বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

দ্য এডভেঞ্চার অফ ডক্টর গ্রিফিনো:কার্থেজের দানব (৮ম পর্ব)

"ফ্যান্টাসি" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X দ্য এডভেঞ্চার অফ ডক্টর গ্রিফিনো:কার্থেজের দানব ফ্যান্টাসি ৮ম পর্ব জাকিউল অন্তু ....আবিরকে একহাতে কোলে তুলে অন্যহাতে তলোয়ার নিয়ে আমি উড়ে চলেছি গ্রিম্পিটালের উদ্দেশ্যে। মাধ্যাকর্ষণ শক্তির কোন প্রভাব বুঝতে পারছিনা দানবদের এই এলাকায়। ফলে অনেকক্ষণ ধরে আবির কে নিয়ে উড়ে বেড়ানোর পরেও ওর ভারটা অনুভব করা যাচ্ছেনা।ওর হাতে কারুকার্যময় তীর-ধনুকটা শোভা পাচ্ছে। বোঝাই যাচ্ছে আমার তলোয়ারের মত ওর তীর ধনুক ও একটা বিশেষ হাতিয়ার। পৃথিবীতে কাউকে কোলে নিয়ে ওড়ার ব্যাপার ঘটলে এতক্ষনে বাহকের হাত ব্যথা হয়ে যেতো। কিন্তু এখানে সেটা হচ্ছেনা। আমরা যে অন্য এক জগতে আছি সেটা স্পষ্ট বুঝতে পারছি।পৃথিবীর সাধারণ নিয়মগুলো যেখানে খাটেনা। ওদিকে একটা সমস্যা হয়ে গেছে। লিজিওনের পিঠে তলোয়ার বসিয়ে ওর সাথে সাথে ওদের এলাকায় এসেছি ঠিকই কিন্তু আসার সময় কোনপথে এসেছি ধরতে পারছিনা। বারবার পথ ভুল হচ্ছে । তাছাড়া এখন নিশুতি রাত। ভাঙা চাঁদের আবছা আলো আছে ঠিকই । তবু রাস্তাঘাট কিছুই স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছেনা। আকাশপথে যতটাই এগোচ্ছি ততটাই গুলিয়ে যাচ্ছে সব। এরকম চলতে থাকলে তো সারারাত বোকার মতো ঘুরে বেড়াতে হবে আকাশে। ভাগ্য ভালো যে দানবের দল উড়তে পারেনা আর ওরা লিজিওনের মত লম্বায় এত বিরাট না। নইলে আমাদের ধরে ফেলতো এতক্ষনে। ওদের পেটে চালান হয়ে যেতাম দুই যোদ্ধা। ওরা কিছুদূর ধাওয়া করে এসেছিল আমাদের পিছু পিছু। কিন্তু নাগাল না পেয়ে শেষপর্যন্ত ভেগে গেছে। ওরা যে প্রতিশোধ নিতে আসবে তা মোটামুটি নিশ্চিত। আমার যদি ভুল না হয় তবে লিজিওন ই ওদের সর্দার। সর্দার হত্যার প্রতিশোধ না নিতে চাওয়াটাই অস্বাভাবিক। নিরাপদ কোন জায়গায় নেমে যে আবিরের সাথে গ্রিম্পিটালে যোদ্ধাবেশে আসার ব্যপারে একটু আলাপ আলোচনা করবো তার ও উপায় নেই। এখন কোন স্থান ই নিরাপদ বলে মনে হচ্ছে না। কখন কোন দিক থেকে অদ্ভুত সব দৈত্যদানব আক্রমণ করে বসে বলা মুশকিল। তাই অগত্যা আকাশেই আলাপ শুরু করলাম। আবিরের কাছ থেকে পুরো রহস্যটা জানার আগপর্যন্ত আমার শান্তি হবেনা। আবির ই শুরু করলো -অন্তু ভাই নিশ্চয় অবাক হয়েছেন আমাকে দেখে। ওহ দুঃখিত আপনাকে তো এখন ডক্টর গ্রিফিনো বলে ডাকতে হবে।