বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
দ্য ওআরজিঃজিপার
সাই ফাই কন্সপিরেসি থ্রিলার
আরিয়ান শুভ
পর্ব ৩
খালি চেম্বারে খটাস শব্দে হ্যামারটা পড়তেই নড়ে উঠল ধ্রু। শেষ হয়ে গেছে রাইফেলের ম্যাগাজিন। ফেলে দিল অস্ত্রটা।
করিডোরের ফাঁক থেকে এখনো উঁকি দিচ্ছে দুটো চেহারা।
কোমর থেকে দু হাত দুই পিস্তল তুলে নিল। তবে ভাগ্যটা মন্দ, পিস্তল তোলার আগেই পড়ে গেল সিঁড়িতে। একটা বুলেট এসে থাবা মেরে গেছে, বা হাতের বাইসেপ ঘেঁষে উত্তপ্ত ছোয়া দিয়ে চলে গেছে।
এক সেকেন্ড সময় লাগলো নিজেকে সামলে নিতে। আরও কয়েকজন আসছে, উপর থেকে পায়ের শব্দ ভেসে আসছে। কালবিলম্ব না করে দৌড় দিল ও।
করিডোরের ফাঁক দিয়ে দেখা সেই দুজনের চেহারা আবারও দেখা গেল। সেকেন্ডের অর্ধেকের মাঝে দুজনের কপালে দুটো বুলেট ঢুকিয়ে করিডোরে প্রবেশ করল ধ্রু। করিডোর ধরে ছুটে আসছে আরও কয়েকজন।
বা হাতের বাইসেপ জ্বলছে। তবে সেদিকে তোয়াক্কা না করে দৌড়ের গতি আরও বাড়াল ও। একের পর এক আগুণ ঝরিয়ে চলেছে দুহাতের পিস্তল, আর এক এক করে করিডোরের মেঝেতে লুটিয়ে পড়ছে লোকগুলো।
একই সময়ে শেষ হয়ে গেলো দুই পিস্তলের ম্যাগাজিন। বা হাতেরটাকে ছেড়ে দিয়ে হাতটা বাড়িয়ে দিলো কোমরের পেছনদিকে। লম্বা একটা ম্যাগাজিন চ্যাম্বার চলে এসেছে ঘাড়ের নিচ থেকে পিঠ বেয়ে কোমর পর্যন্ত। ম্যাগাজিন চেম্বার থেকে একটা ম্যাগাজিন নিয়ে ডান হাতের পিস্তলটা রিলোড করে নিলো। সেকেন্ডের ব্যবধানে হাঁটুর কাছ থেকে বাঁ হাতে উঠে এলো ছোড়াটা। বড় করে শ্বাস নিয়ে এগোল সামনের দিকে।
করিডোরটার বাঁক ঘুরতেই চোখে পড়লো লোক চারজনের উপর। এদিকেই আসছে।
ডানহাতের পিস্তল আর বাঁ হাতের ছোড়ার উপর চাপ বাড়ল। পরের মুহূর্তেই যতটা সম্ভব দ্রুত দৌড় লাগাল লোকগুলোকে লক্ষ্য করে।
ছয় পা এগোনোর পর পরই কিছুটা ঝুঁকে গেল ধ্রু। ইতোমধ্যেই সামনের লোকগুলো রাইফেল তাক করেছে ওর দিকে।
দৌড়ের তালেই ছোট্ট একটা লাফ দিল ও। সেকেন্ডের দশ ভাগের এক ভাগ পর মেঝেতে জুতোর সোল নামতেই পিছলাতে শুরু করল বাচ্চাদের মত।
পিছলে প্রথম লোকটার কাছে পৌঁছে গেল ও। মাথা নিচু করে রেখেছে, শরীর বাঁকা হয়ে গেছে- এ কারণে লোকটার রাইফেল লক্ষ্যস্থির করে আছে ওর মাথার তিন ইঞ্চি উপরে।
লোকটার গলায় ছোড়াটা আমূল বিঁধিয়ে দিয়ে ডানহাত সোজা করল ধ্রু। পর পর দুটো বুলেট বের হয়ে গেলো পিস্তল থেকে।
