বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

দ্য অ্যাডভেঞ্চার অফ ডক্টর গ্রিফিনোঃকার্থেজের দানব ফ্যান্টাসি ৯ম পর্ব

"ফ্যান্টাসি" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X দ্য অ্যাডভেঞ্চার অফ ডক্টর গ্রিফিনোঃকার্থেজের দানব ফ্যান্টাসি ৯ম পর্ব জাকিউল অন্তু ডেডলী মার্কসম্যান এবং ডক্টর গ্রিফিনো অর্থাৎ আবির আর আমি উড়ে চলেছি ঘণ্টাধ্বনি অনুসরণ করে। কি এক জাদু আছে ঐ ঘন্টার প্রতিটি শব্দের কম্পনে। হঠাৎ মাথার ভেতর ওডিলির গলার আওয়াজ শোনা যেতে লাগলো। খেয়াল করে দেখি শুধু আমি না,আবির ও ওডিলির গলা শুনতে পাচ্ছে। টেলিপ্যাথি হচ্ছে দুজনের সাথে ওডিলির করা কনফারেন্স কলের মতন। "ডক্টর গ্রিফিনো দয়া করে ওদিকে যাবেন না। আপনার সঙ্গীকে নিয়ে এখুনি ফিরে চলুন ঐ দিঘীর জলে। তারপর ডুব দিয়ে" বাথ অব এন্টোনিনাস " এর পথ ধরে সোজা কার্থেজ নগরীতে। তারপর নিজদেশে। আপনাদের অভিযান শেষ। মারাত্মক একটা ভুল হয়ে গেছে আপনাদের দ্বারা। দয়া করে আমার কথা অনুযায়ী কাজ করুন।" আমরা তো অবাক। ওডিলি আসলে বলতে চাইছে টা কি?এখন হাজার বারন করলেও তো ফিরে যেতে পারবোনা। কারন আমার পিঠের ডানাদুটো যেন ঐ ঘণ্টাধ্বনির উৎস অনুসন্ধান করার জন্য প্রবলভাবে উৎসাহিত হয়ে পড়েছে। এখন পিছু হটা অসম্ভব। আমি সম্মোহিতের মত ডানা ঝাপটে এগিয়ে চলেছি। আবিরের মুখভঙ্গিতেও ওডিলির উপদেশ না মানতে চাওয়ার ভাব ফুটে উঠেছে। তাছাড়া আমরা কি ভুল করেছি?যতটুকু মনে পড়ে একটা ভয়ংকর দানবকে হত্যা করে একশ্রেনীর বাচ্চাদের মত দেখতে অসহায় প্রানীদের সহায়তা করেছি,ভুল কিছু তো করিনি। ঐ ঘন্টার শব্দ অনুসরণ করার পেছনে আরেকটা কারন আছে। আমাদের ধারনা গ্রিম্পিরা বিপদে পড়ে ঘন্টা বাজিয়ে আমাদের ডাকছে। হয়তো ওটাই ওদের নতুন আশ্রয়স্থল।এটাও মনে হচ্ছে দিঘীর পাড়ে যে মানুষের কঙ্কাল দেখেছি তাদের করুন মৃত্যুর সাথেও এই ঘন্টার সম্পর্ক আছে। ঘন্টা টা ঢং ঢং করে বেজেই চলেছে। আমরা ওখানে পৌছুনোর আগপর্যন্ত যেন থামবেনা ওর আকর্ষক শব্দ। সাধারণ ঘন্টা পরপর এতবার বাজলে কানে তালা লেগে যেত কিন্তু ঘন্টার সুমধুর তাল এবং সুর এই প্রথমবার শুনছি। তাই এই আকর্ষণ। আমরা প্রায় এসে পড়েছি ঘন্টার উৎসের কাছাকাছি। দূর থেকে দেখা যাচ্ছে উজ্জ্বল নীল আর সোনালী রঙের মিশেলে গড়া অতি সুন্দর একটি প্যাগোডা। নিশুতি রাতের অন্ধকার ভেদ করে জ্বলজ্বল করে জ্বলছে প্যাগোডার বাইরের আবরণ। