বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
দ্য ওআরজিঃজিপার
কন্সপিরেসি সাই ফাই থ্রিলার
আরিয়ান শুভ
পর্ব ১
ডিসেম্বর ১৯৯৭ A4 (আফটার ওয়ার্ল্ড ওয়ার ফোর)
সেন্ট্রাল সিটি, কিংডম অফ প্যাসিফিয়া
বিল্ডিংটা বহুতল। পুরোটা কাচে ঘেরা, যদিও বাইরে থেকে ভেতরের কোন দৃশ্য চোখে পড়ে না একদমই।
ফোঁটায় ফোঁটায় রক্ত পড়ছে হাতের ছুড়িটা থেকে। হাঁটুর কাছটায় প্যান্টের কাপড়ে মুছে নিল সেটা। কাঁধ থেকে তুলে নিল অ্যাসল্ট রাইফেল। চেক করে আবার আগের জায়গাতে রেখে এগোল।
প্রথমেই মেইনগেটটা লাগিয়ে দিল। সাথে আনা বড় বড় দুটো ইলেক্ট্রনিক লক লাগিয়ে দিলো সেটাতে। এগুলো খুলতে গেলে এখন ষোল অংকের দুটো সংখ্যা প্রয়োজন হবে পাসওয়ার্ড হিসেবে। চট করে পাসওয়ার্ডটা ক্র্যাক করা সহজ নয়। কয়েক লক্ষ্য ভ্যারিয়েশন আছে।
অবশ্য এটা তেমন কোন সমস্যা নয় ধ্রু’র জন্য। এর আগেও এখানে এসেছে। এবং পাসওয়ার্ডটাও মনের পর্দায় ভালোভাবেই আঁটা আছে।
কাজ শেষ করে ঘুরলো। মেঝেতে তীক্ষ্ণদৃষ্টি রেখে এগিয়ে যাচ্ছে।
কিছুক্ষণ খোঁজার পরে অবশেষে পেল কাঙ্ক্ষিত সাইন। মেঝেতে পড়ে থাকা কয়েকটা সবুজ রঙের ফোঁটা। হাঁটু গেঁড়ে বসে চেক করল। খুশীতে মনের ভেতরে জোয়ার বয়ে গেল যেন।
রক্ত এগুলো! দানবগুলোর রক্ত!
হাতের অ্যাসল্ট রাইফেলটা শক্ত করে ধরল। যে কোন সময় দেখা দেবে সবুজ রক্তের মালিকের স্যাঙ্গাৎরা। খুব বেশীদুর এগিয়ে যেতে পারেনি সে, কারণ রক্তের ফোঁটাগুলো এখনো কাঁচা।
হলওয়ে ধরে এগুতে শুরু করল। রক্তের ফোঁটাগুলোকে ফলো করছে।
দানবটাকে শেষ না করা অবধি কোন শান্তি নেই ওর। বর্তমানে এটাই ওর একমাত্র ধ্যান-জ্ঞান। শুধু একটা জিনিসই জানে, দানবগুলোকে শেষ করে দিতে হবে। যেভাবেই হোক তাদেরকে ট্র্যাক করে একটা একটা করে ধরে বের করে নিতে হবে ওদের জীবনীরস। তা না হলে এই পৃথিবীতে যে অল্প সংখ্যক হোমো সেপিয়েন্স এখনো বেঁচে আছে, তাদেরকে হারাতে হবে।
এটা একটা যুদ্ধ! ইট’স আ ব্লাডি ওয়র!