এমন সময় করিডোরের পাশের এক দরজা দিয়ে বের হলো আরও ছয়জন। সবার হাতে রাইফেল।
গলায় ছোড়া বেধা লোকটার শরীরকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে আগাতে লাগল ধ্রু। কেভলার ভেষ্ট পড়ে আছে লোকটা, যে কারণে ওপাশ থেকে ওকে লক্ষ্য করে যে গুলিগুলো ছোড়া হচ্ছে তা থেকে রক্ষা পাচ্ছে লোকটার এপাশে থাকা ধ্রু।
দ্রুত হাতের পিস্তল খালি করল ধ্রু। খালি চেম্বারের উপর হ্যামার পড়ার শব্দ কানে আসতেই সেটাকে চালান করে দিলো হোলস্টারে। বদলে হাতে তুলে নিল ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা লোকটার হাতে থাকা রাইফেল। পরবর্তী দু’ সেকেন্ডে খালি হয়ে গেল সেটার ম্যাগাজিনও।
এখানকার ঝামেলা শেষ করে আবার সিঁড়ি ধরল ধ্রু। যেতে হবে পরের ফ্লোরে। হোলস্টার থেকে পিস্তলটা বের করে ম্যাগাজিন চেঞ্জ করে নিল।
ফ্লোরটাতে পা দিয়েই সতর্ক হয়ে গেল ও। ফ্লোরটা একটা গ্যারাজ হিসেবে ব্যবহার করা হয়, স্পষ্ট বুঝতে পারছে। গ্যারাজের একেবারে উল্টোদিকে একটা ল্যাডার জাতীয় কিছু দেখা যাচ্ছে। তারপাশে কংক্রিটের বাঁকানো রাস্তা। এই পথেই এই বিল্ডিঙের কর্মকর্তা কর্মচারীদের গাড়ি এখানে এনে পার্ক করা হয়।
শক্ত করে পিস্তল বাগিয়ে গ্যারাজে প্রবেশ করল। চারদিকে সতর্ক চোখ বুলাচ্ছে।
“ইউ আর লেইট।” হঠাত করেই একদিক থেকে ভেসে এলো একটা কন্ঠ।
পাই করে সেদিকে ঘুরল ও। ওখানে হাসিমুখে দাঁড়িয়ে আছে ওর সমবয়েসী একটা লোক।
একটা ফিল্টার টিপড সিগারেট ধরাচ্ছে লোকটা। লাইটারটা পকেটে রেখে সিগারেটে কষে একটা টান দিলো।
সায়লর!
*******
একুশ দিন আগে
একটা বিল্ডিঙের সামনে এখন দাঁড়িয়ে আছে ধ্রু। বারবার তাকাচ্ছে হাতের সেলফোনটার দিকে। এখনো টার্গেটের ডিটেইলস এসে পৌছেনি।
ত্রিশ সেকেন্ড পর ওর হাতে কেঁপে উঠল যন্ত্রটা। দ্রুত মেসেজ অপশনে চোখ বুলাল। একটা ফ্ল্যাট নাম্বার দেওয়া আছে। টার্গেট ব্লাইন্ড, দুজন।
দ্রুত সেলফোনটা পকেটে রেখে এগুতে শুরু করল ও। লিফটে করে চলে এল কাঙ্ক্ষিত ফ্লোরে। জ্যাকেটের আড়ালে থাকা পিস্তলটা চেক করে আগের জায়গায় রেখে দিল।
ফ্ল্যাটটার সামনে এসে সেলফোনের মেসেজ অপশনটা আবারও ওপেন করল। ফ্ল্যাটের নাম্বার মিলিয়ে নিয়ে নক করল দরজায়।
দরজা খুলে যেতেই জ্যাকেটের আড়াল থেকে পিস্তলটা বের করে লোকটার কপালে ধরল ধ্রু।
কিন্তু এ কি?
প্রায় সাথে সাথেই জমে গেল ও।
এ যে ফাউলার! ফ্লোরার আপন ভাই! কিন্তু এ কি করে হয়? ফাউলার তো একজন সাংবাদিক। সে কি করে এখানে...
