বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

দ্য সার্কেল (Part-2)

"সাইন্স ফিকশন" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান ☠Sajib Babu⚠ (০ পয়েন্ট)

X অদৃশ্য এই চাপ এতই বেশি যে আমি চোখ খুলেও তাকাতে পারছিনা। যান্ত্রিক কন্ঠ আবার বলল, 'আপনার বর্তমান শারীরিক যন্ত্রনা উপশম করার জন্য মস্তিষ্কে বিশেষ তরঙ্গ পাঠিয়ে আপনাকে অচেতন করা হবে।' একটু পরে সেই বিশেষ তরঙ্গে নাকি প্রচন্ড গতিবেগের কারণে জ্ঞান হারিয়েছিলাম তা আমার মনে নেই। যখন জ্ঞান ফিরল তখন শরীর ও মাথায় বেশ ব্যাথা অনুভূত হলো। আমি উঠে বসলাম। লক্ষ্য করলাম ঘরটি আয়তাকৃ্তির। এর একপাশের দেয়াল জুড়ে রয়েছে অনেকগুলো মনিটর। হঠাৎ দেখলে মনে হয় যেন পুরো দেয়ালটাই একটা মনিটর। সেখানে ক্রমাগত কিছু নাম্বার এবং সাথে জ্যামিতিক আকৃ্তির কিছু চিত্রও ভেসে উঠছে। যেগুলোর কোনো অর্থ আমি ধরতে পারলাম না। মহাকাশযানে আমার প্রথম যার সাথে পরিচয় হয় তিনি হচ্ছেন হান লি। তার সাথে দেখা হয় অবশ্য আমার ঘরেই। সেদিন মহাকাশযান পৃথিবীর মহাকর্ষণ অতিক্রম করে যাচ্ছে। অবজারভেশন ডেকে সবাই ভিড় করেছে শেষবারের মত পৃথিবী দেখার জন্য। কিন্তু আমি নিজের ঘরে চুপচাপ বসে ছিলাম। হঠাৎ দরজায় টোকা পড়ল। আমি বললাম, 'কে?' নরম গলায় উত্তর এল, 'আমি হান লি।' আমি দরজা খুলে দিলাম। দেখি বুড়োমত একজন ভদ্রলোক দাঁড়িয়ে। হাসিমুখে বললেন, 'কেমন আছেন?' 'যেমন রেখেছেন আপনারা।' 'কেন, কষ্ট হচ্ছে বুঝি? 'না না কষ্ট হবে কেন!' 'আমাকে কি চিনতে পারছেন?' 'না... আপনাকে কিভাবে চিনব!' 'ওহহো তাই তো কিভাবে চিনবেন...। যাইহোক, অবজারভেশন ডেকে সবাই শেষবারের মত পৃথিবী দেখছে। আপনি দেখবেন না?' 'ইচ্ছে করছে না।' 'কেন? অবশ্য আমারও ইচ্ছে করছে না। আসলে দেখলেই মনটা খারাপ হয়ে যায়। আচ্ছা যাই ওদিকটা একবার দেখে আসি, কেমন?' এই বলে ভদ্রলোক বেড়িয়ে গেলেন। বাকি ক্রুদের সাথে আমার কোনো কথা হলো না। আমি আসলে ঘর থেকেই বের হতাম না। সময়মত একটি রোবট এসে খাবার দিয়ে যায়। এখানকার খাবারের ব্যবস্থা বেশ ভাল। আমি সারা দিন ঘরে শুয়ে বসে কাটালাম। যদিও রাত দিন বলে এখানে কিছু নেই। আজ এখানে আমার তৃ্তীয় দিন। পৃথিবীর সময় হিসেবে দিন আরকি। ঘুম থেকে জেগে উঠে বসতেই কে একজন বলে উঠল, 'গুড মর্নিং।' আমি অবাক হয়ে চারপাশে তাকালাম, কিন্তু কাউকে না দেখে বললাম, 'কে? কে কথা বলল?' 'আমি সেন্ট্রাল নেটওয়ার্ক। এই মহাকাশযানের মূল কম্পিউটার নেটওয়ার্ক। সবাই আমাকে সিএন বলে ডাকে।' 'তারমানে তুমি এই যান সম্পর্কে সব জানো?' 'জ্বি তাই।' 'তাহলে তোমাকে যদি কিছু প্রশ্ন করি, তার উত্তর দিবে?' 