বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
লম্বা টেবিলের অপর মাথায় বসা সুদর্শন লোকটি, 'আসুন মিস্টার, কেমন আছেন?'
'জ্বি ভালো।'
'সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত জানানোর উদ্দেশ্যে আপনাকে এখানে নিয়ে আসা।'
'সরকারের সিদ্ধান্ত জানানোর সাথে আমার সম্পর্ক কোথায়!'
'যাকে নিয়ে এবং যার জন্য এই সিদ্ধান্ত তাকে জানাব না?'
'মানে!'
'মানে... বুদ্ধিমান প্রাণীরা কিছু দেয়ার বিনিময়ে আমাদের কাছ থেকেও কিছু নেয়। আর এবার তাদেরকে দেয়ার মত আমাদের সেই "কিছু" হচ্ছেন আপনি।'
'কি বলছেন এসব! আমাকে আপনারা ঐসব জিনিসপত্রের সাথে বিনিময় করবেন!'
'এতে দেশের কল্যাণ দশেরও কল্যাণ।'
'কিসের কল্যাণ! আমার ক্ষতি করে কিসের কল্যাণ আপনাদের! এটা অন্যায়। আমাকে না জানিয়ে আপনারা এসব করছেন, আবার সরকারের কথা শোনাচ্ছেন আমাকে! আমি যাব না। আমি পুলিশকে জানাবো।'
'পুলিশ! আচ্ছা, এইযে পুলিশ। পুলিশ চীফ হান লি, আপনার সামনেই তো। ইনফর্ম করুন তাকে।'
আমি হতবাক হয়ে হান লির দিকে তাকালাম। পুলিশ! অথচ কিছুই বলছেন না তিনি! তারমানে তিনিও এদের সাথে রয়েছেন! আমাকে ফাঁসানো হয়েছে! আমি আর নিজেকে ধরে রাখতে পারলাম না। ঝাঁপিয়ে পড়লাম হান লির উপর। কিন্তু পিছন থেকে আমাকে কে যেন শক্ত হাতে টেনে ধরল। হাত ছাড়াতে গিয়ে মাথায় দড়াম করে কিছু একটা আঘাত করল। চারপাশ ঝাপসা হয়ে এলো। এর মাঝেই শুনলাম হান লি বলছে, 'ওকে নিয়ে গিয়ে ঘরে বন্দী করে রাখ।'
দরজা বাইরে থেকে লক করা। এখন আমি ঘরে বন্দী, পুরো জেল হাজতের আসামীর মত। গতকাল আমার সাথে যা ঘটেছে তা যেন দুঃস্বপ্নের মত। আমি ভেবে পাচ্ছি না কি হচ্ছে এসব আমার সাথে। হঠাৎ দরজায় খট করে শব্দ হলো। আমি সেদিকে তাকালাম। খুলে গেল দরজা। ঘরে ঢুকলেন পুলিশ চীফ হান লি। 'তারপর, কি খবর আপনার?' হাসিমুখে বললেন হান লি।
'আপনারাই খবর তৈ্রি করছেন আবার আপনারাই জানতে চাচ্ছেন খবর কি! আজব!'
'আহা রাগ করছেন কেন, শান্ত হয়ে বসুন একটু। বসুন, গল্প করি একটু আপনার সাথে।'
'কাঁটা ঘায়ে নুন ছিটাবেন বুঝি?'
'না না তা কেন...। এই পুলিশি জীবনে তো চোর ছ্যাচোরদের নানা কাহিনী দেখেছি, তারই একটা ঘটনা বলি শুনুন। এটা অবশ্য আমার এক ব্যার্থতার কাহিনী। এই মুহূর্তে আমার ব্যার্থতার কাহিনী শুনে আপনি হয়ত খুশিই হবেন। যাইহোক, শুরু করি।
সেন্ট্রাল জেল। কুকুরের লেজের মত বক্র আসামীদের সরল করার ক্ষেত্রে এই কারখানার জুড়ি মেলা ভার। সেখানেই রাখা হয়েছিল এক দাগী আসামী... না শুধু আসামী বললে ভুল হবে। দেশের সবচেয়ে বড়, শক্তিশালী এবং দূ্র্ধর্ষ সন্ত্রাসী "জনি কিলার" কে। যে দেশের একটি শহর পুরো ধ্বংস করে দিয়েছিল শুধুমাত্র তার কার্যসিদ্ধির জন্য। তবে সে গুণী ব্যক্তি বটে। সে ছিল একাধারে টেকনিশিয়ান, জ্যোতির্বিদ এবং মহাকাশযান চালনায়ও ছিল পাকা। দুই বছর আগে, একদিন রাতে আমি সেন্ট্রাল জেল পরিদর্শন করছিলাম। হঠাৎ সেখানকার সবগুলো লাইট অফ হয়ে গেল। অথচ বিদ্যুৎ না থাকলে জেনারেটর চালু হওয়ার কথা। সেটাও চলছে না। সুতরাং আমাদের নড়েচড়ে বসতে হল। চেকআপ করতে যাব এমন সময় শুনতে পেলাম হৈহট্টগোল, গুলাগুলির শব্দ এবং সাথে জেলের দরজার ঝনঝন আওয়াজ। আমাদের বুঝতে বাকি রইল না কি হচ্ছে। তবে আমরা সেদিন কাউকে ধরতে পারিনি। সেদিন রাতে বহু পুলিশ আহত হয়েছিল। পালিয়েছিল প্রায় দুশো কয়েদী, সাথে জনি কিলারও।'
'শুনে খুশি হলাম।'
এমন সময় মহাকাশযানটা থরথর করে কাঁপতে শুরু করল। আমার দিকে একবার তাকিয়ে দ্রুত ঘর থেকে বেরিয়ে গেল হান লি। একটুপর আমিও ছুটলাম তার পিছন পিছন। হঠাৎ মাইকিং শুরু হল, বলা হল সবাই যেন দ্রুত সভাকক্ষে চলে আসে। গিয়ে দেখি সবাই চুপচাপ এবং উদ্বিগ্ন। এবারও সেই সুদর্শন লোকটি কথা বলল, 'আমরা একটা আকর্ষণীয় শক্তির কেন্দ্রে পড়ে গিয়েছি। এর উৎস এখনো ধরতে পারিনি। তবে মনে হচ্ছে, রিশি নক্ষত্রপুঞ্জের কোনো এক ব্ল্যাকহোলের সংস্পর্শে এসে পড়েছি। বর্তমানে মহাকাশযানের গতি অকল্পনীয় এবং তা ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। এই বেগ কমানোও যাচ্ছে না।'
একজন বলে উঠল, 'একটা হাইপার ডাইভ দেয়া যায় না?'