মুহূর্তের ভেতর কয়েকশো প্রশ্ন ভীর করল ধ্রুর মনে।
এখানে রিপারের দুজনকে খুন করতে পাঠানো হয়েছে ওকে। ফাউলার কি তাহলে রিপারদের একজন? কিন্তু... কিন্তু কেন?
সবচেয়ে বড় কথা ফাউলার যদি রিপারদের কেউ হয়-ও, তবু অন্তত ফ্লোরা বেঁচে থাকতো। নিজের বোনকে অসম্ভব ভালোবাসতো ফাউলার। নিজের বোনের উপর রিপাররা হিট নিতে যাচ্ছে জেনেও সে চুপচাপ বসে থাকার মত মানুষ নয়। অন্তত তখন না জানলেও এতদিনে জেনে যাবার কথা না?
“তুমি এখানে?” চোখে স্পষ্ট বিস্ময় নিয়ে প্রশ্ন করল ফাউলার।
পিস্তলটা নামিয়ে রাখল ধ্রু। “তুমি এখানে কি করছো?”
“এটা... এটা আমাদের অফিস।”
“অফিস?” হা হয়ে গেল ও। “তোমার অফিস এটা? কিন্তু তোমার অফিস তো আমি চিনি। এখানে...”
কথাটা শেষ করার আগেই সেলফোনটা বেজে উঠল ওর। কলটা রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে ভেসে এল সায়লরের গলা। “মিশন এবোর্ট... চলে এস ওখান থেকে।”
“মানে কি?” খেঁকিয়ে উঠল ধ্রু। “আমাকে এখানে পাঠানো হয়েছে কেন?”
“ইট’স আ মিষ্টেক। মিসইনফরমেশন পেয়েছিলাম আমরা। তোমার টার্গেট মুভ করছে।”
“মিসইনফরমেশন? এটা কিভাবে সম্ভব? অর্গানাইজেশন মিসইনফরমেশন পায় কিভাবে?”
চোখের কোনা দিয়ে খেয়াল করল ধ্রু, ফাউলারের চেহারা থেকে যেন রক্ত সরে গেছে। হা হয়ে গেছে সে।
“আমরা গড নই ধ্রু, আমাদের ভুল হতেই পারে।”
“ভুল হতেই পারে?” আবারও খেঁকিয়ে উঠল ও। “আর একটু দেরী করলে অঘটন ঘটে যেত এখানে।”
এমন সময় ফ্ল্যাটের ভেতরে একটা আওয়াজ পাওয়া গেলো। কাচের কিছু ভাঙ্গার শব্দ।
পেছনদিকে ঘুরলো ফাউলার ব্যাপারটা কি দেখার জন্য। ওর পেছন পেছন ধ্রুও ঢুকে পড়ল ফ্ল্যাটে।
জানালার কাছে একজন লোক পড়ে রয়েছে। পুরো শরীর লাল রক্তে ভরে আছে তার।
চিৎকার করে উঠল ফাউলার। তারপরই থম মেরে গেল। দ্রুত এগিয়ে গেল লাশের দিকে।
ওপাশ থেকে চেঁচিয়ে উঠল সায়লর। “গড ড্যাম ইট, ওখান থেকে বেরিয়ে এস ধ্রু। তোমার টার্গেট মুভ করছে।”
আমার দিকে ফিরল এ সময় ফাউলার। ধীরে ধীরে উচ্চারণ করল, “অর্গানাইজেশন! অর্গানাইজেশন এখানেও পৌঁছে গেছে।”
“ফাক!” গালি দিয়ে ওপাশ থেকে কল কেটে দিল সায়লর।
দু’ সেকেন্ড সেলফোনের দিকে ফাঁকা দৃষ্টিতে চেয়ে রইল ধ্রু। তারপর সেলফোনটাকে পকেটে পুরে ফাউলারের দিকে এগিয়ে গেল।
“কি বললে তুমি?” ফাউলারের কাঁধে হাত রাখল ।
“অর্গানাইজেশন!” কাঁপতে কাঁপতে উচ্চারণ করল ফাউলার। “অর্গানাইজেশনের খুনীরা আমাদের খোঁজ পেয়ে গেছে।”
“কি করেছো তোমরা যে অর্গানাইজেশনের খুনীরা তোমাদের পেছনে লেগেছে?”