'দিতে পারি। তবে সব প্রশ্নের উত্তর দিতে আমি বাধ্য নই।' 'আমরা এখন কোথায় যাচ্ছি? এর উত্তর দিতে অবশ্যই কোনো বাধা নেই?' 'আপনারা এখন আতকামা নক্ষত্রপুঞ্জের দিকে যাত্রা করছেন।' 'কেন?' 'সেখানে কিছু বুদ্ধিমান প্রাণী রয়েছে যারা কারিগরি জ্ঞান এবং প্রযুক্তিতে আমাদের থেকে উন্নত। প্রতিবারই তারা আমাদের কাছ থেকে বিভিন্ন কিছু নিতে চায়। তাই আমরা সেগুলো তাদের কাছে পৌছে দেই এবং এবারও তাই করছি।' 'এতে আমাদের কি লাভ?' 'তারা আমাদের এসব কিছুর বিনিময়ে প্রযুক্তিগত জ্ঞান এবং বিভিন্ন পদার্থ দিয়ে থাকে। এবারের মূল বিষয় হচ্ছে হাইপার ডাইভ।' 'কেন? এই যানই তো হাইপার ডাইভ ক্ষমতাসম্পন্ন।' 'আমরা এই ডাইভ ক্ষমতাসম্পন্ন যান করেছি ঠিকই, কিন্তু এখনো তাদের মত উন্নত হতে পারিনি। আমাদের এই যানগুলোর ডাইভ দেয়ার ক্ষেত্রে বিভিন্ন সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।' 'কী ধরনের সমস্যা?' 'ডাইভ দেয়ার সময় তিনটি ঘটনা ঘটতে পারে- ডাইভ সাকসেসফুল হতে পারে, মহাকাশযান ধ্বংস হয়ে যেতে পারে অথবা সময়ের গোলমাল হতে পারে।' 'সময়ের গোলমাল মানে?' 'এক্ষেত্রে সঠিক তথ্য জানা যায়নি।' সিএন থেকে আরো জানলাম, এই যান দ্বিস্তরবিশিষ্ট। প্রথম স্তর নিয়ন্ত্রণ অংশ এবং দ্বিতীয় স্তরটি থাকার জায়গা ব্যায়াম ইত্যাদির জন্য নিযুক্ত। কয়েকটা দিন এভাবেই কেটে গেল। দিনের কোনো হিসেব অবশ্য নেই আমার কাছে...। দরজায় কে যেন টোকা দিল। আমি দরজা খুললাম। দরজায় স্বাস্থ্যবান একটা ছেলে দাঁড়িয়ে, আমাকে বলল, 'সভাকক্ষে জরুরি মিটিং বসবে। আমাকে যেতে বলা হয়েছে।' অগত্যা তার সাথে যেতে হলো। ঘর থেকে বের হয়েই করিডরের মত লম্বা জায়গা। আমরা করিডরের ডানদিক দিয়ে চলতে থাকলাম। এরপর আবার ডানে। মোড় পার হয়েই একটি বড় হলরুমে এসে পড়লাম। একপাশের দেয়াল পুরোটাই কাচের তৈ্রি, তা দিয়ে বাহিরে মহাশূন্যের দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। বাহিরে নিকষ কালো অন্ধকার। মনে হচ্ছে, মহাকাশযানটি স্থির হয়ে আছে। এটাই বোধয় অবজারভেশন ডেক। এই ডেক পার হয়ে বায়ে মোড় নিতেই এসে পড়লাম সভাকক্ষে। কক্ষে প্রবেশ করে দেখলাম কিছু একটা নিয়ে তুমুল আলোচনা চলছে সবার মধ্যে। আমাকে দেখে সবাই চুপ মেরে গেল। কাউকে কাউকে দেখে মনে হল যেন ভয় পেয়েছে। প্রথমে কথা বলল লম্বা টেবিলের অপর মাথায় বসা সুদর্শন একটি লোক, 'আসুন মিস্টার, কেমন আছেন?' (চলবে)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২২ জন


এ জাতীয় গল্প

→ দ্য সার্কেল (Part-2)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now