বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

দক্ষিন মেরু-উত্তর মেরুর ভালোবাসা

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Merina Afrin Mou (০ পয়েন্ট)

X - আচ্ছা রাদ তোমার সেদিনের কথা মনে আছে,যেদিন আমাদের প্রথম দেখা হয়েছিল?আমি না কখনোই ভাবতে পারি নাই যে তোমার সাথে আমার ওভাবে দেখা হয়ে যাবে।যখন তোমাকে দেখলাম সবকিছু কেমন সপ্নের মতো মনে হচ্ছিল। . -হু,আর আমি তো তোমাকে চিনতেই পারছিলাম না। . -হিহিহি,তুমি বুঝবে ক্যামনে যে এটা আমি।আমি তো বোরখা পরেছিলাম আর মুখ ও বাধা ছিল। . -চিনতে না পারলেও আমি পরে বুঝতে পারছিলাম যে তুমি ই ছিলে কিন্তু পুরোপুরি সিওর ছিলাম না।আমি যখন তোমার পাশে দিয়ে হেটে চলে যাচ্ছিলাম ওই মুহুর্তে আমার মনে হলো কেও আমাকে ফলো করতেছে।তখন এ পিছন ফিরে তাকালাম আর যা দেখলাম তার জন্য আমি মোটেই প্রস্তুত ছিলাম না। . -কি দেখলে গো।ভুত তাইনা???? . -ভুত না, পেত্নি দেখছিলাম পেত্নি।একটা আস্তো বড়োসড়ো পেত্নি আমার দিকে চোখ বড় বড় করে একভাবে তাকাই আছে। . -কি বললা!আমি পেত্নি হ্যা!! . -হ্যা,পেত্নিই তো।নইলে কেও ওভাবে কারো দিকে ড্যাব ড্যাব করে তাকাই থাকে।আমিতো রীতিমত ভয় পেয়ে গেছিলাম যে কেরে বাবা! এরকম ভাবে আমার দিকে তাকাই আছে। . -ইইই!!!মোটেও না।আমিও তো তোমাকে প্রথম এ ঠিক চিনতে পারতেছিলাম না।তাইতো ভালোমতো পরখ করতেছিলাম। . -তো ম্যাডাম পরখ করে কি পাইলেন? . -তোমাকে পাইলাম।তুমি যখন আমার দিকে তাকালে তখনই বুঝতে পারলাম এই সেই মি. রাদ। . -হু ভালো। তো চিনলে যখন কথা ক্যান বললে না? . -বাহ রে!কতো শখ।ওরকম সিসুয়েশন কথা বলা যায় নাকি।আর আমার তো বেশ মজাই লাগতেছিলো যখন বুঝলাম যে তুমি আমাকে চিনতে পারোনি।তাই আর নিজে থেকে বলতে গেলাম না। . -হুম বুঝছি। . -কি বুঝছো? . -তুমি একটা পেত্নি???? . -কি বললে,,তবে রে!!! ......................... .............................. রিম সদ্য এসএসসি পার করে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হবে।আর যেদিন সে ভর্তি হতে যায় সেদিন ই কলেজ এ অনেকটা কাকতালীয় ভাবেই ওদের দেখা হয়ে যায়।এর আগে রিম রায়াদের পিক দেখছে তাই আর সেদিন চিনতে খুব বেশি কষ্ট হয়নি।আর তার থেকেও মজার ব্যাপার হলো রিম সেদিন রায়াদকে প্রথমবার সামনে থেকে দেখেই ক্রাশ খাইয়া গেছিলো।আর ক্রাশ খাবে নাই বা কেনো।রায়াদ সবদিক থেকেই পারফেক্ট।দেখতে,শুনতে পুরাই হিরোর মতো।স্টাইল, আ্যটিটিউড কোনো অংশে কম নই।যেকোনো মেয়ে দেখলেই ক্রাশ খাওয়াটা দুর্লভ কিছু নয়।আর সেটার বড় প্রমাণ, অনেক সিনিয়র আপুরাও রায়াদে ক্রাশান্নিত।