“আমরা? আমরা কি করবো?” খেঁকিয়ে উঠল সে। “করছে তো ঐ অর্গানাইজেশন। সারা পৃথিবী থেকে আদি মানুষদেরকে সরিয়ে দেবার প্ল্যান করেছে ওরা। চাইছে নিজেদেরকে আরও উন্নত করতে।”
“মানে কি?” মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়লেও হয়তো এতোটা অবাক হত না ধ্রু। “খুলে বলো সব।”
ধীরে ধীরে সব খুলে বলল ফাউলার। সবকিছু শুনে বেদিশা হয়ে যাবার যোগাড় হল যেন ধ্রু।
ফ্লোরা মারা যাবার পর পরই অর্গানাইজেশন নামে একটা প্রতিষ্টানের অস্তিত্বের কথা জানতে পারে ফাউলার, যারা নিজেদেরকে বিজ্ঞানী বলে দাবী করে। যিপারদেরকে আরও উন্নত করার জন্য কাজ করছে তারা। আর এ কারণে পৃথিবীজুড়ে খুন করছে আদি মানুষদেরকে।
ওদের টার্গেট পৃথিবীর সমস্ত আদি মানুষ, যাদের ব্রেইন থেকে সোর্স কোড উদ্ধার একত্র করে একটা পারফেক্ট মডেল তৈরী করতে চাইছে তারা। আর এ কারনে ভাড়া করছে পৃথিবীর উচ্চ মাপের খুনীদের। যাদেরকে টাকা দিয়ে কেনা সম্ভব, তাদেরকে কিনছে। আর যাদেরকে টাকা দিয়ে কেনা সম্ভব নয়, তাদেরকে বিভিন্নভাবে ম্যানুপুলেট করে নিজেদের দলে ভেড়াচ্ছে তারা।
“তুমি যা বলছ, জেনে বলছ তো?” ফাউলারকে প্রশ্ন করল ও।
“অবশ্যই। ফ্লোরাকে মেরেছে ওরা, খুন করেছে আরও অন্তত দশ হাজার আদি মানুষকে। তার সব প্রমাণ আছে আমার কাছে। অর্গানাইজেশনের এসব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তথ্য সংগ্রহ করছি আমি ফ্লোরা মারা যাবার পর থেকেই। আজ মিডিয়ানের সাথে এটা নিয়েই আলাপ করার কথা ছিলো। ও কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছে অর্গানাইজেশন সম্পর্কে। আমরা ভেবেছিলাম আমার আর ওর যোগাড় করা তথ্য কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার কাছে পাঠাবো আমরা যাতে অর্গানাইজেশনের বিরুদ্ধে সরকার ব্যবস্থা নিতে পারে।”
“কিন্তু... হাউ ইজ দিস পসিবল? রিপারদের কি হলো তাহলে?”
“রিপার?” বিস্মিত মনে হল ওকে। “রিপার আবার কারা?”
রিপারদের ব্যাপারে সায়লর যা বলেছিল সব ব্যাখ্যা করল ধ্রু। অর্গানাইজেশন ওর সাথে যোগাযোগ করার পর থেকে এখনো পর্যন্ত যা হয়েছে, কিছুই বাদ রাখল না।
সব কথা শোনার পর মলিন হাসল ফাউলার। “অর্গানাইজেশন তোমাকেও বোকা বানিয়েছে ধ্রু! ... হাহ! ... ম্যানুপুলেট করেছে তোমাকে। রিপার নামে কোন সংগঠনের কোন অস্তিত্বই নেই।”
হা হয়ে গেল ধ্রু। মানে কি এসবের?