আরেকজন বলল, 'সেটা সম্ভব নয়। ডাইভ দিতে হলে বেগ কম অথবা নিরপেক্ষ বলয়ে থাকতে হয়, যার কোনোটাই এখন নেই। তাছাড়া মূল ইঞ্জিন চালু করে এখন ডাইভ দেয়াটাও বিপজ্জনক...।'
আলোচনার মধ্যবর্তী সময়ে হঠাৎ লালবাতি জ্ব্লে উঠল, সাথে এলার্মও বাজতে শুরু করল। কেউ একজন বলল, 'আমাদের দ্রুত কন্ট্রোল রুমে যাওয়া উচিত।'
এটা বলতেই কয়েকজন কন্ট্রোল রুমের দিকে ছুটল। আমিও ছুটলাম তাদের সাথে। মহাকাশযান আরো কাঁপতে শুরু করল। কোথায় যেন বিকট শব্দ করে একটা বিস্ফোরণ ঘটল। আমি এবং হান লি আগে এবং বাকিরা পেছনে ছুটছে। দুজনে সিড়ি দিয়ে কন্ট্রোল রুমে উঠতেই নিচে ভয়ঙ্কর শব্দ তুলে আরেকটি বিস্ফোরণ হলো। আমরা ছিটকে গিয়ে দেয়ালের সাথে বাড়ি খেলাম। মাথাটা ঝিমঝিম করে উঠল। নড়ার শক্তিটাও হারিয়ে ফেললাম। কিছুক্ষণের ভুলে গেলাম সবকিছু। আস্তে আস্তে মনে পড়ল সব। হ্যাঁ! সব মনে পড়েছে। অনেক কষ্টে উঠে দাঁড়ালাম। নিচে তাকিয়ে দেখি সিড়ির দিকে কয়েকজন রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। চেহারায় প্রাণের কোনো চিহ্ন নেই। বাকিদের দেখতে পেলাম না। ওপাশ থাকে আগুনের হলকা আসছে। আমি ঘুরে দাঁড়ালাম। দেখি তখনো হান লি বেঁচে আছে। উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। উঁহু তাকে জীবিত দেখতে চাই না আমি। মেঝে থেকে একটা রড হাতে নিয়ে হান লির সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম। তারপর সজোরে বাড়ি মেরে দিলাম খুলিটা ফাটিয়ে। এখন আসল কাজটা বাকি। এটার পর ঘটতে পারে তিনটি ঘটনা, ঘটবে যেকোনো একটি।
কন্ট্রোল রুম। আমি বায়োসের সামনে গিয়ে দাড়ালাম। প্যানেলের সবুজ রং এর একটি বাটনে চাপ দিয়ে মূল ইঞ্জিন চালু করলাম। বাটনের পাশে একটি হ্যান্ডেল নিচে নামানো ছিল, তা উঠিয়ে দিলাম। উঠিয়ে দেয়ার সাথে সাথেই মহাকাশযানটির গতি আরও বেড়ে গেল, কাঁপতে শুরু করল থরথর করে। বিকট শব্দে কতগুলো বিস্ফোরণ হয়ে চারপাশে আগুন ধরে গেল। ঝাপসা হয়ে এল আমার চোখ। একটু পরেই গ্রাস করল একরাশ অন্ধকার।
শেষ পর্ব:
মাথাটা ঝিমঝিম করছে। কেমন যেন ফাঁকা ফাঁকা লাগছে। আচ্ছা, আমি কোথায়? কি করছি এখানে? ও হ্যাঁ, মনে পড়েছে। পালাতে হবে, পালাতে হবে আমাকে। ওই যে, সেন্ট্রাল জেল। অ্যালার্ম বাজছে। বাজুক, ব্যাটারা ধরতেই পারবেনা আমাকে। আজকে যতজন পালিয়েছে, হিসেব করলেই ওরা হার্টফেল করবে। উফ কি যন্ত্রণা মাথায়! দেয়াল ডিঙ্গানোর সময় কার যে ধাক্কায় উপর থেকে পড়লাম, একদম বেকায়দায়। ওহ কি ব্যাথা! কি যেন নাম আমার? উফ মনে পড়ছেনা কেন! হ্যাঁ! জনি কিলার! জনি কিলার আমি! আমি জনি কিলার! কি করছি এখানে আমি? আমি এখানে কেন? কোথায় আমি? কে আমি? কি নাম আমার? নাম? আমি কে??
(সমাপ্ত)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now