বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
দ্য অ্যাডভেঞ্চার অফ ডক্টর গ্রিফিনোঃ কার্থেজের দানব (৩য় পর্ব )
X
দ্য অ্যাডভেঞ্চার অফ ডক্টর গ্রিফিনোঃ কার্থেজের দানব
ফ্যান্টাসি
৩য় পর্ব
জাকিউল অন্তু
আমান হয়তো বাঁচার আশা ছেড়েই দিয়েছিল। সরাসরি বজ্রাহত হয়ে বেঁচে থাকার আশা করাটা অস্বাভাবিক। কিন্তু অকস্মাৎ বজ্রাঘাতে আহত হবার চাইতে আমার অদ্ভুত ক্ষমতার ব্যবহার ওকে বেশী অবাক করেছে।আমার হাতে এখনো সেই বেগুনী আলোর আভা দেখতে পাচ্ছি। সেটা ধীরে ধীরে হাতের তালুতে মিলিয়ে যাচ্ছে।
ওরকম একটা ভয়ানক বাজ কারো ওপর পড়লে তার মৃত্যু না হলেও বিদ্যুতে ঝলসে গিয়ে চেহারা বিধঘুটে হয়ে যাবার কথা। কিন্তু আমান কে এখন দেখলে কেউ বিশ্বাস ই করবেনা না যে এর সাথে কোনরকম দুর্ঘটনা ঘটেছে।শরীরের কোথাও কোন ক্ষতচিহ্ন নেই!
শুধু ওর সাদা টি শার্ট টার পিঠের দিকে একটা অংশ পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে। বাজ টা ওখানেই পড়েছিলো।
ইতিমধ্যে বৃষ্টি আর বজ্রপাত দুটোই কমেছে। যারা আশেপাশের দোকানপাট থেকে পালিয়ে নিরাপদ স্থানে চলে গিয়েছিল তারা ফিরে আসতে শুরু করেছে। অল্প সময়ের বৃষ্টিতে এমন বুক কাঁপানো বিদ্যুৎ চমকাতে এরা কোনদিন ই দেখেনি ।
দু তিনজন অসহায় ভিখিরি আর রফিকের দোকানে কাজ করা ছোট ছেলে আবির দোকানের ছাউনির এককোনে বসে বসে বিস্ময় মাখা চোখে আমাদের দুই বন্ধুর কর্মকাণ্ড দেখছিলো। পুরো ঘটনার সাক্ষী হয়ে গেছে ওরা। এইসব ব্যাখ্যাহীন ঘটনাকে চোখচক্ষুর আড়ালে রাখতে হয়। লোক জানাজানি হলে বিপদ। সঠিক বিবরণ তো দেয়া যাবেই না উল্টো হেয় হতে হবে।
আমান আমার হাত ধরে উঠে দাঁড়ালো। ওর চোখে ভয় কেটে গিয়ে অবাক ভাব চলে এসেছে। আমি ওকে ইশারায় আশেপাশে পরিবেশ বুঝিয়ে দিলাম।
ও সহজেই বুঝলো এবং সাথে সাথেই আবির কে ডাক দিলো।
ডাকামাত্র কাঁচুমাচু মুখে আমাদের কাছে এসে দাঁড়ালো ছেলেটা। চোখেমুখে ভয় আর বিস্ময়ের মিশ্রণ স্পষ্ট।
আবির ছোট মানুষ। বয়স দশ বারো বছর হবে।ফর্সা, সুন্দর, গোলগাল চেহারা। ওর চেহারা বা নামের সাথে ওর পেশার মিল নেই কোনদিক থেকেই। এরকম ছেলের থাকা উচিত বড় ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে,চায়ের দোকানে নয়।
কোন একদিন ওর পারিবারিক ইতিহাস টা জানতে হবে।
সে পরে একদিন হবে।কিন্তু এখন ওকে বোঝাতে হবে যে যা দেখেছে তা যেন কাউকে না বলে।
ঘটনার অন্য সাক্ষী ঐ ভিখারিদের নিয়ে আমি চিন্তা করছিনা। ওরা সহজ সরল মানুষ। ওদের কাছে দিন এনে দিন খাওয়াটাই মুখ্য। কে কোন অদ্ভুত কাজের সাথে জড়িত তা ভাবার সময় ওদের নেই। তাছাড়া সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছায় আমার মাধ্যমে কেউ মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছে এটা তো কোন অপরাধ নয়।
আবির কে বললাম
-কি ভয় পেয়েছিস?