উঠে দাঁড়ালো ফাউলার। নিজের ল্যাপটপটা টেনে এনে ওর সামনে রাখল। একটা ফাইল ওপেন করে বলল, “মিডিয়ান অর্গানাইজেশনের মেইনফ্রেম হ্যাক করে এই তথ্যগুলো পেয়েছে। এখানে এ যাবত অর্গানাইজেশনের করা সমস্ত অপরাধের লিষ্ট আছে। এছাড়া আগামী পাঁচ বছরে তারা কি করবে, তার প্ল্যানও আছে এখানে। এই লিষ্টে ফ্লোরার নামও আছে।”
ধীরে ধীরে পুরো লিষ্টটার উপর নজর বোলাল ও। এরকম শকড জীবনে এর আগে একবারই হয়েছিল, ফ্লোরাকে যখন মৃত অবস্থায় দেখেছিল।
*******
শার্টের বাঁ হাতা সবুজ হয়ে গেছে ইতোমধ্যেই। এতক্ষণ ঝরঝর করে রক্ত বের হয়েছে। ফার্স্ট এইড কিট থেকে কিছু সল্যুশন ব্যবহারের পর বন্ধ হয়েছে সেটা আপাতত। আর কিছু করার নেই এখন আর। ব্যান্ডেজ ছিলো না ফার্স্ট এইড বক্সে, তাই বাঁধতে পারছে না ক্ষত জায়গাটা।
হিটটা আসতে যাচ্ছে, আগেই বুঝতে পেরেছিল বেন। তবে এত পরে আসবে, তা ভাবেনি। একুশ দিন আগে যখন ভুলটা চোখে পড়েছিল সায়লরের, তখন থেকেই অপেক্ষা করছিল সে এই হিটের জন্য। কিন্তু দেরী করেছে ধ্রু... অনেক দেরী করে ফেলেছে। আর এই কারণেই বোধহয় সতর্কতায় ঢিল দিয়েছিল বেন। আর এই সুযোগে...
শান্তিতে অফিস থেকে বের হয়েছিলো সে। গাড়িটা চালাচ্ছিল সায়লর, পেছনের সিটে ছিলো সে এবং এক সুন্দরী তরুণী। এমন সময় গুলিবর্ষণ শুরু হয় গাড়ি লক্ষ্য করে। পর মুহূর্তেই ছোট একটা বিস্ফোরণে কেঁপে উঠে গাড়িটা। একশো আশি ডিগ্রী ঘুরে গেছিলো গাড়িটা বিস্ফোরণের ধাক্কায়। ঐ অবস্থাতেই গাড়িটা চালিয়ে আবার অফিসে এনে ঢুকিয়েছে সায়লর। অবশ্য এর ভেতরই একটা বুলেট আঘাত করেছে বেনের বাঁ কাঁধে। তবে সায়লর না থাকলে পরিস্থিতি অন্যরকমও হতে পারতো। অফিসে এসেই দ্রুত ছাদে নিয়ে এসেছে সায়লর তাকে। ভাগ্য ভাল হেলিকপ্টারটা ছিলো। দ্রুত পাইলটকে ডেকে তাকে এটায় করে বিদায় করেছে সে।
বাস্টার্ড! দাঁতে দাঁত চাপল বেন। ব্লাডি হিউম্যান!
বেনের সামনে বসে আছে সেই সুন্দরী তরুণী। একটা সেলফোনে কথা বলছিল এতক্ষণ, এইমাত্র শেষ হলো তার কথা বলা।
খেঁকিয়ে উঠলো বেন। “ব্যাকআপের কি অবস্থা?”
“আট মিনিট,” দ্রুত জবাব দিল তরুণী, “ম্যাক্স!”
“অনেক সময়!” মুখ বিকৃত করল বেন। “সায়লর ততক্ষণ...