যদিও গল্পটা অন্যরকম হতে পারতো, হতে পারতো ওর রিভেঞ্জ স্টোরি। কিন্তু এটা তা নয়।
গল্পটা ভিন্ন। এটা যুদ্ধের গল্প এবং যুদ্ধটা টিকে থাকার। সারভাইভালের ওয়র এটা।
******
জুলাই ১৯৯৫ A4
ধীরে ধীরে চোখ মেলল ধ্রু। ভোরের কোমল রোদ এসে ঝাঁপিয়ে পড়েছে চোখের উপর। কোনমতে বিছানা থেকে শরীরটা তুলল। চোখ দুটো জ্বলছে খুব। অতিরিক্ত কম ঘুমানোর ফল এটা।
রাত সাড়ে তিনটা পর্যন্ত বাইরে ছিল ও। ফ্ল্যাটে পৌঁছে ভেবেছিল হালকা রেষ্ট নিয়ে কিছু একটা বানিয়ে খাওয়াদাওয়া করবে। কিন্তু বিছানা পর্যন্ত পৌঁছানোর মতো শারীরিক বা মানসিক শক্তি কোনটাই ছিল না। বেডরুমের সোফায় শরীর এলিয়ে দিতেই ঘুমিয়ে পড়েছিল। আর এখন উঠল, বিছানা থেকে।
কাজটা কার বুঝতে অসুবিধে হলো না।
“ধ্রু, ঘুম ভেঙ্গে গেছে তোমার?” মিষ্টি একটা কন্ঠ ভেসে এল পেছন থেকে।
বিছানার যেদিকে মাথা রাখে ধ্রু, সেদিকেই দরজাটা। হাসিমুখে সেখানে দাঁড়িয়ে আছে ধ্রু’র স্ত্রী ফ্লোরা। ভেলভেট কালারের একটা পোষাক পড়ে আছে সে। ভেজা চুলগুলো ছড়িয়ে আছে কাঁধে।
“হুম,” পাল্টা হাসল ধ্রু।
বিছানার পাশে এসে দাঁড়ালো ফ্লোরা। “শুনেছো, গত রাতে তিন কিংডমের প্রেসিডেন্টদেরকে খুন করা হয়েছে। নোভাডা, নর্থ ইউনিয়ন আর ক্রেডিয়ার প্রেসিডেন্ট এসাশিনেট হয়েছেন।”
এক হাতে ওর কোমড় জড়িয়ে ধরে বিছানায় বসিয়ে দিল ধ্রু। “বিশ্বাস করো, এর পেছনে আমার হাত নেই। আমি গত রাতে শুধু রেকি করা নিয়েই ব্যস্ত ছিলাম।”
গম্ভীর শোনালো ফ্লোরার কন্ঠ। “তুমি বলেছিলে এই কাজ ছেড়ে দেবে।”
স্ত্রীর পেটে হাত রাখল ও। “আর দুটো... বিলিভ মি।” একটু থেমে আবার শুরু করল। “জানি, কাজটাকে তুমি পছন্দ করো না। কিন্তু এছাড়া আর করার কিছু নেই-ও। এখন সময়টা কঠিন, জব পাওয়াটা স্বপ্ন সত্যি হবার মতোই অসম্ভব ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। ছোট্ট একটা কোম্পানী দাঁড় করাতে গেলেও যে ক্যাপিটাল দরকার, সেটুকু নেই আমাদের। এসাশিনেশনে আজকাল মিলিয়ন মার্কও পাওয়া যায়না। অথচ অন্তত ত্রিশ লাখ মার্ক না হলে... আমার কাছেও এত মার্ক নেই। আর তাছাড়া, জুনিয়র ধ্রুর কথাও তো ভাবতে হবে, তাই না?”
ধ্রুর ঠোঁটে হাত রাখলো ফ্লোরা। অনুনয়ের সুর ফুটে উঠলো ওর কন্ঠে, “আর দুটো... রাইট?”
“আই প্রমিজ।” ওকে জড়িয়ে ধরল ধ্রু। চুমু খেলো ঠোঁটে। “এই দুটোই হবে আমার শেষ কাজ। তারপর ফিফথ ওয়ার্ল্ডের কোন দেশে গিয়ে ছোট্ট একটা কোম্পানী শুরু করবো। আমাদের বাচ্চাকে সুন্দর একটা পরিবেশে বড় করবো।”
“এনাইডা কেমন হবে? শুনেছি কিংডমটা নাকি স্বপ্নের মতো সুন্দর। এখনো ফার্স্ট ওয়ার্ল্ডের কোন কিংডমের নজর পড়েনি ওখানে। সময়মতো ওখানে পাড়ি দিয়ে বড় কোন এলাকা ক্লেইম করতে পারলে ভালো হবে আমাদের জন্য। সুন্দর একটা পরিবেশ হবে জুনিয়র ধ্রুর জন্য।”