-জ্বে, কিন্তু ভাই ক্যামনে করলেন এই কাম? আমান ভাই তো মইরাই যাইতো। আপনে কিরাম একটা কারেন্টের বাতি জ্বালাইলেন হাত দিয়া আর তহন সব আগের মত হইয়া গেলো!আমি তো যে ডরান ডরাইছি!
-যা ঘটেছে তা আমাদের সাথেও প্রথমবার ঘটেছে। আমরা নিজেরাও কম ভয় পাইনি। কিন্তু যেহেতু বিপদ কেটে গেছে সেহেতু এই ঘটনা কাউকে জানিয়ে নতুন করে বিপদ বাড়ানোর কোন দরকার নেই। কি বলিস?
-ভাই আমি পিচ্চি হইতে পারি কিন্তু এ ব্যপারগুলান বুঝি। একদিন সব খুইল্যা কমু আমি ক্যাডা!অহন আফনেরা চিন্তা কইরেন না। এই ব্যাপারে আমি কাউরে কিছু কমুনা। মানুষ আহনের আগে ভাইগা যান এই জায়গা থিকা। বাকিডা আমি দেখতাছি।
আমান ওর পিঠ চাপড়ে দিয়ে বললো
-তোর জন্য স্পেশাল গিফট আছে রে ব্যাটা। কাল দেখা হচ্ছে। আর কথাগুলো ভুলে যাসনা যেন।
-আমি ওয়াদা ভাঙিনা ভাই। নিশ্চিন্ত থাইকেন।
দশ বছরের একটা বাচ্চা সেভাবে আমাদের সাহস আর পরামর্শ দিলো তাতে ওর বুদ্ধিমত্তার পরিচয় পাওয়া যায়। আগেই বলেছি ওর সাথে ওর পেশার মিল নেই। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে ও যে বিষয় টা আমাদের খুলে বলতে চাইছে সেটাও রহস্যজনক হবে।ওর ব্যাপার কাল জানা যাবে কিন্তু তার আগে আমানকে আমার পিরামিড অভিযানের সব কথা খুলে বলতে হবে।
এখানে সেটা নিরাপদ না।
তাই আবির কে দিয়ে রফিকের ক্যাশ থেকে যারযার মোবাইল আর মানিব্যাগ নিয়ে থেকে দ্রুত বেড়িয়ে এলাম দুই বন্ধু। এক দৌড়ে সিঁড়ি ভেঙে আমানের মেসের ছাদে উঠে পড়লাম। অন্যান্য দিন হলে এই সময় ছাদে মেসের ছেলেদের আড্ডা জমে উঠতো।আমি নিজেও আড্ডা দিয়েছি এই ছাদে। কিন্তু আজ বোধহয় ঠান্ডা দিন হওয়ায় সবাই ঘুমুচ্ছে। ওরকম ভয়ানক বজ্রপাতের শব্দেও কি ঘুম ভাঙেনি কারোর?
দৌড়ে আসায় দুজনেই হাপাচ্ছি।হাপাতে হাপাতে আমান ই প্রথম কথা শুরু করলো।
-কি হলো, কিভাবে হলো কিছুই বুঝতে পারছিনা দোস্ত! তবে যাই হয়েছে ভালো হয়েছে।সবচেয়ে বড় কথা বেঁচে আছি।
-তোকে আজ এই বিষয়টাই জানাতে এসেছিলাম। এরমধ্যে যে এতকিছু ঘটে যাবে কে জানতো।
তারপর আগাগোড়া সব খুলে বললাম। আমান মনোযোগ দিয়ে শুনলো সব।কিছুক্ষন আগে যা ঘটেছে তা মনে করে বিশ্বাস ও করলো সব।
তারপর অবাক হয়ে বললো
-তোর নামে "গ্রিফিনো"র আগে "ডক্টর" শব্দটার রহস্য ধরতে পেরেছিস?
