বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

দ্য এডভেঞ্চার অফ ডক্টর গ্রিফিনোঃকার্থেজের দানব (৫ম পর্ব)

"ফ্যান্টাসি" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X দ্য এডভেঞ্চার অফ ডক্টর গ্রিফিনোঃকার্থেজের দানব ফ্যান্টাসি ৫ম পর্ব জাকিউল অন্তু বাথ অব এন্টোনিনাসের তলদেশের কপাট এখন পুরোপুরিভাবে উন্মুক্ত। সেই কপাট গলে আমি এসে পড়েছি সম্পূর্ন নতুন একটা জগতে। এই জগতের একটা ছোট দিঘীর জলে ভেসে উঠেছি আমি। হয়তো ফিরে যাবার সময় এই দিঘীর জলেই আবার ডুব দিতে হবে। দিঘীর জল বেশ স্বচ্ছ। কার্থেজে রাতে প্রবেশ করেছিলাম কিন্তু এখানে রৌদ্রস্নাত দিন।তাই দৃষ্টিপথে কোন বাধা নেই। নিচে তাকিয়ে দেখি জলের তলার কপাট বুদবুদ ছাড়তে ছাড়তে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। দিঘীর একপাশের জলে ঘন কালো রঙের কোন প্রানীকে ভেসে বেড়াতে দেখলাম। প্রানীটা খুব বেশী বড় নয় কিন্তু তার সারা শরীরজুড়ে ধারালো কাটার সমাহার। দেখলেই গা শিহরিত হয়ে ওঠে। আমি ওটাকে দেখামাত্র পাড়ের দিকে সাঁতরাতে শুরু করলাম। কারন প্রানীটা ক্রমশ আমার দিকে ধেয়ে আসছে । ওর হাবভাবে আক্রমনের ইঙ্গিত পাচ্ছি। জলের ভেতরেই গলা শুকিয়ে এসেছে। বেশীক্ষণ সাতার কাটতে হলোনা। পাড় কাছেই। পিঠের দিকে নজর দিয়ে দেখি ডানাদুটো মিলিয়ে গেছে। ডানাগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা আমাকে দেয়া হবে কিনা জানিনা। তবুও বিপদের সময় যেহেতু ওগুলোর সাহায্য পাচ্ছি এটাও কম না । দিঘীর পাড়ে কাছাকাছির মধ্যেই একটা বিরাট গাছ চোখে পড়লো।এরকম অদ্ভুত গাছ এই প্রথম দেখলাম। গগন বিসৃত তার ডালপালা, কালো শাখাপ্রশাখায় লাল রঙের পাতা সজ্জিত। পাতাগুলো উজ্জ্বল এবং বৈদ্যুতিক বাতির মত আলোকিত । গাছের অবয়ব দর্শককে আকৃষ্ট করে। আমিও বিমোহিতের মত এগিয়ে গেলাম গাছটার দিকে। একবার পেছনে ফিরে দেখে নিলাম দিঘীর প্রানীটা জল ছেড়ে আমার দিকে উঠে আসছে কিনা। কিন্তু ওটা পাড়ের জলের কাছে ঘুরঘুর করতে করতে একসময় গভীরে চলে গেলো। খানিকটা নিশ্চিত হলাম এই ভেবে যে ওটা আমায় ডাঙায় আক্রমণ করতে পারবেনা। শরীর ভিজে জবজবে হয়ে গিয়েছে। এই অল্প সময়ে দিঘীর ঠান্ডা জলে কাঁপুনি ধরে গেছে। ঠকঠক করে কাঁপতে কাঁপতে ইতিমধ্যে গাছের কাছে পৌছে গেছি। এমন সময় একটা কাজ হলো। গাছের আলোকোজ্জ্বল লাল পাতাগুলোর আলোর পরিমাণ বেড়ে গেলো আর উৎপন্ন হলো মৃদু তাপ।এই তাপে শরীর স্বস্তি পাচ্ছে। ধীরেধীরে জামাকাপড় আর শরীর শুকিয়ে যাচ্ছে। খুব আরামবোধ করছি। যেন শীতকালে গরম কম্বলের নীচে শুয়ে আছি। গাছের নিচে সবেমাত্র বসে আরামে চোখদুটো বন্ধ করলাম। রাতে ঘুম হয়নি তাই কান্তিতে শরীর প্রায় অবশ হয়ে এসেছে। অপরিচিত জায়গায় অনাকাঙ্ক্ষিত বিপদের ভয়টাও মন থেকে মুছে গেছে । এমন সময় গাছের একটা পাতা আমার ঠিক সামনে খসে পড়লো। তারপর এক অবাক করা কান্ড ঘটলো! প্রথমে পাতার আলো কমে গিয়ে লালের বদলে দিঘীর জলের মত স্বচ্ছ ; বর্ণহীন হয়ে গেলো আর সেই পাতা বড় হতে হতে একটা কুকুরের সমান আকার নিলো। পাতার মধ্য থেকে একেএকে বেরিয়ে এলো পাঁচ পাঁচটা পা। ঠিক যেমন কচ্ছপের খোলস থেকে তার চারটে পা বেরিয়ে আসে। চোখের সামনে পাতা থেকে প্রানীতে রুপান্তরিত হবার ঘটনা আমাকে দ্বিধায় ফেলে দিয়েছে। সত্যি দেখছি নাকি গাছের গোড়ায় অলসভাবে বসে থাকায় ভুল দেখছি? পাতারুপী প্রানীটা যেন আমায় দেখতেই পায়নি। সে মুখ দিয়ে গ্রিম্পি!