“আমি খোঁজ নেবো এ সম্পর্কে।” ফ্লোরার গালের দু’পাশে চাপ দিয়ে বলল ধ্রু।
হাসি দিলো ফ্লোরা। স্বর্গীয় সে হাসি। এমন হাসির জন্য পৃথিবীর যে কাউকেই খুন করতে পারে ধ্রু।
*****
অ্যাসল্ট রাইফেল হাতে সিঁড়ির গোড়ায় পৌঁছে গেছে ধ্রু। ফোর্থ ধাপে দেখা যাচ্ছে রক্তের একটা ফোঁটা।
প্ল্যানটা সাজিয়ে নিয়েছে আগেই। গত পনেরোটা দিন এর পেছনেই কাটিয়েছে। এই বিল্ডিংটার ব্লুপ্রিন্টটা ভালোভাবে স্টাডি করেছে। এছাড়া গত চারদিন এই বিল্ডিঙের পাশেই থেকেছে, সব পর্যবেক্ষণ করেছে।
প্ল্যানের প্রথম অংশ ঠিকভাবেই সফল হয়েছে। এখানকার চীফকে স্যাবোটাজ করেছিল তারই বিল্ডিঙের এক ব্লক দূরে। নিজের বাসায় ফিরছিল তখন বুড়ো। অ্যাম্বুশের মুখে পড়ে পিছু হটতে বাধ্য হয় সে। আবার এসে সেঁধিয়ে গেছে এই বিল্ডিঙে। আহত সে, আহত হয়েছে ওর হাতের অ্যাসল্ট রাইফেলের বুলেটেই।
এবার ওর টার্গেট তিনতলার বিশাল পাওয়ার এন্ড সার্ভার রুমটায়। পুরো বিল্ডিঙের পাওয়ার কন্ট্রোল করা যায় এই রুম থেকে। ওখানে ঢুকে প্রথমে পাওয়ার বাইপাশ করে দিতে হবে। এটা করা সম্ভব হলে পুরো বিল্ডিঙের সমস্ত ইলেক্ট্রনিক যন্ত্রপাতির নিয়ন্ত্রণ চলে আসবে ওর হাতে।
দ্রুত পায়ে ধাপগুলো পার হল। ঘুরে উপরের ধাপে উঠতেই ফার্স্ট ফ্লোরের গোড়ার দিকে দেখা দিল দুজন লোক। হাতে পিস্তল তাদের।
হাতের অ্যাসল্ট রাইফেলটা সোজা করাই ছিলো। বিন্দুমাত্র দেরী না করে ট্রিগার টানল ধ্রু। পরের ন্যানো সেকেন্ডে রাইফেলের মাথাটা একটু বাঁকিয়ে আবার ট্রিগার টিপে দিল। প্রায় একইসাথে মেঝেতে পড়ল লোক দুজন।
লাশগুলোকে টপকে ফার্স্ট ফ্লোরে প্রবেশ করল ও। চোখের কোণায় নড়াচড়া ধরা পড়তেই রাইফেল ঘোরাল ওদিকে।
“শীট,” গাল পাড়ল নিজের মনেই। দেরী হয়ে গেছে।
লাথিটা চলে এসেছে। পায়ের জুতোটা পড়লো ওর বা হাতের কব্জির ঠিক নিচে, যে হাতটা দিয়ে ধরে রেখেছে অ্যাসল্ট রাইফেলের মাজল। খট করে শব্দ হলো একটা। ঝাঁকি লেগে চাপ লেগে গেল ট্রিগারে। লাফিয়ে উঠল অস্ত্রটা। ছুটে গেল হাত থেকে। মেঝেতে মাথা কুটল টার্গেটহীন বুলেট।
পরের লাথিটাও চলে এসেছে ইতোমধ্যেই। কোনমতে কাঁধ পেতে নিল সেটা। পুরো শরীরটা যেন কেঁপে উঠল ওর।
এতক্ষণে লোকটার দিকে নজর দেবার সময় পেল ও। মোটামুটি বিশালদেহী বলা চলে একে। যেমন লম্বা, তেমন পাশ। সাড়ে ছয় হবে, মনে মনে মাপল। দু’ হাত সামনে বাগিয়ে আসছে।
শেষ মুহূর্তে লোকটার হাতের কাছ থেকে সরে যেতে সক্ষম হল ধ্রু। ঘুরেই লাথি ঝাড়ল দানবটার হাঁটু লক্ষ্য করে। নিমেষেই পা’টা উঁচু করল লোকটা। ওর জুতোর এক ইঞ্চি নিচ দিয়ে বাতাস কাটল ধ্রুর লাথি। ভারসাম্য হারাল বুকে লোকটার কাঁধের ধাক্কায়। পিঠ দিয়ে মেঝেতে পড়ে গেল। মাথাটা ঠুকে গেল মেঝেতে।
ট্রেইনড মাল!