-হ্যা পেরেছি।আমার দেহে সঞ্জীবনী ক্ষমতার উৎপত্তি হয়েছে আজ। আর ওডিলির দেয়া নাম অনুযায়ী আমি মানবজাতি আর গুপ্ত প্রানীদের চিকিৎসক হিসেবে কাজ করবো!
-তোর এই "হিলিং পাওয়ার " অনেক অসহায় মানুষের কাজে লাগবে। তোর ওপর ওপরওয়ালার দৃষ্টি আছে।
-হুম। তা আছে। নইলে বাজ টা আমার ওপর ই আগে পড়তো বলে হেসে ফেললাম।
আমান ও যোগ দিলো হাসিতে।
কিন্তু হঠাৎ আজ বিকেলের দুঃস্বপ্নের কথাটা মনে পড়াতে আমার মুখের হাসিটা মিলিয়ে গেলো আমার।
স্বপ্নে আমার পেছনে তাড়া করতে থাকা প্রানীটার ভয়ঙ্কর মুখটা মনে পড়তেই দেহে কাঁপুনি ধরে যায়। শিহরিত হয় সমস্ত শরীর।
আমায় চুপ হয়ে যেতে দেখে আমান ঠাট্টা করে পুরোহিত বেন্নেসের মত গলায় বললো
-এখন আবার মুড খারাপ কেন রাজাধিরাজ?আপনি একে তো রাজা তুতানখামেন তার ওপর আবার হিলিং পাওয়ারের অধিকারী ডক্টর গ্রিফিনো! আপনার মন খারাপ হলে চলে?
দুঃস্বপ্নের ব্যপার টা আমান কে বলা হয়নি। এবার সেটাও বললাম। জিজ্ঞেস করলাম
-কার্থেজ নামের কোন এলাকা তুই চিনিস। বাংলাদেশে যে নেই সেটা নিশ্চিত।
ও সিম কোম্পানীর বিজ্ঞাপনী মডেলদের মতো বলে উঠলো
-এই হাই স্পিড ইন্টারনেটের যুগে একটা এলাকা খুঁজে বের করা কঠিন কিছু নয় বন্ধু।নেটে সব তথ্য আছে।
হ্যা তাইতো। আসলে কাল থেকে এতটা মানসিক চাপে এতক্ষণ আছি যে স্বাভাবিক বিষয়গুলো বুঝতে অসুবিধা হচ্ছে।
আমি দেরী না করে পকেট থেকে মোবাইল বের করলাম। ডাটা অন করে গুগলে সার্চ দিলাম কার্থেজ লিখে।যেসব তথ্য পাওয়া গেলো তা সংক্ষেপে অনেকটা এইরকম ঃ
তিউনিসিয়ার রাজধানী তিউনিস এর শহরতলী সুপ্রাচীন কার্থেজ নগরী। এই উপনগর একসময় রোমানদের সভ্যতাকে চ্যালেঞ্জ করেছিলো। রোমান আর কার্থেজিয়ান দের দু দলের ই ইচ্ছা ছিলো ভূমধ্যসাগরের ওপর রাজত্ব করার। কিন্তু "থার্ড পিউনিক ওয়ার" অর্থাৎ "তৃতীয় বিশ্বাসঘাতকতা যুদ্ধে" রোমানদের কাছে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয় কার্থেজিয়ান রা। রোমানরা তাদের নিজেদের সভ্যতা বাঁচাতে কার্থেজ নগরী কে একেবারে ধ্বংস করে দেয়। তারপর আর মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেনি বিশ্বাসঘাতকতার শিকার এই নগরবাসী।তবে বিশ্বাসঘাতকতার পেছনে কারা ছিল বা কি নিয়ে বিশ্বাস নষ্ট হয়েছিল তার বর্ননা পেলাম না।
প্রত্নতাত্ত্বিকদের জন্য একটা স্বর্গরাজ্য সুপ্রাচীন কার্থেজ নগরী। কারন নানা রকম মূল্যবান প্রাচীন মূর্তি এবং প্রাসাদের ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গিয়েছে ওখানে।
অনেক তথ্যই পাওয়া গেলো কিন্তু আমার পরবর্তী অভিযান কোথায় তা পরিষ্কারভাবে বুঝতে পারছিনা। হয়তো কার্থেজের ধ্বংসাবশেষ এর মাঝে লুকিয়ে আছে কোন ভয়ঙ্কর প্রানী। গুপ্ত প্রানী বলতে ওডিলি হয়তো ওটাকেই বুঝিয়েছে অথবা স্বপ্নে আক্রমণকারী প্রানীটার পাশে অন্যান্য যেসব প্রানীকে পালাতে গিয়ে গায়েব হয়ে যেতে দেখেছি ওরাই সেই গুপ্ত প্রানী!
