বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ডিয়ার শাশুড়ি মা (৭)

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Saniat Ahmed (০ পয়েন্ট)

X গল্পঃ ডিয়ার শাশুড়ি মা পর্বঃ৭ লেখাঃ সানিয়াত আহম্মেদ ইমতি গাড়িতে নিয়ে এগোচ্ছে, মেইন রোডে খোলা বাতাসে অদ্রি ঘুমাচ্ছে। আজ রাতের আকাশটায় মেঘ নেই। চাঁদ না দেখা গেলো তারা চার থেকে পাঁচটা মিটিমিটি করছে৷ সামনে গাড়ি চেকিং। ইমতির গাড়ি চালায় না। পকেটে দেখলো ইমতি বাইকের ল্যাইসেন্স। গাড়িতে চেক করলো গাড়ির ল্যাইসেন্স ও নেই। ড্রাইভার কে সাথে আনা বেশ জরুরী ছিলো। ইমতির দিকে একজন সুবলিষ্ঠ পুলিশ অফিসার এগিয়ে এলো। হাতে এক মোটা নোডপ্যাড৷ ইমতিকে জোর গলায় বললো, - ল্যাইসেন্স! - গাড়ির টা নেই। - আপনার টা আছে? ইমতি এগিয়ে দিলো। পুলিশ ল্যাইসেন্সটা ফিরিয়ে দিলো না। আড়চোখে বললো, - বের হন। ইমতি কিছু বলার চেষ্টা করলেও, আরও দুজন সার্জেন এসে উপস্থিত৷ ইমতি গাড়ির থেকে বের হলো। অদ্রি অঘোরে ঘুমাচ্ছে৷ অদ্রি বিয়ের সাজে ঘুমিয়ে আছে৷ ইমতি বুঝতে পারছে, তারা কি ভাবছে। তারা তীক্ষ্ণভাবে তাকাচ্ছে, ইমতি তরিঘরি করে বললো, - এই, আপনারা যা ভাবছেন ঠিক না। আমার বউ, আমরা বেড়াতে যাচ্ছি। - বউকে ডাকেন তো। - ঘুমাচ্ছে বেচারী ছাড়ুন না। - কেন ছাড়বো? এই ব্যাটাকে ধর, মেয়ে পাচার করিস, লজ্জা নাই তোদের। আল্লাহই জানে কার মা বোন এটা। বিয়ের দিন তুলে এনেছে। একজন ওয়াকিটোকি তে খবর দিলো, - নিড লেডি অফিসার। তিন বার বললো। এদের মধ্যে দুই তিনজন লোক ইমতিকে ধরে বসে আছে। একজনের হাতে বড় মোটা লাঠি। সে ইচ্ছে করেই লাঠি ঘুরাচ্ছে। ইমতি পরিস্থিতি ঠান্ডা করতে বললো, - আমরা বসে কথা বলি। মুহূর্তেই পাশ থেকে বললো, - তুই আমাদের ঘুষ দিবি? এই চিনিস আমায়! ইমতি তার বুকের ব্যাচে দিকে তাকালো, সেখানে লেখা " আজমল জামাল। " ইমতি বললো, - জ্বী স্যার আপনার নাম আজমল। অন্য অফিসার এসে বললো, - স্যার, এই ব্যাটা মনে হয় মাফিয়ার, সবাইরে চিনে। সরকার যদি জানে আপনি তাদের ধরতে পেরেছেন, তাইলে তো স্যার বুঝেনই। বলে লোকটি খ্যাক খ্যাক হেসে দিল। এক সময় দেখা যাক এক জন হাসলে অপর চার/জন হাসে, তারা কেউ হাসলো না। বড় বড় করে ইমতির দিকে তাকিয়ে আছে। গাড়ি সাইডে পার্ক করা হলো। ইমতির সামনে একজন গোঁফ ওয়ালা পুলিশ দাঁড়িয়ে আছে, বাকিরা নিজের কাজে। ইমতি শক্ত গলায় বললো, - বিশ্বাস করুন স্যার, মেয়েটা আমার বউ! - মেয়েটার নাম কি? - অদ্রি। - পুরো নাম। ইমতি সত্যি জানে না পুরো