বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
----এই আদি শুন……
----জ্বি আপু বলেন?
----কি বললে?
----জ্বি না মানে, মেডাম বলেন?
----কিহ্! আমাকে কি তোমার বুড়ি বুড়ি মনে হয়?
----না ঠিক তা না, তবে আপনি তো আমার বড়! আর আপনার
কাছে আমি প্রাইভেট পড়ি………
----তাতে কি? দেখ তুমি আমাকে আমার নাম ধরেই
ডাকবে। আর তুমি করে বলবে………
----আমার দ্বাড়া হবে না
----কেন? দেখ আঙ্কেলকে কিন্তু বলে দেব, তুমি একদিনও
পড়া তৈরি করে দিতে পার না!
----না না, বাবাকে কিছু বলার দরকার নেই! আমি চেষ্টা
করব………
----এইত লক্ষি ছেলে, তা এখানে কি করছ??
----এইত ছাদে দাড়িয়ে বিকেলের শহরটা দেখছি……
----ওহ্ ভালো। আমাকে বললে না? আমি এখানে কেন??
----আপনি এখানে কেন আপু…… এই না না
----হি হি, হবে ধীরে ধীরে! আমি তোমাকে দেখতেই
এসেছিলাম। থাক যাই, কাজ আছে………
-
এই মেয়েটা কি রে বাবা? সবসময়ই ভয় দেখায়। ওর নাম
মৌসুমি। অনার্স ২য় বর্ষের ছাত্রী। বাবার চাচাত
ভাইয়ের মেয়ে।
আমাদের বাসাতেই থাকে। আগে থাকত গ্রামে।
পড়াশোনার জন্য শহরে এসেছে। তাই আমাদের এখানেই
খাকে। আমি যে ভার্সিটিতে অনার্স ১ম বর্ষের ছাত্র?
মৌসুমি সেই ভার্সিটিরই ২য় বর্ষের ছাত্রী।
আমি হিসাববিজ্ঞানে বড় কাচা বলে, ওনার কাছেই
প্রাইভেট পড়তে হয়। এটা বাবার আদেশ। বাবার আদেশ
আমার অমান্য করার ক্ষমতা নেই……
অগত্যা তার কাছেই পড়তে হয়।।
-
কয়েকদিন পরে ছাদে দাড়িয়ে সিগারেট ফুকছিলাম। এমন
সময় তার ছাদে আসা। আমি ব্যস্ত হয়ে সিগারেটটা
ফেলে দিলাম। তবে ধোয়াটা বের হচ্ছিল। আর এর
পুরোটাই দেখেছে মেডাম!
----এই তোমার হাতে কি ছিল?
----কই, কিছু নাতো……
----ধোয়া বের হচ্ছে কিসের? সিগারেট সিগারেট গন্ধ
বের হচ্ছে মুখ থেকে!!
----না মানে……
----দেখ আমি আঙ্কেলকে বলে দিব!
----এই প্লিজ না না……
----ওকে, তবে শর্ত আছে!
----কি?
----আমার সাথে রিকশায় ঘুরতে যেতে হবে!
-
অগত্যা রাজি হতে হল। না হয়ে উপায় নেই। বাবা জানতে
পারলে নির্ঘাত খতম। পুরো বিকালটা মেডামের সাথে
ঘুরলাম। ক্লান্ত হয়ে সন্ধ্যায় ফিরলাম। পুরোটা বিকাল
কানের কাছে সুধু কথাই বলেছে। কানটা এখনো
ঝালাপালা করছে………
-
এরপরে একদিন ভার্সিটিতে একটা মেয়ের সাথে হেসে
হেসে কথা বলছিলাম। মেয়েটা আমার বন্ধু! অনেক ভাল
বন্ধু। ওর বয়ফ্রেন্ড আছে। আর তার সাথে ওর বিয়ে ঠিক। ৩
মাস পরেই বিয়ে………
হেসে হেসে কথা বলাটা দেখে ফেলেছে তথাকথিত
মেডাম ওরফে মৌসুমি। আমি ঘুরে দাড়াতেই দেখি দুটি
অগ্নিবর্ণ চোখ আমার দিকে তাকিয়ে আছে। যেন
আমাকে এখনই পুড়িয়ে অঙ্গার বানিয়ে দেবে!
মৌসুমি আমার হাতটা ধরে একটা ফাকা জায়গায় নিয়ে
গেল। তারপর শুরু করল পুলিশি জেরা আর বাবার ভয়
দেখানো………
----ওই মেয়েটার সাথে এত হেসে হেসে কি কথা
বলছিলে?
----কই কিছু না তো………
----আমি দেখলাম যে………
----তাতে আপনার কি? আমার বিষয়ে আপনার এত নাক না
গলালেও চলবে। যতসব!" কোথা থেকে যে আসে??
-
আমি ষ্পস্ট দেখতে পেলাম যে, মেডাম কাদতে কাদতে
চলে যাচ্ছে। আমার মনে ভয় ডুকে গেল। বাবাকে যদি
কিছু বলে দেয়?? বাবা যা রাগি………
সন্ধ্যার অনেক পরে বাড়ি ফিরলাম। বাড়িতে অনেক
মানুষ। একটু নতুনত্ব। মৌসুমি মেডামের বাবা-মাও
এসেছে। তারা আমার বাবা-মার সাথে হেসে হেসে কথা
বলছে। একজন কাজি টাইপ লোক তাদের সাথে বসা। আর
একজন হুজুর। ব্যাপারটা কি??
-
কাউকে কিছু না বলে রুমে চলে গেলাম। একি! আমার
রুমটা বাসর ঘরের মত সাজানো। মাথাটা পুরোই
এলোমেলে হয়ে যাচ্ছে। ঘুরতে শুরু করেছে। ভুল বাড়ি? আর
ভুল ঘরে ডুকলাম না তো? নাহ্ ঠিকই তো আছে!! আমারই
রুম। দেয়ালে আমার গিটারটা ঝুলানো।
---- মা মা (চিৎকার করে ডাকলাম)
মা এল না। বাবা এলেন। আমাকে প্রস্তুত হতে বললেন।
আজ এখনই আমার বিয়ে! তাও আবার মৌসুমি মেডামের
সাথে!!
বাবা-মা পাগল হল নাকি? মেয়েটা আমার থেকে বড়।।
আর তার সাথেই আমার বিয়ে?? সাংঘাতিক!!
-
আমার মনে পড়ল, আমি ক্লাস ফাইভে আর ৮ম শ্রেনিতে
ফেল করেছিলাম। অতএব মেয়েটা আমার ছোটই। এখন আর
ভাবার কিছুই নেই। কারণ বিয়েটা হয়ে গেছে। ভাবছি এই
দজ্জাল মেয়েটার সাথে সারাজীবন কাটাব কিভাবে?
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now