অনেকে আবার প্রপোজও করে বসছে। . (রিমের আদরের ডাক রাদ????) . রিমের সাথে রায়াদের পরিচয় হয় কোনো এক সুত্রে।প্রথমেই কেও কাওকে সামনে থেকে আর দেখা হয়নি।ফেসবুকে কথা হতো।আর সেখান থেকেই জন্ম হয় দক্ষিন মেরু আর উত্তর মেরুর ভালোবাসার ভ্রুণ????।হুম দক্ষিন মেরু আর উত্তর মেরু।পরিচয় এর প্রথম থেকেই শুরু হয় ঝগড়া।এটাকে ঠিক ঝগড়াও বলা যায় না,,কারো কথায় কেও ই সহমত পোষণ করে না।একজন কিছু বললে অন্যজন ঠিক তার উল্টো কিছু না কিছু বলবেই। যেন দুজন দুই মেরু।কিন্তু আমি যতদুর জানি বিপরীত মেরু নাকি পরস্পর আকর্ষণ করে আর সমমেরু বিকর্ষণ।চলুন দেখি এদের কি হয়,, . রায়াদের মতে দক্ষিণ মেরু নাকি বেশি ভালো উত্তর মেরু থেকে।কিন্তু রিম সেটা মানতে নারাজ।এর কারণ রায়াদ হচ্ছে দক্ষিণ মেরুর বাসিন্দা আর রিম উত্তরের।হ্যা,দুজন হাইওয়ের দুই পাশে থাকে।রায়াদ দক্ষিণ সাইডে আর রিম উত্তর সাইডে।খুব বেশি হলেও দুজনের মধ্যে 500 গজ দুরত্ব।এক কথাই বলতে গেলে হেটে হেটে গেলেও 5-7 মিনিট।রিম অলয়েজ এই দক্ষিণ সাইড কে খারাপ বলে, তার নাকি এই এলাকা ভালো লাগে না।আর স্বভাবতোই রায়াদ তার এলাকার কথা কেও খারাপ বলবে আর সে সেটা মেনে নেবে এত ইজিলি তাও আবার চিরশত্রু উত্তর মেরুর কোনো এক মাইয়া বলতেছে।এই নিয়ে দুজনের মধ্যে মাঝে মাঝেই বেশ গাম্ভীর্য বিরাজ করে আর মনে মনে প্রতিশোধ এর আগুনে জ্বলে-পুড়ে যায়। . প্রতিশোধ! হ্যা এই শব্দটাই ছিল যত নষ্টের দাদাঠাকুর। রিম কখনোই পেরে উঠতনা রায়াদের সাথে।একের পর এক পরাজয় তাকে করে তুলেছে জয় তৃষ্ণার্ত বাঘিনীর ন্যায়।বার বার ব্যার্থতার গ্লানি করে তুলেছে রায়াদের প্রতি তার এক অন্যরকম আকর্ষণ যা সে নিজেও ভাবতে পারছে না এর ফলাফল কি হতে পারে।এদিকে রায়াদ বার বার বিজয় উল্লাসে মেতে উঠে রিমের পরাজয়ে।বেশ ভালোই লাগে রিমকে বার বার হারাতে।কিন্তু সেই ভালোলাগা যে আস্তে আস্তে রিমের অভিমান ভাঙানোর দিকে রুপ নিবে সেটা হয়তো রিম ও কখনো কল্পনা করতে পারি নি।এক সময় রিম বুঝতে পারে যে তার ভালোলাগা,খারালাগা সবকিছুর মধ্যেই রায়াদের উপস্থিতি।এখন আর তার প্রতিশোধ নিতে ইচ্ছা করে না।প্রতিশোধটা এখন পরিণত হয়েছে অভিমান রুপে।আর সেই অভিমান একরকমভাবে রায়াদকেও পরাজিত করে দিছে।রায়াদ আর এখন আগের মত বিজয় উল্লাস করে না রিমের পরাজয়ে।পরাজয় বললে ভুল হবে,,এখনতো সেটা অভিমান।রায়াদের ভাললাগে না রিমের অভিমান করে থাকা।মেয়েটা ইদানীং বড্ড অভিমানী।এ যেনো এক অন্য রিম রায়াদের কাছে।রায়াদ ভাবতে থাকে আমি কি রিমের প্রতি তাহলে দুর্বল হয়ে যাচ্ছি? ধুর আমিও না কি ভাবছি।