নাম কি অদ্রির। মাথা চুলকালো, বিব্রতভাবে তাকাচ্ছে। ইমতি স্বর নিম্ন ভাবে বললো, - বিশ্বাস করুন স্যার, সে আমারই বউ। এরপর ঠাস একটি শব্দ। জোড়ে একটা থাপ্পড় দিয়েছে অফিসার। জোরে চিৎকার করে বললো, - লজ্জা করে না। কি খাইয়িছিস ওকে? মেয়েটার অজ্ঞান কেন, সত্যি বল, আমার নাম আজমল, গাড়ির চেহারা দেখেই বলতে পারি, কোন গাড়িতে চোরা কারবারি আর কোন গাড়িতে ভালো মানুষ। - স্যার, শুনুন সত্যি বলছি। আবারো ইমতির গালে একটা মক্ষম থাপ্পড় পড়লো। ফর্সা গাল গোলাপী রঙ হয়ে গেছে। এরপর আর প্রশ্ন করলো না, এলাকার থানার গাড়ি চলে এলো। ইমতিকে উঠানো হলো, সে বারবার বললো, " অদ্রিকে একটু ডাকবেন, আমি সত্যি বলছি। " কে শোনে কার কথা। এক অপরিচিতা মহিলা অদ্রিকে ডাকছে। অদ্রি চোখ খোলে দেখে পোশাকধারী এক মহিলা। যদিও মহিলা বলা উচিত না, তার গলার আওয়াজ পুরোই পুরুষ। ঠোঁটের উপরে হালকা মোঁছ আছে। অদ্রি আশেপাশে তাকিয়ে দেখে বললো, - আপনি কে? - আমি আপনাকে সাহায্য করতে এসেছে। ( একটা কাগজ বের করে) বলুন আপনার নাম কি? কিভাবে কিডন্যাপ হলেন? - খুব মন চাইছিলো কিডন্যাপ হতে, কিডন্যাপারকে দেখে বললাম প্লিস প্লিস একটু কিডন্যাপ করুম, নাহলে আমি ভাত খাবো না। ওদের দয়া হলো, পরে আমায় কিডন্যাপ করলো। - মশকরা করছেন, জানেন আমি জুনিয়ার ইনভেস্টিগেটার অফিসার। আমি এই অবধি কত কেস হ্যান্ডেল করেছি। একবার সমকাল পত্রিকায় ছবি ছাপা হয়েছে। - একটা কথা বলুন, আমি কি সত্যি কিডন্যাপ হয়েছি? - হু, হু সত্যি। কিডন্যাপারকে স্পেশাল রুমে নেওয়া হয়েছে, আপনার খালি স্বীকারোক্তি চাই। - স্পেশাল রুমে কি বিরানী আছে? - আবারও মশকরা করছিস? জানিস তোকে শুদ্ধ চালান করতে পারি, রাত বারোটায় তোদের জন্যে উঠে এসেছি। - আপনার হ্যাজবেন্ডের সাথে কি ঝগড়া? - তুই কি করে জানলি? - এইযে, আপনি তে বেশিক্ষণ থাকেন না, এই স্বভাব বোধ হয় আপনার হ্যাজবেন্ড এর খুব অপছন্দ। মহিলাটি ড্যাব ড্যাব করে তাকিয়ে আছে। অবাক করার মতো চোখ দিয়ে আপাতমস্তক পর্যবেক্ষণ করছে। মহিলাটি বললো, - কি বললি? - এক কাপ চা দেবেন৷ চিনি বেশি! তারপর পুরাটা গল্প বলছি। বাই দ্য ওয়ে কোথায় আমি আমরা? মহিলাটি কিছুই বললো না, গাড়ি থেকে বের হয়ে গেলো। অদ্রি আশেপাশে তাকালো, কোথায় আছে কে জানে ইমতি। #চলবে


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯৬ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ডিয়ার শাশুড়ি মা (৭)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now