বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

দীপু নাম্বার টু (৬)

"ছোটদের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান TARiN (০ পয়েন্ট)

X বাসায় খেতে বসে আব্বা হাসতে হাসতে জিজ্ঞেস করলেন, কী, তারিক তা হলে ধোলাই দিল শেষ পর্যন্ত। দীপু কাঁদবে না ভেবেও হঠাৎ ঝরঝর করে কেঁদে ফেলল। আব্বা এগিয়ে এসে মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন, ওকী কাঁদছিস কেন? ছি, পুরুষ মানুষের কাঁদতে নেই। মার খেয়ে কেউ কাঁদে নাকি বোকা ছেলে! পরদিন দীপু স্কুলে যেতে পারল না। রাতে প্রচণ্ড জ্বর এসেছিল। বিকেলে ওর বন্ধুরা দেখা করতে আসে। যদিও দীপু কাউকে বলেনি, তবুও ওরা ধরে নিয়েছিল তারিকই দীপুর এ অবস্থা করেছে। দীপুর বিছানা ঘিরে সবাই বসে রইল, আর বালিশে হেলান দিয়ে বসে দীপু পুরো ঘটনাটা শোনাল। সব শুনে নান্টু জিজ্ঞেস করল, স্কুলে যাবি কবে? কাল যেতে পারি। তারিক এসেছিল আজ স্কুলে? না, আমি দেখেছি বিকেলে রামের ক্যান্টিনে বসে চা খাচ্ছে। তোকে কিছু বলল? আমাকে জিজ্ঞেস করল, স্যার ওর খোঁজ করেছেন কি না! তুই কী বললি? আমি বললাম, না। শুনে খুব অবাক হল। তুই স্যারকে কিছু বলিসনি? উঁহু। কেন, বললি না কেন? সামাদ অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল। এমনি। বাবু বলল, স্যার এমনিতে কাউকে মারেন না, কিন্তু যদি কখনও সত্যিকারের খেপে যান, হুঁ হুঁ বাবা, ছাল তুলে দেন মেরে। মনে আছে একবার কিবরিয়াকে কী মারটা দিলেন! ওহ!। নান্টু মাথা নাড়ল, তুই যদি কালকে স্যারকে বলে দিতি তা হলে দেখতি মজা। দীপু কথা বলল না। আহাদ জিজ্ঞেস করল, স্কুলে যাবি তো কাল? গিয়েই স্যারকে বলিস। উঁহু। কেন? আমি কাউকে নালিশ করব না। কখনও করি না। যদি পারি নিজে পেটাব তারিককে, এমন টাইট করে দেব– তুই পেটাবি তারিককে? সবাই অবিশ্বাসের দৃষ্টিতে তাকাল দীপুর দিকে, দীপু মুখ শক্ত করে বসে রইল! ওরা বিশ্বাস না করতে চায় তো না করুক, কিন্তু সে এর শোধ নেবে না? . ক্লাস নাইনের সাথে ফুটবল খেলায় দীপু খেলতে পারল না। খেলার দিনে মাঠের পাশে বসে সে গলা ফাটিয়ে চেঁচিয়ে গেল অন্যদের সাথে। যদিও তাতে কোনো লাভ হল না, ও হেরে গেল। তারিক খুব খেটে খেলছিল, দু বার সে গোল বাঁচাবার জন্যে এমন ঝুঁকি নিয়েছিল যে আরেকটু হলে পা ভেঙে যেতে পারত। দীপু খেলতে পারলে হয়তে খেলা আরেকটু ভাল হতো, কিন্তু ওরা হেরে যেত ঠিকই, ক্লাস নাইনের সবাই খুব ভাল খেলে। খেলা দেখে বাসায় ফিরে আসার সময় রাস্তার মোড়ে তারিককে দেখতে পেল দীপু। কাদামাখা কাপড়জামা পরে বাসায় যাচ্ছিল। দীপুকে দেখে একটু অপরাধীর মতো হাসল তারিক, দীপু না-দেখার ভান করে এগিয়ে যেতে লাগল। খেলার পর তারিকের ওপর থেকে রাগ অনেকটা কমে গেছে, কিন্তু মার খাওয়ার ঘটনাটা এখনও ভোলেনি, মাথায় তখনো তার ব্যান্ডেজ! তারিক একটু এগিয়ে এসে দীপুর পাশাপাশি হাঁটতে লাগল। আস্তে আস্তে বলল, এই দীপু! উঁ। ইয়ে, মানে, শোন– কী? আমি কিন্তু তোর মাথা ফাটাতে চাইনি। কীভাবে যে— ভ্যাদর ভ্যাদর করিস না। বাড়ি যা তুই। খেপেছিস আমার ওপর, না? অবশ্যি খ্যাপারই কথা। একটু বেশি হয়ে গিয়েছিল, মেজাজটা কেন যে এত খারাপ হল সেদিন! আর তুইও এরকম-হঠাৎ সুর পাল্টে তারিক জিজ্ঞেস করল, আচ্ছা, তুই স্যারকে আমার নাম বললি না কেন? আমি যা ভয় পেয়েছিলাম! দীপু কথা না বলে হেঁটে যেতে লাগল। তারিক একটু বিব্রত হয়ে জিজ্ঞেস করল, অ্যাঁ? নালিশ করলি না কেন? তোকে যদি কুত্তায় কামড়ায় তুই কাউকে নালিশ করিস? অপমানে তারিকের মুখ কালো হয়ে উঠলো। আস্তে আস্তে বলল, তার মানে আমি কুত্তা? একশোবার। মানুষ হলে কখনও তিনজন মিলে একজনকে পেটায়? শুনেছিস কখনও? ব্যাটাছেলেরা তিনজন মিলে একজনকে পিটিয়েছে? থুঃ। দীপু ঘেন্নায় থুতু ফেলল রাস্তায়। তারিকের মুখ বিবর্ণ হয়ে উঠল লজ্জায়। দীপু খেয়াল না করে বলে যেতে লাগল, নালিশ করিনি দেখে ভাবিস না আমি ভয় পেয়েছি বা ভুলে গেছি। একটু ভাল হয়ে নিই তারপর তোকে আমি পেটাব, খোদার কসম। আমাকে পেটাবি? হ্যাঁ, খোদার কসম। ব্যাটাছেলে হলে একলা আসিস, আমি বন্ধুদের নিয়ে আসব না। দীপু গটগট করে বাসায় হেঁটে গেল, আর তারিক একা একা রাস্তায় হেঁটে বেড়াতে লাগল। ওর এমন মন-খারাপ হল যে তা আর বলার নয়। দীপু ওকে পেটাবে এটা সে বিশ্বাস করে না, কিন্তু তিনজন মিলে একা দীপুকে পিটিয়েছে বলে দীপু ওকে ঘেন্না করে সেটা তো অবিশ্বাস করার কোনো কারণ নেই। ও বুঝতে পারে অনেকেই তাকে ঘেন্না করে, কিন্তু দীপু প্রথম তার মুখের উপর বলে দিয়ে গেল। আর সত্যিই তো, দীপু তো ওকে ঘেন্না করতেই পারে। খানিকক্ষণ পর তারিকের নিজের উপর নিজের ঘেন্না হতে লাগল।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৯ জন


এ জাতীয় গল্প

→ দীপু নাম্বার টু (৬)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now