বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

দ্য ওআরজিঃজিপার-০২

"সাইন্স ফিকশন" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X দ্য ওআরজিঃজিপার কন্সপিরেসি সাই ফাই থ্রিলার আরিয়ান শুভ পর্ব ২ দম বন্ধ হয়ে আসছে। মনে হচ্ছে আগুন ধরে গেছে ফুসফুসে। যে কোন সময়ই আগুনটা ছড়িয়ে পড়বে সারা শরীরে। দুনিয়াটা কাঁপছে যেন। ভুমিকম্প হচ্ছে কি? হঠাত করেই হাতের আঙ্গুলে ঠান্ডা একটা কি যেন ছোঁয়া পেতেই আশা জাগলো মনে। সম্ভবত ছুঁড়ির বাঁটটা। শক্ত করে জিনিসটা ধরল। হ্যাঁ, ঠিকই ভেবেছে, সাথে আনা ছুঁড়ির বাটই এটা। খাপ থেকে বের করে আনল জিনিসটা, আমূল বিঁধিয়ে দিল দানবটার শরীরে। প্রায় সাথে সাথেই কেঁপে উঠলো লোকটা। হালকা হয়ে গেলো তার হাতের চাপ। ছোড়াটা ঝটকা দিয়ে বের করে আবারও বসিয়ে দিল লোকটার শরীরে। প্রায় একই সময় পা দুটোকে ভাঁজ করে নিয়ে এসেছে বুকের কাছে। একই সাথে ছুটে গেল সে দুটো। জোড়া পায়ের লাথি খেয়ে উড়ে গেল যেন লোকটা। অবশ্য এক সেকেন্ড কাটার আগেই ধপ করে দেহটা পড়ল মেঝের উপর। কয়েক সেকেন্ড সময় লাগল ধ্রুর চোখের সামনেটা পরিষ্কার হতে। দৃষ্টি পরিষ্কার হতেই সামনের দিকে চাইল। প্রায় সাথে সাথেই অবাক হল। লোকটা উঠে দাঁড়িয়েছে। এক হাত সামনে বাগিয়ে দিয়েছে সে। দ্রুত লাথি দিয়ে সরিয়ে দিল ও হাতটাকে। প্রায় সাথে সাথে ঘুরে গিয়েই ছোড়াটা হাত বদল করে বিঁধিয়ে দিল লোকটার গলায়। পর পর দু’বার ওটা দিয়ে আঘাত করার সময় পেল, তারপরেই নিজের গলায় দানবটার হাতের স্পর্শ পেল আবার। ছোড়ার আঘাতে জায়গায় জায়গায় সবুজ রঙের রক্ত বেরুচ্ছে লোকটার শরীর থেকে। তবুও দানবটার শরীরের শক্তি মনে হলো না কোন অংশে কমেছে। কিভাবে যেন ছুঁড়ে দিল সে ওকে। ছোড়াটা ছুটে গেল হাত থেকে। যখন উঠে দাঁড়াল, খেয়াল করল লোকটার থেকে আট ফুট দূরে পড়ে আছে ও। ছোড়াটা পড়ে আছে এক হাত দূরে। মেঝে থেকে উঠার সময়ই ছোড়াটা তুলে নিয়েছে ধ্রু। হাঁটুর অন্যপাশ থেকে বের করল আরেকটা ছুড়ি। দুটোকে বাগিয়ে ধরে এবার আক্রমণ চালাল সাড়ে ছয় ফুটি দানবটার উপর। একের পর এক কোপ বসাতে লাগল ধ্রু লোকটার বুকে, পেটে, গলায়। পুরো পাঁচ সেকেন্ড পর মেঝেতে পড়ে গেল লোকটা। ফিনকি দিয়ে রক্ত বেরুচ্ছে অন্তত বিশ জায়গা থেকে। থামল না ধ্রু। একের পর এক কোপ অব্যহত রাখল। লোকটা মারা যাবার আগ পর্যন্ত নিশ্চিন্ত হবার কোন উপায় নেই। আরও পাঁচ সেকেন্ড কোপানোর পর ক্ষান্ত দিল ও। ততক্ষণে লোকটার প্রাণ উড়ে গেছে শরীর থেকে। বড় একটা ভারী বস্তার মতো পড়ে আছে সে মেঝেতে। ছোড়া দুটোর রক্ত মুছে খাপে রেখে দিল হাঁটুতে বাঁধা খাপে। মেঝে থেকে অ্যাসল্ট রাইফেলটা তুলে নিয়ে রওনা হল সিড়ির দিকে। তিনতলায় উঠতে