বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ডিয়ার শাশুড়ি মা (৮)

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Saniat Ahmed (০ পয়েন্ট)

X গল্পঃ ডিয়ার শাশুড়ি মা (৮) পর্বঃ ৮ লেখাঃ সানিয়াত আহম্মেদ চারপাশে তাকালো। প্রায় জানমান হীন রাস্তার ধারে দুটো পুলিশের জীপ দাঁড়ানো। বাতাসের শা শা আওয়াজ। ইমতির গাড়িটা রাস্তার রেখে কয়েক মিটার দূরে দুটো চেয়ার মুখোমুখি বসানো। উপরে ল্যাম্পপোস্ট এর আলো। কাঠের চেয়ারে আওয়াজ হচ্ছে, বিকট। অদ্রি ভালো মতো বসতে পারছে না। চারপাশ মোটামুটি অন্ধকার। অদ্রি দেখছে মহিলার ফোনে কারোসঙ্গে কথা বলছে, হয়তো তার বাচ্চার সাথে, বারবার বলছে, - ঘুমাও, মা আসছে। এখনি আসছি মা। নানুকে বলো চকলেট উপরের ড্রয়ারে আছে,হ্যাঁ হ্যাঁ। বলো, আমি দিতে বলেছি। ফোন রেখে বড় বড় করে তাকালো। অদ্রি চারপাশে তাকানো মোটেও পছন্দীয় নয়। অদ্রিকে বললো, - বলো, কিডন্যাপ হলে কি করে, বাড়ির নাম ঠিকানা বা ফোন নাম্বার দাও। - ইমতি কোথায়? - ইমতি? - ওই ছেলেটা আমার সাথে ছিলো। - কিডন্যাপার? - কই না, আমরা তো পালিয়েছি। বলেই অদ্রি দুই পা উপরে তুলে চেয়ারে, বসলো। অদ্রির কথাটায় মহিলাটি ফোন করলো, - ঐ, তোরা মানুষ? তোদের সবাইকে বাঁশ যদি না দিসি। কিসের কিডন্যাপ কেস কিসের গাড়ির কেস, এত রাতে আমায় এইখানে আনলি, জানিস আমার মেয়ের অবস্থা কেমন! দুইটা দিন ছুটি নিতে পারি না। কেয়্যারলেস ননসেন্স গুলো। কথার মাঝখানে একটা পুলিশ এলো। অদ্রি চারপাশে তাকাচ্ছে, মহিলাটি হয়তো বড় অফিসার, সবাইকে কড়াভাবে কথা শোনাচ্ছে। দশ মিনিট পর ইমতিকে আনা হলো, ইমতি গাল দুটো গাল। দেখেই মনে হচ্ছে গালের উপর অত্যাচার কম যায় নি। অদ্রি উঠে দাঁড়িয়ে দেখলো, ইমতির গালে প্রথম হাত দিয়ে স্পর্শ করলো। ইমতির অদ্রির থেকে চোখ ফিরিয়ে নিলো। অদ্রির বেশ রাগ হচ্ছে, সে পুলিশের দিকে তাকিয়ে বললো, - আমার বর কে মেরেছে? - আপা বাদ দিন, পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা দিয়ে,আসুন। - কিসের জরিমানা, চিনেন আমায়? আমাদের উপর গুজব ছড়াচ্ছিলেন আমি এখন লাইভে গিয়ে যদি দেখাই, জানেন কি হবে? আপনারা কোন সূত্র মোতাবেক টর্চার করলেন। ইমতি অদ্রিকে বললো, - ছাড়ো, চলো। অদ্রি বললো, - কিসের যাবো, আমি এখনি লাইভে যাবো, চেনেন আমায়? মুহুর্তেই ভাইরাল হবেন আপনারা, পত্রিকায় প্রথম পেজে ছবি আসবে, " জোর পূর্বক তরুণকে ভূয়া কেসে ফাঁসাতে গিয়ে পুলিশ হলো ভাইরাল। " - দেখুন দোষ আপনাদের,গাড়ি অর্জিন্যাল পেপার্স নেই। - আপনাকে আমি.... বলেই অদ্রি রাগে কটমট করলো। ইমতি অদ্রির হাত শক্ত করে ধরে বললো, - স্যার, চাবি টা দিয়ে দিন প্লিস। কাল