বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

দ্য অ্যাডভেঞ্চার অফ ডক্টর গ্রিফিনোঃ কার্থেজের দানব (১ম পর্ব)

"ফ্যান্টাসি" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X দ্য অ্যাডভেঞ্চার অফ ডক্টর গ্রিফিনোঃ কার্থেজের দানব ফ্যান্টাসি ১ম পর্ব জাকিউল অন্তু মিশর থেকে নিজের মেসের ঘরে ফিরে এসেছি। সেখানে গিয়েছিলাম পোর্টাল এর মাধ্যমে কিন্তু ফেরার সময় সেটার প্রয়োজন পড়েনি। ফেরার জন্য কি করতে হবে তা জানা ছিলনা। তবে এটা আন্দাজ করতে অসুবিধে হয়না যে এই কাজে বৃদ্ধ পুরোহিত বেন্নেসের সহায়তা অতীব জরুরী। বেন্নেসের জ্ঞান ফিরেছিল প্রায় দেড় ঘন্টা পর। তারপর ওর সাথীদের নাড়িয়ে-চাড়িয়ে হাস্যকর কিছু কাজের মাধ্যমে জ্ঞান ফেরানো কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটলো। তারপর আমায় চুপচাপ বসে থাকতে দেখে হন্তদন্ত হয়ে ছুটে এসে প্রথমে কুর্নিশ করলো বেন্নেস। জিজ্ঞেস করলো -রাজাধিরাজের কোন ক্ষতি হয়নি তো?বন্দী প্রানীটা এইভাবে ধোকা দিয়ে চলে গেলো? ফারাও আখেনাতুন থাকলে কিন্তু এই দুঃসাহস পেতোনা শয়তান টা!বেয়াদব ওডিলিকে এরপর হাতে পেলে খবর করে ফেলবো! -আমি ঠিক আছি। আর ওকে গালি দিয়ে লাভ নেই। ও আসল কাজ ঠিকই করে দিয়ে গেছে।ওর নাম বুঝি ওডিলি? -জ্বী।কিন্তু কি কাজ করেছে উজবুকটা?আপনার প্রিয় প্রানীটাকেও তো কোথাও দেখছিনা? -ভীনগ্রহের ঐ প্রানী ওডিলি গ্রিফিনো আর আমাকে এক সুতোয় বেঁধে দিয়ে গেছে। -মাফ করবেন রাজাধিরাজ। আপনার কথার মানে বুঝিনি। ওর কথার উত্তরে আমার সাথে কি কি ঘটেছে সব খুলে বললাম। তারপর কিভাবে নিজের এলাকায় ফিরে যেতে পারি তার উপায় জানতে চাইলাম। আমার এখন বিশ্রাম দরকার। ডাক্তারদের ভাষায় পরিপূর্ণ বেড রেস্ট। নিজের মধ্যে যে অস্বাভাবিক রুপান্তর দেখতে পাচ্ছি তাতে উত্তেজনা দমন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তারওপর মাথার ওপরের অগ্নিগোলকের অগ্নিবর্ষণ চিন্তাভাবনা গুলোকে ওলটপালট করে দিচ্ছে। পরিচিত জায়গায় ফিরে গেলে হয়তো একটু স্বাভাবিক হতে পারবো। যদিও এই শহর আমার পূর্বজন্মের স্মৃতি বিজড়িত শহর। তবুও এটাও তো ভাবতে হবে যে আগের সেই আমি এখনকার আমির মধ্যে বিস্তর ফারাক। চালচলন, স্বভাব প্রকৃতি সব ই ভিন্ন। শুধু মস্তিস্কের কোন একটা অঞ্চলে নিজের আদি পরিচয় উকি দিচ্ছে। বেন্নেস বললো, যে আলোর গোলকের মধ্য দিয়ে আপনাকে নিয়ে এসেছিলাম তার কর্মক্ষমতা আপাতত শেষ। আপনাকে অন্য উপায়ে পাঠাতে হবে। প্রয়োজন হলে আবার দেখা হবে রাজাধিরাজ। বলে মনে মনে কি যেন বিড়বিড় করতে থাকলো সে।