হবে ওকে। তিনতলায় পাওয়ার এন্ড সার্ভার রুমটা খুঁজে পেতে তেমন কোন সমস্যা হলো না। দুজন গার্ড ছিলো, অ্যাসল্ট রাইফেলের দুই বুলেট কপালে নিয়ে ধরাধাম ত্যাগ করলো তারা। দ্বিতীয় কাজটা সহজ। একে একে সব কমিউনিকেশন এবং পাওয়ার লাইন বাইপাশ করে দিয়ে ক্ষান্ত দিল এতে। এমন সময় পায়ের আওয়াজ পাওয়া গেলো। দ্রুত পাওয়ার এন্ড সার্ভার রুমের দরজার কাভার নিল ধ্রু। জানে না ওদিকে কতজন গার্ড এসেছে, তবে পায়ের শব্দে মনে হলো খুব বেশী হবে না। বড়োজোর তিন থেকে চারজন। এরা কোন ঝামেলা নয় ওর জন্য, অন্তত ঝামেলা হবার কথাও নয়। বিল্ডিঙের সাধারণ কর্মচারী ওরা, আনআর্মড কমব্যাটের ব্যাপারে তেমন কোন জ্ঞান থাকার কথা নয়। হলোও তাই। অনভিজ্ঞ লোকের মতো পিস্তল বাগিয়ে হিরো হতে চাইলো এক লোক। পিস্তল ধরা হাতটা আগে বাড়িয়ে যেই রুমে প্রবেশ করেছে, এক লাথিতে তার হাতের কব্জিটা সাইজ করল ধ্রু। এক হাতে তাকে টেনে দরজার পেছনে এনে পেছনদিক থেকে তার গলায় চেপে ধরল অ্যাসল্ট রাইফেল। রাইফেলের মাজল এখনো কিছুটা উত্তপ্ত, চেঁচিয়ে উঠল সে। “কজন তোমরা?” কানের কাছে ফিসফিসিয়ে জিজ্ঞেস করল ও। “পা...পাঁচজন।” “তোমাকে সহ?” জবাব দিতে চাইলো না সে, উল্টো একটা হাত দিয়ে আঘাত করতে চাইলো ওর পেটে। উদ্দেশ্য বুঝতে সময় লাগলো না, তাই দ্রুত ছেড়ে দিল তাকে। পাছায় লাথি খেয়ে মৃত গার্ডদের একজনের উপর পড়লো সে। উঠতে গিয়েও থমকে গেলো বুলেটের আঘাতে। প্রায় সাথে সাথেই ঝাঁজরা হতে লাগলো দরজা এবং রুমের ভেতরের অংশ। বাইরের গার্ডরা গুলি করছে। মনে মনে গুনতে লাগল ধ্রু। জানে, সাধারণ কর্মচারী এরা, সাথে এক্সট্রা ম্যাগাজিন থাকার কথা নয়। খুব দ্রুতই অস্ত্রের বুলেট ফুরিয়ে যাবে। পাঁচ সেকেন্ড পর ওর ধারণাই সত্য প্রমাণিত হলো। থেমে গেলো গোলাগুলি। বোকার মতো ম্যাগাজিন শেষ করে এখন নিজেদের ভেতর চেঁচাচ্ছে লোকগুলো। ধিক্কার দিচ্ছে একজন আরেকজনকে। অ্যাসল্ট রাইফেল হাতে এবার দরজা আকড়ে দাঁড়াল ধ্রু। দুজনকে লক্ষ্য করে দুটো বুলেট পাঠিয়ে দিল নিমেষেই। ঠিক তখনই চোখের কোনে নড়াচড়াটা ধরা পড়ল। “বাল!” মনে মনে উচ্চারণ করল ধ্রু। কিছু বুঝতে পারার আগেই এল আঘাতটা। পিস্তলের বাট তুলে আক্রমণ করতে এসেছে একজন। কোন মতে মাথাটা সরিয়ে কাঁধ পেতে নিল সেটা। তারপরই ঘুরে গিয়ে পা বাঁধিয়ে দিল তার হাঁটুতে। কিকটা করেই ডিগবাজি দিয়েছে ও। ইতোমধ্যেই হাত থেকে ছুটে গেছে রাইফেল। ঘুরে দাঁড়ানোর পর পরই ওদের তিনজনের মুখোমুখি হল ও। সুসজ্জিতভাবে দাঁড়িয়ে আছে ওরা, অস্ত্র ফেলে প্রশিক্ষিত সৈন্যের মত হাত সামনে বাগিয়ে ধরেছে। যে কোন সময়ই আক্রমণ করবে। যদিও তাদের চেহারা দেখেই অনুমান করল ধ্রু, জীবনে কখনোই এরা হ্যান্ড টু হ্যান্ড কমব্যাটের