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের এই অপরুপ উপাসনালয় এখানে এলো কি করে? তাহলে কি গ্রিম্পিটালে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী মানুষের বসবাস আছে?যদিও দিঘীর পাড়ে ও মানুষের টাটকা কঙ্কাল দেখেছি তবুও একটা বিষয় খটকা লাগছে। এই দৈত্যদানব ভর্তি এলাকায় সাধারণ মানুষ টিকে আছে কিভাবে? আমাদের নাহয় কিছু বিশেষ ক্ষমতা আছে বলে আমরা এখনো বিপদসীমার বাইরে আছি কিন্তু সাধারণ মানুষের বংশ নাশ করার জন্য তো এই দৈত্যদের একদিনের বেশী সময় লাগবেনা । এটাও তো হতে পারে সামনে যেটা দেখতে পাচ্ছি সেটা আসলে প্যাগোডা নয়। বরং প্যাগোডার মতন দেখতে অন্যকিছু। আমি মানবসমাজ থেকে এসেছি বলে ওটাকে প্যাগোডার সাথে গুলিয়ে ফেলেছি।যাই হোক, সেটা ঐ চাকচিক্যময় ভবনে ঢুকলেই জানা যাবে। আবার মাথার অভ্যন্তরে ওডিলির গলা শুনতে পেলাম দুই সহচর। "আপনাদের অনুরোধ করছি স্কেলিডেথের মরনঘন্টার মোহে জড়াবেন না। যে সুন্দর ভবনের দিকে আপনারা যাচ্ছেন ওটাই বিস্ময়কর "স্কেলিডেথ"! গ্রিম্পিটালের কোন এক অদ্ভুত রহস্য আবৃত জায়গা এটা । যতটুকু জানতে পেরেছি তা থেকে বুঝেছি গ্রিম্পিটালে একসময় মানুষের মত দেখতে একশ্রেনীর প্রানী বসবাস করতো। শুধু বসবাস বললে ভুল হবে বলা যেতে পারে রাজত্ব করতো। তাদের সাম্রাজ্য ছিলো বিশাল এই গ্রিম্পিটাল জুড়ে। গ্রিম্পিরা ছিলো তাদের পোষা প্রানীর মত। পৃথিবীর সাধারণ মানুষ যেমন করে বেড়াল বা কুকুরছানা পোষে ঠিক তেমনি পোষা হতো গ্রিম্পিদের। তখন এখানকার দানব রা উলটো মানুষরূপী ঐ প্রানীদের ভয় পেতো কারন তৎকালীন সাহসী রাজা এন্ডুইন মাঝেমধ্যেই দানব শিকারে বেরুতেন। শিকার করতেন তার মানে এই না যে রাজা এন্ডুইন বা প্রজারা কেউ দানবদের মাংস খেতো। দানব শিকার করাটা একটা নেশায় পরিণত হয়ে গিয়েছিলো রাজার। প্রজাদের মধ্যেও সে নেশা ছড়িয়ে পড়েছিলো মহামারীর মতন। প্রজাদের কেউ দানব মারতে পারলেই তাকে রাজদরবার থেকে পুরস্কৃত করা হতো।অবশেষে দানবরা তাদের আবাসস্থল সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছিল অসীম সাহসী এবং শক্তিধর গ্রিম্পিটাল অধিবাসীদের থেকে অনেক দূরে। রাজ্যের এক কোনায়। যেখানে গ্রিম্পিটালবাসীরা সহজে পৌঁছুতে পারবেনা। এভাবেই গ্রিম্পি পুষতে থাকা মানবসদৃশ এই প্রানীদের জীবন কেটে যাচ্ছিলো আনন্দে। কিন্তু একদিন হঠাৎ শোনা গেলো গ্রিম্পিটালের যে কোনায় দানবদের বসবাস তার একটু দূরেই একটা অসাধারণ সৌন্দর্যময় ভবন আপনা থেকেই