সম্ভবত মন্ত্র-টন্ত্র কিছু একটা পড়ছে। আমি অপেক্ষা করতে লাগলাম। কিছুক্ষনের মধ্যেই আমার শরীর মরুভূমির বালির ঢিপির মতই ঝুরঝুর করে ভেঙে বাতাসে ভাসতে লাগলো। আমি যেন আস্ত মানুষ থেকে চকচকে বালির কনায় পরিণত হয়ে যাচ্ছি।তারপর অনন্তকালের জন্য বাতাসে মিশে উড়ে চলেছি। প্রথমে নিজের এই দশা দেখে ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু কিছুক্ষনের মধ্যেই যখন নিজেকে মেসের ঘরে আবিষ্কার করলাম তখন ভয়টা কেটে গেলো।মানব স্থানান্তর করার এ কেমন পদ্ধতি? কালো জাদুকরদের দেখি অনেক কিছু জানতে হয়। ঘরে ফিরে জানালা খুলে দিয়েছি ভেতরের গুমোট ভাবটা কমানোর জন্য। ভার্সিটি ছুটির সময় বাড়ী ফেরার আনন্দটা এখন উপভোগ করছি। শরীর ক্লান্ত হলেও মন ফুরফুরে হয়ে গেছে নিজের ঘরে ফিরতে পেরে। পরনের কাপড়ে মিশরের মরুভূমির বালি লেগে আছে। বিশ্রাম নেবার আগে ঠান্ডা পানি দিয়ে গোছল করে নিতে হবে। তারপর কমপক্ষে দু ঘন্টার ঘুম দিতে হবে। তবেই শান্তি। ওয়াশরুম থেকে ফ্রেশ হয়ে এসে মাথা মুছতে মুছতে খাটে বসলাম। এখন আরাম বোধ করছি। মাথাটা হালকা হয়ে গেছে।ভাবনাচিন্তার পথ পরিষ্কার। হঠাৎ একটা বিষয় খটকা লাগতেই জানালার দিকে তাকালাম। বাইরে রোদের তেজ মিশরে যাওয়ার সময় যেমন দেখেছিলাম ঠিক তেমনি আছে। এরকম তো হওয়ার কথা না। আমি অনেকটা সময় মিশরে অবস্থান করেছি। গ্রিনিচ মান মন্দির অনুযায়ী মিশরের সাথে বাংলাদেশের সময়ের ব্যবধান চার ঘন্টা। অর্থাৎ মিশরে যখন বিকেলের ঝলমলে রোদ দেখেছি তখন বাংলাদেশে এসে সন্ধ্যার তরল অন্ধকার দেখার কথা! কিন্তু এখনো রোদের তেজ একইরকম দেখে অবাক হচ্ছি। তাহলে কি মিশর যাওয়ার পুরো ঘটনা সময়ের অন্য কোন মাত্রায় ঘটেছে?যেখানে বাংলাদেশের সময় স্থির ছিলো কিন্তু মিশরের সময় ছিলো চলমান? এটাও তো হতে পারে যে মিশরের যেই সময়টাতে আমি উপস্থিত ছিলাম তা বর্তমান যুগ থেকে সম্পূর্ন আলাদা! আবার শুধু আমার ক্ষেত্রেই এমন ঘটার সম্ভাবনাকেও একেবারে উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছেনা। সে যা হবার হয়েছে। এত সব ভাবতে গেলে মানসিক ভাবে শক্ত থাকা মুশকিল হবে। সামনে অনেক কাজ। ভাবতে ভাবতে শুয়ে পড়লাম। ক্লান্ত শরীরে চোখ বন্ধ করতেই ঘুম আসার কথা কিন্তু এলোনা। বারবার মনে হতে লাগলো ওডিলির বলা দুটো শব্দ "গুপ্ত প্রানী" আর "ডক্টর গ্রিফিনো "। এই দুটো শব্দ আমায় ঘুমোতে দিচ্ছেনা। গুপ্ত প্রানী বলতে কি বোঝানো হচ্ছে এটা নিশ্চই ওডিলিই বলতে পারবে। কিন্তু ও আবার কখন আমার সাথে যোগাযোগ করবে সেটা তো জানিনা। ওডিলি আমায় সম্বোধন করেছিলো "ডক্টর গ্রিফিনো" নামে। এই নামের ব্যপার টা যদি বিশ্লেষণ করি তাহলে দাঁড়ায় দুটো শব্দ। "ডক্টর " এবং "গ্রিফিনো"। গ্রিফিনো আমার শরীরের সাথে মিশে গেছে বলে নামের সাথে গ্রিফিনো থাকাটা অবান্তর নয়। কিন্তু পুরোদস্তুর আইনের একজন ছাত্রকে ডক্টর বলা টা কতটা যুক্তিসঙ্গত? যার সাথে চিকিৎসা বিজ্ঞানের কোন সম্পর্ক ই নেই।