ব্যাপারে কোন জ্ঞান অর্জন করেনি। “বোকার হদ্দ কোথাকার!” একটু জোড়েই উচ্চারণ করল ও। মৃদু হাসল। কঠোর ট্রেনিং পেয়েছে জীবনে, নিজ হাতে খুন করেছে জনা ত্রিশের উপর লোককে। এদের মতো অন্তত পাঁচজনকে হ্যান্ড টু হ্যান্ড কমব্যাটে সাত সেকেন্ডের মাথায় শুইয়ে দিতে সমস্যা নেই ওর। ******* জায়গাটা একটা পার্ক। কৃত্রিমভাবে কয়েক হাজার পার্ক তৈরী করা হয়েছে এই কিংডমে মানুষদের অবসর সময় কাটানোর জন্য, এটা ওরকমই। ফ্লোরার শেষকৃত্য থেকে ফেরার সময় অপরিচিত একটা নাম্বার থেকে কল আসে ধ্রুর সেলফোনে। ফোন করে এখানে আসতে বলেছে। এখানে আসার কোন ইচ্ছেই ছিলো না ওর। তবে ফ্লোরার খুন সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার কথা উল্লেখ করেছে লোকটা। লোকটা কে, তা জানা নেই। কেনই বা এমন সময়ে কল করেছিলো, সেটাও জানা নেই। তবে যেহেতু বলেছে ফ্লোরার খুন সম্পর্কে কিছু জানে, সেহেতু না এসে পারেনি। নির্দিষ্ট সময়ের এক ঘন্টা আগেই চলে এসেছে এখানে। ব্যাপারটা কোন ধরণের ফাঁদ কি না, এ বিষয়ে একটা সন্দেহ রয়েই গেছে মনের মাঝে। এ কারণে প্রথমে এখানে এসেই পুরো এলাকাটায় একটা চক্কর কেটেছে আগে। সন্দেহজনক কিছু যদিও চোখে পড়েনি, এখনো পর্যন্ত। তবে এও জানে, পার্কের ভেতরে অন্তত ওকে কেউ ফাঁদে ফেলতে পারবে না। প্রচুর নারী এবং শিশু থাকে এই জায়গাটাতে, এছাড়াও রয়েছে পার্কের নিজস্ব গার্ড এবং ল এনফোর্সমেন্ট বাহিনীর লোক। এম্বুশ করার জন্য পারফেক্ট নয় জায়গাটা। তবুও সতর্কতার মার নেই ভেবে সাথে একটা হ্যান্ডগান রাখতে ভুলেনি। আপাতত জিনিসটা কোমরে বেল্টের সাথে আটকানো আছে। আরও পাঁচ মিনিট পর এল তারা। দুজন লোক, একজন ধ্রুর সমবয়েসী, আরেকজন একটু বয়েস্ক। চুপচাপ ওর দু’পাশে এসে বসলো তারা। চুপচাপ চলে গেলো কয়েক মুহূর্ত। “ফ্লোরার মৃত্যুতে আমরা দুঃখিত,” মুখ খুললেন বয়েস্ক লোকটা। “আন্তরিকভাবেই দুঃখিত।” “আমি আপনাদেরকে কি কোনভাবে চিনি?” লোকটার দিকে চেয়ে প্রশ্ন করল ধ্রু। “নাহ,” জবাব দিলো ওর সমবয়েসী লোকটা। “আমাদেরকে আপনি চেনেননা। তবে আপনাকে চিনি, খুব ভালোভাবেই। ইনফ্যাক্ট, গত মাস দুয়েক ধরে আপনার ব্যাপারে খোঁজখবর নিচ্ছি আমরা।” “এর ভেতরেই এমন ঘটনা ঘটে যাবে, তা আমাদের কল্পনাতেও ছিলো না।” আন্তরিক মনে হলো বয়েস্ক লোকটার গলা। “কে আপনারা? ফোনে বললেন ফ্লোরার হত্যা সম্পর্কে তথ্য আছে আপনাদের কাছে।” “এ কারণেই আপনাকে ফোন করেছিলাম,” সমবয়েসী লোকটা বলে উঠলো। “আমি সায়লর। আর ইনি আমার চীফ, বেন। আমরা একটা প্রতিষ্ঠানে কাজ করি, নাম ‘অর্গানাইজেশন’। আমাদের কাজ রিপারদেরকে প্রতিরোধ করা।” “রিপার?” ভ্রু জোড়া কুঁচকে উঠলো আমার। “ভয়ঙ্কর একটা সংস্থা। একইসাথে বর্বর, নৃশংস এবং