দ্য ডিভোর্স
X
দ্য ডিভোর্স
স্নিগ্ধা আফসানা রোশনী
ছেলে- হাউ ডু উই স্টার্ট?
মেয়ে- আমি প্রশ্ন করব,আপনি উত্তর দেবেন।আপনি করবেন আমি দেব।এটা যেহেতু প্রথম দিন, লেট নট ইম্প্রেস ইচ-আদার।উই ক্যান বি অনেস্ট।
ছেলে- ওকে।
মেয়ে- সিন্স উই ডোণ্ট হ্যাভ ফরএভার,আ লিমিট আস ইন টুয়েন্টি কোয়েশ্চেনস?
ছেলে হাসে।কেন ২০ কোয়েশ্চন্সই?
মেয়ে- এন্ড নো প্রাইভেট কোয়েশ্চেন।
ছেলে- কিন্তু একে-অপরকে জানার জন্য প্রাইভেট কোয়েশ্চেন্স আর ইম্পর্টেন্ট!
মেয়ে মাথা নাড়াল।হালকা গলায় বলল- নো প্রাইভেট কোয়েশ্চেন,পারসোনাল ওয়ান্স আর ফাইন।
ছেলে-বাট হোয়াটস দ্য ডিফরেন্স?
মেয়ে- আমি উত্তর না করলেই বুঝতে পারবেন পার্থক্য।
ছেলে-ফেয়ার এনাফ।ইউ ওয়ানা গো ফার্স্ট?
মেয়ে-ইউ গো প্লিজ।
ছেলে- কেন সাইকিয়াট্রি?
মেয়ে- উমম, মেবি বিকজ আই লাইক টু আনকভার দ্য ট্রুথ অব হিউম্যান মাইন্ড!আপনি কেন একাউন্টিং?
ছেলে- টাকা গুনতে ভাল্লাগে! স্যরি মজা করলাম!আমি অডিট ভালবাসি।
কাজের মেয়েটি কফি নিয়ে আসে।সুদৃশ্য মগে দুইধরনের পছন্দ রাখা হয় টেবিলে।একটা ব্লাক কফি এবং একটা দুধ মেশানো।ইতস্তত করে ছেলেটি ব্লাক কফির কাপ তুলে নেয়।
মেয়ের মুখে সামান্য হাসি দেখা গেল!কিন্তু কিছু বলল না সে।
ছেলে- কি খেতে ভালবাসেন সব থেকে?
মেয়ে- বাসমতি চালের ভাতে ঘিয়ে ভাজা শুকনা মরিচ আর পেঁয়াজ দিয়ে আলুভর্তা।লাল লাল করে ভাজা ডিম আর টমেটো-ধনেপাতার চাটনী! আপনার?
ছেলে- চাইনিজ ফেভারিট আমার!
মেয়ে- আপনি রান্না করতে পারে?
ছেলে- আমি?আমি যখন রান্নাঘরে যাই...আই ক্যান মেইক এ ভেরি গুড ইন্সট্যান্ট কফি উইথ লটস অভ মিল্ক এন্ড সুগার।দ্যাটস এবাউট ইট।
মেয়ে- দ্যাটস নট কুকিং!
ছেলে- ডু ইউ ওয়াচ মুভিজ?
মেয়ে- অফকোর্স!কে না দেখে!
ছেলে- কি ধরনের মুভি দেখেন?
মেয়ে- নাচ-গান,হাসি-মজা,সবই দেখি।
ছেলে- আমি লাইক ফরেন ফিল্মস।
মেয়ে-ইউ রিড বুকস?
ছেলে- ইয়ে,মাঝে-মাঝে আর কি... এন্ড,হোয়াট এবাউট মিউজিক?
মেয়ে- এমন কিছু, গিভস পিস টু মাই সোল।
ছেলে- আমি লাইক টেকনো!
মেয়ে- হোয়াটস দ্যাট?
ছেলে- ইলেকট্রনিক মিউজিক...উইথ আউট ভোকাল।
মেয়ে- ও আচ্ছা!
ছেলে-ইট হেল্পস টু ফোকাস মাই ওয়ার্ক।
মেয়ে- হুম,ওকে...হিয়ার কামস এ বিগ ওয়ান।ইফ ইউ সি এ বাঞ্চ অব গাইজ স্লেজিং এ গার্ল মিডল অব দ্য স্ট্রিট।কি করবেন আপনি?