“ঠিকই সামলে নেবে। প্রশিক্ষিত সৈনিক সে। ধ্রুর চেয়ে কম ট্রেনিং পায়নি।”
“এবং গত ছয় বছর ডেস্কজব করেছে সায়লর,” চিবিয়ে চিবিয়ে কথা বলল বেন। “শরীরে চর্বি জমে গেছে ওর, সে খেয়াল আছে?... অর্গানাইজেশনের এক সময়কার বেষ্ট অপারেটর এখন একজন চর্বিসর্বস্ব অফিসকর্মী।”
ঠোঁটের কোনে হাসি ফুটে উঠলো মেয়েটার। “এখানে সায়লরকে দোষ দিতে পারো না তুমি। সবার লাইফেই আপ ডাউন থাকে। ... আর, আমার মনে হয়, সায়লর এটা উপভোগই করবে। প্রচন্ড পরিমাণ আত্নতুষ্টিতে ভোগে সে, নার্সিসিষ্ট একটা।”
“আর এই নারসিসিষ্টের জন্যই অর্গানাইজেশন এত গতি পেয়েছে। ও ঠিকভাবে হাল না ধরলে এতদিনে সব ফাঁস হয়ে যেত সাধারণ মানুষদের সামনে।”
পাশের সীট থেকে ল্যাপটপটা তুলে নিলো এ সময় তরুণী। দশ সেকেন্ড পর ল্যাপটপের স্ক্রিনটা বেনের চোখের সামনে ধরলো। বিল্ডিঙের আপার লেভেলের গ্যারাজের দৃশ্যটা ফুটে উঠেছে সেখানে। সায়লর সিগারেট টানছে একদিকে দাঁড়িয়ে। তার কাছ থেকে পনেরো হাত দূরে পিস্তল তাক করে দাঁড়িয়ে আছে ধ্রু।
চেহারা বিকৃত হয়ে গেলো বেনের। “নাহ! শালা... সায়লরটার জন্য মায়া লাগছে।”
হাসিটা বিস্তৃত হলো মেয়েটার ঠোঁটে। “আমার মনে হয় শোটা দেখা উচিৎ তোমার। আমি বেট ধরছি, তুমি এটা এঞ্জয় করবে।”
*******
“ইউ আর লেইট,” কন্ঠটা শুনেই ঘুরল ধ্রু। পিস্তলটা বাগিয়ে রেখেছে সামনে।
হাসিমুখে এগিয়ে এল সায়লর। কালো শার্ট, কালো একটা ব্লেজার পড়ে আছে সে। সিগারেটটা ঠোঁটে ঝুলিয়ে রেখে নিজের হাত দুটো মাথার উপর উঠিয়ে দেখালো। “আনআর্মড। কোন অস্ত্র নেই আমার কাছে, দেখতেই পাচ্ছো। অস্ত্র ছাড়া কারও গায়ে নিশ্চয়ই গুলি করবে না তুমি?... ইয়েপ! যা গেস করেছিলাম তোমার সম্পর্কে, সেটাই সত্য।”
পিস্তলটা ওর দিক থেকে এক চুলও সরায়নি ধ্রু। তীক্ষ্ণদৃষ্টিতে চেয়ে আছে ওর দিকে।
“আমাদেরকে স্যাবোটাজ করেছো, পিছু নিয়ে বিল্ডিঙে ঢুকেছো। এবং তুমি এ পর্যন্তও আসতে পেরেছো। এর মানে ধরে নিতে পারি নিচের সবাই শেষ। ... উমমম... কেন এখানে এসেছো ধ্রু?”
“কিছু প্রশ্নের জবাব চাইতে।” দাঁতে দাঁত পিষে উচ্চারণ করল ধ্রু।
“কিছু প্রশ্নের জবাব চাইতে?” হাসিটা বিস্তৃত হলো ওর চেহারায়। “কিছু প্রশ্নের জবাব চাইতে তুমি একটা গাড়িতে স্যাবোটাজ করেছো এবং এই বিল্ডিঙের সাতাশজনকে খুন করেছো? বাহ! এ কেমন প্রশ্ন তোমার ড্যুড? ইউ কুড জাষ্ট কল মি! কল করে প্রশ্নগুলো জিজ্ঞেস করলেই ভালো হতো না? শুধু শুধু এতোজনকে খুন করা কি খুবই প্রয়োজন ছিলো?”
“সান অফ আ বিচ,” গাল দিয়ে উঠল ধ্রু।
“ওকে ওকে...” আরও এক পা এগিয়ে এল সায়লর। “ওকে... জিজ্ঞেস করো তোমার প্রশ্ন। জবাব দেবার জন্য তৈরী আমি।”
“ফ্লোরা... ফ্লোরাকে খুন করেছে কে?”
“অর্গানাইজেশন,” দ্রুত জবাব দিল সে। “ইনফ্যাক্ট... প্ল্যানটা অর্গানাইজেশনের ছিলো... শর্ট অফ... কিন্তু খুনটা আমিই করেছি। ইউ নো... আই লাইক...”
