বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
দ্য অ্যাডভেঞ্চার অফ ডক্টর গ্রিফিনোঃ কার্থেজের দানব (পর্ব ৬)
X
দ্য অ্যাডভেঞ্চার অফ ডক্টর গ্রিফিনোঃ কার্থেজের দানব
ফ্যান্টাসি
ষষ্ঠ পর্ব
জাকিউল অন্তু
যেভাবেই হোক আমাকে এর একটা প্রতিকার বের করতেই হবে। গ্রিম্পিদের ছোট বাচ্চাদের মত মুখের দিকে তাকালে মায়া হয়। প্রত্যকের চেহারা আর বয়স যেন এক। কে বড় কে ছোট তা বোঝবার উপায় নেই। আমি ভাবছি গাছের ডালপালা দিয়ে কোন হাতিয়ার তৈরি করতে পারলে কেমন হয়?যখন দৈত্যটা আসবে তখন নাহয় পেছন থেকে আচমকা আক্রমন করলাম ওটার পিঠ বরাবর।
কিন্তু গ্রিম্পিদের সেটা মাটিকে ছক কেটে বোঝানোর পর তারা আবার মাটিতে এঁকে বোঝালো পেছন থেকে আক্রমণ করে এই প্রানীর কোন ক্ষতি করা যাবেনা।
দুঃখের বিষয় গ্রিম্পিরা কথা বলতে পারেনা কিন্তু এদের আঁকার হাত অসাধারণ। ফলে কথোপকথন এর প্রয়োজন হচ্ছেনা। এঁকে এঁকেই কথার কাজ চালাচ্ছি দুই পক্ষ। শুধু একটা সমস্যা হচ্ছে। আমার আঁকার হাত ভালো হওয়া তো দূরে থাক আঁকিয়েদের যে আঁকার হাত থাকে সেটাই আমার নেই। আমার হাতদুটোর কোনটাই বিশেষ কোন শিল্পে কাজে লাগার মত না। তবুও মনের কথাটা কোনমতে বুঝিয়ে বললাম ওদের। ওদের ভাবসাবে মনে হলো আমার কথাটা বুঝেছে।
পেছন থেকে আক্রমণ করে কেন ঐ দানবকে মারা যাবেনা জিজ্ঞেস করার পর গ্রিম্পিদের পক্ষ থেকে উত্তর এলো ঐ দানবের প্রানশক্তি তার বুকের মাঝখানে। ইচ্ছা করলেই সেই দুর্বল জায়গায় আঘাত হানা যাবেনা। তার আগেই ওর শক্ত হাতের কবলে পড়ে যেতে হবে।
তাহলে কি করা যায়?
ক্ষুদে প্রানীর দল বললো সামনে থেকে দানবের দেহের নির্দিষ্ট অংশে দ্রুত আক্রমণ করা ছাড়া আর কোন উপায় নেই।
আমার মাথায় একটা বুদ্ধি এসেছে। যদি প্রয়োজনের সময় আমার পাখাদুটো কাজে লাগে এবং তার নিয়ন্ত্রণ আমার হাতে থাকে তবেই দ্রুত আক্রমণ করতে পারবো দানবটাকে। কিন্তু তার আগে অস্ত্র প্রয়োজন। গ্রিম্পিদের সেটা বুঝিয়ে বলতেই তারা তাদের বাসস্থান কালো গাছ এড়িয়ে অন্যান্য সবুজ গাছ থেকে ডালপালা সংগ্রহ করে আমার সামনে এনে ফেলতে লাগলো। এখন এই ডালপালা গুলো ধারালো কিছু দিয়ে ঘষে তীক্ষ্ণ ফলার মত বানাতে হবে। কিন্তু সেরকম কোন ধারালো পাথর বা ছুরি পাওয়ার সম্ভাবনা নেই এখানে।এইমুহূর্তে ওডিলির সহায়তা খুব দরকার । কিছু দিকনির্দেশনার প্রয়োজন। আমার সব বিপদেই ওর সাহায্য পেয়েছি। একবার পুরোহিত বেন্নেসে এবং তার অসাধারণ কালোজাদুর ক্ষমতার কথাও মনে পড়লো। মিশর থেকে আসার পর ওর সাথে আর যোগাযোগ হয়নি। তবে ও বলেছিল আমার দরকার হলে ও নিজে থেকেই সাহায্য করবে।
ওডিলি যেন মনের কথা পড়তে পারে। আমি যখন সাহায্যের আশায় ব্যাকুল তখুনি মাথায় একটা মৃদু কন্ঠের আলাপ শুরু হলো।
-ডক্টর কি আমায় স্মরন করছিলেন?বেন্নেসের সাথেও যোগাযোগ করতে চাইছেন দেখা যায়।
-তুমি মনের কথাগুলো বোঝো কিভাবে? যাই হোক কিভাবে মারবো প্রানীটাকে? কিছু বুদ্ধি দিতে পারো?