অবশ্য কোন বিষয়ে বড় ডিগ্রী লাভ করতে পারলে তাকেও ডক্টর বলা হয় কিন্তু আমি তো তার ধারেকাছেও নেই। এর ব্যখ্যা হয়তো অদূর ভবিষ্যতে পাওয়া যাবে সেই ওডিলির কাছেই। প্রশ্ন যেহেতু আছে তার উত্তর পাওয়া যাবে এই ভেবে আবার ঘুমোতে চেষ্টা করলাম। এবারে কাজ হলো। প্রায় দু ঘন্টা ঘুমিয়েছি। আরো হয়তো ঘুমোতাম কিন্তু একটা দুঃসহ দুঃস্বপ্ন দেখে আমার ঘুমটা ভেঙে গেলো।ঘর্মাক্ত অবস্থায় ধড়ফড় করে বিছানায় বসে পড়েছি। শরীর ভয়ে কাঁপছে। স্বপ্নটা যেন স্বপ্ন নয় বাস্তব। দেখলাম একটা পাহাড়ি পাথুরে অঞ্চলে বিশাল বিদঘুটে কোন জীব আমায় তাড়া করে বেড়াচ্ছে। তার মুখ থেকে লালার মত থকথকে পদার্থ পড়ছে। আমার কাছে আসতেই দেখলাম ওটা লালা নয়। ঘন রক্ত! যেন অসহায় কোন প্রানীকে এইমাত্র ছিঁড়ে খেয়ে নিয়েছে ওটা। তারপর আমার পিছে লেগেছে। আমি প্রানপনে ছুটেও ওর আর আমার মধ্যকার দূরত্ব বাড়াতে পারছিনা।আশেপাশে ছোট ছোট কিছু অচেনা প্রানী আমার মতই প্রানের ভয়ে পালাচ্ছে।এরা কি ধরনের জীব আমি জানিনা।তাকিয়ে থাকতে থাকতে ওরা কোথায় যেন মিলিয়ে গেলো! আমার সামনের রাস্তাটা ও আচমকা শেষ হয়ে এলো। সামনে তাকিয়ে দেখি আর যাওয়ার কোন জায়গা নেই। ঢালু পাহাড়ের অনেক নিচে একটা ছোট নদী দেখা যাচ্ছে। ওদিকে পিছনের প্রানীটা একদম কাছে চলে এসেছে। আমি কিছু চিন্তা না করে লাফ দিলাম নদী লক্ষ্য করে। কিন্তু ঐ প্রানীটাও চরম আক্রোশে গোঙ্গাতে গোঙ্গাতে আমায় লক্ষ্য করে ঝাপ দিলো। যেন আমার শেষ না দেখে ছাড়বেনা। আরো ভয়ঙ্কর ব্যাপার হলো প্রানীটা আমার মত দ্রুত নিচে নামছেনা। কোন একটা শক্তির বলে ধীরে ধীরে ভেসে ভেসে নামছে। আমি যে গতিতে নদীর জল স্পর্শ করবো তাতে আহত হতে পারি। কিন্তু ঐ প্রানীটার ক্ষেত্রে সেই সম্ভাবনা নেই। অর্থাৎ আহত অবস্থায় পানিতে পড়ার পর প্রানীটার খুব কম সময় লাগবে আমার নাগাল পেতে। আমি তখনো নদীর জল থেকে অনেক দূরে। অনেক উঁচু থেকে লাফ দিয়েছি সেটা এখন বুঝতে পারছি। মনে মনে মৃত্যুর জন্য প্রস্তুতি নিয়ে নিয়েছি ঠিক তখুনি একটা গলার আওয়াজ শুনতে পেলাম। এ আমার পরিচিত কণ্ঠস্বর। পিরামিডে বন্দী সেই বাইরের গ্রহের প্রানী ওডিলির গলা। সে বলছে -ডক্টর গ্রিফিনো কি তার কার্থেজ অভিযানের জন্য প্রস্তুত? কিসের অভিযানের কথা বলছে ওডিলি? কার্থেজ মানেই বা কি? (চলবে)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮০ জন


এ জাতীয় গল্প

→ দ্য অ্যাডভেঞ্চার অফ ডক্টর গ্রিফিনোঃ কার্থেজের দানব (১ম পর্ব)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now