একটা পাশবিক হাসি ফুটে উঠল সায়লরের ঠোঁটে।
সাথে সাথেই ট্রিগারে চাপ দিল ধ্রু। সায়লরের পায়ের কাছে এসফল্টে মাথা কুটল বুলেট। লাফিয়ে উঠল সায়লর।
“হোয়াটস ইয়োর প্রবলেম ম্যান?” খেঁকিয়ে উঠল সায়লর। “কি... হচ্ছে টা কি? ইট’স জাষ্ট গুড বিজনেস, নাথিং পার্সোনাল। আই জাষ্ট ডিড মাই জব, দ্যাট’স ইট!”
“দ্যাট’স ইট? দ্যাট’স ইট! আমার স্ত্রী,” পিস্তলটা নিচে নামিয়ে এক পা আগাল ধ্রু। “ফ্লোরা প্রেগনেন্ট ছিলো!”
“ছিলো তো ছিলো, তো?” ভ্রু কোঁচকাল সায়লর। “এমন তো না যে এটা তোমার জন্য খুব একটা কঠিন কিছু কিংবা আনএক্সপেক্টেড কিছু। অর্গানাইজেশনে যোগ দেওয়ার আগে ফ্রিল্যান্স কিলার ছিলে তুমি, তেইশজনকে খুন করেছো। অর্গানাইজেশনে যোগ দিয়ে খুন করেছো আরও বারোজনকে। বিনিময়ে পেমেন্ট পেয়েছো প্রতিটা হিটের জন্য। ... এটা ঠিক যে আজকে রেকর্ড পরিমাণ খুন করেছো তুমি, অলরেডী সাতাশজন শেষ। এন্ড... আনফরচুনেটলি... এর জন্য কোন পেমেন্ট পাচ্ছো না তুমি।”
“ফ্লোরা আমার স্ত্রী ছিলো। ওর পেটে আমার বাচ্চা ছিলো। দুজনকেই খুন করেছিস তুই?”
“বাহ! নিজের গায়ে লাগলেই তখন জ্বলে না? অন্যের ব্যাপারে কি? তুমি যাদের খুন করেছো আজ পর্যন্ত তারাও কারো না কারো স্ত্রী বা স্বামী ছিলো, তারাও কারো না কারো বাবা-মা বা সন্তান ছিলো। অন্যের প্রিয়জনকে তুমি খুন করলে ঠিক আছে, আর তোমার প্রিয়জনকে খুন করলেই রক্ত মাথায় উঠে যায়, না?... আজব!”
“আমি যাদেরকেই খুন করেছি তাদের পেছনেই কোন না কোন কারণ ছিলো?”
“ছিলো? ... উমমমম.. হাসালে ড্যুড!” নিজের কপালে হাত রাখলো সায়লর। “তোমার নবম ভিক্টিম, যখন তুমি ফ্রিল্যান্সার ছিলে, লেক্সার কথা মনে আছে? চব্বিশ বছর বয়েসের কালো চুলের মেয়েটা, এপার্টমেন্ট বিল্ডিঙের বাইরে থেকে স্নাইপার রাইফেল দিয়ে যাকে খুন করেছিলে, তার কি দোষ ছিলো?”
“ছয় বছর আগের কথা সেটা।”
“রাইট,” উজ্জ্বল হয়ে উঠলো সায়লরের চেহারা। “ব্রাভো ম্যান, চমৎকার তোমার স্মরণশক্তি। আমি তো ভেবেছিলাম মনেই করতে পারবে না। তা, লেক্সাকে মনে আছে তোমার?”
“আছে... সাংবাদিক ছিলো সে।”
“হুম... সব মনে আছে দেখি। লেক্সা হায়াতের আরেকটা পরিচয় ছিলো। ... আমার স্ত্রী ছিলো লেক্সা, এবং সেও তোমার ফ্লোরার মতো প্রেগনেন্ট ছিলো। এবং তুমি তাকে খুন করেছো।”
বিস্ময়ে হা হয়ে গেল ধ্রু।
লেক্সা হায়াত সায়লরের স্ত্রী ছিলো?
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now