চোখের জলে ভিজাতে দিয়েছিল। - - এরই নাম মনের দৈর্ঘ্য, যেটা একজন মানুষের মনুষ্যত্ব প্রকাশে যথেষ্ট। . কিন্তু মনের দৈর্ঘ্য না থেকে টাকা দৈর্ঘ্যটা বেশ লম্বা হলেও মনুষ্যত্ব প্রকাশিত হয়না যেটা আমি আমার দ্বারা বুঝেছিলাম। আসল মানুষের পরিচয় তার মনের মাঝেই নিহিত


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১১৯ জন


এ জাতীয় গল্প

→ "দৈর্ঘ্য"

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now