বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
গল্পঃ ডিয়ার শাশুড়ি মা
পর্বঃ- ৩
লেখাঃ- সানিয়াত আহম্মেদ
ইমতির মায়ের মেজাজ খারাপ খুব৷ নতুন বউ আসার পর থেকে সবাই কেমন যেন নতুন বউয়ের সাপোর্ট নিচ্ছে। অভিযোগ শুধু অদ্রির উপরে তা নয়, অদ্রির সাথেসাথে ইমতির জন্যেও। অদ্রির চেয়েও সুন্দরী মেয়ে আনা যেতো।
ইমতির বাবা নেই। ইমতিরা এক বোন দুই ভাই৷ ইরার দুটো জমজ ছেলে আছে৷ প্রিনয় আর প্রিয়ুশ। ইরার স্বামী সেনাবাহিনীর অফিসার। স্বামী অধিকাংশ সময় বাসায় থাকে না, মাঝে মাঝে ছুটিতে আসে। শ্বশুর -বাড়িতে খুব একটা পড়ে না। তাই ইমতির মা মেয়েকে রেখে দিয়েছে নিজের কাছে।
শ্বশুরবাড়িতে ইরা এক নাগাড়ে তিনদিন ও থাকতে পারে না। তাছাড়া প্রিনয় আর প্রিয়ুশ কে ছাড়া ইমতির মা মন টেকে না। ইমতির মা মনে করে,সংসারে মন বসে বাচ্চা কাচ্চায়। যে বাড়িতে বাচ্চা আছে, সে বাড়িতে ভালোবাসা আছে, নিয়ম আছে, পরিবেশ আছে, ভালো থাকার উপায় আছে। যে বাড়িতে বাচ্চা নেই সে বাড়িও যা হোটেল ও তাই। কোনো পার্থক্য নেই।
অদ্রি দুই কাপ চা এনে শ্বাশুড়ির হাতে দিয়ে মুচকি হাসলো। শ্বাশুড়ি গম্ভীর হয়ে বললো,
- চিনি দিয়েছো?
- সবার জন্যে একবারেই চা বানিয়েছি, তাই দিলাম।
- কাজ করবে ভালো কথা, কাল এসেই আজই নিজের ঘরের দায়িত্ব নেবে, নাও আমি কি বারণ করবো? কিন্তু জিজ্ঞেস করে করবে তো নাকি, চিনি ছাড়া চা দেবে আমায়, এক দম লাল চা।
- আমি আবার বানাবো।
- না থাক, ইরাকে বলছি। তা নামাজ পড়েছো?
- জ্বী।
- যাও, ইমতিকে চা দিয়ে এসো। আর শোনো ঘর বাড়ি শুদ্ধ মেহমান, আর কাউকে চা দেবার প্রয়োজন নেই। পরে মানুষ বলবে কাজ করাই বিয়ের প্রথম দিনই।
অদ্রি মুখে কিছু বললো না। চুপচাপ বের হতে যাবে তখন দরজায় ইরা এক বাচ্চা কোলে নিয়ে ডুকলো। বাচ্চাটি প্রিনয় না প্রিয়ুশ বোঝা যাচ্ছে না। কিন্তু জোর গলায় কান্না করছে। অদ্রি হেসে বললো,
- আপু, আমায় কোলে দাও ওকে।
- ওকে কোলে নেবে! সকালের নাস্তা হয়েছে তোমার?
অদ্রি না বোধক ভাবে মাথা নাড়ালো। তারপর বাচ্চাটাকে কোলে দিয়ে বললো,
- বলো না, ওকে খাওয়ায় নি কিছু। ধরো ওকে আমি সুজি বসাই ওর জন্যে!
অদ্রি কোলে আসতে চাইলো না। জোর করেই দিয়ে গেলো ইরা। অদ্রি বাচ্চাটাকে কোলে শান্ত করাতে ছাদে নিয়ে গেলো৷ কাল রাতেই খিদে পেয়েছে। শ্বাশুড়ি এত কড়া মেজাজের কেন হয়? ছাদে কবুতর এর বাসা । অনেক কবুতর৷ বাচ্চাটাকে কবুতর দেখিয়ে বললো,
- দেখো কত ছোট তোমার মতো ওরা। তুমি এইভাবে কাঁদলে উড়ে যাবে তো ভয়ে।
তিন বছরের বাচ্চাটি মুখ গোমড়া করে বললো,
- ওরা উড়ে না। মারলেও না।
অদ্রির হেসে বললো,
- তাই।
ইমতির বাইক এসে থামলো গেটে। অদ্রি উঁকি দিয়ে ভেংচি কাটলো। বাচ্চাটি চিৎকার করে ডাকলো।
- মামা।
ইমতি উপরের দিকে তাকিয়ে দেখলো অদ্রি আর প্রিনয়। হাতে একটা বাক্স৷ অদ্রি মনে মনে বলছে, " শালার বর, উনার গলার স্বর কেমন এটাই ভালো মতো জানলাম না, জীবনে আর কি করলাম।
না পেলাম ডিয়ার শ্বাশুড়ির হাতের খাবার না পেলাম বর মশাই এর সাথে একটা কথা বলার সুযোগ!! আচ্ছা সে ছাদে আসতে পারতো, আসবে না। বাড়ির সবাই কেমন জানো। বাবা মায়ের জন্যে হঠাৎ মন খারাপ হয়ে এলো। চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পরলো!
হঠাৎ পেছনে ইমতি ডাকলো, আলতো করে, ভাঙ্গা কন্ঠে ডাকলো, "অদ্রি "
অদ্রি পেছনে তাকিয়ে মূর্তির মতন হয়ে গেলো। ইমতি হাতের বাক্সটা অদ্রির হাতে দিলো। তারপর দেখলো অদ্রির চোখের জল গাল বেয়ে পরছে। ইমতির অনেক মন চাইছে নিজের হাত দুটো অদ্রির গাল ছুঁয়ে যেতে। কোনো অজানা আতংকে পকেট থেকে রুমাল বের করে দিলো। এরপর বললো,
" প্রিনয় কে আমার কাছে দিন।"
হাত বাড়াতেই প্রিনয় মামা বলে গলা জাপটে ধরলো। বাক্সে বিড়াল ছানা মাথা উঁকি দিলে অদ্রি হেসে দিলো।
" বিল্লু!!"
ইমতি বললো, " ওর নাম ডোরেমন"
প্রিনয় হাত বাড়িয়ে বললো, " মামা ওটা। "
ইমতি ছাদ থেকে চলে যাচ্ছে। অদ্রির ধন্যবাদ জানালো হলো না। ইমতি আর অদ্রির সম্পর্ক আর পাঁচটা বর বউয়ের মতো না। একটু আগে নিজেকে সবচেয়ে দুঃখী ভাবছিলো এখন সর্ব সুখী মনে হচ্ছে। ছাদে হালকা বাতাসে অদ্রি ইমতির দিকে এক মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে আছে। ভালোবাসি বলতে খুব মন চাইছে ইমতিকে। সে কী শুনবে?
সন্ধ্যায় বৌ-ভাতের অনুষ্ঠান। ইরা বিকেলে চারটা বাজেই পার্লারে নিয়ে যাবে৷ কিন্তু এর মধ্যে অদ্রি ঘরের বাইরে যেতে পারবে না। তাকে তার ডিয়ার শ্বাশুড়ি মা বলেছে এক হাত ঘোমটা দিয়ে বসে থাকতে। একটু পর পর একেক জন আসছে। অদ্রি অনিচ্ছুক ভাবে হাসছে।
#চলবে
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now