ছেলে- একটু কনফিউজড আমি আসলে...ওকে নট ইফ আই এম এলোন...দেখুন আমি তো আর বডি বিল্ডার না।হয়ত কিছু ছুড়ে মারব তাদের দিকে।আই উইল ট্রাই।
মেয়ে- হোয়াট ইফ,আফটার ম্যারেজ সামবডি এটাক অন মি?
ছেলেটা মাথা চুলকালো।মে বি আই কল ফর হেল্প।
মেয়ে- নাউ ইটস ইয়োর টার্ন টু আস্ক।
ছেলে- নো নো,ইউ ক্যারি অন।
মেয়ে- লাভ কি বলুন!
ছেলে- মানে?
মেয়ে- আমাদের মাঝে কোন কিছুরই মিল নেই।দেখছেন না?আরেকটা প্রশ্ন করতে চাই।
ছেলে- অবশ্যই।
মেয়ে- আপনার ঘুম কেমন হয় রাতে?
ছেলেটা কিছু বলল না।
মেয়ে- কি হল বলুন...।
তিনমাস আগে...
রেহানা দরজা ধাকাচ্ছেন।রাফি ঘুমঘুম চোখে উঠে দরজা খুলল।
-কি রে অফিস যাবি না?
-না মা,শরীরটা ভাল লাগছেনা।
-রেহানা ছেলের কপালে হাত দিলেন।নাহ গা জলের মত ঠান্ডা।
-কি হয়েছে তোর রাফি?
-ঘুম হচ্ছেনা মা।
রেহানা হালকা গলায় বললেন, ঘুম আগে যে জন্য হতো না,সমস্যা তো মিটে গেছে।এখন ভাল ঘুম হওয়ার কথা!ডাক্তার দেখা।
রাফি একটা ছোট্ট নিঃশ্বাস ফেলে বলল- ঠিকই বলেছ মা,ডাক্তারই দরকার।মনের ডাক্তার দরকার।
বর্তমান...
কলিংবেল বাজছে...নিধি কিছুটা বিরক্ত হয়ে দরজা খুলতে উঠে গেল।
নিধি- আপনি আবার?
রাফি- ইয়ে,আপনাদের এখানের কফিটা ভালো ছিল।আমি কি আরেক কাপ কফি পেতে পারি?কালো কফি?
নিধি ভ্রু তুলল। আপনি কফি খেতে ফিরে এসেছেন?
রাফি- হ্যা,ঐ না মানে...আপনি বললেন না আমাদের মিল নেই?আমি দেখলাম ব্লাক কফি খেতে খুব খারাপ না।আমি আপনাকে বানিয়েও দিতে পারব।
নিধি-আর নুডলস?
রাফি- বিশ্বাস করুন, আমি নুডলস আর খাইনা...সত্যি!
নিধি হেসে ফেলল।
রাফি একটু কাছে এগিয়ে এল।
-নিধি আমি ব্লাক কফি খেতে পারব তোমার জন্য,নাচ-গান ওয়ালা মুভি দেখব।প্রতিদিন নুডলস খাব না।তোমার আরো হাজার প্রশ্নের উত্তর দিতে পারব।আমি জিমে ভর্তি হয়ে যাব।কেউ তোমাকে কিছু বললে ঘুসি মেরে নাক ফাটিয়ে দেব।প্রমিজ।
নিধি কিছু বললনা।
রাফি- আমার ঘুম হয় না,নিধি।
নিধি- কেন?এখন তো ভাল ঘুম হওয়ার কথা।
রাফি মাথা নিচু করে বলল- তোমার নাক ডাকার শব্দে অভ্যাস হয়ে গেছে!না শুনলে ঘুম আসেনা।নিধি...প্লিজ ফিরে চল বাসায়।
নিধি খিলখিল করে হেসে ফেলল।
-আর সারাদিন নুডলস খাওয়ার ব্যাপারটা?
রাফি- নুডলস বন্ধ নিধি।তোমার রান্না করতেই হবেনা।
নিধি দরজা পুরোপুরি খুলে দিল।
হাসতে হাসতে বলল- মি.হাসবেন্ড,আমি নুডলস রান্না করা শিখে গেছি,আপনি বসলে এখনই বানিয়ে দিতে পারি!
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now