গড়ে উঠেছে। প্রথমে অনেকেই সেটাকে দানবদের বানানো ফাঁদ বলে ধরে নিলো যেন গ্রিম্পিটাল বাসী ঐ ভবনের সৌন্দর্যে বিমোহিত হয়ে তাতে প্রবেশ করে এবং ভেতরে থাকা দানবের প্রতিশোধপরায়নতার শিকার হয়। কিন্তু অসীম সাহস আর বুদ্ধিমত্তার অধিকারী রাজা এন্ডুইন সেই ভবনে নিজে প্রবেশ করে সেটাকে গ্রিম্পিটালের প্রধান উপাসনালয় বলে ঘোষনা করলেন। যাদের ইচ্ছা হবে তারা নিরিবিলি তে সেই ভবনে পূজা অর্চনা করতে পারবে । দানবদের সাথে আসলে এই ভবনের কোন সম্পর্ক নেই। এভাবেই গ্রিম্পিটাল প্রজারা নিয়মিত আসতে থাকলো সেই ভবনে। নিরিবিলি সময় কাটাতে। ভবনের ভেতরে বসানো হলো দেবতাদের মূর্তি। ঠিক করা হলো একজন প্রধান পুরোহিত। তার নির্দেশে কাজ করতো আরো পাঁচজন পূজারি। ধর্মকর্ম আর মাঝেমধ্যে দানবদের আস্তানায় হানা দেয়া এরই মধ্যে বেশ চলছিলো গ্রিম্পিটালের রাজা এবং প্রজাদের। কিন্তু একদিন একটা ভয়ংকর কান্ড ঘটে গেলো। প্রধান পুরোহিত আর তার অনুচর পাঁচজন পূজারীর বিকৃত হাড় মাংস ছিঁড়ে ফেলা লাশ পাওয়া গেলো ভবনের মেঝেতে। প্রথমে দানবের দলের ওপর দোষ চাপালেও রাজা এন্ডুইন ধরতে পেরেছিলেন একাজ ওদের নয়। তিনি আসল সত্যটা ধরতে পেরে শিহরিত হয়ে উঠেছিলেন। যেদিন তিনি সত্যটা সবার সামনে বলতে যাবেন তার আগেরদিন রাতে তার নিজ কক্ষে পাওয়া গেলো ভবনে পাওয়া পুরোহিতদের লাশের মতই ক্ষতবিক্ষত লাশ! প্রজারা রাজার মৃত্যুতে শোকে পাথরে পরিণত হলো। কোন কাজেই তাদের মন নেই। কদিন পর প্রজাদের মধ্যেও অমন আধখাওয়া লাশ পাওয়া যেতে শুরু করলো। বছর ঘুরতে না ঘুরতেই পুরো গ্রিম্পিটাল অধিবাসী শুন্য হয়ে যেতে লাগলো। উপাসনালয় পড়ে থাকলো উপাসকবিহীন ভাবে। শুধু পড়ে রইলো তাদের পোষা প্রানী গ্রিম্পির দল। আজ এত বছর পরেও রাজা এন্ডুইনের নামকরণ করে যাওয়া স্কেলিডেথের রহস্য ভেদ হয়নি। রাজার মৃত্যুর পর রাজ্যে যখন লাশের মিছিল শুরু হলো তখন যারা স্কেলিডেথে ঢুকেছে তারা কেউ ফিরে আসেনি! অনেকে ভেবেছিলো উপাসনালয়ে গিয়ে ফিরে না আসার কারন ছিল এই যে যারা উপাসনা করতে গিয়েছে তারা রাজ্যের উন্নতির জন্য প্রার্থনা করতে করতে আবার ঐ রহস্যময় মৃত্যুর কবলে পড়েছে। এরপর শুরু হয়েছিলো স্কেলিডেথের স্বয়ংক্রিয় ঘন্টার ধ্বনি।যা নিজেই নিজেই শব্দ প্রতিফলিত করতো পুরো গ্রিম্পিটালে।শেষের দিকে গ্রিম্পিটালের বেঁচে যাওয়া প্রজারা ঐ ঘন্টার সম্মোহনী আওয়াজ শুনে ছুটে যেতো পাগলের মত এখন আপনি আর আবির যেভাবে যাচ্ছেন ঠিক তেমন করে। কিন্তু আর ফিরে আসতে পারেনি তারা । তাই বলছি এখনো সময় আছে আমার কথা শুনুন!