-তা পারি। আমার দায়িত্ব আপনাকে সাহায্য করা। আজ রাতে আপনার ডানাগুলো আবার গজিয়ে উঠবে এবং এই অভিযানে সেই ডানাদুটো আপনার ইচ্ছামত ব্যবহার করতে পারবেন আপনি।
-শুধু ডানা থাকলে হবেনা।দানবটাকে খতম করার জন্য অস্ত্র চাই সেটার ব্যবস্থা হবে কি?
-দয়া করে আপনার পোশাকের দিকে একবার নজর দিন ডক্টর।
আমি ওর কথা শোনামাত্র তাকালাম নিজের পোশাকের দিকে। বিস্মিত চোখে দেখি আমার পরনে থাকা টি শার্ট আর ট্রাউজার বদলে গিয়ে একটা নতুন ধরনের আলখাল্লা জাতীয় পোশাকে পরিণত হয়েছে। দেহের নিম্নভাগে ফুলপ্যান্ট জাতীয় একটা পোশাকের বেল্টের একপাশে তলোয়ারের একটা খালি খাপ ঝুলছে। তারপর আমার ডানহাতটা উঁচু করে তুলে ধরতে বললো ওডিলি। সেটা উঁচিয়ে ধরতেই হাতের মুঠোয় অনুভব করলাম ধাতব কোন কিছু।
ওডিলি বললো আপনার ডানহাতে সঞ্জীবনী শক্তির পাশাপাশি আরেকটা নতুন শক্তির উদ্ভব হচ্ছে ডক্টর। যে বস্তুটার অস্তিত্ব অনুভব করছেন সেটা আপনার পূর্বজন্মের পিতা আখেনাতুনের ব্যবহৃত বিখ্যাত মন্ত্রপূত তলোয়ার।
-তাহলে সেই তলোয়ার দৃশ্যমান হচ্ছেনা কেন। আমি ওটাকে সামনাসামনি দেখতে চাই।
-সেটা এখন সম্ভব নয় ডক্টর। শুধুমাত্র শত্রুর মুখোমুখি হলেই সেটা আপনার দৃষ্টিগোচর হবে। ঐ তলোয়ারের ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য বেন্নেস তার কালোজাদু ব্যবহার করেছে।কোনদিন যদি ভুল কাজে এই তলোয়ার ব্যবহার করেন তাহলে এর ক্ষমতা নষ্ট হয়ে অতি সাধারণ ধাতব অস্ত্রে পরিণত হবে। মনে রাখবেন আপনাকে অপরাজেয় সৈনিক হিসেবে তৈরি করার জন্য আমাদের এই আয়োজন।তাই এই তলোয়ার কোনভাবে হাতছাড়া করবেন না যেন।
-ধন্যবাদ ওডিলি। আমি খেয়াল রাখবো।
-ডক্টর, আরেকটা কাজ করতে হবে আপনাকে।
-কি কাজ?