সাইকোপ্যাথদের গ্রুপ বলা যায় একে। এদের উদ্দেশ্যটাও অদ্ভুত, নিজেদেরকে আরও উন্নত করে গড়ে তোলা।” “কিভাবে?” “নতুন করে কিছু বলার নেই আপনাকে। ফোর্থ ওয়ার্ল্ড ওয়ারের তিনশো বছর পর পৃথিবীর বাইরের স্যাটেলাইটগুলো থেকে এখানে নেমে আসি আমরা- এটা তো সবাই জানে। সবাই এও জানে আমরা মানুষরা আজ দুটো ভাগে বিভক্ত। সাধারণ মানুষ, যারা পুরনো মানুষ বা লালরক্ত বিশিষ্ট পৃথিবীর আদি মানবদের বৈশিষ্ট্য বহন করে চলেছে, এবং যিপার, যারা রেডিয়েশনের প্রভাবে কৃত্রিমভাবে বিবর্তিত হয়ে সবুজ রক্ত বিশিষ্ট প্রাণীতে পরিণত হয়েছে।” “এখানে রিপাররা আসছে কিভাবে? আর ফ্লোরার মৃত্যুর সাথেই বা এদের সম্পর্ক কি?” “সম্পর্ক আছে,” বলল বেন। “রিপাররা পারফেক্ট হিউম্যান বডি চাচ্ছে, যাদের সাহায্যে তারা নিজেদেরকে আরও উন্নত করে তুলতে পারবে।” ব্যাখ্যার ভঙ্গীতে বলল সায়লর। “আমরা যারা যিপার, তাদের বিবর্তিত হবার প্রক্রিয়াটা প্রাকৃতিক ছিলো না। অতিরিক্ত রেডিয়েশনের ফলে খুব দ্রুত মিউটেটেড হয়ে গেছি, সবুজ রক্তের অধিকারী এ কারণেই আমরা। কিন্তু এতে আমাদের কোন হাত নেই, পুরো কৃতিত্ব বা দোষ যাই বলুন, সবই আমাদের পূর্বপুরুষদের। চতুর্থ বিশ্বযুদ্ধে ইচ্ছেমতো পারমাণবিক বোমা ব্যবহার করেছিল তারা। যার ফলে নিজেরাও মারা গেছে, আমাদের বিবর্তনের প্রক্রিয়াতেও আঙ্গুল লাগিয়ে গেছে। বর্তমানে তাই পৃথিবীতে আমাদের সংখ্যা বেশী। প্রতি হাজারে মাত্র পাঁচজন আদি মানুষের জন্ম নেয়, বাকিরা যিপার হিসেবে জন্মাচ্ছে।” “এগুলো জানি আমি।” বিরক্ত কন্ঠে উচ্চারণ করল ধ্রু। একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল সায়লর। আবার শুরু করল, “তাহলে গোটা বিষয়টা সংক্ষেপে সারছি। রিপাররা আসলে যিপারদেরই একটা গ্রুপ, যারা চাইছে আমাদের যিপারদের চেয়েও উন্নত হতে। এক কথায় আরও বিবর্তিত হতে চায় তারা, চায় আরও এডভান্সড হতে। কারণটাও অনুমান করা কষ্টকর নয়। আমরা যিপাররা আদি মানুষদের চেয়ে সবদিক থেকেই উন্নত। ওরা চাচ্ছে পারফেক্ট হিউম্যান, সেটা আদি মানুষ বা যিপার- যে কারও ভেতর থেকেই আসতে পারে। এন্ড দে নিড সাম... তারা এটাকে বলে সোর্স কোড, যা আছে শুধু হিউম্যান ব্রেইনের একটা নির্দিষ্ট অংশে। হিউম্যান ব্রেইনকে এখনো পুরোপুরিভাবে বুঝে উঠতে পারিনি আমরা কেউই। ব্রেইনের এই অংশটা খুবই ক্রিটিক্যাল। এই কোডটা কোন মানুষ থেকে পেতে চাইলে সে কোনভাবেই বাঁচবে না। এই কারণেই তারা খুন করছে যিপার এবং আদি মানুষ- উভয়কেই। ওরা চাচ্ছে যিপারের ব্রেইন এবং আদি মানুষের ভেতর থাকা আদিম শক্তি। এ কারণেই মানুষের বডি থেকে ব্রেইনকে আলাদা করে নিয়ে যাচ্ছে। আমরা, মানে অর্গানাইজেশন চাচ্ছি ওদেরকে থামাতে।” “এ বিষয়ে সরকার কিছু করছে না