চোখে অন্ধকার দেখছে মনে হল ওর কাছে। চারদিক কালো কালিতে যেন ভরে যাচ্ছে। এরই ভেতর গলায় লোকটার দু’হাতের চাপ অনুভব করল। শরীর ঝটকা দিতে চাইল, কিন্তু পুরো শরীর ওর উপর উঠিয়ে দিয়েছে বিশালদেহী। মেঝের সাথে গেঁথে ফেলেছে ধ্রুকে।
কিছুটা ঘাবড়ে গেল ধ্রু। খানিকটা ভয় এবং কিছুটা আশঙ্কাও জেঁকে বসল মনে।
ধীরে ধীরে চাপ বাড়াচ্ছে লোকটা। ইচ্ছে করলেই ওর কন্ঠার হাড় ভেঙ্গে দিতে পারে সে, স্পষ্ট বুঝতে পারছে। মোষের মতো শক্তি ধরে লোকটার শরীরে। তবে সেটা করতে চাচ্ছে না বিশালদেহী, অন্তত এমনটাই মনে হল ধ্রুর কাছে। ধীরে ধীরে কষ্ট দিয়ে মারতে চাইছে।
কালো কালি যেন আরও কালো হচ্ছে চোখের সামনে। জমাট কালো হয়ে উঠেছে পৃথিবীটা ওর।
দম ফুরিয়ে আসছে ওর। পুরো শরীরটা নিথর হয়ে যাচ্ছে ধীরে ধীরে। ফুসফুসে যেন আগুণ ধরে যাচ্ছে। রাগে ভয়ে চোখ দিয়ে পানি বেরিয়ে আসছে।
*******
সেপ্টেম্বর ১৯৯৫ A4
মনটা ফুরফুরে লাগছে আজকে ধ্রুর। দুটো কাজের প্রথমটা সমাধা করেছে আজকে। হাতে এসেছে কড়কড়ে সাত লাখ মার্ক। দ্বিতীয় কাজটা শেষ হলে পাওয়া যাবে আরও সাত লাখ।
ওর কাছে আগে থেকে থাকা মার্ক আর এগুলো হিসেব করলে টেনেটুনে তেইশ লাখ মার্ক হবে। বাকিটা নিয়ে পরে চিন্তা করলেও চলবে। কোনভাবে যোগাড় করে ফেলতে পারবে সেগুলো। তারপর ধ্রু, ফ্লোরা আর অনাগত ধ্রু জুনিয়র মিলে পাড়ি জমাবে এনাইডার পথে।
এনাইডা সম্পর্কে গত দেড় মাসে ভালোভাবে খোঁজ নিয়েছে ও। চমৎকার একটা দেশ বলা যায় এটাকে। কোন দূষণ নেই ওখানে। এখনো ওখানকার মানুষ বসবাস করছে প্রকৃতির সাথে একাত্ন হয়ে।
ফ্লোরার সাথে আলাপ করে ওখানে বিশ মিনোট জায়গা ক্লেইম করার জন্য এপ্লাই করেছে। জায়গাটা একটা ছোট পাহাড় এবং তার চারপাশে অনেকটা জঙ্গল নিয়ে গড়ে উঠেছে। একটা শাখানদীও চলে গেছে পাহাড়টার পাশ ঘেঁষে। সুন্দর পরিবেশ। অনেকটা স্বপ্নের মত।
ফ্লোরা আর ও একমত হয়েছে, পাহাড়টার উপর ছোট্ট একটা কটেজ তৈরী করবে। সিন্থেটিক জিনিসপত্র আজকাল খুব চলছে। তবে ফ্লোরার পছন্দ প্রাকৃতিক জিনিস। আশেপাশে জঙ্গলের অনেকটা আছে ক্লেইম করা জমিটাতে। সেখান থেকে বড় বড় বেশ কিছু গাছ কেটে তৈরী করবে কটেজ। নিচতলায় পোলট্রি খামার হবে একটা, দু’তলায় হবে চারটে রুম। একটা ওদের মাষ্টার বেডরুম, একটা স্টাডি, একটা জুনিয়র ধ্রু বড় হলে থাকবে, অন্যটা ড্রয়িং এবং ডাইনিং হিসেবে ব্যবহার করবে। একটা ছোট্ট আউট হাউজও থাকবে। বন্ধুবান্ধবরা যদি কখনো বেড়াতে যায় ওদের ওখানে, তাহলে থাকতে পারবে।