ওর প্রতি আমি ক্যান দুর্বল হতে যাব।চিরশত্রু উত্তর মেরু তার প্রতি দুর্বল প্রশ্নই ওঠে না।আর রিম,হু কখনোই নই,ওই রকম একটা ঝগরুটে মাইয়ার সাথে আমি রায়াদের সম্ভব না। নিজে নিজেই এসবই ভাবতে থাকে রায়াদ।কিন্তু কোথাও যেন তার মন এসবে সাই দেয়না।তবুও নিজের যায়গা সে কঠোর।রিমের কাছে সে হেরে যাবে,,নো ওয়ে। . এরপর থেকে শুরু হয় ব্লকপর্ব।লেটস সি???? প্রতিশোধ যখন অভিমানে রুপ নিলো,সেই অভিমানের মাত্রাটা দিন দিন এতটাই বেশি হতে লাগলো যে রিম দিন দিন বাচ্চাদের মত ব্যবহার শুরু করেছে।এখন একটু কিছু হলেই সে নিজে নিজেই নিজেকে দোষারোপ করে। রিম খারাপ, তোমার রিমের সাথে কথা বলা লাগবে না।খারাপ মেয়ের সাথে তুমি ক্যান কথা বলবা।যদি পারো আমাকে প্লিজ ব্লক করে দাও রাদ।আমার আর এসব ভালো লাগছে না।আমার জন্য তোমার কোনো প্রব্লেম হোক সেটা আমি চাইনা।তোমার উচিত আমাকে ব্লক করে দেওয়া। এভাবে বলে রিম অফলাইনে যাওয়া, কখনো বা রিম নিজেই আইডি ডিএক্টিভ করে দেয়।ডিএক্টিভ,ব্লক,আনব্লক, এক্টিভ এসবের খেলা চলতে থাকে দুজনের মধ্যে যা দুজনকে আরও কাছে আনার জন্য যথেষ্ট।রিমের এরকম পরিবর্তন রায়াদের মাঝেও তার প্রতি অন্যরকম একটা অনুভুতির জন্ম দেয়। দক্ষিন মেরু যে কখন উত্তর মেরুর প্রতি দুর্বল হয়ে গেছে সেটা দক্ষিন মেরু বুঝতেও পারে না। কখনো বা উত্তরের হাওয়া বইতে থাকে দক্ষিনে,কখনো বা দক্ষিনের হাওয়া উত্তরে। . হাওয়ার খেলার এমনি এক রাতে অনলাইনে ডুকেই অবাক হয় রায়াদ।রিমের সাথে তার কনভারসেশন নাই!!কি হল তাইলে?ডিলিট কে করল?এসব ভাবতে ভাবতেই সে রিমকে এসএমএস করতে যায়। এবার আরেক খটকা,,মেসেজও সেন্ড হয় না।তাহলে কি রিম আমাকে ব্লক করল? ভাবতে থাকে কাল রাতের কথা,,কাল রাতে রিমের সাথে বেশ মনমালিন্য হয়েছে।মেয়েটা অভিমান করেই অফলাইন গিয়েছিল আর যাওয়ার আগে অনেক কথাও বলেছে।কাল একটু বেশিই হয়ে গিয়েছে।ধুর আমিও না,,শুধু শুধু মেয়েটাকে কষ্ট দি। কিন্তু কনভারসেশন যাবে কই? ভাইয়া!!তাহলে কি ভাইয়া এসব করছে।ভাইয়ার দিকে আড় চোখে তাকাই রায়াদ।পাশেই বসে খুব মনোযোগসহকারে পড়ছে। রায়াদের চোখমুখে একরাশ হতাশা। কিছুই বুঝে উঠতে পারছে না সে।কে করবে ডিলিট?কে হতে পারে কে?তার মোবাইল ভাইয়া ছাড়া আরতো কেও ধরে না। হুম ভাইয়া,,এটা ভাইয়ার কাজ।একটু আগে মোবাইল ভাইয়ার কাছে ছিলো।তাহলে কি ভাইয়া রিমের সাথে সবকিছু দেখে ফেলছে? প্রশ্ন!হাজারটা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে রায়াদের মগজে।কি হচ্ছে সে কিছুই বুঝে উঠতে পারছে না। ভাইয়াকে কিছু বলবো?