-গ্রিম্পিদের মধ্যে যারা দানবের কবল থেকে ভাগ্যক্রমে বেঁচে গেছে কিন্তু আহত তাদের সুস্থ করে তুলুন এই অবসরে। এখন বিকাল।আজ দানব" লিজিওন "খুব ক্ষুধার্ত। হয়তো সন্ধ্যার মধ্যেই আক্রমন করে বসবে "গ্রিম্পিটাল" এ।
সেই দানব আর এই জায়গার নাম দুটো জানা গেলো। গ্রিম্পিরা নিজেদের নামের সাথে মিলিয়ে তাদের এলাকার নামকরণ করেছে। এঁকে এঁকে তাদের বাসস্থানের নাম বোঝানো শক্ত কাজই বটে। আর আমার সেটার খুব একটা দরকার ও ছিলোনা । দানবের নামটা অবশ্য গুরুত্বপূর্ণ। কতক্ষণ আর ওটাকে শুধু দানব বলে ডাকবো।
এতসব তথ্য ওডিলি কিভাবে জানে তা জানতে ইচ্ছে করে মাঝেমাঝে। কিন্তু ভীনগ্রহের প্রানীর পক্ষে অসম্ভব বলে কিছু না থাকাটাই স্বাভাবিক ভেবে চেপে যাই।
হাতে অদৃশ্য তলোয়ার খানা গাছের একপাশে মাটিতে গেঁথে রেখে একবার গ্রিম্পিদের কেটে আনা ডালপালার দিকে নজর দিলাম।ওদের কষ্ট করে কেটে আনা ডালাপালা কি কিছু কাজে লাগবেনা?তা কি করে হয়।
মাটিতে এঁকে ওদের একটা বুদ্ধি শিখিয়ে দিলাম। ডালপালাগুলো দিয়ে অবিকল গ্রিম্পিদের মত দেখতে বেশ কয়েকেটা প্রতিকৃতি বানাতে বললাম। ওগুলো হচ্ছে ফাঁদ। লিজিওন এলে যেন প্রথমে ওদিকে মনোযোগ দেয়। আর আমি যেন আচমকা আক্রমণ করতে পারি। কাজটা সারতে গ্রিম্পিদের খুব বেশী সময় লাগলোনা।আমিও টুকটাক সাহায্য করলাম। ডাল কাটার ব্যপারটা ওরা নিজেদের ইঁদুরের মত দাঁত দিয়ে সেরে নিল।দেখতে মজাই লাগছে।ফাঁদ বানানো শেষ।
এখন অসুস্থ গ্রিম্পিদের সুস্থ করে দেবার পালা। ঈশ্বরের নাম নিয়ে শুরু করলাম সে কাজ। এখন কাউকে সুস্থ করার কথা মনে আনলেই ডানহাতে হিলিং পাওয়ার এসে পড়ে।
ভায়োলেট হিলিং টাচ(এই নামটা আমার নিজের দেয়া, কারন সঞ্জীবনী আভার রংটা বেগুনী) দিয়ে অসুস্থ গ্রিম্পিদের সুস্থ করতে বিকেল পেরিয়ে সন্ধ্যা হলো।
সব কাজ শেষ। এখন শুধু অপেক্ষার পালা।
কিন্তু সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত হয়ে গেলো দানব লিজিওনের কোন দেখা নেই। ওডিলির গননা কি তাহলে ভুল?
ওদিকে সারাদিনের পরিশ্রমের ফলে বিশেষ করে হিলিং টাচ ব্যবহার করে বেশ দুর্বল লাগছে । এটা কি হিলিং টাচের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কিনা জানিনা।
শরীর ক্লান্ত। ঘুমোতে ইচ্ছে করছে খুব। এমন সময় একটা প্রচন্ড আক্রোশে ফেটে পড়া গর্জন আমার সমস্ত ইন্দ্রিয়কে সজাগ করে দিলো।আকাশ বাতাস কাঁপিয়ে থপথপ শব্দে গ্রিম্পিটালের দিকে এগিয়ে আসছে দানব লিজিওন। মাটিতে স্থির হয়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেও পারলাম না। কারন মাটি থরথর করে কাঁপছে। ভূমিকম্পের সময় যেমন কাঁপে। আরেকটা সমস্যা হলো আমার অদৃশ্য তলোয়ার টা এই প্রয়োজনের সময় খুঁজে পাচ্ছিনা। যেখানে গেঁথে রেখেছিলাম সেখানে নেই। হয়তা গ্রিম্পিদের চলাচলের সময় কোথাও ছিটকে পড়েছে। এখন উপায়? খালি হাতে লিজিওনের সাথে লড়বো কিভাবে?
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now