হাতের আর্টিফিশিয়াল ফুলগুলোর দিকে চাইল ধ্রু। এক তোড়া নিয়েছে দেড় হাজার মার্ক। এগুলো ফ্লোরার জন্য নিয়েছে। আজকাল আসল ফুল পাওয়া যায়না বললেই চলে ফার্স্ট কিংডমগুলোতে। যেগুলো পাওয়া যায়, সেগুলোর দাম পড়ে প্রায় মিলিয়ন মার্কের কাছাকাছি, তাও বিভিন্ন কেমিক্যাল দিয়ে জীবিত রাখা হয় সেগুলো।
চতুর্থ বিশ্বযুদ্ধ শেষ হয়েছে প্রায় দু’ হাজার বছর হতে চললো। যুদ্ধের সময় পৃথিবীর বিভিন্ন বোমা ব্যবহার করার ফলে সারা পৃথিবী ভরে গেছিলো রেডিয়েশনে। ধীরে ধীরে কমে এসেছে রেডিয়েশন।
যুদ্ধের আগেই যারা বিভিন্ন মহাকাশ গবেষণা সংস্থার স্যাটেলাইটগুলোতে ছিলো, তারা ছাড়া পৃথিবীর বুকে আর কেউই ছিলো না। যুদ্ধ শেষ হবার তিনশো বছর পর আবার পৃথিবীতে নেমে আসে তারা। তখনও পৃথিবীর বায়ুমন্ডল থেকে পুরোপুরি বিদায় নেয়নি রেডিয়েশন। এর ভেতরও পৃথিবী নিজেকে নতুন করে সাজানো শুরু করেছিলো। ঐ পরিবেশেই নতুন করে পৃথিবীতে কলোনি গড়েছে মানুষ।
ধীরে ধীরে ভাগ হয়ে গেছে পৃথিবীর মানুষ। বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে গড়ে তুলেছে নতুন কলোনী। ধীরে ধীরে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন দেশ, আবার নতুন করে বিজ্ঞান নিয়ে গবেষণা করেছে তারা। কাজ করেছে প্রকৃতি নিয়ে, কাজ করেছে কলকারখানা নিয়ে। ধীরে ধীরে গড়ে তুলেছে আবার পৃথিবীকে।
লিফট থেকে ধীরপায়ে নেমে এলো ধ্রু। পৌঁছে গেছে ফ্ল্যাটের সামনে।
পকেট থেকে কীকার্ড বের করে দরজার পাশে রাখা প্যানেলের উপর রাখল দু’ সেকেন্ড। তারপর সেটা আবার পকেটে পুরে প্যানেলে বুড়ো আঙ্গুলটা চেপে ধরল। এক সেকেন্ড পর খুট করে একটা শব্দ হল। দরজাটা খুলতেই চমকে গেল। মুহূর্তেই ওর সামনে ঝুলে পড়ল একটা সাদা পর্দা।
দ্রুত এক পা পিছিয়ে গেল ও। সাদা রঙের পর্দাটা দু হাতে সরানোর চেষ্টা করল। হাত থেকে ইতোমধ্যেই ছেড়ে দিয়েছে ফুলের তোড়াটা। ঠিক তখনই কি যেন একটা আঘাত করল ওর মাথায়। অস্ফুট একটা চিৎকার বের হয়ে এল ধ্রুর গলা বেয়ে। মাথায় যেন বিস্ফোরিত হয়েছে কোন আগ্নেয়গিরি।
ধাতস্ত হতে সময় লাগল । কতক্ষণ সাদা চাদরটা সহ পড়ে ছিল মেঝেতে, বলতে পারবে না। ধীরে ধীরে শক্তি ফিরে এল শরীরে। উঠে বসে প্রথমেই সরাল চাদরটা। মাথাটা প্রচণ্ডরকম ভারী মনে হচ্ছে নিজের কাছে।
কোন মতে দরজা টপকে ফ্ল্যাটের ভেতরে প্রবেশ করল। ফ্ল্যাটের ভেতরে নজর যেতেই চমকে উঠল।
লাল রক্তের পুকুরের উপর উপুর হয়ে পড়ে আছে ফ্লোরা।
বিস্ফোরিত হল যেন ধ্রুর চোখ দুটো। হা হয়ে দাঁড়িয়ে রইল ওখানেই পাঁচ সেকেন্ড। তারপর ধীরে ধীরে এগিয়ে গেল স্ত্রীর লাশের দিকে।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now