ফিরে আসুন ঐ মৃত্যুপুরী থেকে।" ওডিলির পুরো ঘটনার লোমহর্ষক বর্ননা শুনেও কেন জানি মন মানতে চাইলো না। বারবার মনে হতে লাগলো কি আছে ঐ প্যাগোডাসদৃশ ভবনের ভেতরে যা টানছে আমাদের?আমাদের ওর ভেতরে প্রবেশ করতেই হবে। স্কেলিডেথের রহস্যভেদ করতেই হবে। যেন এটা আমাদের একটা গুরুদায়িত্ব! তাই ওডিলির কথাকে সম্পূর্ন অগ্রাহ্য করে নেমে পড়লাম স্কেলিডেথের সেতুর মত দেখতে প্রবেশপথে। যার নিচে অনেক দূরে একটা নদীর মত দেখাচ্ছে। আমার কার্থেজ অভিযান নিয়ে দেখা দুঃস্বপ্নের কথা মনে পড়ে গেলো। গা টা ছমছম করে উঠলো। তবুও এগিয়ে যেতে লাগলাম দুজন। আবিরের মুখটাও শুকনো। তবে ওর হাটার গতি স্বাভাবিক। ও আমার মতই স্কেলিডেথ ভবন পর্যবেক্ষণ করে দেখতে চায়। ঘন্টার শব্দটা আমরা নামতেই থেমেছে। যেন আমাদের অবতরণ করার জন্য অপেক্ষা করছিলো। আর একটু গেলেই স্কেলিডেথের প্রবেশপথ। সামনে এগুতেই একটা লাল আলোর বলয় আমাদের ঘিরে ফেললো আর প্রবেশপথের দরজাটা খুলে গেলো। দরজা খুলতেই একটা বোটকা গন্ধ নাকে এসে ঠেকলো। চোখের সামনে যে দৃশ্য ভেসে উঠলো তা লিখে বোঝানো শক্ত। ভেতরে লোহার খাঁচায় বন্দী করা হয়েছে লিজিওনের সহচর সব দানবদের। তারা অসহায় কয়েদীর মত খাঁচার লোহার শিক ধরে দাঁড়িয়ে আছে। হঠাৎ কিছু পরিচিত প্রানীর মুখ চোখে পড়লো তাদের চিনতে পেরেছি ঠিকই কিন্তু একি চেহারা হয়েছে তাদের?ওরা দানবদের সমান বড় হয়ে গেলো কিভাবে?আর এটা কি দেখছি আমরা?সবার ডানপাশের খাঁচায় থাকা একটা দানব কে পরিচিত প্রানীর দল প্রবল হিংস্রতায় ঝাঁপিয়ে পড়ে নিমেষে চিবিয়ে খেয়ে ফেললো। পলক পড়তে না পড়তেই দানবের বিশাল কঙ্কালটা পড়ে থাকতে দেখলাম খাঁচার ভেতর। কি ভয়ানক সে দৃশ্য তা বলে বোঝাতে পারবোনা। ওদিকে এই দৃশ্য দেখে আবির ভয়ে চিৎকার দিয়ে উঠেছে। আর ঠিক সেই মূহুর্তে পরিচিত সেই প্রানীর দল তাদের সদ্যখাওয়া দৈত্যের রক্তমাখা লালা ঝরতে থাকা মুখ নিয়ে ফিরে তাকালো আমাদের দিকে। এখন মনে হচ্ছে ওডিলির কথা না শুনে ভুল করেছি। মস্ত ভুল। এই ভুলের মাশুল আমাদের দুজনকেই দিতে হবে।সরল বিশ্বাসের কোন দাম নেই গ্রিম্পিটালে!


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮২ জন


এ জাতীয় গল্প

→ দ্য অ্যাডভেঞ্চার অফ ডক্টর গ্রিফিনোঃকার্থেজের দানব ফ্যান্টাসি ৯ম পর্ব

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now