ওডিলি সেটাই বলে দিয়েছে । -তা অবাক হয়েছি কিন্তু তুই এত সব জানলি কিভাবে?ওডিলি তোর সাথেও যোগাযোগ করেছে? -জ্বী ডক্টর। আপনি আপনার পূর্বজন্মের অর্থাৎ তুতানখামেন হয়ে মিশরীয় রাজত্ব চলাকালীন সময়ে আপনার একজন অল্পবয়সী বন্ধুর কথা মনে করতে পারছেন কি? যার নাম ছিলো ওসিরিজ। যে গোপনে বেন্নেসের কাছে শুনে আপনাকে আসন্ন অভিশপ্ত মৃত্যুর সম্ভাবনার কথা জানিয়েছিল ? যে বন্ধুকে আপনি আপনার পোষা প্রানী গ্রিফিনোর পিঠে চড়িয়ে ঘুরতে বেরুতেন পবিত্র নীলনদের ওপর দিয়ে? হ্যা!আবছা আবছা মনে পড়ছে। ওসিরিজ?নামটা খুব পরিচিত মনে হচ্ছে। কিন্তু এইনামে আমার পূর্বজন্মে যে বন্ধু ছিলো তার সাথে আবিরের সম্পর্ক কি? হঠাৎ একটা দৃশ্য স্মৃতিপটে ভেসে উঠতেই আমি আবেগে বুকের কাছে টেনে নিলাম আবির কে। দৃশ্যটা এই,আমি আর ওসিরিজ লুকোচুরি খেলছি গ্রিফিনোর সাথে। কিন্তু কেউ ই ওর সাথে পেরে উঠছিলাম না। কারন আমরা দৌড়োদৌড়ি করে লুকোচ্ছি আর গ্রিফিনো একটু শুন্যে উড়েই আমাদের ধরে ফেলছে। আমার স্মৃতি যদি আমাকে ধোকা না দেয় তবে আবির আর কেউ নয়। ওসিরিজের পুনর্জন্মলাভ করা স্বত্তা। ঠিক আমার মতই আবার জন্মেছে ওসিরিজ। আমার ছোট্টবন্ধুটি। এজন্যই চায়ের দোকানে ওকে বড্ড বেমানান লাগতো। ওডিলি সুকৌশলে আমার বন্ধুকে দিয়েই আমার প্রানরক্ষা করিয়েছে । সুযোগ পেলে ওকে ধন্যবাদ জানাবো। প্রানরক্ষার জন্য তো বটেই পুরনো বন্ধুকে ফিরিয়ে দেবার জন্যেও। আবির কে বলে দিলাম যে আমি ওকে চিনতে পেরেছি। শুনে ওর আনন্দ বেড়ে গেলো। বললো রাজা তুমি এই অধম ওসিরিজ কে চিনতে পেরেছো এখন তুমিই আমায় তোমার নামের মত একটা নাম দাও। আমাকে বিষাক্ত তীর ছোড়া শিখিয়েছে ওডিলি। মাথার ভেতরে ওর কথা শুনতে পেতাম। তারপর এই কদিন হলো ভালো তীরন্দাজ এ পরিণত হয়েছি। এখন চোখ বন্ধ করে লক্ষ্যভেদ করতে পারি। লিজিওনকে মারাটা তাই কঠিন কিছু ছিলনা। -ঠিক আছে। আজ থেকে আমি তোর নাম দিলাম ডেডলী মার্কসম্যান! তোর তীরের ফলায় যেহেতু বিষ আছে যা যেকোন প্রানীকে মেরে ফেলতে পারে আর তুই ভালো লক্ষ্যভেদ ও করতে জানিস সেহেতু তোর এই নামটাই যথোপযুক্ত।