না থাক ভাইয়াকে ডিরেক্ট আস্ক করা যাবেনা।যদি ভাইয়া কিছু না করে। হু,,রিম!একমাত্র রিম বলতে পারবে কি হয়েছে।ওকে কল করতে হবে।কিন্তু এতরাতে করবো কিভাবে?বাসার বাইরে যাওয়া পসেবল না আর ভাইয়ার সামনে!এটাও সম্ভব না। নাহ!এভাবে বসে থাকলে চলবে না। কিছু একটা করতে হবে। . কোনো উপায় না দেখতে পেয়ে চুপচাপ এসে শুয়ে পড়ে রায়াদ আর ভাবতে থাকে কাল কলেজে রিমের সাথে দেখা করতে হবে আর সবকিছু জানতে হবে আসল ঘটনা কি? কিরে কি হয়েছে রে তোর?এত ছটফট ক্যান করতেছিস? কই কিছুনাতো ভাইয়া,,এমনি ভালো লাগতেছেনা তাই আর কি। তো ভালো না লাগার কারনটা কি রিম নাকি? ভাইয়ার মুখে রিমের নাম শুনে একলাফে উঠে পরে রায়াদ।কি বলবে ভেবে পাই না। মুখটা বন্ধ কর নইলে মশা চলে যাবে তো। রায়াদের মুখ বন্ধ।মাথা নিচু করে বসে আসে। তো কতদিন চলছে এসব? মানে?কি বলো তুমি।কি কতদিন চলবে? বুঝতেছিস না আমি কি বলতেছি? রায়াদের আর বুঝতে বাকি রইল না যে সবই ভাইয়ার কেরামতি। ভাইয়া রিমের বেপারটা জেনে গেছে।এখন কি বলব ভাইয়াকে? রায়াদ ভাইয়াকে সবকিছু বুঝানোর চেষ্টা করে।রিমের সাথে তেমন কিছুই হয়নি।ভাইয়া যেটা ভাবতেছে তেমন কিছুই নই। কিন্তু ভাইয়ার কথা শুনে যেন আকাশ ভেঙে পড়ে রায়াদের উপর।সে এসব মোটেই আশা করি নাই। রিমের সাথে ভাইয়ার অনেক কথা হইছে আর রিম নাকি ভাইয়ার সাথে খুব একটা ভালো ব্যবহার করে নি।এতে ভাইয়া বেশ খেপে আছে।কেমন মেয়ে বড়দের সাথে কিভাবে কথা বলতে হয় সেটাও জানেনা। রিমের জন্য রায়াদকে আজ অনেক কথা শুনতে হলো ভাইয়ার থেকে। এদিকে রায়াদের চরম রাগ হচ্ছে রিমের ওপর।তার ভাইয়ার সাথে বাজে ব্যবহার করবে।ভাইয়া তারপর রিমকে এসএমএস ব্লক দিছে। কি পেয়েছে টা কি মেয়েটা।মাথাই উঠে গেছে নাকি।যা ইচ্ছা তাই করবে। সবকিছু মেনে নিলেও ভাইয়াকে এভাবে হ্যানস্ত করা রায়াদও মেনে নিতে পারছে না। . পরেরদিন ক্যাম্পাসে রিমের সাথে দেখা করতে যায় রায়াদ।ভাইয়ার সাথে বাজে মজা করার বেপারটা এখনো মগজে ঠন ঠন করতেছে।তাই রিমকে অনেক কথা শুনাই রায়াদ।সবকিছুর একটা লিমিট আছে আর রিম সেই লিমিট অতিক্রম করে ফেলেছে।শাস্তি তাকে পেতে তো হবেই।আর সেটাই হলো। রায়াদের সাথে যেন আর কোনোভাবে রিম কন্ট্রাক্ট করার চেষ্টা না করে।আনেক হয়েছে আর না। এসব বলে রায়াদ চলে আসে সেখান থেকে।রিম কোনো কথা বলার সুযোগ পাইনা। . এদিকে রিম বুঝতে পারি নাই বেপারটা ঠিক এতদুর যাবে।রায়াদের ব্যবহারে রিম কষ্ট পেয়েছে।বাসায় এসে চোখের জ্বল আর নাকের জ্বল এক করে ফেলছে।এভাবে তাকে কেও কখনো বকেনি।