টাকা দিয়ে যাবো। অদ্রি মুক বাঁকিয়ে বললো, - এই কিসের টাকা, ওর গাল লাল হয়েছে, আপনাদের নীল করে ছাড়বো। শালা উজবুকের দল। সাধারণ পাবলিক পেয়ে আমাদের ঠকাও, কোন হিসেবে মারলো। ইমতিকে তড়িঘড়ি করে একজন গাড়ির চাবি দিলো। অদ্রিকে প্রায় জোর করে নিয়ে যাচ্ছে ইমতি। অদ্রি চিৎকার করে বলছে, - বাজে পুলিশ, তোর বাজে মাথায় কখনো ভালো হবে না, দেখবি মোবাইলে চার্জে দিয়ে ঘুমালে সারাদিন ক্যারেন্ট থাকবে না। অভিশাপ দিলাম মোবাইলে চার্জ যেদিন থাকবে না, সেদিন তোর বউ তোকে ফোন করবে আর পাবে না। তখন বাড়িতে গেলে ঝাড়ু দিয়ে পেটাবে৷ অদ্রিকে গাড়িতে বসিয়ে ইমতি পেছন থেকে ইউ ট্যার্ন করলো। ইমতি অদ্রিকে ধমক দিয়ে বললো, - ওরা নিজেদের ডিউটি করছিলো। - হ্যাঁ, আর তুমি কি করছিলে, সত্যি টা বলো নি কেন? আয়নায় দেখো কেমন লাগছে৷ ওদের বোঝা উচিত কার সাথে পাঙ্গা নিয়েছে। - অদ্রি থামুন। - কি থামবো, তুমি আমায় একটু আগে ধমক দিসো। তাও তোমার জন্যে ওদের সাথে ঝগড়া করলাম, আর তুমি? তুমি কথা বলবে না আমার সাথে। আমার বাসায় নিয়ে যাবে। আজ থেকে আমাদের ব্রেকাপ। তুমি তোমার রাস্তায় আর আমি আমার রাস্তায়। - কিসের ব্রেকাপ? - কিসের ব্রেকাপ। আপনিই না যেদিন দেখতে এসেছিলেন বকর বকর করে বললেন, আজ থেকে আমরা ফ্রেন্ড। ঠিক আছে? এত তাহাহুড়ার কি আছে, আস্তে-ধীরে নিজেদের জানি শুনি, তারপর বাকিটা হয়ে যাবে৷ - তোহ ফ্রেন্ডশিপ এ ব্রেকাপ কই? - ব্রেকাপ হয় না! - না। - তাও করলাম, একদম কথা বলবেন না, যার জন্যে চুরি করি সেই বলে চোর। উল্লুক একটা সত্যিটা না বলে মার খেয়ে এসেছে। - মজা করবেন না। ভালো লাগছে না। - ওহ ওয়াও, কত্ত ভালো জায়গায় রেখেছেন আমায়। আমার কত ভালো লাগছে। - আপনার জন্যেই এলাম। - তোহ? - তোহ চুপ করুন, গাড়ি চালাচ্ছি। - লাগবেনা চালানোর৷ আপনার সাথে ব্রেকাপ আমার। আমাকে আমার বাড়িতে দিয়ে আসবেন। ইমতি গাড়ি থামালো। অদ্রির ঠিক আছে চলে এলো। একদম ইমতির চোখার নাম অদ্রির নাক ছুঁইছুঁই। চোখে সূক্ষ্ণ রাগ। আস্তে আস্তে বললো, - চুপ করুন। নাহলে না মেরে গুম করে,দেবো। একটা কথা না। অদ্রির কথাটায় ঠোঁট কেঁপে উঠলো। ইমতি গাড়ির ইস্টারিং চাপলো। অদ্রির অন্যদিকে তাকাচ্ছে, মনে মনে, " লোকটি রাগতে জানে, রাগলে ভালো দেখায়, রাগে না কেন? গম্ভীর একটা ভাব নিয়ে থাকে সব সময়। " অদ্রি চোখ অফ করলো। মূহুর্তে একটা শব্দ। গাড়ির চাকা ব্রাস্ট করেছে। তাও কিছুটা গিয়ে গাড়িটা থামলো। অদ্রির সিট বেল না থাকায় কপালের সাথে সামনে ব্যাথা পেলো। #চলবে


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ডিয়ার শাশুড়ি মা (৮)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now