খুশী তো? -আলবত খুশী । -আচ্ছা তোর ভাষায় তো আঞ্চলিকতা ছিলো সেটা দূর হলো কিভাবে? আমার এই প্রশ্নের উত্তর আমার নিজের মাথাতেই ঘুরছে। নিশ্চিত করার জন্য উত্তর এলো -সব ওডিলির কারসাজি! একথায় হো হো করে হেসে উঠলাম দুজনেই। হঠাৎ চমক ভাঙলো একটা জিনিস দেখে। গ্রিম্পিটালের যে জায়গায় গ্রিম্পিদের বাসস্থান কালো গাছটা ছিলো সেখানে পৌছে গেছি। কিন্তু গাছে কোন গ্রিম্পিকে ঝুলে থাকতে দেখলাম না। পুরো গাছ গ্রিম্পিরুপী পাতাশুন্য। একদম ন্যাড়া দেখাচ্ছে ওটাকে। আরেকটা দৃশ্য দেখে অবাক হলাম। গাছের পাশের যে দিঘীতে আমি কার্থেজ নগরী থেকে এসে ভেসে উঠেছিলাম সেই দিঘী যেন আরো অনেকটা প্রশস্থ হয়ে দূরের জঙ্গলের ভেতরে চলে গেছে। তার পাশেই একটা ভাঙা কাঠের জাহাজ চোখে পড়লো। তার ওপর কিছু জ্বলতে থাকা সবুজ পাথর ছড়ানো রয়েছে ।জাহাজটা এক কাত হয়ে পড়ে আছে। আরেকটা দৃশ্য দেখে গা টা শিউরে উঠলো। জাহাজের নিচে কতগুলো কঙ্কাল দেখা যাচ্ছে!সেগুলো মানুষের কঙ্কাল! ওগুলোর কোনটাতে টাটকা রক্ত লেগে রয়েছে,কোনটার পাজরে এখনো মাংস ঝুলছে। । দেখেই বোঝা যাচ্ছে এরা অন্তত আধা ঘন্টা আগেও জীবিত ছিলো। কিন্তু হয় দিঘির দানব অথবা অন্য কোন ভয়ানক প্রানীর শিকার হয়েছে এই হতভাগ্যের দল। এখন প্রশ্ন হচ্ছে গ্রিম্পিরা কোথায় গেলো? এই মানুষগুলোই বা কারা?কোত্থেকে এসেছে? ভাবতে ভাবতে দুজন মিলে জাহাজের ওপরের সবুজ পাথরগুলোর কাছে গেলাম। আমার তলোয়ারের পরিধিতে বেন্নেসের জাদুকরী সবুজ শিখার মতই রঙ পাথরগুলোর।হয়তো খুব মূল্যবান ও। এই সদ্যমৃত মানুষগুলো কি ডাকাত টাকাত কেউ?হয়তো এই মূল্যবান পাথর চুরি করতে গিয়ে জাহাজ সমেত আক্রমনের শিকার হয়ে এরকম মৃত্যুকে বরন করে নিতে হয়েছে ওদের। হঠাৎ একটা পরিচিত আওয়াজ কানে এলো। বিশাল বড় কোন ঘন্টা বাজালে যেমন আকাশ বাতাস প্রকম্পিত করা ঢং ঢং আওয়াজ হবে ঠিক তেমন। গ্রিম্পিটালের কোথাও কোন বড় ঘন্টা আছে নাকি? আবিরকে নিয়ে তাহলে ঘন্টাটা খুঁজে বের করতে হবে। কেন জানি মনে হচ্ছে ঐ ঘন্টার আওয়াজ ঠিক আমাদের দুজনকেই ডাকছে।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮০ জন


এ জাতীয় গল্প

→ দ্য এডভেঞ্চার অফ ডক্টর গ্রিফিনো:কার্থেজের দানব (৮ম পর্ব)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now