রাত সাড়ে নটা নাগাদ আড্ডা দিয়ে নিজের মেসে ফিরলাম।ফেরার আগে আমানকে শেষবারের মত পরীক্ষা করে দেখলাম শরীরে কোন ক্ষত আছে নাকি। কিন্তু পেলাম না। মনে মনে খুশীই হলাম। নিজের মধ্যে অস্বাভাবিক ক্ষমতার জন্ম হওয়া আর সেই ক্ষমতার সফল প্রয়োগ আমার আত্মবিশ্বাস কে হুট করে বাড়িয়ে দিয়েছে। যেন এরপর থেকে আমায় কেউ হারাতে পারবেনা।
কবে,কেন এবং কিভাবে কার্থেজ যেতে হবে তার বর্ননা রুমে আসামাত্র পেলাম।কিভাবে সেটা বলছি।
দরজায় খাবারের বাটি রেখে গেছে মিল ম্যানেজার ফারুক ভাই। সেটা নিয়ে ঘরে ঢুকে কাপড় ছেড়ে ফ্রেশ হয়ে নিলাম।
রাতের খাবার খেয়ে আবার নেটে ঢুকলাম এই ভেবে যদি কার্থেজ বা সেখানকার ভয়ঙ্কর কোন প্রানী নিয়ে নতুন কোন তথ্য জানা যায়।
কিন্তু তেমন কিছু জানা গেলোনা।রাত বাড়তে থাকলো। আমিও একটা সময় লাইট অফ করে বিছানায় গা এলিয়ে দিলাম।
আজ বিকালে ঘুমিয়েছি। তাই রাতে ঘুম দেরীতে আসাটা স্বাভাবিক। বিছানায় এপাশ ওপাশ করতে করতে ভাবতে লাগলাম নিজেকে নিয়ে।নিজের যোগ্যতা নিয়ে।
ফারাও সম্রাট আখেনাতুনের ছেলে হিসেবে রাজা তুতানখামেন হয়েছি বংশানুক্রমিক ভাবে।জন্মসূত্রে রাজা হওয়ায় বাহাদুরির কিছু নেই। তারপর বেন্নেস, গ্রিফিনো আর ওডিলির সহযোগীতায় ডক্টর গ্রিফিনো হয়েছি। এতেও আমার কোন হাত নেই।
ভার্সিটি পড়ুয়া একটা নির্বোধ ছাত্র আমি।
ঈশ্বর আমায় দুধরনের জগতে দুরকমের ব্যক্তিত্ব দিয়েছেন। এক রাজ্যে আমি বোকা প্রজা অন্য আর রাজ্যে রাজা!
এসব ভাবতে ভাবতে ঘুম চলে এসেছিল চোখে কিন্তু একটা খট খট শব্দে তন্ত্রা কেটে গেলো। শব্দটা আসছে আমার খাটের পাশের মেঝে থেকে। কেউ যেন শক্ত দেয়ালে হাতুড়ী দিয়ে পেরেক ঠুকছে।
ঢুলুঢুলু চোখে নিচে তাকাতেই ঘুমটা পুরোপুরি কেটে গিয়ে একটা উত্তেজনার ভাব চলে এলো।
অন্ধকারের মধ্যেও স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে কোন একটা অদৃশ্য পেরেক আর হাতুড়ীর সাহায্যে মেঝেতে খোদাই করা হচ্ছে একটা প্রাচীন নগরের মানচিত্র!খোদাইকর্ম
গিয়ে শেষ হলো মিশরীয় ভাষায় লেখা একটা নামের ওপর।
তারপর সেই নামটা পুরো মানচিত্রের মাঝখানে হাজার হাজার জোনাকির মত বিন্দু বিন্দু আলো নিয়ে জ্বলতে থাকলো।
মানচিত্রে জ্বলতে থাকা কার্থেজ নগরী যেন আমায় হাতছানি দিয়ে ডাকছে!
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now