কেন?” “রিপারদেরকে রুখতে সরকারই তৈরী করেছে অর্গানাইজেশন। আমরা সরকারী লোক। গত চার বছর ধরে লেগে আছি রিপারদের পেছনে। কিন্তু রিপাররা খুবই সুসংগঠিত, আর তাছাড়া তাদের কার্যক্রমও সুবিস্তৃত। রিপাররা ঠিক কবে সংগঠিত হয়েছে এখনো জানতে পারিনি, তবে এরা যে অনেক পুরনো সংগঠন তা তাদের কাজের ধারা দেখলেই বোঝা যায়। ধীরে ধীরে কাজ করছে এরা, কারও কোন সন্দেহের উদ্রেক না করেই। কত বছর ধরে, কে জানে! আর তাছাড়া এখন পরিস্থিতিটাই এমন যে যা খুশী তাই করছে মানুষ। উগ্রতা বাড়ছে, ইচ্ছে করলেও সরকার সবাইকে নিরস্ত্র করতে পারছে না।” “এসব কথা আমাকে বলছেন কেন?” “আপনার কাছে আসার আগে আপনাকে নিয়ে স্টাডি করেছি। আমরা জানি আপনি কে এবং কি কি কাজে আপনি কেপেবল। আমরা বেশ কয়েকদিন ধরেই চাইছিলাম আপনাকে রিক্রুট করতে। কিন্তু এরই ভেতর আপনার জীবনে একটা এক্সিডেন্ট ঘটে গেছে। একেবারে লাষ্ট মোমেন্টে খবর পেয়েছিলাম আমরা, রিপাররা আপনার স্ত্রীর পেছনে লেগেছে, কিন্তু ওখানে পৌঁছতে পৌঁছতে অনেক... অনেক দেরী হয়ে গেছিল আমাদের।” “এখন আমাকে কি করতে বলছেন?” “ইয়ে... আসলে... একটু আগেই বলেছি আপনাকে রিক্রুট করার ইচ্ছে আছে অর্গানাইজেশনের। এও জানি এমন মুহূর্তে আপনাকে এমন অফার দেওয়াটা দৃষ্টিকটু দেখা যায়। কিন্তু এছাড়া আসলে উপায়ও নেই। দিনকে দিন রিপারদের দৌড়াত্ন বেড়েই যাচ্ছে। কারও পরোয়া করছে না এখন তারা। দু’মাস আগেই তিন দেশের তিন প্রেসিডেন্ট খুন হয়ে গেছে তাদের হাতে। প্রতি সপ্তাহেই খুন করছে ওরা। এই খবরটা পাবলিকও করতে পারছি না আমরা... বুঝতেই পারছেন, মানুষ উদ্বিগ্ন হয়ে যাবে। এবং এরফলে একটা ক্রাইসিস শুরু হবে। ইকোনমি থেকে শুরু করে মানুষের সামাজিক জীবনেও এটা প্রভাব ফেলবে।” কয়েক মুহূর্ত চুপচাপ রইল ধ্রু। কি বলবে ঠিক বুঝতে পারছে না। ওর কাঁধে হাত রাখল সায়লর। “আপনাকে এখনই কিছু জানাতে হবে না। সময় নিন। আমরা পরে কখনো যোগাযোগ করব আপনার সাথে।” উঠে দাঁড়াল লোক দুজন। মৃদু নড করে ঘুরে হাটা শুরু করল। নিজের মাথা দু হাতে চেপে রাখল ধ্রু। ভেতরে অগ্নিশিখা জ্বলছে। লোকগুলোর কথা যদি সত্য হয়, তাহলে রিপারদের ছাড় নেই ওর হাত থেকে, সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে ইতোমধ্যেই। প্রয়োজন হলে নরক পর্যন্ত যাবে রিপারদের তাড়া করে। এরপর থেকেই শুরু হলো ধ্রুর অর্গানাইজেশনের সাথে কাজ করা। একের পর এক রিপারদেরকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দিতে থাকল ও। এর আগে কাজটা ছিলো ওর জন্য পেশা, আর এখন...


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১১৬ জন


এ জাতীয় গল্প

→ দ্য ওআরজিঃজিপার-০২

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now