বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
দ্য এডভেঞ্চার অব ডক্টর গ্রিফিনো:কার্থেজের দানব (৭ম পর্ব)
X
দ্য এডভেঞ্চার অব ডক্টর গ্রিফিনো:কার্থেজের দানব ফ্যান্টাসি
৭ম পর্ব
জাকিউল অন্তু
....পায়ের তলার জমিন কাঁপছে লিজিওনের প্রতিটি পদক্ষেপে । তবে এখনো দেখতে পাইনি ওকে। অনেক কষ্টে স্থির হয়ে দাড়ালাম। বিশেষ তলোয়ারটা হাতড়াতে হাতড়াতে পেয়ে গেছি কিন্তু অদৃশ্য তলোয়ার আন্দাজে তুলতে গিয়ে ভুলে ওটার ধারালো জায়গায় হাত দিয়ে ফেলেছি। ফলে যা হবার তাই হলো। আঙুল কেটে গেলো!
আবার ডানহাতের ভায়োলেট হিলিং টাচের মাধ্যমে সেটা ঠিক ও হয়ে গেলো। এখনো পর্যন্ত তলোয়ার টা পুরোপুরি দৃশ্যমান হয়নি। শুধু ওটার সূচালো ফলাটা দেখতে পাচ্ছি। হাতলটা কত দূরে বোঝা মুশকিল। কারন দেখেই মনে হচ্ছে অনেক লম্বা তলোয়ার টা। কিছুক্ষণ আগে আমার ডানাদুটো পিঠ ফুঁড়ে বেরিয়ে গেছে।
তলোয়ার হাতে নেয়ার বদলে ডানাদুটো নিজে নিজে নাড়ানোর চেষ্টা করলাম।কাজ হলো। ওডিলির কথা মোতাবেক আজ থেকে এই ডানাদুটো ঝাপটানোর অধিকার শুধুই আমার। আমার নির্দেশ ছাড়া ওগুলো আর নড়বেনা। ডানা ঝাপটাতে গিয়ে একটা মজার ব্যপার ঘটলো।
ডানাগুলো যতই ঝাপটাচ্ছি ততটাই দৃশ্যমান হচ্ছে আমার পায়ের কাছে পড়ে থাকা তলোয়ারটা। অর্থাৎ ডানার বাতাসে তলোয়ার তার আসল রুপ ফিরে পাবে। তাই দেরী না করে প্রবল বেগে নাড়তে লাগলাম পিঠে ঝুলতে থাকা ডানাদুটো। তলোয়ার পুরোপুরি নজরে আসার আগপর্যন্ত চলতে থাকলো এ কাজ। ওদিকে গ্রিম্পিটাল অধিবাসী গ্রিম্পিদের দল পাগলের মত এদিক ওদিক ছুটোছুটি করছে দানব লিজিওনের কাছ থেকে বাঁচার জন্য। কেউ কেউ নিজেদের পাতার মত রুপ নিয়ে কালো গাছটার ডালে ঝুলে পড়ছে,কেউ গাছের কোটরে ঢুকে পড়ছে,কেউ বা গাছের মগডালে চড়ে বসেছে! চরম অস্থিরতা চারপাশে।
লিজিওন এতক্ষনে কাছে চলে এসেছে।কারন ভূমির কম্পন বেড়ে গেছে।
আমার তলোয়ার ও প্রস্তুত। কি চমৎকার দেখতে তলোয়ারটা! অসাধারণ কারুকার্য করা রুপোলী রঙের অস্ত্রটা দেখে মন ভরে গেলো। আজ থেকে এই বস্তুটা আমার। আমার ক্ষমতার পরিধি দিন দিন বাড়ছে। এই ব্যপারটা আপাত দৃষ্টিতে সুখের মনে হলেও হয়তো একদিন একটা সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে আমাকে। অতিরিক্ত ক্ষমতা মানুষকে অন্ধ করে দেয়। ভালো কাজের উৎসাহ কমিয়ে খারাপ কাজের দিকে ধাবিত করে। আমাকে তাই সতর্ক থাকতে হবে।