আর রায়াদ,,সে ক্যামনে পারল আমাকে এভাবে কথা শুনাতে। রায়াদকে সবকিছু জানাতে হবে।কোথাও একটা ভুল হচ্ছে। রিম অনলাইন এ আসে,রায়াদকে মেসেজ দিতে গিয়ে দেখে রায়াদ তাকে ব্লক করে দিছে। কি করে বলবে রায়াদকে সব?কল করি,,হুম রায়াদকে কল দেই রিম কিন্তু রায়াদ কল রিসিভ করে না।আবার দেই, আবারও নো রেসপন্স। তারপর কল আর যায়না।ফোন অফ করে দিছে রায়াদ। রিমে ভেবে পাইনা কি করবে এখন। . ফোন অন করতেই রিমের মেসেজ দেখতে পাই রায়াদ।অনেকগুলো টেক্সট করছে। ভাইয়া আর রিমের মধ্যে যে ভুল-বুঝাবুঝি হইছে সেটা আর বুঝতে বাকি থাকেনা। রিম মনে করছিল রায়াদই হইতো ফাজলামো করে এরকম করতেছে আর তাই সে এরকম ব্যবহার করছে।ভাইয়া রিমকে জিজ্ঞাসা করছে রায়াদের সাথে তার সম্পর্ক কি? এসব শুনে রিমও ফাজলামো করে অনেক কিছু বলছে আর এক পর্যায়ে বলছে যে সে রায়াদের সাথে নয়, ভাইয়ার সাথে প্রেম করবে আর ভাইয়াকে অফারও করছে। নাহ,,এই মেয়েটা যা করে না।এতটা পাগলামি না করলে কি খুব বেশি প্রব্লেম। পুরো বেপারটা বুঝতে পেরে রায়াদেরও খুব খারাপ লাগে।কত কথায় না বলছে মেয়েটাকে।উফফ আমিও না,,সবকিছু না শুনে শুধু শুধু এতকিছু বলছি। তখনই কল করে রিমকে,, দেখ রাদ আমি বুঝতে পারি নাই যে ওটা তোমার ভাইয়া ছিল।আমার ভুল হয়ে গেছে,প্পিজ আমাকে ভুল বুঝোনা। বাসায় এসে রায়াদ ভাইয়াকে সবকিছু খুলে বলে। দুপুর এ খাবার খাচ্ছে এমন সময় আম্মু বলে, এই তুই নাকি শুনলাম।প্রেম করতেছিস কোন মেয়ের সাথে? কথা শুনে রায়াদ এর গালে আর খাবার টুকুও পৌচ্ছায় না।ভাইয়ার দিকে আড় চোখে তাকাই।দেখে ভাইয়া মিট মিট করে হাসতেছে। কিরে বলিস না ক্যান?তুই নাকি প্রেম করতিছিস? হ্যাহ,,ইয়ে মানে আম্মু তোমাকে কে বলল? কেও বলেনি,,তা মেয়েটা কেমন রে,,নাম কি? আগে বলো কে বলছে?ভাইয়া তাইনা।দেখ এসব কিছুই না।।তোমারা শুধু সবকিছু ভেবে নিচ্ছ। আমাকে এখন খাইতে দাও তো।ক্ষুধা লাগছে। .এসব বলে কোনোমতে রেহাই পাই রায়াদ।দ্রুত খেয়ে রুম এ আসে হাফ ছেড়ে বাছে।ভাইয়াকে যে কি বলবো উফফ। . কিছু না হইতেই এত কাহিনি তাদের দুজনের মধ্যেই প্রভাব ফেলে।এদিকে রিম রায়াদকে মিস করতে শুরু করে। রিমের কল্পনা জগৎজুড়ে এখন শুধুই রায়াদের বিচরণ। তাহলে কি আমি রাদকে ভালোবাসি? নাহ, এসব কি ভাবছি আমি। আর রাদ তো আমাকে ভালোবাসে না।তাহলে আমি কেন ওকে ভালোবাসতে যাবো। কিন্ত রিমের মন কিছুতেই সেটা মানতে চাইনা।জোর করে কখনোই যে কিছু হইনা।এদিকে রায়াদের বুঝতে বাকি থাকে না সে যে রিমকে ভালোবেসে ফেলেছে। এখন শুরু হয় দুজনের মনের সাথে যুদ্ধ। এই বেপারে কেও কারো কাছে হার মানতে নারাজ। কিন্ত এভাবে কতদিন?