গ্রিম্পি! গ্রিম্পি! শব্দ করতে করতে গাছের উল্টোদিকে দিঘীর জলে নামতে লাগলো। এই শব্দের মানে কি কে জানে? ওর দেহ এতটা স্বচ্ছ যে ভেতরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বাইরে থেকে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে । প্রানীটার দেহের ভেতরে একটা কলস আকৃতির অঙ্গ দেখতে পেলাম। জলে নেমে আবার যখন জল থেকে উঠে আসতে লাগলো তখন দেখলাম ঐ কলসের মত অঙ্গ জলে টইটম্বুর হয়ে আছে । এই প্রানী তাহলে দিঘীর জল পান করতে নেমেছিল। এটা ভাবছি এমন সময় একটা বাজে ব্যপার ঘটে গেলো! প্রানীটা যেই দিঘী ছেড়ে পাড়ে উঠেছে ওমনি আমার দেখা কালো প্রানীটা পেছন থেকে জাপটে ধরে ওর গায়ে ধারালো কাটা ফুটিয়ে দিলো। সাথে সাথে ওর দেহের স্বচ্ছ ভাব কেটে গিয়ে আগের লাল রঙ ফিরে এলো। ওটার দেহের যে অংশে কালো শয়তানটা আক্রমণ করেছে সেই কাটা দিয়ে ছিদ্রিত জায়গাগুলো থেকে আলো বেরিয়ে যাচ্ছে।যেন ঐ আলোটাই প্রানীটার জীবনীশক্তি। সবশেষে দেখা গেলো অসহায় প্রানীটা আস্তে আস্তে তার পাতার মত রুপে ফিরে যাচ্ছে। এই রুপান্তরের কিছুসময়ের মাথায় আস্ত পাতাটিকে গিলে ফেললো দিঘীর শয়তানটা। সঙ্গে সঙ্গে আমার মাথার ওপরে গাছের ডালে যতগুলো পাতাছিল সেগুলো থেকে করুন কন্ঠে কান্নার আওয়াজ ভেসে আসতে লাগলো। যেন অনেকগুলো বাচ্চা একসাথে কেঁদে উঠেছে । সদ্য সঙ্গী হারানোর যন্ত্রনায় এরা কাতর হয়ে আছে । আমার বুঝতে বাকি রইলোনা এদের সাহায্য করার উদ্দেশ্যেই আমি এসেছি। আর দিঘীর জলের প্রানীটার সাথেই আমার মোকাবেলা করতে হবে। কিন্তু আমার দুঃস্বপ্নে দেখা প্রানীদের সাথে এদের কোনটার ই কোন মিল নেই। তখনো বুঝিনি রহস্য আরো কতটা ঘনীভূত হতে যাচ্ছে । পাতাগুলো আচমকা ডাল থেকে ঝরে পড়তে লাগলো আমার সামনে। সেগুলোর ভেতর থেকে যে উজ্জ্বল লাল আলো বেরুচ্ছিল সেটা নীল রঙে পরিণত হয়েছে। বিষাদের রঙ বুঝি সবখানেই নীল! সব পাতা একসাথে ঝরে পড়ায় গাছটাকে বেখাপ্পা দেখাচ্ছে। পাতাগুলো গাছের শোভাবর্ধন করছিল কিন্তু এখন তাদের অনুপস্থিতিতে গাছটা ন্যাড়ার মত হয়ে গেছে। আগের পাতাটার মতই এরাও ধাপে ধাপে পাতা থেকে প্রানীতে রুপান্তরিত হলো। তারপর আমায় গোল হয়ে ঘিরে বসলো। কান্নার বদলে এখন ওদের মুখে একটাই শব্দ বের হচ্ছে গ্রিম্পি!গ্রিম্পি! গ্রিম্পি! এক বাক্যে তিনবার। একটা নির্দিষ্ট ছন্দ অনুকরণ করে।এদের সবার চেহারা একরকম। কারো সাথে কারো পার্থক্য করার সুযোগ নেই। আমার অস্তিত্ব ওরা আগে থেকেই টের পেয়েছে এবং মাটিতে নখ বসিয়ে কি যেন আঁকছে আর আমার ঘাড়ে উঠে মাথাটাকে মাটির দিকে ঘুরিয়ে দিয়ে কিছু বোঝানোর চেষ্টা করছে। এরা বুঝে ফেলেছে যে আমি সাহায্য করতে এসেছি। কিন্তু মাটিতে ওদের আকা চিত্রের কিছুই মাথায় ঢুকছেনা। আমি আরো ভালোভাবে মনযোগ দিলাম। যখন গ্রিম্পি! গ্রিম্পি! গ্রিম্পি বলা প্রানীদের মাটিতে আঁকা ছবিটার অর্থ বুঝলাম তখন ভয়ে কলিজা শুকিয়ে গেলো। ওরা যে চিত্রটা একেছে তাতে দেখা যাচ্ছে বিশালাকার কোন মুন্ডুহীন প্রানী নিশীথ রাতে চাঁদের আলো ফুটে ওঠার পর ওদের খেতে আসে ওরা গাছ ছেড়ে পালায় তখন। যারা পালাতে পারেনা তাদের ঐ দানবের নৃশংসতার শিকার হতে হয়! দানবের যে ছবিটা ওরা এঁকেছে সেটা যদি হুবুহু আঁকা হয়ে থাকে তবে তার আকার আমার পেছনে থাকা বিশাল কালো গাছটার চাইতেও বড়! এতবড় প্রানীর সাথে লড়বো কিভাবে?


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮০ জন


এ জাতীয় গল্প

→ দ্য এডভেঞ্চার অফ ডক্টর গ্রিফিনোঃকার্থেজের দানব (৫ম পর্ব)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now