আমার পোশাকে সামান্য কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করলাম। সেটার নানা যায়গায় ফারাও সম্রাট আখেনাতুনের মন্ত্রখচিত বর্ম শোভা পেতে লাগলো। আমাকে পরিপূর্ণ ভাবে তৈরি করা হচ্ছে দৈব উপায়ে।
তলোয়ারটা হাতে তুলে নিলাম। বেশ ভারী ওটা। তলোয়ারের হাতলে পুরোহিত বেন্নেসের কালোজাদুর নিদর্শন দেখা গেলো। একটা সবুজ আভা পুরো তলোয়ারের ধারালো পরিধিতে ছড়িয়ে পড়ে সেটার ক্ষমতা বাড়িয়ে দিলো এবং সঙ্গে সঙ্গে সেটার ভারী ভাবটা কমে গিয়ে সহজে বহনযোগ্য হয়ে গেলো।
লিজিওন খুব কাছাকাছি চলে এসেছে। কি বিচ্ছিরী তার মুখশ্রী,কত বিশাল তার দেহের গড়ন!দেখলে মনে হয় জলজ্যান্ত দুঃস্বপ্ন দাঁড়িয়ে আছে চোখের সামনে । লিজিওন আমাদের অর্থাৎ আমার আর গ্রিম্পিদের বানানো ফাঁদের কাছে ঝুকে বসেছে। ও ভাবছে ডালাপালা দিয়ে বানানো গ্রিম্পিরাই আসল গ্রিম্পি। কিন্তু যেই একটা ডালের গ্রিম্পি তুলে মুখে পুরে দিলো ততক্ষনাৎ তার ভুল ভাঙলো। আর গগনবিদারী চিৎকারে ধরণীতল কাঁপিয়ে তুললো। কান ঝালাপালা হয়ে যাবার যোগার হলো আমার। এই শেষের চিৎকারে অবুঝ গ্রিম্পিরা ভয়ে সশব্দে কেঁদে উঠলো।
বোকারা বুঝলোনা যে এই কান্নার আওয়াজ লিজিওনের কানে গেলে ও বুঝে যাবে গ্রিম্পিরা কোথায় আছে। হলোও তাই। থপথপে পায়ে লিজিওন এগিয়ে এলো গ্রিম্পিদের আবাসস্থল কালো গাছটার দিকে। আমি আগে থেকেই হাতের তলোয়ার বাগিয়ে প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। লিজিওন কাছে আসতেই ওর বুকের মাঝখানে জ্বলতে থাকা দগদগে বৃত্তাকার ক্ষতচিহ্ন চোখে পড়লো। আমার আগে কেউ ঐ জায়গায় আঘাত করেছিলো নাকি?
সেটা পরে ভাবা যাবে। এখন সমস্যা হচ্ছে ঐ একই জায়গায় আঘাত করতে হলে আমায় আরো উচুঁতে পৌঁছাতে হবে কারন আমার চেয়ে বহুগুনে বড় দানবটা। পিঠে পাখা থাকায় কাজটা খুব কঠিন হবেনা কিন্তু আমি চাচ্ছি নিঃশব্দে গাছের আড়াল কে কাজে লাগিয়ে মগডাল থেকে ওর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়তে। ভয়ে ভয়েই কাজটা শুরু করলাম। পাখা ঝাপটে ধীরে ধীরে একটুও শব্দ না করে লিজিওনের নজর বাঁচিয়ে এক ডাল থেকে অন্যডালে উড়ে চললাম। তারপর সুযোগ বুঝে তলোয়ার মুঠোয় করে লাফ দিলাম লিজিওনের বুক লক্ষ্য করে। কিন্তু ভুল হয়ে গেলো।
লিজিওন যে আচমকা ঘুরে দাঁড়াবে তা জানতাম না। ফলে তলোয়ার টা সোজা গিয়ে বিঁধলো দৈত্যটার পিঠের ঠিক মাঝখানে। আর প্রচন্ড শব্দে আর্তনাদ করে উঠলো ওটা। বারবার পিঠে হাত চালিয়ে আমার নাগাল পেতে চেষ্টা করছে লিজিওন। কিন্তু হাত পৌছুচ্ছেনা। আমি তলোয়ারে হাতল ধরে ঘড়ির পেন্ডুলামের মত ঝুলছি ওর পিঠ বরাবর। তলোয়ার যে যায়গায় গেঁথে গেছে সেখান থেকে হলুদ রঙের থকথকে আঠালো পদার্থ বেরিয়ে আসছে। লিজিওনের রক্ত ছাড়া ওটা আর কি হতে পারে?তলোয়ারটা খুলেও আনতে পারছিনা। দানবটা এবার সব চেষ্টা ছেড়েছুড়ে আমায় নিয়ে যেপথে এসেছিল সেপথে ছুট লাগালো।