মনের সাথে যুদ্ধ করাটা যে কতটা কঠিন তা হাড়ে হাড়ে বুঝতে পারতেছে রিম ও রায়াদ।শুরু হয় ভালোবাসি তোমাকে বুঝানোর নানা রকম ভঙ্গি,কৌশল। আর দুজনই সেটা বুঝাতে সক্ষম হয়।কিন্তু না বুঝার ভান করে থাকে।এমন ভাব করে যে সে কিছুই বুঝতেছে না।এদিক দিয়ে রায়াদ একটু বেশিই।সে যেন পিচ্চি ছেলে,,কিছুই বোঝে না।এমন ভাব করে যে কিছুই হয়নি।।।এদিকে আবার রিমের প্রেমে ছেলে ডুবে ডুবে জ্বল খাচ্ছে। রিমের খুব রাগ হয় রায়াদের এই ভাব দেখে।কিছু বললেই বলে আমি তো পিচ্চি ছেলে আর এই শুনে রিম রাগে গিট গিট করে। নাহ!!এভাবে হচ্ছে না।আমাকেই কিছু একটা করতে হবে।পিচ্চি ছেলেকে বড় বানাতে হবে।রাদের বাচ্চা তোর একদিন কি আমার একদিন। নিজে নিজেই ভাবতে থাকে রিম।কিন্তু একটা মেয়ে হয়ে কিনা আমি একটা ছেলেকে প্রোপজ করব!! রিমের জন্য অনেক ছেলেই পাগল,,প্রোপজটা এখন দুধ-ভাত এর মত। আর আমি কিনা শেষমেশ রাদকে প্রোপজ করব? কিন্তু রাদ তো সবকিছু বুঝেও না বুঝে বসে আছে। আবার মনের সাথে যুদ্ধ করতে থাকে রিম এই ভেবে যে আরেকটু চেষ্টা করি,অপেক্ষা করি রাদের জন্য।কিন্তু অপেক্ষার প্রহর শেষ হয়না। রায়াদও অনেক ভাবে রিমকে বুঝায় তার মনের কথা কিন্তু প্রোপজ করবে সেটা তার দ্বারা সম্ভব নয়। কে জিতবে আর কে হারবে সেটা শুধু সময়ই বলতে পারে। চলতে থাকে এরকম,রিমের অপেক্ষার ধৈর্যের বাধ আর স্থায়ী থাকে না। আমি আর পারছি না এভাবে।রাদকে আমার মনের কথা বলতেই হবে।হুম আমিই রায়াদকে বলবো। ভালোবাসি তোমাকে রাদ। . ১৭ সেপ্টেম্বর,,হুম আজ রিম আর রাদের ভ্যালেন্টাইন ডে। অবশেষে সব বাধা বিপত্তি পেরিয়ে রিম তার রাদকে বলতে পেরেছে " ভালোবাসি তোমাকে পিচ্চি ছেলে" হবে কি আমার পথ চলার পিচ্চি রাদ। . রিমের অপেক্ষার যেন কিছুতেই শেষ হচ্ছে না। মাথা কিছুতেই কাজ করতেছে না।ইতিমধ্যে চোখের জ্বল আর নাকের জ্বল এক করা শুরু করেছে।তাহলে কি রাদ আমাকে ভালোবাসে না? ভাবতে পারে না সে। রাদ এখনো কিছু বললো না।এখনো আমাকে আমার উত্তর দিলোনা রাদ। আমি এখন কি করবো?রাদ আমাকে ভালোবাসে না। এটা ভেবেই রিমের নয়ন যেন জ্বলপ্রপাতে পরিণত হয়ে গেল।জিবনে প্রথম কাওকে প্রোপজ করল রিম আর সেটাও কিনা বৃথা হয়ে গেল। টানা তিন ঘন্টা পর রায়াদ রিমের পিচ্চি রাদ এ পরিণত হয়। ভালোবাসি তোমাকে রিম আমিও তোমাকে অনেক বেশি ভালবাসি। হবে কি তুমি দক্ষিন মেরুর "মেরু কন্যা"


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৪৭ জন


এ জাতীয় গল্প

→ দক্ষিন মেরু-উত্তর মেরুর ভালোবাসা

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now