আমি অনেক কষ্টে তাল সামলে ঝুলতে থাকলাম। হাত ছেড়ে দিলেই বিশেষ তলোয়ার টা হারাবো। ওডিলি আগেই নিষেধ করে দিয়েছে এই তলোয়ার যেন হাতছাড়া না করি। তাই বাধ্য হয়ে লিজিওনের সাথেই যেতে থাকলাম ওর গন্তব্যে। বেশ কিছু সময় পর একটা সুবিশাল অট্টালিকার সামনে এসে থামলো লিজিওন। এত বিশাল অট্টালিকা আমি পৃথিবীর কোথাও দেখিনি। এমনকি মিশরের পিরামিড ও এই বিরাট দালানের চাইতে ছোট। লিজিওন আবার চিৎকার করে উঠলো। এবারের চিৎকারে কাউকে ডাকার স্পষ্ট ইঙ্গিত পেলাম। হয়তো ওর অনুচর বাহিনী কে ডাকছে সাহায্যের জন্য। সামনের ভবন থেকে হুড়োহুড়ির আওয়াজ ভেসে আসছে। আর আমার যদি ভুল না হয় তবে আরো অনেকগুলো দানব ধেয়ে আসছে আমাদের দিকে।
আমি ভয়ার্ত চোখে আসন্ন বিপদের অপেক্ষা করছি ।
হঠাৎ একটা কাজ হলো। "সাই "শব্দে কিছু একটা কিছু "খচ" করে বিঁধে গেলো লিজিওনের দেহে আর ও কাত হয়ে পড়ে গেলো। এইফাকে আমি তলোয়ারটা খুলে নিয়ে নিরাপদ দূরত্বে উড়াল দিলাম শুন্যে। "সাই"শব্দটা কিসের এবং কেনইবা লিজিওন হুট করে মাটিতে আছড়ে পড়লো সেটা বুঝতে পেরে মনটা আনন্দে নেচে উঠলো।
আমি নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিনা।লিজিওনের বুকের ক্ষততে একটা বড় তীর বিঁধে আছে। ও এখন মৃত। আর ওর মৃত্যুর কারন আর কিছু না রফিকের চায়ের দোকানের ছোট্ট ছেলে আবিরের হাতে থাকা অদ্ভুত ধনুক থেকে বেরিয়ে আসা তীরের ফলা!
আবিরকে দেখে আমার চোখ ছানাবড়া হয়ে গেছে। ও গ্রিম্পিটালে কি করছে? ওর পরনে আমার পোশাকের মত পোশাক। শুধু পিঠে ডানা নেই আর হাতে তলোয়ারের বদলে তীর ধনুক!ওদিকে অট্টালিকার দানবদল বাইরে এসে পড়েছে। ওরা হতভম্বের মত তাকিয়ে আছে লিজিওনের লাশের দিকে। ওরা আমাদের হাতে অস্ত্র দেখে বুঝে ফেলেছে লিজিওন কে আমরাই হত্যা করেছি। তাই প্রচন্ড আক্রোশে হামলা করতে এলো আমাদের দুজনের ওপর। আমি দেরী না করে আবিরকে জাপটে ধরে উড়ে চললাম গ্রিম্পিটালের দিকে। দানবের দলের সদস্য সংখ্যা দেখে মনে হচ্ছে অনেক বড় যুদ্ধপ্রস্তুতি নিতে হবে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে আবির কে এখানে যোদ্ধা হিসেবে পাঠানো হলো কেন? কে পাঠিয়েছে ওকে?ওডিলি নাকি বেন্নেস?
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now